ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের গুরুত্ব - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের গুরুত্ব

রিয়াদুস সলেহিন ১১০৭

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قرأ في ركعتي الفجر‏:‏ ‏{‏قل يا أيها الكافرون‏}‏ و‏{‏قل هو الله أحد‏}‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের (ফরয নামাযের) পূর্বে চার রাকআত ও ফজরের আগে দু’ রাকআত নামায কখনো ত্যাগ করতেন না । (বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ১১০৮

وعن ابن عمر رضي الله عنهما، قال رمقت النبي صلى الله عليه وسلم شهرًا يقرأ في الركعتين قبل الفجر‏:‏ ‏{‏قل يا أيها الكافرون‏}‏، و‏:‏ ‏{‏قل هو الله أحد‏}‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের প্রতি যেরূপ যত্নবান ছিলেন, সেরূপ অন্য কোনো নফল নামাযের প্রতি ছিলেন না ।’


রিয়াদুস সলেহিন ১১০৯

عن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا صلى ركعتي الفجر، اضطجع على شقه الأيمن‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ফজরের দু’ রাকআত (সুন্নত) পৃথিবী ও তাতে যা কিছু আছে সবার চেয়ে উত্তম ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১১১০

وعنها قالت‏:‏ كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي فيما بين أن يفرغ من صلاة العشاء إلى الفجر إحدى عشرة ركعة يسلم بين كل ركعتين، ويوتر بواحدة، فإذا سكت المؤذن من صلاة الفجر، وتبين له الفجر وجاء المؤذن، قام فركع ركعتين خفيفتين، ثم اضطجع على شقه الأيمن هكذا حتى يأتيه المؤذن للإقامة‏‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ (15)"

(একবার) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ফজরের নামাযের খবর দেবার মানসে তাঁর নিকট হাযির হলেন । তখন আয়েশা (রাঃ) তাঁকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রাখলেন, তিনি যে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন । শেষ পর্যন্ত ভোর খুব বেশি পরিস্ফুট হয়ে পড়ল, সুতরাং বিলাল দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নামাযের খবর দিলেন এবং বারংবার জানাতে থাকলেন । কিন্তু তিনি বাইরে এলেন না । (তার কিছুক্ষণ পর) তিনি এলেন ও লোকদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন । তখন বিলাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জানালেন যে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রেখেছিলেন, যে সম্পর্কে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন । শেষ পর্যন্ত খুব ফর্সা হয়ে গেল এবং তিনিও বাইরে আসতে দেরি করলেন । তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আমি ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়ছিলাম ।” বিলাল বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আপনি তো একদম সকাল ক’রে দিলেন ।’ তিনি বললেন, “তার চেয়েও বেশি সকাল হয়ে গেলেও, আমি ঐ দু’ রাকআত সুন্নত পড়তাম এবং সুন্দর ও উত্তমরূপে পড়তাম ।”


রিয়াদুস সলেহিন > ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত হাল্কা পড়া, তাতে কি সূরা পড়া হয় এবং তার সময় কি?

রিয়াদুস সলেহিন ১১১১

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏إذا صلى أحدكم ركعتي الفجر، فليضطجع على يمينه‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي بأسانيد صحيحة‏‏ قال الترمذي‏:‏ حديث حسن صحيح‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সময় আযান ও ইকামতের মাঝখানে সংক্ষিপ্ত দু’ রাকআত নামায পড়তেন । (বুখারী ও মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১১১২

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال‏:‏ صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين قبل الظهر، وركعتين بعدها‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

যখন মুআয্‌যিন আযান দিত ও ফজর উদয় হত তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায পড়তেন । (বুখারী-মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১১১৩

وعن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يدع أربعًا قبل الظهر‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে (তাহাজ্জুদের নামায) দুই দুই রাকআত ক’রে পড়তেন । আর রাতের শেষ ভাগে এক রাকআত বিত্‌র পড়তেন । ফজরের নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত (সুন্নত) পড়তেন । আর এত দ্রুত পড়তেন যেন তাকবীর-ধ্বনি তাঁর কানে পড়ছে ।’ (বুখারী ও মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১১১৪

وعنها قالت‏:‏ كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي في بيتي قبل الظهر أربعًا، ثم يخرج فيصلي بالناس، ثم يدخل فيصلي ركعتين، وكان يصلي بالناس المغرب ثم يدخل بيتي فيصلي ركعتين، ويصلي بالناس العشاء، ويدخل بيتي، فيصلي ركعتين‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏

আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সুন্নত নামাযের প্রথম রাকআতে ‘ক্বূলূ আমান্না বিল্লাহি অমা উনযিলা ইলাইনা’ (১৩৬নং) শেষ আয়াত পর্যন্ত - যেটি সূরা বাক্বারায় আছে - পাঠ করতেন । আর তার দ্বিতীয় রাকআতে ‘আমান্না বিল্লাহি অশহাদ বিআন্না মুসলিমূন’ (আলে ইমরানের ৫২নং আয়াত) পড়তেন । অন্য বর্ণনায় আছে, দ্বিতীয় রাকআতে আলে-ইমরানের (৬৪নং আয়াত) ‘তাআলাউ ইলা কালিমাতিন সাওয়াইন বাইনানা অবাইনাকুম’ পাঠ করতেন ।


রিয়াদুস সলেহিন ১১১৫

وعن أم حبيبة رضي الله عنها قالت‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏من حافظ على أربع ركعات قبل الظهر وأربع بعدها، حرمه الله على النار‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي‏)‏‏)‏‏‏ وقال حديث حسن صحيح‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতে সূরা ‘ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন’ ও ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন ।


রিয়াদুস সলেহিন ১১১৬

وعن عبد الله بن السائب، رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلى أربعًا بعد أن تزول الشمس قبل الظهر، وقال ‏ ‏إنها ساعة تفتح فيها أبواب السماء، فأحب أن يصعد لي فيها عمل صالح‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এক মাস ব্যাপী লক্ষ্য করে দেখলাম, তিনি ফজরের আগে দু’রাকআত সুন্নত নামাযে এই দুই সূরা ‘ক্বুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’ ও ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন ।


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية