রিয়াদুস সলেহিন > নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম । তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু । সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোনো কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
রিয়াদুস সলেহিন ১১৩৫
وعن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي بالليل، وهي معترضة بين يديه، فإذا بقي الوتر، أيقظها فأوترت. ((رواه مسلم)). وفي رواية له: فإذا بقي الوتر قال: قومي فأوتري يا عائشة"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে লোক সকল ! তোমরা নিজ নিজ বাড়িতে নামায পড় । কারণ, ফরয নামায ব্যতীত পুরুষের উত্তম নামায হল, যা সে নিজ বাড়িতে পড়ে থাকে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৩৬
وعن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: بادروا الصبح بالوتر" ((رواه أبو داود والترمذي)) وقال: حديث حسن صحيح
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা নিজেদের কিছু নামায তোমাদের বাড়িতে পড় এবং সে (ঘর-বাড়ি)গুলিকে কবরে পরিণত করো না ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৩৭
وعن جابر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من خاف أن لا يقوم الليل فليوتر أوله، ومن طمع أن يقوم آخره، فليوتر آخر الليل، فإن صلاة آخر الليل مشهودة، وذلك أفضل" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় (ফরয) নামায মসজিদে আদায় ক’রে নেবে, সে যেন তার কিছু নামায নিজ বাড়ির জন্যও নির্ধারিত করে । কেননা, তার নিজ ঘরে আদায়কৃত (সুন্নত) নামাযে আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ ও বরকত প্রদান করেন ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৩৮
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: أوصاني خليلي صلى الله عليه وسلم بصيام ثلاثة أيام من كل شهر، وركعتي الضحى، وأن أوتر قبل أن أرقد . ((متفق عليه)) والإيتار قبل النوم إنما يستحب لمن لا يثق باستيقاظ آخر الليل، فإن وثق فآخر الليل أفضل."
নাফে‘ ইবনে জুবাইর তাঁকে নামেরের ভাগ্নে সায়েবের নিকট এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে পাঠালেন, যা মুয়াবিয়া (রাঃ) তাঁকে নামাযের ব্যাপারে করতে দেখেছিলেন । তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাঁর (মুয়াবিয়া)র সাথে মাকসূরায় (মসজিদের মধ্যে বাদশাদের জন্য তৈরি বিশেষ নিরাপদ স্থান) জুমআর নামায পড়েছি । সুতরাং যখন ইমাম সালাম ফিরালেন, তখন আমি যেখানে ফরয নামায পড়ছিলাম, সেখানেই উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং (সুন্নত) নামায পড়লাম । তারপর যখন মুয়াবিয়া (রাঃ) বাড়ি প্রবেশ করলেন, তখন আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, “তুমি যা করলে তা আগামীতে আর কখনো করো না । যখন তুমি জুমআর (ফরয) নামায পড়বে, তখন তার সাথে মিলিয়ে অন্য নামায পড়ো না; যতক্ষণ না তুমি কারো সাথে কথা বল অথবা সেখান থেকে অন্যত্র সরে যাও । কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আদেশ আমাদেরকে করেছেন যে, আমরা যেন এক নামাযকে অন্য নামাযের সাথে না মিলাই, যতক্ষণ না কোনো লোকের সাথে কথা বলে নেই, কিংবা সেখান হতে অন্যত্র সরে যাই ।”
রিয়াদুস সলেহিন > বিত্রের প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়
রিয়াদুস সলেহিন ১১৩৯
وعن أبي ذر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يصبح على كل سلامى من أحدكم صدقة: فكل تسبيحة صدقة، وكل تهليلة صدقة، وكل تكبيرة صدقة، وأمر بالمعروف صدقة، ونهي عن المنكر صدقة، ويجزئ من ذلك ركعتان يركعهما من الضحى" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, ‘বিত্রের নামায, ফরয নামাযের ন্যায় অপরিহার্য নয়। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটিকে প্রচলিত করেছেন (অর্থাৎ এটি সুন্নত) । তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ বিত্র (বিজোড়) সেহেতু তিনি বিত্র (বিজোড়কে) ভালবাসেন । অতএব হে কুরআনের ধারকবাহকগণ ! তোমরা বিত্র পড় ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৪০
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي الضحى أربعًا ويزيد ما شاء الله . ((رواه مسلم)).
তিনি বলেন, ‘রাতের প্রতিটি ভাগেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিত্র পড়েছেন; রাতের প্রথম ভাগে, এর মধ্য ভাগে ও শেষ ভাগে । তাঁর বিত্রের শেষ সময় ছিল ভোরবেলা পর্যন্ত ।’
রিয়াদুস সলেহিন ১১৪১
وعن أم هانئ فاختة بنت أبي طالب رضي الله عنها قالت: ذهبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح فوجدته يغتسل فلما فرغ من غسله صلى ثمان ركعات، وذلك ضحى ((متفق عليه وهذا مختصر لفظ إحدى روايات مسلم))"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রাতের শেষ নামায বিত্র কর ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৪২
عن زيد بن أرقم رضي الله عنه أنه رأى قومًا يصلون من الضحى، فقال: أما لقد علموا أن الصلاة في غير هذه الساعة أفضل، إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: صلاة الأوابين حين ترمض الفصال" ((رواه مسلم))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ফজর হওয়ার পূর্বেই তোমরা বিত্র পড়ে ফেল ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১১৪৩
وعن أبي قتادة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين" ((متفق عليه))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে তাঁর (তাহাজ্জুদ) নামায পড়তেন । আর তিনি (আয়েশা) তাঁর সামনে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতে ন। অতঃপর যখন (সব নামায পড়ে) বিত্র বাকি থাকত, তখন তাঁকে তিনি জাগাতেন এবং তিনি (আয়েশা) বিত্র পড়তেন । (মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৪৪
وعن جابر، رضي الله عنه قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فقال: صلِ ركعتين" ((متفق عليه))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ফজর হওয়ার আগে ভাগেই বিত্র পড়ে নাও ।” (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান সহীহ)
রিয়াদুস সলেহিন ১১৪৫
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لبلال: يا بلال حدثني بأرجى عمل عملته في الإسلام، فإني سمعت دف نعليك بين يدي في الجنة، قال: ما عملت عملا أرجى عندي من أني لم أتطهر طهورًا في ساعة من ليل أو نهار إلا صليت بذلك الطهور ما كتب لي أن أصلي. ((متفق عليه وهذا لفظ البخاري)).
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি শেষ রাতে উঠতে না পারার আশংকা করবে, সে যেন শুরু রাতেই বিত্র পড়ে নেয় । আর যে ব্যক্তি রাতের শেষ ভাগে উঠে (ইবাদত) করার লালসা রাখে, সে যেন রাতের শেষ ভাগেই বিত্র সমাধা করে । কারণ, রাতের শেষ ভাগের নামাযে ফিরিশ্তারা হাজির হন এবং এটিই উত্তম আমল ।