রিয়াদুস সলেহিন > শুক্রের সিজদার বিবরণ
রিয়াদুস সলেহিন ১১৬৬
وعن أبي هريرة، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أفضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم، وأفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة الليل" ((رواه مسلم))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে আমরা মক্কা থেকে মদিনার পানে রওয়ানা দিলাম । আমরা যখন ‘আযওয়ারা নামক স্থানের নিকটবর্তী হলাম, তিনি সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন এবং তাঁর দুই হাত তুলে কিছুক্ষণ দুআ করলেন, তারপর সাজদাহ করলেন, দীর্ঘ সময় সাজদায় থাকলেন, তারপর উঠলেন এবং আবার দুই হাত তুলে কিছু সময় দুআ করলেন, তারপর আবার সাজদায় নত হলেন । তিনি তিনবার এমন করলেন এবং বললেন: আমি আমার প্রভুর নিকট আবেদন করেছিলাম এবং আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করেছিলাম । আল্লাহ আমাকে আমার এক-তৃতীয়াংশ উম্মত (জান্নাতে) দিয়েছেন । আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য আমি সাজদাহ করলাম । তারপর আমি মাথা উঠিয়ে আমার উম্মতের জন্য আমার প্রভুর কাছে আবেদন করলাম । তিনি আমাকে আমার আরও এক-তৃতীয়াংশ উম্মত (জান্নাতে) দিলেন । এজন্যও আমি কৃতজ্ঞতার সাজদাহ করলাম । তারপর মাথা তুলে আমার উম্মতের জন্য আবেদন করলাম । তিনি আমাকে আরও এক-তৃতীয়াংশ উম্মত (জান্নাতে) দিলেন । এজন্যও আমি কৃতজ্ঞতার সাজদাহ করলাম । (আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির সনদ দুর্বল যেমনটি আমি “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে (নং ৪৬৭) এবং “য‘ঈফা” গ্রন্থে নং (৩২২৯/৩২৩০) আলোচনা করেছি । এর এক বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনুল হাসান সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি মাদানী তার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় না । তার থেকে মূসা ইবনু ইয়াকূব বর্ণনা করেছেন । এর সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি মাজহূলুল হাল । প্রকৃতপক্ষে আস‘আস ইবনু ইসহাক মাজহূলুল হাল আর মূসা ইবনু ইয়াকূব হচ্ছেন মাজহূলুল আইন । (বিস্তারিত দেখুন “য‘ঈফা” গ্রন্থের উক্ত নম্বরে) । আবূ দাঊদ ২৭৭৫ ।) (অবশ্য শুক্রের সিজদাহ অন্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত । মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কোন সুসংবাদ দেওয়া হলে তিনি সিজদাহ করতেন ।)
রিয়াদুস সলেহিন > রাতে উঠে (তাহাজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
রিয়াদুস সলেহিন ১১৬৭
وعن ابن عمر رضي الله عنهما، أن النبي صلى الله عليه وسلم ، قال: صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا خفت الصبح فأوتر بواحدة" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রির একাংশে (নামাযে) এত দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করতেন যে, তাঁর পা ফুলে ফাটার উপক্রম হয়ে পড়ত । একদা আমি তাঁকে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আপনি এত কষ্ট সহ্য করছেন কেন ? অথচ আপনার তো পূর্ব ও পরের গুনাহসমূহকে ক্ষমা ক’রে দেওয়া হয়েছে ।’ তিনি বললেন, “আমি কি শুকরগুযার বান্দা হব না ?”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৬৮
وعنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم ، يصلي من الليل مثنى مثنى، ويوتر بركعة. ((متفق عليه)) .
অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে
রিয়াদুস সলেহিন ১১৬৯
وعن أنس رضي الله عنه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ، يفطر من الشهر حتى نظن أن لا يصوم منه، ويصوم حتى نظن أن لا يفطر منه شيئًا، وكان لا تشاء أن تراه من الليل مصليا إلا رأيته، ولا نائمًا إلا رأيته. ((رواه البخاري)).
একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ও ফাতেমার নিকট রাত্রি বেলায় আগমন করলেন এবং বললেন, “তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) কি (তাহাজ্জুদের) নামায পড় না ?”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭০
وعن عائشة رضي الله عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان يصلي إحدى عشرة ركعة- تعني في الليل- يسجد السجدة من ذلك قدر ما يقرأ أحدكم خمسين آية قبل أن يرفع رأسه، ويركع ركعتين قبل صلاة الفجر، ثم يضطجع على شقه الأيمن حتى يأتيه المنادي للصلاة، ((رواه البخاري)).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (একবার) বললেন, “আব্দুল্লাহ ইবনে উমার কতই না ভাল মানুষ হত, যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায পড়ত ।” সালেম বলেন, ‘তারপর থেকে (আমার আব্বা) আব্দুল্লাহ রাতে অল্পক্ষণই ঘুমাতেন ।’
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭১
وعنها قالت: ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ، يزيد- في رمضان ولا في غيره- على إحدي عشرة ركعة: يصلي أربعًا فلا تسأل عن حسنهن وطولهن! ثم يصلي أربعًا فلا تسأل عن حسنهن وطولهن! ثم يصلي ثلاثًا. فقلت: يا رسول الله أتنام قبل أن توتر!؟ فقال: يا عائشة إن عيني تنامان ولا ينام قلبي" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আব্দুল্লাহ ! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না । সে রাতে উঠে নামায পড়ত, তারপর রাতে উঠা ছেড়ে দিল ।” (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭২
وعنها أن النبي صلى الله عليه وسلم، كان ينام أول الليل، ويقوم آخره فيصلي. ((متفق عليه)) .
তিনি বলেন, এমন একটি লোকের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করা হল, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করে । তিনি বললেন, “এ এমন এক মানুষ, যার দু’কানে শয়তান প্রস্রাব ক’রে দিয়েছে ।” অথবা বললেন, “যার কানে প্রস্রাব করে দিয়েছে ।” (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭৩
وعن ابن مسعود رضي الله عنه، قال: صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ، ليلة، فلم يزل قائمًا حتى هممت بأمر سوء. قيل: ما هممت؟ قال: هممت أن أجلس وأدعه. ((متفق عليه)) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় তখন তার গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গাঁট বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গাঁটে সে এই বলে মন্ত্র পড়ে যে, ‘তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও ।’ অতঃপর যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিক্র করে, তাহলে একটি গাঁট খুলে যায় । তারপর যদি ওযূ করে, তবে তার আর একটি গাঁট খুলে যায় । তারপর যদি নামায পড়ে, তাহলে সমস্ত গাঁট খুলে যায় । আর তার প্রভাত হয় স্ফূর্তিভরা ভালো মনে । নচেৎ সে সকালে ওঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭৪
وعن حذيفة رضي الله عنه، قال: صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ، ذات ليلة فافتتح البقرة، فقلت: يركع عند المائة، ثم مضى، فقلت: يصلي بها في ركعة، فمضي، فقلت: يركع بها، ثم افتتح النساء فقرأها، ثم افتتح آل عمران، فقرأها، يقرأ مترسلا. إذا مر بآية فيها تسبيح سبح، وإذا بسؤال سأل، وإذا مر بتعوذ تعوذ، ثم ركع، فجعل يقول: سبحان ربي العظيم، فكان ركوعه نحوًا من قيامه، ثم قال: سمع الله لمن حمده، ربنا لك الحمد، ثم قام طويلا قريبًا مما ركع، ثم سجد فقال: سبحان ربي الأعلى، فكان سجوده قريبًا من قيامه. ((رواه مسلم)).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে লোক সকল ! তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্ন দাও এবং লোকে যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকবে তখন নামায পড় । তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭৫
وعن جابر رضي الله عنه قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم : أي الصلاة أفضل؟ قال: طول القنوت" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররামের রোযা । আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭৬
وعن عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنهما، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ، قال: أحب الصلاة إلى الله صلاة داود، وأحب الصيام إلى الله صيام داود، كان ينام نصف الليل ويقوم ثلثه وينام سدسه ويصوم يومًا ويفطر يومًا" ((متفق عليه))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রাতের নামায দু’ দু’ রাকআত করে । অতঃপর যখন ফজর হওয়ার আশংকা করবে, তখন এক রাকআত বিত্র পড়ে নেবে ।” (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭৭
وعن جابر رضي اللله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ، يقول: إن في الليل لساعة، لا يوافقها رجل مسلم يسأل الله تعالى خيرًا من أمر الدنيا والآخرة، إلا أعطاه إياه، وذلك كل ليلة" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের বেলায় দু’ দু’ রাকআত করে নামায পড়তেন এবং এক রাকআত বিত্র পড়তেন ।’ (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭৮
وعن أبي هريرة رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إذا قام أحدكم من الليل فليفتتح الصلاة بركعتين خفيفتين" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, ‘কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনভাবে রোযা ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত মাসে আর রোযাই রাখবেন না । অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে (একাদিক্রমে) রোযা রাখতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর রোযা ত্যাগই করবেন না । (তাঁর অবস্থা এরূপ ছিল যে,) যদি তুমি তাঁকে রাত্রিতে নামায পড়া অবস্থায় দেখতে না চাইতে, তবু বাস্তবে তাঁকে নামায পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে । আর তুমি যদি চাইতে যে, তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে না, কিন্তু বাস্তবে তুমি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেতে ।’
রিয়াদুস সলেহিন ১১৭৯
وعن عائشة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل افتتح صلاته بركعتين خفيفتين ((رواه مسلم)).
‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এগার রাকআত নামায পড়তেন, অর্থাৎ রাতে । তিনি মাথা তোলার পূর্বে এত দীর্ঘ সাজদাহ করতেন যে, ততক্ষণে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারবে । আর ফরয নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত সুন্নত নামায পড়ে ডান পাশে শুয়ে আরাম করতেন । শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট নামাযের ঘোষণাকারী এসে হাযির হত ।’ (বুখারী)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮০
وعنها رضي الله عنها، قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ، إذا فاتته الصلاة من الليل من وجع أو غيره، صلى من النهار ثنتي عشر ركعة. ((رواه مسلم)).
তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযান ও অন্যান্য মাসে (তাহাজ্জুদ তথা তারাবীহ) ১১ রাকআতের বেশী পড়তেন না । প্রথমে চার রাকআত পড়তেন । সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে প্রশ্নই করো না । তারপর (আবার) চার রাকআত পড়তেন । সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে প্রশ্নই করো না । অতঃপর তিন রাকআত (বিত্র) পড়তেন । (একদা তিনি বিত্র পড়ার আগেই শুয়ে গেলেন ।) আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল ! আপনি কি বিত্র পড়ার পূর্বেই ঘুমাবেন ?” তিনি বললেন, “আয়েশা ! আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায়; কিন্তু অন্তর জেগে থাকে ।” (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮১
وعن عمر بن الخطاب، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من نام عن حزبه، أو عن شيء منه، فقرأه فيما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر، كتب له كأنما قرأه من الليل" ((رواه مسلم))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের প্রথম দিকে ঘুমাতেন ও শেষের দিকে উঠে নামায পড়তেন ।
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮২
وعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : رحم الله رجلا قام من الليل، فصلى وأيقظ امرأته، فإن أبت نضح في وجهها الماء، ورحم الله امرأة قامت من الليل فصلت، وأيقظت زوجها فإن أبي نضحت في وجهه الماء" ((رواه أبو داود بإسناد صحيح))
তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়েছি । তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রইলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমি একটা মন্দ কাজের ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম ।’ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘সে ইচ্ছাটা কি করেছিলেন ?’ তিনি বললেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছিল যে, তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ি ।’
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮৩
وعنه وعن أبي سعيد رضي الله عنهما، قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إذا أيقظ الرجل أهله من الليل فصليا أو صلى ركعتين جميعًا كتب في الذاكرين والذاكرات" ((رواه أبو داود بإسناد صحيح))
তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়লাম । তিনি সূরা বাকারাহ আরম্ভ করলেন । আমি (মনে মনে) বললাম, ‘একশত আয়াতের মাথায় তিনি রুকু করবেন ।’ (কিন্তু) তিনি তারপরও কিরাআত চালু রাখলেন । আমি (মনে মনে) বললাম, ‘তিনি এরই দ্বারা (সূরা শেষ করে) রুকু করবেন ।’ কিন্তু তিনি সূরা নিসা পড়তে আরম্ভ করলেন এবং সম্পূর্ণ পড়লেন । তিনি স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করতেন । যখন এমন আয়াত আসত, যাতে তাসবীহ পাঠ করার উল্লেখ আছে, তখন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করতেন । যখন কোন প্রার্থনা সম্বলিত আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন । যখন কোন আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করতেন । (অতঃপর) তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকু করলেন । সুতরাং তিনি রুকুতে ‘সুবহানা রাবিবয়াল আযীম’ পড়তে আরম্ভ করলেন । আর তাঁর রুকু ও কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়া অবস্থা) এক সমান ছিল । তারপর তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাববানা অলাকাল হাম্দ’ (অর্থাৎ আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রশংসা শুনলেন, যে তা তাঁর জন্য করল । হে আমাদের পালনকর্তা তোমার সমস্ত প্রশংসা) পড়লেন । অতঃপর বেশ কিছুক্ষণ (কওমায়) দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুর কাছাকাছি সময় জুড়ে । তারপর সাজদাহ করলেন এবং তাতে তিনি পড়লেন, ‘সুবহানাল্লা রাবিবয়াল আ‘লা’ (অর্থাৎ আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি) । আর তাঁর সাজদা দীর্ঘ ছিল তার কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়া অবস্থা)র কাছাকাছি ।
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮৪
وعن عائشة رضي الله عنها، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذا نعس أحدكم في الصلاة، فليرقد حتى يذهب عنه النوم، فإن أحدكم إذا صلى وهو ناعس، لعله يذهب يستغفر فيسب نفسه" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বোত্তম নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি বললেন, “দীর্ঘ কিয়ামযুক্ত নামায ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮৫
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إذا قام أحدكم، من الليل فاستعجم القرآن على لسانه، فلم يدرِ ما يقول، فليضطجع" ((رواه مسلم))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম নামায, দাঊদ عليه السلام -এর নামায এবং আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম রোযা, দাঊদ عليه السلام -এর রোযা; তিনি অর্ধরাত নিদ্রা যেতেন এবং রাতের তৃতীয় ভাগে ইবাদত করার জন্য উঠতেন । অতঃপর রাতের ষষ্ঠাংশে আবার নিদ্রা যেতেন ।
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮৬
عن أبي هريرة رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من قام رمضان إيمانًا واحتسابًا غفر له ما تقدم من ذنبه" ((متفق عليه))
তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “রাত্রিকালে এমন একটি সময় আছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি তা পেয়েই দুনিয়া ও আখিরাত বিষয়ক যে কোন উত্তম জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে তা দিয়ে থাকেন । ঐ সময়টি প্রত্যেক রাতে থাকে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮৭
وعنه، رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، يرغب في قيام رمضان من غير أن يأمرهم فيه بعزيمة، فيقول: من قام رمضان إيمانًا واحتسابًا غفر له ما تقدم من ذنبه" ((رواه مسلم))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে নামায পড়ার জন্য উঠবে, সে যেন হাল্কাভাবে দু’ রাকআত পড়ার মাধ্যমে নামায শুরু করে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮৮
وعن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من قام ليلة القدر إيمانا واحتسابًا غفر له ما تقدم من ذنبه" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে (তাহাজ্জুদের) জন্য উঠতেন, তখন দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায পড়ার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন ।’
রিয়াদুস সলেহিন ১১৮৯
وعن ابن عمر رضي الله عنهما أن رجالا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، أروا ليلة القدر في المنام في السبع الأواخر، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أرى رؤياكم قد تواطأت في السبع الأواخر، فمن كان متحريها، فليتحرها في السبع الأواخر" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, ‘দৈহিক ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোন অসুবিধার কারণে যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাতের নামায ছুটে যেত, তাহলে তিনি দিনের বেলায় ১২ রাকআত নামায পড়তেন ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৯০
وعن عائشة رضي الله عنها، قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجاور في العشر الأواخر من رمضان، ويقول: تحروا ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় অযীফা (দৈনিক যথা নিয়মে তাহাজ্জুদের নামায) অথবা তার কিছু অংশ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, অতঃপর যদি সে ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে তা পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যেন সে তা রাতেই পড়েছে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৯১
وعنها، رضي الله عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: تحروا ليلة القدر في الوتر من العشر الأواخر من رمضان" ((رواه البخاري))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্ত্রীকেও জাগায় । অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে, তাহলে তার মুখে পানির ছিটা মারে । অনুরূপ আল্লাহ সেই মহিলার প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্বামীকেও জাগায় । অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে, তাহলে সে তার মুখে পানির ছিটা মারে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৯২
وعنها رضي الله عنها، قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم : إذا دخل العشر الأواخر من رمضان، أحيا الليلة، وأيقظ أهله، وجد وشد المئزر" ((متفق عليه))
তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে রাতে জাগিয়ে উভয়ে নামায পড়ে অথবা তারা উভয়ে দু’ রাকআত করে নামায আদায় করে, তবে তাদেরকে (অতীব) যিক্রকারী ও যিক্রকারিনীদের দলে লিপিবদ্ধ করা হয় ।
রিয়াদুস সলেহিন ১১৯৩
وعنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ، يجتهد في رمضان ما لا يجتهد في غيره، وفي العشر الأواخر منه، ما لا يجتهد في غيره ((رواه مسلم))."
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে তন্দ্রাভিভূত হবে, তখন সে যেন নিদ্রা যায়, যতক্ষণ না তার নিদ্রার চাপ দূর হয়ে যায় । কারণ, যখন কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নামায পড়বে, তখন সে খুব সম্ভবত: ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিতে লাগবে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৯৪
وعنها قالت: قلت: يا رسول الله أرأيت إن علمت أي ليلة القدر ما أقول فيها؟ قال: قولي: اللهم إنك عفو تحب العفو فاعفُ عني" ((رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে উঠবে ও (ঘুমের চাপের কারণে) জিহ্বায় কুরআন পড়তে এমন অসুবিধা বোধ করবে যে, সে কি বলছে তা বুঝতে পারবে না, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে।”