সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন্‌ খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু'আ - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন্‌ খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু'আ

রিয়াদুস সলেহিন ১২৪১

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إذا نسي أحدكم فأكل أو شرب فليتم صومه فإنما أطعمه الله وسقاه‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যতদিন পর্যন্ত মুসলমানেরা শীঘ্র ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৪২

وعن لقيط بن صبرة رضي الله عنه قال قلت يا رسول الله أخبرني عن الوضوء‏؟‏ قال‏‏ ‏"‏أسبغ الوضوء، وخلل بين الأصابع، وبالغ في الاستنشاق، إلا أن تكون صائمًا‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه أبوداود، والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক আয়েশা (রাঃ) নিকট উপস্থিত হলাম। মাসরুক তাঁকে বললেন, ‘মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহচরদের মধ্যে দু’জন সহচর কল্যাণের ব্যাপারে আদৌ ত্রুটি করেন না। তাঁদের একজন মাগরিব ও ইফতার সত্বর সম্পাদন করেন এবং অপরজন মাগরিব ও ইফতার দেরীতে সম্পাদন করেন।’ এ কথা শুনে আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে মাগরিব ও ইফতার সত্বর করেন?’ তিনি বললেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)।' তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপই করতেন।’


রিয়াদুস সলেহিন ১২৪৩

وعن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدركه الفجر وهو جنب من أهله ثم يغتسل ويصوم ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে যারা দ্রুত ইফতার করে তারাই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়।


রিয়াদুস সলেহিন ১২৪৪

وعن عائشة وأم سلمة رضي الله عنهما قالتا‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصبح جنبًا من غير حلم ثم يصوم‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যখন রাত্রি এ (পূর্ব) দিক থেকে আগমন করবে এবং দিন এ (পশ্চিম) দিক থেকে প্রস্থান করবে এবং সূর্য ডুবে যাবে, তখন অবশ্যই রোযাদার ইফতার করবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৪৫

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏أفضل الصيام بعد رمضان‏:‏ شهر الله المحرم، وأفضل الصلاة بعد الفريضة‏:‏ صلاة الليل‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, (একবার) আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্যে পথ চলছিলাম, তখন তিনি রোযাদার ছিলেন। অতঃপর যখন সূর্য অস্ত গেল, তখন তিনি সফররত সঙ্গীদের একজনকে বললেন, “হে অমুক! বাহন থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” সে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আর একটু সন্ধ্যা করতেন (তাহলে ভাল হত।)’ তিনি বললেন, “তুমি বাহন থেকে নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” সে বলল, ‘এখনো দিন হয়ে আছে।’ তিনি আবার বললেন, “তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সে নেমে তাঁদের জন্য ছাতু ঘুলে দিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পান করলেন এবং বললেন, “যখন তোমরা প্রত্যক্ষ করবে যে, রাত্রি এ (পূর্ব) দিক থেকে এসে পড়েছে, তখন অবশ্যই রোযাদার ইফতার করবে।” আর সেই সাথে তিনি পূর্বদিকে ইঙ্গিত করলেন।


রিয়াদুস সলেহিন ১২৪৬

وعن عائشة رضي الله عنها قالت لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم يصوم من شهر أكثر من شعبان فإنه كان يصوم شعبان كله وفي رواية‏:‏ كان يصوم شعبان إلا قليلا‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন ইফতার করে তখন তার উচিত খুরমা-খেজুর দিয়ে ইফতার করা। তবে সে যদি খুরমা-খেজুর না পায় তাহলে পানি দিয়ে যেন ইফতার করে, কেননা পানি হচ্ছে পাক-পবিত্র।


রিয়াদুস সলেহিন ১২৪৭

وعن مجيبة الباهلية عن أبيها أو عمها، أنه أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم انطلق فأتاه بعد سنة وقد تغيرت حاله وهيئته، فقال‏:‏ يا رسول الله أما تعرفني‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏ومن أنت‏؟‏‏"‏ قال‏:‏ أنا الباهلي الذي جئتك عام الأول‏.‏ قال‏:‏ ‏"‏فما غيرك، وقد كنت حسن الهيئة‏؟‏‏"‏ قال‏:‏ ما أكلت طعامًا منذ فارقتك إلا بليل‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏عذبت نفسك‏!‏‏"‏ ثم قال‏:‏ ‏"‏صم شهر الصبر، ويومًا من كل شهر‏"‏ قال‏:‏ زدني، فإن بي قوة، قال‏:‏ ‏"‏ صم يومين‏"‏ قال‏:‏ زذني، قال‏:‏ ‏"‏صم ثلاثة أيام‏"‏ قال‏:‏ زدني‏.‏ قال‏:‏ ‏"‏صم من الحرم واترك، صم من الحرم واترك، صم من الحرم واترك‏"‏ وقال بأصابعه الثلاث فضمها، ثم أرسلها‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏.‏ ‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায পড়ার আগে কতিপয় টাটকা পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি টাটকা পাকা খেজুর না পেতেন, তাহলে শুকনো কয়েকটি খেজুর যোগে ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুরও না হত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।’


রিয়াদুস সলেহিন > রোযাদার নিজ জিভ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে রোযার পরিপন্থী ক্রিয়াকলাপ তথা গালি-গালাজ ও অনুরূপ অন্য অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।

রিয়াদুস সলেহিন ১২৪৮

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏‏ ما من أيام العمل الصالح فيها أحب إلى الله من هذه الأيام‏"‏ يعني أيام العشر، قالوا‏:‏ يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ولا الجهاد في سبيل الله، إلا رجل خرج بنفسه، وماله فلم يرجع من ذلك بشيء‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমাদের কারো রোযার দিন হবে, সে যেন অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ না করে ও হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ গালাগালি করে অথবা তার সাথে লড়াই ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে যে, ‘আমি রোযাদার।”


রিয়াদুস সলেহিন ১২৪৯

وعن أبي قتادة رضي الله عنه قال‏:‏ سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ عن صوم يوم عرفة‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏يكفر السنة الماضية والباقية‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও তার উপর আমল করা পরিহার না করল, তখন আল্লাহর কোন দরকার নেই যে, সে তার পানাহার ত্যাগ করুক।”


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية