জিহাদ ওয়াজিব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > জিহাদ ওয়াজিব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য

রিয়াদুস সলেহিন ১২৯৩

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏‏تضمن الله لمن خرج في سبيله لا يخرجه إلا جهاد في سبيلي، وإيمان بي وتصديق برسلي فهو علي ضامن أن أدخله الجنة، أو أرجعه إلى منزله الذي خرج منه بما نال من أجر، أو غنيمة، والذي نفس محمد بيده ما من كلم يكلم في سبيل الله إلا جاء يوم القيامة كهيئته يوم كلم، لونه لون دم، وريحه ريح مسك، والذي نفس محمد بيده لولا أن يشق على المسلمين ما قعدت خلاف سرية تغزو في سبيل الله أبدا، ولكن لا أجد سعة فأحملهم ولا يجدون سعة عليهم أن يتخلفوا عني، والذي نفس محمد بيده لوددت أن أغزو في سبيل الله فأقتل، ثم أغزو فأقتل ثم أغزو فأقتل‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم وروى البخاري بعضه‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏‏"‏الكلم‏"‏ الجرح‏.‏‏)‏‏)‏"

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা হল, ‘সর্বোত্তম কাজ কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারপর কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল, ‘অতঃপর কি?’ তিনি বললেন, “মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৯৪

وعنه قال‏:‏ قال‏:‏ رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏‏ما من مكلوم يكلم في سبيل الله إلا جاء يوم القيامة، وكلمه يدمي اللون لون دم، والريح ريح مسك‏:‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏"

তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহর নিকট কোন্‌ কাজটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে নামায আদায় করা।” আমি নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোন্‌টি?’ তিনি বললেন, “মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোন্‌টি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৯৫

وعن معاذ رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من قاتل في سبييل الله من رجل مسلم فواق ناقة وجبت له الجنة، ومن جرح جرحًا في سبيل الله أو نكب نكبة فإنها تجيء يوم القيامة كأغزر ما كانت‏:‏ لونها الزعفران، وريحها كالمسك‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! সর্বোত্তম আমল কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৯৬

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ مر رجل من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بشعب فيه عيينة من ماء عذبة فأعجبته، فقال‏:‏ لو اعتزلت الناس فأقمت في هذا الشعب، ولن أفعل حتى استأذن رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ ‏‏لا تفعل فإن مقام أحدكم في سبيل الله أفضل من صلاته في بيته سبعين عامًا، ألا تحبون أن يغفر الله لكم ويدخلكم الجنة‏؟‏ اغزو في سبيل الله من قاتل في سبيل الله فواق ناقة وجبت له الجنة‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏‏"‏والفواق‏"‏‏:‏ ما بين الحلبتين‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর পথে এক সকাল বা এক সন্ধ্যা অতিক্রান্ত করা, পৃথিবী ও তন্মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা উত্তম।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৯৭

وعنه قال قيل يا رسول الله‏:‏ ما يعدل الجهاد في سبيل الله‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏لاتستطيعونه‏"‏ فأعادوا عليه مرتين أو ثلاثًا كل ذلك يقول‏:‏ ‏"‏لاتستطيعونه‏!‏‏"‏ ثم قال‏:‏ ‏"‏مثل المجاهد في سبيل الله كمثل الصائم القائم القانت بآيات الله لا يفتر‏:‏ من صلاة ولا صيام، حتى يرجع المجاهد في سبيل الله‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه، وهذا لفظ مسلم‏)‏‏)‏ ‏.‏ وفي رواية البخاري، أن رجلا قال‏:‏ يا رسول الله دلني على عمل يعدل الجهاد‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏لا أجده‏"‏ ثم قال‏:‏ ‏"‏هل تستطيع إذا خرج المجاهد أن تدخل مسجدك فتقوم ولا تفتر وتصوم ولا تفطر‏؟‏ فقال‏:‏ ومن يستطيع ذلك‏؟‏‏!‏‏.‏"

তিনি বলেন, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে এই নিবেদন করল যে, ‘সব চাইতে উত্তম ব্যক্তি কে?’ তিনি বললেন, “সেই মুমিন ব্যক্তি, যে নিজ জান-মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে।” সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, “সেই মু'মিন, যে পার্বত্য ঘাঁটির মধ্যে কোন ঘাটিতে আল্লাহর ইবাদতে প্রবৃত্ত থাকে ও জনগণকে নিজের মন্দ থেকে মুক্ত রাখে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৯৮

وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من خير معاش الناس لهم رجل ممسك بعنان فرسه في سبيل الله، يطير على متنه كلما سمع هيعة، أو فزعة طار على متنه، يبتغي القتل أو الموت مظانه، أو رجل في غنيمة أو شعفة من هذه الشعف أو بطن واد من هذه الأودية يقيم الصلاة ويؤتي الزكاة، ويعبد ربه حتى يأتيه اليقين ليس من الناس إلا في خير‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর রাহে একদিন সীমান্ত প্রহরায় রত থাকা, পৃথিবী ও ভূ-পৃষ্ঠের যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা উত্তম। আর তোমাদের কারো একটি বেত্র পরিমাণ জান্নাতের স্থান, দুনিয়া তথা তার পৃষ্ঠস্থ যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর তোমাদের কোন ব্যক্তির আল্লাহর পথে (জিহাদ কল্পে) এক সকাল অথবা এক সন্ধ্যা গমন করা পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৯৯

وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إن في الجنة مائة درجة أعدها للمجاهدين في سبيل الله ما بين الدرجتين كما بين السماء والأرض‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “একদিন ও একরাত সীমান্ত প্রহরায় রত থাকা, একমাস ধরে (নফল) রোযা পালন তথা (নফল) নামায পড়া অপেক্ষা উত্তম। আর যদি ঐ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, তাহলে তাতে ঐ সব কাজের প্রতিদান দেওয়া হবে, যা সে পূর্বে করত এবং তার বিশেষ রুযী চালু করে দেওয়া হবে এবং তাকে (কবরের) ফিৎনা ও বিভিন্ন পরীক্ষা হতে মুক্ত রাখা হবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০০

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏من رضي بالله ربًا وبالإسلام دينًا، وبمحمد رسولا وجبت له الجنة‏"‏ فعجب لها أبو سعيد فقال أعدها علي يا رسول الله فأعادها عليه ثم قال‏:‏ ‏"‏وأخرى يرفع الله بها العبد مائة درجة في الجنة، ما بين كل درجتين، كما بين السماء والأرض‏"‏ قال‏:‏ وما هي يا رسول الله‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏الجهاد في سبيل الله، الجهاد في سبيل الله‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “প্রতিটি মৃত্যুগামী ব্যক্তির পরলোকগমনের পর তার কর্মধারা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় পাহারা রত ব্যক্তির নয়। কেননা, তার আমল কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করা হবে এবং সে কবরের পরীক্ষা থেকে নিষ্কৃতি পাবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০১

وعن أبي بكر بن أبي موسى الأشعري، قال‏:‏ سمعت أبي رضي الله عنه وهو بحضرة العدو، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏‏إن أبواب الجنة تحت ظلال السيوف‏"‏ فقام رجل رث الهيئة فقال يا أبا موسى أأنت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول هذا‏؟‏ قال‏:‏ نعم، فرجع إلى أصحابه، فقال‏:‏ ‏"‏اقرأ عليكم السلام‏"‏ ثم كسر جفن سيفه فألقاه، ثم مشى بسيفه إلى العدو فضرب به حتى قتل‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “আল্লাহর পথে একদিন সীমান্তে পাহারা দেওয়া, অন্যত্র হাজার দিন পাহারা দেওয়া অপেক্ষা উত্তম।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০২

وعن أبي عبس عبد الرحمن بن جبير، رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏ما اغبرت قدما عبد في سبيل الله فتمسه النار‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ সে ব্যক্তির (রক্ষণাবেক্ষণের) দায়ভার গ্রহণ করেন, যে ব্যক্তি তাঁর রাস্তায় বের হয়। (আল্লাহ বলেন,) ‘আমার পথে জিহাদ করার স্পৃহা, আমার প্রতি বিশ্বাস, আমার পয়গম্বরদেরকে সত্যজ্ঞানই তাকে (স্বগৃহ থেকে) বের করে। আমি তার এই দায়িত্ব নিই যে, হয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব, না হয় তাকে নেকী বা গনীমতের সম্পদ দিয়ে তার সেই বাড়ির দিকে ফিরিয়ে দেব, যে বাড়ি থেকে সে বের হয়েছিল।’ সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে! আল্লাহর পথে দেহে যে কোন যখম পৌঁছে, কিয়ামতের দিনে তা ঠিক এই অবস্থায় আগমন করবে যে, যেন আজই যখম হয়েছে। (টাটকা যখম ও রক্ত ঝরবে।) তার রং তো রক্তের রং হবে, কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরীর মত। সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন আছে! যদি মুসলিমদের জন্য কষ্টের আশংকা না করতাম, তাহলে আমি কখনো এমন মুজাহিদ বাহিনীর পিছনে বসে থাকতাম না, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে। কিন্তু আমার এ সঙ্গতি নেই যে, আমি তাদের সকলকে বাহন দিই এবং তাদেরও (সকলের জিহাদে বের হওয়ার) সঙ্গতি নেই। আর (আমি চলে গেলে) আমার পিছনে থেকে যাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হবে। সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন আছে! আমার আন্তরিক ইচ্ছা যে, আমি আল্লাহর পথে লড়াই করি এবং শহীদ হই। অতঃপর আবার (জীবিত হয়ে) লড়াই করি, পুনরায় শাহাদত বরণ করি। অতঃপর (পুনর্জীবিত হয়ে) যুদ্ধ করি এবং পুনরায় শহীদ হয়ে যাই।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০৩

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏لا يلج النار رجل بكي من خشية الله حتى يعود اللبن في الضرع، ولا يجتمع على عبد غبار في سبيل الله ودخان جهنم‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন ক্ষত আল্লাহর রাহে পৌঁছে, কিয়ামতের দিনে ক্ষতিগ্রস্ত মুজাহিদ এমন অবস্থায় আগমন করবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত ঝরবে। রক্তের রং তো (বাহ্যতঃ) রক্তের মত হবে, কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০৪

وعن ابن عباس، رضي الله عنهما قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ “عينان لا تمسهما النار عين بكت من خشية الله، وعين باتت تحرس في سبيل الله‏‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏.‏ ‏)‏‏)‏‏.‏"

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “কোন মুসলিম যদি আল্লাহর রাহে এতটুকু সময় যুদ্ধ করে যতটুকু দু’বার উটনী দোহাবার মাঝে হয়, তাহলে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। আর যে মুজাহিদকে আল্লাহর পথে কোনো ক্ষত বা আঁচড় পৌঁছে, আঁচড় কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তা হতে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী রক্তধারা প্রবাহিত হবে। (দৃশ্যতঃ) তার রং হবে জাফরান, আর তার গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০৫

وعن زيد بن خالد، رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من جهز غازيًا في سبيل الله فقد غزا ومن خلف غازيا في أهله بخير فقد غزا‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন সাহাবী একটি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সে পথে ছিল একটি ছোট মিষ্টি পানির ঝর্ণা। সুতরাং তা তাঁকে মুগ্ধ করে তুলল। তিনি বললেন, ‘আমি যদি লোকদের থেকে পৃথক হয়ে এই পাহাড়ি পথে বসবাস করতাম, (তাহলে ভাল হত)! তবে এ কাজ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমতি ব্যতীত কখনই করব না।’ সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, “এরূপ করো না। কারণ, আল্লাহর রাস্তায় তোমাদের কোন ব্যক্তির (জিহাদ উপলক্ষে) অবস্থান করা, নিজ ঘরে সত্তর বছর ব্যাপী নামায পড়া অপেক্ষা উত্তম। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান? অতএব আল্লাহর রাহে লড়াই কর। (জেনে রেখো,) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে দু’বার উটনী দোহানোর মধ্যবর্তী সময় পরিমাণ জিহাদ করবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০৬

وعن أبي أمامة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏أفضل الصدقات ظل فسطاط في سبيل الله، ومنيحة خادم في سبيل الله، أو طروقة فحل في سبيل الله‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

রসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করার সমতুল্য আমল কি? তিনি বললেন, “তোমরা তা পারবে না।” তারা তাঁকে দু’-তিনবার ঐ একই কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকল, আর তিনি প্রত্যেকবারে বললেন, “তোমরা তার ক্ষমতা রাখ না।” তারপর বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদকারীর দৃষ্টান্ত ঠিক সেই রোজাদার ও আল্লাহর আয়াত পাঠ করে নামায আদায়কারীর মত, যে রোযা রাখতে ও নামায পড়তে আদৌ ক্লান্তিবোধ করে না। (এরূপ ততক্ষণ পর্যন্ত গণ্য হয়) যতক্ষণ না মুজাহিদ জিহাদ থেকে ফিরে আসে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০৭

وعن أنس رضي الله عنه أن فتى من أسلم قال‏:‏ يا رسول الله إني أريد الغزو وليس معي ما أتجهز به، قال‏:‏ ‏‏ائت فلانًا، قد كان تجهز فمرض فأتاه فقال‏:‏ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرئك السلام ويقول‏:‏ أعطني الذي تجهزت به قال‏:‏ يا فلانة أعطيه، الذي كنت تجهزت به ولاتحبسي منه شيئًا فوالله لا تحبسي منه شيئًا فيبارك لك فيه ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর পথে ঘোড়ার লাগাম ধারক ব্যক্তির জীবন, সমস্ত লোকের জীবন চাইতে উত্তম, যে ব্যক্তি যুদ্ধধ্বনি শোনামাত্র ঘোড়ার পিঠে চড়ে উড়ে চলে অথবা কোন শত্রুর ভয় দেখা মাত্র তার পিঠে চড়ে (দ্রুত বেগে) উড়ে যায় এবং শাহাদত অথবা মৃত্যু তার (স্ব স্ব) সম্ভাব্য স্থানে সন্ধান করতে থাকে। কিংবা সেই ব্যক্তির (জীবন সর্বোত্তম) যে তার ছাগলের পাল নিয়ে পর্বতশিখরে বা কোন উপত্যকার মাঝে অবস্থান করে। যথারীতি নামায আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আমরণ স্বীয় প্রভুর উপাসনায় প্রবৃত্ত থাকে। লোকদের মধ্যে এ ব্যক্তি উত্তম অবস্থায় রয়েছে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০৮

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث إلى بني لحيان، فقال‏:‏ ‏ ‏لا ينبعث من كل رجلين أحدهما، والأجر بينهما‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে একশ’টি স্তর আছে, যা আল্লাহর রাহে জিহাদকারীদের জন্য মহান আল্লাহ প্রস্তুত করে রেখেছেন। দুই স্তরের মাঝখানের ব্যবধান আসমান-যমীনের মধ্যবর্তীর দূরত্বসম।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩০৯

وعن البراء رضي الله عنه قال أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل مقنع بالحديد، فقال يا رسول الله أقاتل أو أسلم‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏أسلم، ثم قاتل‏"‏ فأسلم، ثم قاتل فقتل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ عمل قليلا وأُجر كثيرًا‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه وهذا لفظ البخاري‏)‏‏)‏ ‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব (প্রতিপালক) বলে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পয়গম্বররূপে মেনে নিলো, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল।” আবূ সাঈদ (বর্ণনাকারী) অনুরূপ উক্তি শুনে নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! কথাগুলি আবার বলুন।’ তিনি তাই করলেন। তারপর তিনি বললেন, “আরো একটি পুণ্যের সুসংবাদ, যার বিনিময়ে বান্দার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের মধ্যে একশ’টি স্তর উঁচু করে দেবেন, প্রতি দুই স্তরের মাঝখানের দূরত্ব হবে, আকাশ-পৃথিবীর মধ্যখানের দূরত্ব সম।” আবূ সাঈদ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! সেটি কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১০

وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏ما أحد يدخل الجنة يحب أن يرجع إلى الدنيا وله ما على الأرض من شيء إلا الشهيد، يتمنى أن يرجع إلى الدنيا فيقتل عشر مرات لما يرى من الكرامة”"

তিনি বলেন, আমি আমার পিতা (রাঃ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি---যখন তিনি শত্রুর সামনে বিদ্যমান ছিলেন---আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “নিঃসন্দেহে জান্নাতের দ্বারসমূহ তরবারির ছায়াতলে রয়েছে।” এ কথা শুনে রুক্ষ বেশধারী জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে উঠল, ‘হে আবূ মুসা! আপনি কি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। অতঃপর সে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেল এবং বলল, তোমাদেরকে বিদায়ী সালাম জানাচ্ছি।’ অতঃপর সে তার তরবারির খাপটি ভেঙ্গে দিয়ে (নগ্ন) তরবারিটি নিয়ে শত্রুর দিকে অগ্রসর হল এবং শত্রুকে আঘাত করে অবশেষে সে শহীদ হয়ে গেল।


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১১

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏يغفر الله للشهيد كل شيء إلا الدين‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে বান্দার পদযুগল আল্লাহর পথে ধূলিমলিন হবে, তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১২

وعن أبي قتادة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قام فيهم فذكر أن الجهاد في سبيل الله والإيمان بالله أفضل الأعمال فقام رجل فقال يا رسول الله أرأيت إن قتلت في سبيل الله أتكفر عني خطاياي‏؟‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏‏نعم إن قتلت في سبيل الله وأنت صابر محتسب مقبل غير مدبر‏"‏ ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏"‏كيف قلت‏؟‏‏"‏ قال‏:‏ أرأيت إن قتلت في سبيل الله أتكفر عني خطاياي‏؟‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏نعم وأنت صابر محتسب مقبل غير مدبر إلا الدين فإن جبريل عليه السلام قال لي ذلك‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সেই ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদে; যতক্ষণ না দুধ স্তনে ফিরে না গেছে। (অর্থাৎ, দুধ স্তনে ফিরে যাওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি তার জাহান্নামে প্রবেশ করাও অসম্ভব।) আর একই বান্দার উপর আল্লাহর পথের ধূলা ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্র জমা হবে না।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১৩

وعن جابر رضي الله عنه قال‏:‏ قال رجل‏:‏ أين أنا يا رسول الله إن قتلت‏؟‏ قال‏:‏ “في الجنة‏ ‏ فألقى تمرات كن في يده ثم قاتل حتى قتل‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “দুই প্রকার চক্ষুকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। আল্লাহর ভয়ে যে চক্ষু ক্রন্দন করে। আর যে চক্ষু আল্লাহর পথে প্রহরায় রত থাকে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১৪

وعن أنس رضي الله عنه قال انطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه حتى سبقوا المشركين إلى بدر وجاء المشركون، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏لا يقدمن أحد منكم إلى شيء حتى أكون أنا دونه‏"‏ فدنا المشركون، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏قوموا إلى جنة عرضها السماوات والأرض‏"‏ قال‏:‏ يقول عمير بن الحمام الأنصاري رضي الله عنه‏:‏ يا رسول الله جنة عرضها السماوات والأرض‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏نعم‏"‏ قال‏:‏ بخ بخ‏!‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ “ما يحملك على قولك بخ بخ‏"‏ قال فإنك من أهلها فأخرج تمرات من قرنه فجعل يأكل منهن، ثم قال لئن أنا حييت حتى آكل تمراتي هذه إنها لحياة طويلة‏!‏ فرمى بما كان معه من التمر، ثم قاتلهم حتى قتل‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ (4)"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যোদ্ধা প্রস্তুত করে দিল, সে আসলে স্বয়ং যুদ্ধ করল। আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারের দেখা-শুনা করার জন্য তার প্রতিনিধিত্ব করল, সে আসলে স্বয়ং যুদ্ধ করল।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১৫

وعنه قال‏:‏ جاء ناس إلى النبي صلى الله عليه وسلم أن ابعث معنا رجالا يعلمونا القرآن والسنة فبعث إليهم سبعين رجلا من الأنصار يقال لهم‏:‏ القراء، فيهم خالي حرام، يقرءون القرآن ويتدارسونه بالليل يتعلمون، وكانوا بالنهار يجيئون بالماء فيضعونه في المسجد، ويحتطبون فيبيعونه، ويشترون به الطعام لأهل الصفة، وللفقراء فبعثهم صلى الله عليه وسلم فعرضوا لهم فقتلوهم قبل أن يبلغوا المكان، فقالوا‏:‏ اللهم بلغ عنا نبينا أن قد لقيناك فرضينا عنك ورضيت عنا، وأتى رجل حراما خال أنس من خلف فطعنه برمح حتى أنفذه، فقال حرام‏:‏ فزت ورب الكعبة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ ‏إن إخوانكم قد قتلوا وإنهم قالوا‏:‏ اللهم بلغ عنا نبينا أنا قد لقيناك فرضينا عنك ورضيت عنا‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه وهذا لفظ مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সর্বোত্তম সাদকাহ আল্লাহর রাহে তাঁবুর ছায়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া, (যার দ্বারা মুজাহিদ উপকৃত হয়) । আর আল্লাহর রাস্তায় কোন খাদেম দান করা (যার দ্বারা মুজাহিদ সেবা গ্রহণ করে। কিংবা আল্লাহর পথে (গর্ভধারণের উপযুক্ত হৃষ্টপুষ্ট) উটনী দান করা, (যার দুধ দ্বারা মুজাহিদ উপকৃত হয়) ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১৬

وعنه قال‏:‏ غاب عمي أنس بن النضر رضي الله عنه عن قتال بدر، فقال‏:‏ يا رسول الله غبت عن أول قتال قاتلت الشركين لئن الله أشهدني قتال المشركين ليرين الله ما أصنع‏.‏ فلما كان يوم أحد انكشف المسلمون، فقال اللهم إني اعتذر إليك مما صنع هؤلاء - يعني الصحابة- وأبرأ إليك مما صنع هؤلاء يعني المشركين- ثم تقدم فاستقبله سعد بن معاذ فقال‏:‏ يا سعد بن معاذ الجنة ورب النضر، إني أجد ريحها من دون أحد‏!‏ قال سعد‏:‏ فما استطعت يا رسول الله ما صنع‏!‏ قال أنس‏:‏ فوجدنا به بضعًا وثمانين ضربة بالسيف، أو طعنة برمح أو رمية بسهم، ووجدناه قد قتل ومثل به المشركون، فما عرفه أحد إلا أخته ببنانه، قال أنس‏:‏ كنا نرى -أو نظن- أن هذه الآية نزلت فيه وفي أشباهه‏:‏ ‏{‏من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه فمنهم من قضى نحبه‏}‏ إلى آخره ‏(‏‏(‏الأحزاب 23‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ وقد سبق في باب المجاهدة‏.‏

আসলাম গোত্রের এক যুবক এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি জিহাদ করতে চাচ্ছি; কিন্তু তার জন্য আমার কোন সাজ-সরঞ্জাম নেই।’ তিনি বললেন, “তুমি অমুকের নিকট যাও। কারণ, সে (যুদ্ধের জন্য) সাজ-সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছিল; কিন্তু (ভাগ্যক্রমে) সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।” সুতরাং সে তার কাছে এসে বলল, ‘রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে সালাম পেশ করেছেন এবং বলেছেন যে, তুমি আমাকে ঐসব সাজ-সরঞ্জাম দিয়ে দাও, যা তুমি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলে।’ সে (স্বীয় স্ত্রীকে) বলল, ‘হে অমুক! ওকে ঐ সমস্ত সরঞ্জাম দিয়ে দাও, যেগুলি আমি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করেছিলাম। আর ওর মধ্য হতে কোন কিছু রেখে নিও না (বরং সমস্ত দিয়ে দাও)। আল্লাহর শপথ! তুমি তার মধ্য হতে কোন জিনিস আটকে রাখলে, তোমার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে না।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১৭

وعن سمرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ “رأيت الليلة رجلين أتياني فصعدا بي الشجرة وأدخلاني دارًا هي أحسن وأفضل، لم أر قط أحسن منها، قال أما هذه الدار فدار الشهداء‏‏ (5)"

(একবার) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনূ লাহইয়ান গোত্রাভিমুখে (যখন তারা অমুসলিম ছিল) একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং বললেন, “যেন প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন লোক (ঐ বাহিনীতে) যোগদান করে, আর সওয়াব দু’জনের মধ্যে সমান হবে। (যদি পিছনে থাকা ব্যক্তি মুজাহিদের পরিবারের যথাযথ ভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।)”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১৮

وعن أنس رضي الله عنه أن أم الربيع بنت البراء وهي أم حارثة بن سراقة أتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت‏:‏ يا رسول الله ألا تحدثني عن حارثة‏.‏ وكان قتل يوم بدر، فإن كان في الجنة صبرت، وإن كان غير ذلك اجتهدت عليه في البكاء، فقال‏:‏ ‏ ‏يا أم حارثة إنها جنان في الجنة، وإن ابنك أصاب الفردوس الأعلى‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট লোহার শিরস্ত্রাণ পরা মুখ ঢাকা অবস্থায় এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আগে জিহাদ করব, না ইসলাম গ্রহণ করব?’ তিনি বললেন, “আগে ইসলাম গ্রহণ কর, তারপর জিহাদ কর।” সুতরাং সে ইসলাম গ্রহণ করে জিহাদে প্রবৃত্ত হল এবং শহীদ হয়ে গেল। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “লোকটি কাজ তো অল্প করল; কিন্তু পারিশ্রমিক প্রচুর পেল।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩১৯

وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال‏:‏ جيء بأبي إلى النبي صلى الله عليه وسلم قد مثل به فوضع بين يديه، فذهبت أكشف عن وجهه فنهاني قوم فقال النبي صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏‏ما زالت الملائكة تظله بأجنحتها” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏"

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “কোন ব্যক্তি এমন নেই যে, জান্নাতে যাওয়ার পর এই লোভে জগতে ফিরে আসা পছন্দ করবে যে, ধরা পৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবারই সে মালিক হয়ে যাবে। কিন্তু শহীদ (তা করবে। কেননা,) সে প্রাপ্ত মর্যাদা ও সম্মান প্রত্যক্ষ করে ইহজগতে ফিরে এসে দশবার শহীদ হতে কামনা করবে।” অন্য বর্ণনানুযায়ী “সে প্রাপ্ত শাহাদাতের ফযীলত দেখে এ বাসনা করবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২০

وعن سهل بن حنيف رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من سأل الله تعالى الشهادة بصدق بلغه الله منازل الشهداء وإن مات على فراشه‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গোনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২১

وعن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏من طلب الشهادة صادقًا أعطيها ولو لم تصبه‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনমন্ডলীর মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দানকালে বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা ও আল্লাহর পথে ঈমান রাখা সর্বোত্তম কর্ম।” জনৈক ব্যক্তি উঠে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি আমি আল্লাহর রাহে লড়াই করে শাহাদত বরণ করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার সমুদয় পাপরাশিকে মিটিয়ে দেবেন?’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “হ্যাঁ, যদি তুমি আল্লাহর পথে নেকীর কামনায় ধৈর্য-সহ্যের সাথে অগ্রসর হয়ে এবং পশ্চাদপসরণ না করে শহীদ হয়ে যাও, (তাহলে আল্লাহ তোমার সমস্ত পাপরাশি মাফ করে দেবেন।)” তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তুমি কি যেন বললে?” সে বলল, ‘আপনি বলুন, যদি আমি আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার গুনাহ-খাতাসমূহ তার ফলে মিটে যাবে কি?’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “হ্যাঁ, ধৈর্য-সহ্যের সাথে, অগ্রসর হয়ে এবং পশ্চাদপসরণ না করে (যদি তুমি শহীদ হয়ে যাও তাহলে)। কিন্তু ঋণ ছাড়া। যেহেতু জিবরীল (আঃ) এখনই আমাকে এ কথা বললেন।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২২

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ما يجد الشهيد من مس القتل إلا كما يجد أحدكم من مس القرصة‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, একটি লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার স্থান কোথায় হবে?’ তিনি বললেন, “জান্নাতে।” সে (এ কথা শুনে) তার হাতের খেজুরগুলি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হল এবং অবশেষে শহীদ হয়ে গেল।


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২৩

وعن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض أيامه التي لقي فيها العدو انتظر حتى مالت الشمس، ثم قام في الناس فقال‏:‏ ‏‏ أيها الناس، لا تتمنوا لقاء العدو، وسلو الله العافية، فإذا لقيتموه فاصبروا، واعلموا أن الجنة تحت ظلال السيوف‏"‏ ثم قال‏:‏ ‏"‏اللهم منزل الكتاب ومجري السحاب، وهازم الأحزاب اهزمهم وانصرنا عليهم‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় সহচরবৃন্দের সাথে (বদরাভিমুখে) রওনা দিলেন। পরিশেষে মুশরিকদের পূর্বেই তাঁরা বদর স্থানে পৌঁছে গেলেন। তারপর মুশরিকগণ সেখানে এসে পৌঁছল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তোমরা অবশ্যই কেউ কোন বিষয়ে আগে বেড়ে কিছু করবে না; যতক্ষণ আমি নির্দেশ না দেব অথবা আমি স্বয়ং তা করব।” সুতরাং যখন মুশরিকরা নিকটবর্তী হল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তোমরা সেই জান্নাতের দিকে ওঠো, যার প্রস্থ হল আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সমান।” বর্ণনাকারী বলেন, উমাইর ইবনে হুমাম আনসারী (রাঃ) নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতের প্রস্থ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সমান?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” উমাইর বললেন, ‘বাঃ বাঃ!’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “বাঃ বাঃ’ শব্দ উচ্চারণ করার জন্য তোমাকে কোন জিনিস উদ্বুদ্ধ করল?” উমাইর বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রসূল! তার (জান্নাতের) অধিবাসী হওয়ার কামনা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তিনি বললেন, “তুমি তার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।” অতঃপর তিনি কতিপয় খেজুর স্বীয় তূণ থেকে বের করে খেতে শুরু করলেন। তারপর বললেন, ‘যদি আমি এগুলি খেতে থাকি, তবে দীর্ঘক্ষণ জীবিত থাকতে হবে (এত দেরী সহ্য হবে না)।’ বিধায় তিনি তাঁর কাছে যত খেজুর ছিল, সব ফেলে দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়লেন। অবশেষে শহীদ হয়ে গেলেন।


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২৪

وعن سهل بن سعد رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ثنتان لا تردان، أو قلما تردان‏:‏ الدعاء عند النداء وعند البأس حين يلحم بعضهم بعضًا‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমাদের সঙ্গে কিছু শিক্ষিত মানুষ পাঠিয়ে দিন, যাঁরা আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা দেবেন।’ সুতরাং তিনি সত্তরজন আনসারীকে পাঠিয়ে দিলেন--যাঁদেরকে ‘কুররা’ (কুরআনের হাফেয) বলা হত। ‘হারাম’ নামক আমার মামাও তাঁদের অন্যতম। তাঁরা রাতে কুরআন পড়তেন, আপোসে কুরআন অধ্যয়ন করতেন এবং শিক্ষা অর্জন করতেন। আর দিনে তাঁরা পানি এনে মসজিদে রাখতেন। কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন এবং তা দিয়ে আহলে সুফ্‌ফা (মসজিদে নববীতে অবস্থানরত তৎকালীন ইসলামী ছাত্রবৃন্দ) ও গরীবদের জন্য খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদেরকে প্রেরণ করলেন। পথিমধ্যে তারা তাঁদেরকে আটকে তাঁদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছনোর পূর্বেই হত্যা করে দিল। শাহাদত প্রাক্‌কালে তাঁরা এই দু‘আ করলেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নবীকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমরা তোমার সাক্ষাৎ লাভ করেছি, অতঃপর তোমার প্রতি আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তুমিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছ।” আনাস (রাঃ)এর মামা ‘হারাম’-এর পশ্চাৎ দিক থেকে একটি লোক এসে বল্লমের খোঁচা মেরে (শরীর ফুঁড়ে) পার করে দিল। হারাম বলে উঠলেন, ‘কা‘বার প্রভুর কসম! আমি সফল হলাম!’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (উপস্থিত সাহাবীদের সম্বোধন করে) বললেন, “নিঃসন্দেহে তোমাদের ভাইদেরকে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে এবং তারা এ বলে দু‘আ করেছে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নবীকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমরা তোমার সাক্ষাৎ লাভ করেছি, অতঃপর তোমার প্রতি আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তুমিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২৫

وعن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا غزا قال‏:‏ ‏ ‏اللهم أنت عضدي ونصيري، بك أحول وبك أجول وبك أصول، وبك أقاتل‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন যে, আমার চাচা আনাস ইবনে নায্‌র বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। (যার জন্য তিনি খুবই দুঃখিত হয়েছিলেন।) অতঃপর তিনি একবার বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! প্রথম যে যুদ্ধ আপনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে করলেন, তাতে আমি অনুপস্থিত থাকলাম। যদি (এরপর) আল্লাহ আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হাজির হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন, তাহলে আমি কি করব--আল্লাহ তা অবশ্যই দেখাবেন (অথবা দেখবেন)। অতঃপর যখন উহুদের দিন এলো, তখন মুসলিমরা (শুরুতে) ঘাঁটি ছেড়ে দেওয়ার কারণে পরাজিত হলেন। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ, সঙ্গীরা যা করল, তার জন্য আমি তোমার নিকট ওযর পেশ করছি। আর ওরা অর্থাৎ, মুশরিকরা যা করল, তা থেকে আমি তোমার কাছে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করছি।’ অতঃপর তিনি আগে বাড়লেন এবং সামনে সা‘দ ইবনে মুআযকে পেলেন। তিনি বললেন, ‘হে সা‘দ ইবনে মুআয! জান্নাত! কা‘বার প্রভুর কসম! আমি উহুদ অপেক্ষা নিকটতর জায়গা হতে তার সুগন্ধ পাচ্ছি।’ (এই বলে তিনি শত্রুদের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং যুদ্ধ করতে করতে শাহাদত বরণ করলেন।) সা'দ বলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে যা করল আমি তা পারলাম না।’ আনাস (রাঃ) বলেন, ‘আমরা তাঁর দেহে আশীর চেয়ে বেশি তরবারি, বর্শা বা তীরের আঘাত চিহ্ন পেলাম। আর আমরা তাকে এই অবস্থায় পেলাম যে, তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং মুশরিকরা তাঁর নাক-কান কেটে নিয়েছে। ফলে কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি। কেবল তাঁর বোন তাঁকে তাঁর আঙ্গুলের পাব দেখে চিনেছিল।’ আনাস (রাঃ) বলেন যে, ‘আমরা ধারণা করতাম যে, (সূরা আহযাবের ২৩নং এই আয়াত তাঁর ও তাঁর মত লোকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। “মুমিনদের মধ্যে কিছু আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূরণ করেছে, ওদের কেউ কেউ নিজ কর্তব্য পূর্ণরূপে সমাধা করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। ওরা তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করেনি।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২৬

وعن أبي موسى، رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا خاف قومًا قال‏:‏ اللهم إنا نجعلك في نحورهم، ونعوذ بك من شرورهم‏‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “রাতে দু’জন লোক আমার কাছে এসে আমাকে গাছের উপর চড়ালো এবং আমাকে একটি সুন্দর ও উত্তম ঘরে প্রবেশ করাল, ওর চাইতে সুন্দর (ঘর) আমি কখনো দেখিনি। তারা (দু’জনে) বলল, ‘--- এই ঘরটি হচ্ছে শহীদদের ঘর।” (বুখারী, এটি একটি সুদীর্ঘ হাদিসের অংশবিশেষ; যাতে আছে বহুমুখী ইলম। ইন শা আল্লাহ ‘মিথ্যা বলা হারাম’ পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আসবে।)


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২৭

وعن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏الخيل معقود في نواصيها الخير إلى يوم القيامة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

উম্মে রুবাইয়ে’ বিনতে বারা’ যিনি হারেসাহ ইবনে সূরাকার মা, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে হারেসাহ সম্পর্কে কিছু বলবেন না? সে বদরের দিনে খুন হয়েছিল। যদি সে জান্নাতি হয়, তাহলে ধৈর্য ধারণ করব, অন্যথা তার জন্য মন ভরে অত্যধিক কান্না করব।’ তিনি বললেন, “হে হারেসার মা! জান্নাতের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের জান্নাত আছে। আর তোমার ছেলে সর্বোচ্চ ফিরদাউস (জান্নাতে) পৌঁছে গেছে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২৮

وعن عروة البارقي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ الخيل معقود في نواصيها الخير إلى يوم القيامة‏:‏ الأجر والمغنم‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏"

তিনি বলেন, আমার পিতাকে (উহুদ যুদ্ধের দিন) তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছেদন হেতু বিকৃত অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসা হল এবং তাঁর সামনে রাখা হল। আমি পিতার চেহারা খুলতে গেলাম; কিন্তু আমাকে আমার আপনজনরা নিষেধ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ওকে ফিরিশ্‌তাবর্গ নিজেদের ডানাসমূহ দিয়ে সর্বদা ছায়া করছিল।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩২৯

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏‏من احتبس فرسًا في سبيل الله إيمانًا بالله وتصديقًا بوعده، فإن شبعه، وروثه، وبوله في ميزانه يوم القيامة” ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্য নিয়তে আল্লাহর কাছে শাহাদত প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দিবেন; যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩০

وعن أبي مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ جار رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم بناقة مخطومة فقال‏:‏ هذه في سبيل الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏لك بها يوم القيامة سبعمائة ناقة كلها مخطومة‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্য সত্যই শাহাদত চায়, তাকে তা দেওয়া হয়; যদিও (প্রত্যক্ষভাবে) শাহাদত নসীব না হয়।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩১

وعن أبي حماد- ويقال‏:‏ أبو سعاد، ويقال‏:‏ أبو أسد، ويقال‏:‏ أبو عامر، ويقال‏:‏ أبو عمرو، ويقال‏:‏ أبو الأسود، ويقال‏:‏ أبو عبس- عقبة بن عامر الجهني، رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر يقول‏:‏ “وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة ألا إن القوة الرمي، ألا إن القوة الرمي، ألا إن القوة الرمي‏‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وعنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏"‏ستفتح عليكم أرضون ويكفيكم الله فلا يعجز أحدكم أن يلهو بأسهمه‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “শহীদ হত্যার আঘাত ঠিক সেইরূপ অনুভব করে, যেরূপ তোমাদের কেউ চিমটি কাটার বা পিপীলিকার কামড়ের আঘাত অনুভব করে।” (তিরমিযী, হাসান সহীহ)


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩২

وعنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏ستفتح عليكم أرضون ويكفيكم الله فلا يعجز أحدكم أن يلهو بأسهمه‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

শত্রুর সাথে মোকাবেলার কোন এক দিনে, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অপেক্ষা করলেন (অর্থাৎ, যুদ্ধ করতে বিলম্ব করলেন)। অবশেষে যখন সূর্য ঢলে গেল, তখন তিনি লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর সঙ্গে সাক্ষাৎ (যুদ্ধ) কামনা করো না এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাও। কিন্তু যখন শত্রুর সাথে সামনা-সামনি হয়ে যাবে, তখন তোমরা দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ কর। আর জেনে নাও যে, জান্নাত তরবারির ছায়ার নীচে রয়েছে।” অতঃপর তিনি দু‘আ করলেন, “হে কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘ সঞ্চালনকারী এবং শত্রুসকলকে পরাজিতকারী! তুমি তাদেরকে পরাজিত কর এবং তাদের মুকাবিলায় আমাদেরকে সাহায্য কর।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩৩

وعنه أنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من عُلم الرمي ثم تركه فليس منا أو فقد عصى‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “দুই সময়ের দু‘আ রদ হয় না, কিংবা কম রদ হয়। (এক) আযানের সময়ের দু‘আ। (দুই) যুদ্ধের সময়, যখন তা তুমুল আকার ধারণ করে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩৪

وعنه، رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏‏إن الله يدخل بالسهم الواحد ثلاثة نفر الجنة‏:‏ صانعه يحتسب في صنعته الخير، والرامي به ومنبله‏.‏ وارموا واركبوا، وأن ترموا أحب إلي من أن تركبوا‏.‏ ومن ترك الرمي بعد ما علمه رغبة عنه فإنها نعمة تركها‏"‏ أو قال‏:‏ ‏"‏كفرها‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন যুদ্ধ করতেন, তখন এই দু‘আ পড়তেন, “আল্লা-হুম্মা আন্তা আদ্বুদি অনাস্বীরী, বিকা আহূলু, অবিকা আসূলু, অবিকা উক্বা-তিল।” অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমিই আমার বাহুবল এবং তুমিই আমার মদদগার। তোমার মদদেই আমি (শত্রুঘ্ন) কৌশল গ্রহণ করি, তোমারই সাহায্যে দুশমনের উপর আক্রমণ করি এবং তোমারই সাহায্যে যুদ্ধ চালাই।


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩৫

وعن سلمه بن الأكوع، رضي الله عنه قال‏:‏ مر النبي صلى الله عليه وسلم على نفر ينتضلون، فقال‏:‏ ‏ ‏ارموا بني إسماعيل فإن أباكم كان راميًا‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন (শত্রুদলের) ভয় করতেন, তখন এই দু‘আ বলতেন, “আল্লা-হুম্মা ইন্না নাজ্‘আলুকা ফী নুহূরিহিম, অনাঊযু বিকা মিন শুরূরিহিম।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩৬

وعن عمرو بن عبسة رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ من رمى بسهم في سبيل الله فهو له عدل محررة‏:‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏.‏ ‏)‏‏)‏‏.‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাঁধা থাকবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩৭

وعن أبي يحيي خريم بن فاتك رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من أنفق نفقة في سبيل الله كتب له سبعمائة ضعف‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “ঘোড়ার ললাটে কিয়ামত অবধি কল্যাণ বেঁধে দেওয়া হয়েছে; অর্থাৎ, নেকী ও গনীমত।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩৮

وعن أبي سعيد رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ما من عبد يصوم يومًا في سبيل الله إلا باعد الله بذلك اليوم وجهه عن النار سبعين خريفًا‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে ও তাঁর প্রতিশ্রুতিকে সত্য ভেবে আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া বেঁধে রাখে (পালন করে), সে ঘোড়ার (আহার পূর্বক) তৃপ্ত হওয়া, পান যোগে সিক্ত হওয়া, তার পেশাব ও পায়খানা কিয়ামতের দিনে তার (নেকীর) পাল্লায় (ওজন) হবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৩৯

وعن أبي أمامة، رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من صام يومًا في سبيل الله جعل الله بينه وبين النار خندقًا كما بين السماء والأرض‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে লাগামযুক্ত উটনী নিয়ে হাজির হল এবং বলল, ‘এটি আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য দান করা হল) ।’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “কিয়ামতের দিনে তোমার জন্য এর বিনিময়ে সাতশ’টি উটনী হবে; যার প্রত্যেকটি লাগাম-যুক্ত হবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪০

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من مات ولم يغزُ، ولم يحدث نفسه بالغزو، مات على شعبة من النفاق‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিম্বারের উপর খুৎবা দেওয়ার সময় এ কথা বলতে শুনেছি যে, (মহান আল্লাহ বলেছেন,) অর্থাৎ, তোমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে যথাসাধ্য শক্তি সঞ্চয় কর। (সূরা আনফাল ৬০) এর ব্যাখ্যায় বললেন, “জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি। জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি। জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪১

وعن جابر رضي الله عنه قال‏:‏ كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في غزاة فقال‏:‏ ‏ ‏إن بالمدينة لرجالا ما سرتم مسيرًا، ولا قطعتم واديًا إلا كانوا معكم حبسهم المرض‏"

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “অচিরেই তোমাদের জন্য অনেক ভূখণ্ড জয়লাভ হবে এবং (শত্রুদের বিরুদ্ধে) আল্লাহই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবেন। কাজেই তোমাদের কেউ যেন, তার তীর নিয়ে (অবসর সময়ে) খেলতে (অভ্যাস করতে) অক্ষমতা প্রদর্শন না করে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪২

وعن أبي موسى، رضي الله عنه أن أعرابيا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ يا رسول الله الرجل يقاتل للمغنم، والرجل يقاتل ليذكر، والرجل يقاتل ليرى مكانه‏؟‏ وفي رواية‏:‏ يقاتل شجاعة، ويقاتل حَمِيّة‏.‏ وفي رواية‏:‏ ويقاتل غضبًا، فمن في سبيل الله‏؟‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا، فهو في سبيل الله‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তিকে তীরন্দাজির বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া হল, তারপর সে তা পরিত্যাগ করল, সে আমাদের দলভুক্ত নয় অথবা সে অবাধ্যতা করল।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪৩

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنهما، قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏ما من غازية أو سرية تغزو، فتغنم وتسلم، إلا كانوا قد تعجلوا ثلثي أجورهم، وما من غازية أو سرية تخفق وتصاب إلا تم لهم أجورهم‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছি, আল্লাহ তিন ব্যক্তিকে একটি তীরের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তীর প্রস্তুত কারক, যে তা প্রস্ততে সাওয়াব কামনা করে, তীরটি নিক্ষেপকারী এবং তীরন্দাজের হাতে যে তীর ধরিয়ে দেয়। তোমরা তীরন্দাজী কর ও ঘোড়ায় আরোহণ করা শিখো। তোমরা যদি তীরন্দাজী শিক্ষা গ্রহণ কর তাহলে আমার নিকট তা ঘোড়ায় আরোহণ শিখার চাইতে অধিক প্রিয়। যে লোক তিরন্দাজী শিখার পর তার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে তা ছেড়ে দেয় আল্লাহর একটি নি‘মাত সে পরিত্যাগ করে অথবা তিনি (এভাবে) বলেন, সে অকৃতজ্ঞতা দেখায়। (আবূ দাউদ প্রভৃতি) (হাদীসটি দুর্বল। আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। যেমনটি আমি “তাখরীজু ফিকহিস সীরাহ্” গ্রন্থে (পৃ-২২৫) আলোচনা করেছি। এর সনদের বর্ণনাকারী খালেদ ইবনু যায়েদ মাজহূল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী। তবে নিম্নের ভাষায় বর্ণিত হাদীসটি সহীহ্ঃ “যে ব্যক্তি তীর চালানো শিখল অতঃপর তা ছেড়ে দিল সে আমাদের অন্তভুক্ত নয়।” এটিকে ইমাম মুসলিম প্রমুখ বর্ণনা করেছেন।


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪৪

وعن أبي أمامة، رضي الله عنه أن رجلا قال‏:‏ يا رسول الله ائذن لي في السياحة‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏إن سياحة أمتي الجهاد في سبيل الله، عز وجل‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد جيد‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তীর নিক্ষেপে রত একদল লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন, “হে ইসমাঈলের সন্তানেরা। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। কারণ, তোমাদের (আদি) পিতা (ইসমাঈল) তীরন্দাজ ছিলেন।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪৫

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏قفلة كغزوة‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد جيد‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করে, তার জন্য একটি গোলাম আজাদ করার সমান নেকী হয়।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪৬

وعن السائب بن يزيد، رضي الله عنه قال‏:‏ لما قدم النبي صلى الله عليه وسلم من غزوة تبوك تلقاه الناس، فلقيته مع الصبيان على ثنية الوداع‏.‏ ‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح بهذا اللفظ‏)‏‏‏ ورواه البخاري قال‏:‏ ذهبنا نتلقى رسول الله صلى الله عليه وسلم مع الصبيان إلى ثنية الوداع‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কিছু খরচ করে, তার জন্য সাতশ’ গুণ নেকী লেখা হয়।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪৭

وعن أبي أمامة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ من لم يغزُ أو يجهز غازيًا، أو يخلف غازيًا في أهله بخير أصابه الله بقارعة قبل يوم القيامة‏:‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ ঐ একদিন (রোযার) বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে সত্তর বছর (দূরত্ব সম) দূরে রাখবেন।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪৮

وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্বসম একটি গর্ত খনন করে দেবেন।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৪৯

وعن أبي عمرو ويقال‏:‏ أبو حكيم النعمان بن مقرن رضي الله عنه قال‏:‏ شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا لم يقاتل من أول النهار أخر القتال حتى تزول الشمس وتهب الريح وينزل النصر‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي، وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ সে জিহাদ করেনি এবং অন্তরে জিহাদ সম্পর্কে কোন চিন্তা-ভাবনাও করেনি, সে মুনাফিক্বীর একটি শাখায় মৃত্যুবরণ করল।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫০

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏لا تتمنوا لقاء العدو، فإذا لقيتموه فاصبروا‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তিনি বললেন, “মদীনাতে কিছু লোক এমন আছে যে, তোমরা যত সফর করছ এবং যে কোন উপত্যকা অতিক্রম করছ, তারা তোমাদের সঙ্গে রয়েছে। অসুস্থতা তাদেরকে মদিনায় থাকতে বাধ্য করেছে।” আর একটি বর্ণনায় আছে যে, “কোন ওজর তাদেরকে মদীনায় থাকতে বাধ্য করেছে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তারা নেকীতে তোমাদের অংশীদার।” (বুখারী আনাস হতে, মুসলিম জাবের হতে এবং শব্দাবলী তাঁরই।


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫১

وعنه وعن جابر، رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏الحرب خُدعة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, ‘এক লোক গনীমতের মালের জন্য, এক লোক নাম নেওয়ার জন্য আর এক লোক নিজ মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য জিহাদে অংশ গ্রহণ করল।’ অন্য বর্ণনায় আছে, ‘বীরত্ব দেখাবার জন্য এবং বংশীয় ও গোত্রীয় পক্ষপাতিত্বের জন্য।’ আর এক বর্ণনানুযায়ী, ‘ক্রুদ্ধ হয়ে জিহাদে অংশ গ্রহণ করল। তাদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করল?’ তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লার বাণীকে উঁচু করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, সেই আল্লাহর পথে জিহাদ করল।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫২

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏الشهداء خمسة‏:‏ المطعون والمبطون، والغريق، وصاحب الهدم والشهيد في سبيل الله‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে যোদ্ধাদল বা সেনাবাহিনী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল এবং গনীমতের সম্পদ অর্জন করল তথা নিরাপদে বাড়ি ফিরে এল, সে দল বা বাহিনী স্বীয় প্রতিদানের (নেকীর) তিন ভাগের দু’ভাগ (পার্থিব জীবনেই) সত্বর লাভ করে নিলো (এবং একভাগ পরকালে পাবে)। আর যে সেনাদল লড়াই করল এবং গনীমতের মালও পেল না এবং শহীদ বা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল, সে সেনাদল (পরকালে) পূর্ণ প্রতিদান অর্জন করবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫৩

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏ما تعدون الشهداء فيكم‏؟‏ قالوا‏:‏ يا رسول الله من قتل في سبيل الله فهو شهيد‏.‏ قال‏:‏ ‏"‏إن شهداء أمتي إذًا لقليل‏!‏‏"‏ قالوا‏:‏ فمن يا رسول الله ‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏من قتل في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات في الطاعون فهو شهيد، ومن مات في البطن فهو شهيد، والغريق شهيد‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

একটি লোক নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে (সংসার ত্যাগ করে বিদেশ) ভ্রমণ করার অনুমতি দিন।’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আমার উম্মতের ভ্রমণ কার্য আল্লাহর পথে জিহাদ করার মধ্যে নিহিত।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫৪

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنهما قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ “من قتل دون ماله فهو شهيد‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏"

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নেকীও জিহাদে লিপ্ত থাকার মতই।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫৫

وعن أبي الأعور سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل، أحد العشرة المشهود لهم بالجنة، رضي الله عنهم، قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏من قتل دون ماله فهو شهيد، ومن قتل دون دمه فهو شهيد، ومن قتل دون دينه فهو شهيد، ومن قتل دون عرضه فهو شهيد‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, “যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাবূক অভিযান হতে ফিরে এলেন, তখন তাঁকে (আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকল) মানুষ স্বাগত জ্ঞাপন করেছিল। আমিও ছোট শিশুদের সাথে (মদীনার উপকণ্ঠে অবস্থিত) ‘সানিয়াতুল অদা’ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫৬

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ يا رسول الله أرأيت إن جاء رجل يريد أخذ مالي‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏فلا تعطه مالك‏"‏ قال‏:‏ أرأيت إن قاتلني‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏قاتله‏"‏ قال‏:‏ أرأيت إن قتلني قال‏:‏ ‏"‏فأنت شهيد‏"‏ قال‏:‏ أرأيت إن قتلته‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏هو في النار‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করল না, অথবা কোন মুজাহিদকে (যুদ্ধ-সরঞ্জাম দিয়ে যুদ্ধের জন্য) প্রস্তুত করল না কিংবা মুজাহিদদের গৃহবাসীদের ভালভাবে তত্ত্বাবধান করার জন্য তার প্রতিনিধিত্ব করল না, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের পূর্বেই কোন বিপদ বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত করবেন।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫৭

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من أعتق رقبة مسلمة أعتق الله بكل عضو منه عضوًا منه من النار حتى فرجه بفرجه‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমরা জান-মাল ও বাক্য দ্বারা সংগ্রাম চালাও।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫৮

وعن أبي ذر رضي الله عنه قال‏:‏ قلت يا رسول الله أي الأعمال أفضل‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏الإيمان بالله، والجهاد في سبيل الله‏"‏ قلت‏:‏ أي الرقاب أفضل‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏أنفسها عند أهلها وأكثرها ثمنًا” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏"

তিনি বলেন, ‘আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে হাজির ছিলাম। (তাঁর রণকৌশল এই ছিল যে,) যদি তিনি দিনের শুরুতে যুদ্ধ না করতেন, তাহলে সূর্য ঢলে যাওয়া ও বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং সাহায্য নেমে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ স্থগিত রাখতেন।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৫৯

وعن المعرور بن سويد قال‏:‏ رأيت أبا ذر رضي الله عنه وعليه حلة وعلى غلامه مثلها، فسألته عن ذلك فذكر أنه ساب رجلا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فعيره بأمه فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏إنك امرؤ فيك جاهلية‏" ‏ ‏:‏ هم إخوانكم، وخولكم جعلهم الله تحت أيديكم فمن كان أخوه تحت يده فليطعمه مما يأكل ويلبسه مما يلبس ولا تكلفوهم ما يغلبهم، فإن كلفتموهم فأعينوهم” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “শত্রুর সাথে মুকাবিলা করার আকাঙ্ক্ষা করো না; বরং আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। আর যদি তাদের সম্মুখীন হয়ে যাও, তাহলে ধৈর্য ধারণ কর।” (বুখারী ও মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৬০

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏إذا أتى أحدكم خادمه بطعامه، فإن لم يجلسه معه فليناوله لقمة أو لقمتين أو أُكلة أو أُكلتين فإنه ولي علاجه‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏ (9)"

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যুদ্ধ হচ্ছে প্রতারণামূলক এক ধরনের চক্রান্ত।”


রিয়াদুস সলেহিন > (শহীদদের প্রকারভেদ)

রিয়াদুস সলেহিন ১৩৬১

عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إن العبد إذا نصح لسيده، وأحسن عبادة الله، فله أجره مرتين‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “(পারলৌকিক পুরস্কারে পুরস্কৃত হওয়ার দিক দিয়ে) শহীদ পাঁচ ধরনের; (১) প্লেগরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত, (২) পেটের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত, (৩) পানিতে ডুবে মৃত, (৪) মাটি চাপা পড়ে মৃত এবং (৫) আল্লাহর পথে থাকা অবস্থায় মৃত।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৬২

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏للعبد المملوك المصلح أجران، والذي نفس أبي هريرة بيده لولا الجهاد في سبيل الله والحج، وبر أمي لأحببت أن أموت وأنا مملوك‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তোমরা তোমাদের মাঝে কোন্‌ কোন্‌ ব্যক্তিকে শহীদ বলে গণ্য কর?” সকলেই বলে উঠল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর পথে যে নিহত হয়, সেই শহীদ।’ তিনি বললেন, “তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদ খুবই অল্প।” লোকেরা বলল, ‘তাহলে তাঁরা কে কে হে আল্লাহর রসূল?’ তিনি বললেন, “যে আল্লাহর পথে নিহত হয় সে শহীদ, যে আল্লাহর পথে মারা যায় সে শহীদ, যে প্লেগ রোগে মারা যায় সে শহীদ, যে পেটের রোগে প্রাণ হারায়, সে শহীদ এবং যে পানিতে ডুবে মারা যায় সেও শহীদ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৬৩

وعن أبي موسى الأشعري قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏المملوك الذي يحسن عبادة ربه ويؤدي إلى سيده الذي عليه من الحق، والنصيحة والطاعة له أجران‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৬৪

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ثلاثة لهم أجران‏:‏ رجل من أهل الكتاب آمن بنبيه، وآمن بمحمد، والعبد المملوك إذا أدى حق الله، وحق مواليه، ورجل كانت له أمة فأدبها فأحسن تأديبها وعلمها فأحسن تعليمها، ثم أعتقها فتزوجها فله أجران‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি তার মাল-ধন রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজ রক্ত (প্রাণ) রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ। যে তার দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ এবং যে তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সেও শহীদ।


রিয়াদুস সলেহিন ১৩৬৫

عن معقل بن يسار رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏العبادة في الهرج كهجرة إلي‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি কেউ আমার মাল (অবৈধভাবে) নিতে আসে তাহলে কি করতে হবে?’ তিনি বললেন, “তুমি তাকে তোমার মাল দেবে না।” পুনরায় সে নিবেদন করল, ‘যদি সে আমার সাথে লড়াই করে?’ তিনি বললেন, “তাহলে (তুমিও) তার সাথে লড়াই কর।” সে বলল, ‘বলুন, সে যদি আমাকে হত্যা করে দেয়?’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি শহীদ হয়ে যাবে।” সে আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘বলুন, আমি যদি তাকে মেরে ফেলি (তাহলে কি হবে)?’ তিনি বললেন, “তাহলে সে জাহান্নামী হবে।”


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية