রিয়াদুস সলেহিন > ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮১
عن جابر بن سمرة، رضي الله عنهما، قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ألا تصفون كما تصف الملائكة عند ربها؟" فقلنا: يا رسول الله وكيف تصف الملائكة عند ربها؟ قال: "يتمون الصفوف الأُول، ويتراصون في الصف" ((رواه مسلم))."
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সর্বোত্তম আমল কি ?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে নামায আদায় করা ।” আমি বললাম, ‘তারপর কি ?’ তিনি বললেন, “মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা ।” আমি বললাম, ‘তারপর কি ?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮২
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لو يعلم الناس ما في النداء والصف الأول، ثم لم يجدوا إلا أن يستهموا عليه لاستهموا" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত । (১) এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ । (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা । (৩) যাকাত প্রদান করা । (৪) কা‘বা গৃহের হজ্জ করা । (৫) রমযান মাসে রোযা পালন করা ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৩
وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خير صفوف الرجال أولها، وشرها آخرها، وخير صفوف النساء آخرها، وشرها أولها" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “লোকদের বিরুদ্ধে আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত (সশস্ত্র) সংগ্রাম চালাবার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ’ এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত আদায় করবে । সুতরাং যখনই তারা সেসব বাস্তবায়ন করবে, তখনই তারা ইসলামী হক ব্যতিরেকে নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে বাঁচিয়ে নিবে । আর তাদের (আভ্যন্তরীণ বিষয়ের) হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে থাকবে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৪
وعن أبي سعيد الخدري، رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأي في أصحابه تأخرًا، فقال لهم: تقدموا فَأتموا بي وليأتم بكم مَن بعدكم، لا يزال قوم يتأخرون حتى يؤخرهم الله" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ইয়ামান পাঠালেন ও বললেন, “নিশ্চয় তুমি কিতাব ধারী সম্প্রদায়ের কাছে যাত্রা করছ । সুতরাং তুমি তাদেরকে এই কথার প্রতি আহ্বান জানাবে যে, তারা সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল । যদি তারা ঐ প্রস্তাব গ্রহণ ক’রে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি দিবারাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন । যদি তারা এ কথাটিও মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে অবহিত করবে যে, মহান আল্লাহ তাদের (ধনীদের) উপর যাকাত ফরয করেছেন যা তাদের ধনী ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে । যদি তারা এই আদেশটিও পালন করতে সম্মত হয়, তাহলে তুমি (যাকাত আদায়ের সময়) তাদের উৎকৃষ্ট মাল-ধন হতে বিরত থাকবে এবং মজলূম (অত্যাচারিত) ব্যক্তির বদ্দুআ থেকে দূরে থাকবে । কেননা, তার ও আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৫
وعن أبي مسعود رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح مناكبنا في الصلاة، ويقول: استووا ولا تختلفوا فتختلف قلوبكم، ليلني منكم أولو الأحلام والنهى، ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “মানুষ ও কুফরির মধ্যে (পর্দা) হল, নামায ত্যাগ করা ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৬
وعن أنس، رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سووا صفوفكم، فإن تسوية الصف من تمام الصلاة". ((متفق عليه)) وفي رواية البخاري: "فإن تسوية الصفوف من إقامة الصلاة"."
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে চুক্তি আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে বিদ্যমান, তা হচ্ছে নামায (পড়া) । অতএব যে নামায ত্যাগ করবে, সে নিশ্চয় কাফের হয়ে যাবে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৭
وعنه قال: أقيمت الصلاة، فأقبل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم بوجهه فقال: أقيموا صفوفكم وتراصوا، فإني أراكم من وراء ظهري" ((رواه البخاري بلفظه، ومسلم بمعناه)). وفي رواية للبخاري: وكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه"."
‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহচরবৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফরীমূলক কাজ বলে মনে করতেন না ।’
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৮
وعن النعمان بن بشير رضي الله عنهما، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لتسون صفوفكم، أو ليخالفن الله بين وجوهكم" ((متفق عليه)) وفي رواية لمسلم: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسوي صفوفنا حتى كأنما يسوي بها القداح، حتى رأى أنا قد عقلنا عنه. ثم خرج يومًا فقام حتى كاد يكبر، فرأى رجلا باديا صدره من الصف، فقال "عباد الله لتسون صفوفكم، أو ليخالفن الله بين وجوهكم"."
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার (হক্বুক্বুল্লাহর মধ্যে) যে কাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে তা হচ্ছে তার নামায । সুতরাং যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে পরিত্রাণ পাবে । আর যদি (নামায) পণ্ড ও খারাপ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে । যদি তার ফরয (ইবাদতের) মধ্যে কিছু কম পড়ে যায়, তাহলে প্রভু বলবেন, ‘দেখ তো ! আমার বান্দার কিছু নফল (ইবাদত) আছে কি না, যা দিয়ে ফরযের ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে ?’ অতঃপর তার অবশিষ্ট সমস্ত আমলের হিসাব ঐভাবে গৃহীত হবে ।
রিয়াদুস সলেহিন > প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৯
وعن البراء بن عازب رضي الله عنهما، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخلل من ناحية إلى ناحية، يمسح صدورنا ومناكبنا ويقول،: لا تختلفوا فتختلف قلوبكم" وكان يقول: "إن الله وملائكته يصلون على الصفوف الأُول" ((رواه أبو داود بإسناد حسن))."
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বললেন, “ফিরিশ্তামন্ডলী যেরূপ তাদের প্রভুর নিকট সারিবদ্ধ হন, তোমরা কি সেরূপ সারিবদ্ধ হবে না ।” আমরা নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল ! ফিরিশ্তামন্ডলী তাদের প্রভুর নিকট কিরূপ সারিবদ্ধ হন ?’ তিনি বললেন, “প্রথম সারিগুলো পূর্ণ করেন এবং সারিতে ঘন হয়ে দাঁড়ান ।” (মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯০
وعن ابن عمر رضي الله عنهما، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أقيموا الصفوف، وحاذوا المناكب، وسدوا الخلل، ولينوا بأيدي إخوانكم، ولا تذروا فرجات للشيطان، ومن وصل صفًا وصله الله، ومن قطع صفًا قطعه الله" ((رواه أبو داود بإسناد صحيح))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “লোকেরা যদি জানত যে, আযান দেওয়া ও নামাযের প্রথম সারিতে দাঁড়াবার কি মাহাত্ম্য আছে, অতঃপর (তাতে অংশগ্রহণের জন্য) যদি লটারি ছাড়া অন্য কোন উপায় না পেত, তবে তারা অবশ্যই সে ক্ষেত্রে লটারির সাহায্য নিত।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯১
وعن أنس، رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: رصوا صفوفكم، وقاربوا بينها وحاذوا الأعناق فوالذي نفسي بيده إني لأرى الشيطان يدخل من خلل الصف، كأنها الحذف" ((حديث صحيح رواه أبو داود بإسناد على شرط مسلم))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পুরুষদের কাতারের মধ্যে সর্বোত্তম কাতার হল প্রথম কাতার, আর নিকৃষ্টতম কাতার হল শেষ কাতার । আর মহিলাদের সর্বোত্তম কাতার হল পিছনের (শেষ) কাতার এবং নিকৃষ্টতম কাতার হল প্রথম কাতার ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯২
وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أتموا الصف المقدم، ثم الذي يليه، فما كان من نقص فليكن في الصف المؤخر" ((رواه أبو داود بإسناد حسن))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় সাহাবীদের মাঝে (প্রথম কাতার থেকে) পিছিয়ে যাওয়া লক্ষ্য করে তাঁদেরকে বললেন, “এগিয়ে এসো, অতঃপর আমার অনুসরণ কর । আর যারা তোমাদের পরে আছে, তারা তোমাদের অনুসরণ করুক । (মনে রাখবে) লোকে সর্বদা পিছিয়ে যেতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদেরকে (তাঁর করুণাদানে) পিছনে করে দেন ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯৩
وعن عائشة رضي الله عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله وملائكته يصلون على ميامن الصفوف" ((رواه أبو داود بإسناد على شرط مسلم، وفيه رجل مختلف في توثيقه ))
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে (কাতার বাঁধার সময়) আমাদের কাঁধে হাত বুলিয়ে বলতেন, “তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও, তোমরা (কাতার বাঁধার সময়ে) পরস্পরের বিরোধিতা করো না; নচেৎ তোমাদের অন্তরের মধ্যে বিরোধিতা সৃষ্টি হবে । তোমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী তারা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে । তারপর যারা (জ্ঞান ও যোগ্যতায়) তাদের কাছাকাছি হবে (তারা দাঁড়াবে) । তারপর যারা (জ্ঞান ও যোগ্যতায়) তাদের কাছাকাছি হবে (তারা দাঁড়াবে) ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯৪
وعن البراء، رضي الله عنه قال: كنا إذا صلينا خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم ، أحببنا أن نكون عن يمينه، يقبل علينا بوجهه، فسمعته يقول: "رب قني عذابك يوم تبعث - أو تجمع- عبادك". ((رواه مسلم))."
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (নামাযে দাঁড়িয়ে) বললেন, “তোমরা কাতার সোজা কর । কেননা, কাতার সোজা করা নামাযের পরিপূর্ণতার অংশ বিশেষ ।” (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯৫
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: وسطوا الإمام، وسدوا الخلل" ((رواه أبو داود))
তিনি বলেন, একদা নামাযের তাকবীর (ইকামত) দেওয়া হল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ ক’রে বললেন, “তোমরা কাতারসমূহ সোজা কর এবং মিলিতভাবে দাঁড়াও । কারণ, তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই ।” (এই শব্দে বুখারী এবং একই অর্থে মুসলিম বর্ণনা করেছেন ।
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯৬
عن أم المؤمنين أم حبيبة رملة بنت أبي سفيان، رضي الله عنهما، قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: ما من عبد مسلم يصلي لله تعالى كل يوم ثنتي عشرة ركعة تطوعًا غير الفريضة، إلا بنى الله له بيتًا في الجنة أو: إلا بني له بيت في الجنة ((رواه مسلم))."
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “তোমরা নিজেদের কাতার জরুর সোজা ক’রে নাও; নচেৎ আল্লাহ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ক’রে দিবেন ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯৭
وعن ابن عمر رضي الله عنهما، قال: صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ركعتين قبل الظهر وركعتين بعدها، وركعتين بعد الجمعة، وركعتين بعد المغرب، وركعتين بعد العشاء ((متفق عليه))."
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাযে কাতারের ভিতরে ঢুকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চলা ফেরা করতেন এবং আমাদের বুকে ও কাঁধে হাত দিতেন (অর্থাৎ হাত দিয়ে কাতার ঠিক করতেন) আর বলতেন, “তোমরা বিভেদ করো না (অর্থাৎ কাতার থেকে আগে পিছে হটো না ।) নচেৎ তোমাদের অন্তর রাজ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হবে ।” তিনি আরও বলতেন, “নিঃসন্দেহে আল্লাহ প্রথম কাতারগুলির উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফিরিশ্তাবর্গ তাদের জন্য রহমত প্রার্থনা করেন ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯৮
وعن عبد الله بن مغفل، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: بين كل أذانين صلاة، بين كل أذانين صلاة، بين كل أذانين صلاة" وقال في الثالثة: "لمن شاء" ((متفق عليه))."
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা কাতারগুলি সোজা ক’রে নাও । পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নাও । (কাতারের) ফাঁক বন্ধ ক’রে নাও । তোমাদের ভাইদের জন্য হাতের বাজু নরম ক’রে দাও । আর শয়তানের জন্য ফাঁক ছেড়ো না । (মনে রাখবে,) যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহ তার সাথে মিল রাখবেন, আর যে ব্যক্তি কাতার ছিন্ন করবে (মানে কাতারে ফাঁক রাখবে), আল্লাহও তার সাথে (সম্পর্ক) ছিন্ন করবেন ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০৯৯
عن عائشة رضي الله عنها، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يدع أربعًا قبل الظهر، وركعتين قبل الغداة ((رواه البخاري)).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ঘন ক’রে কাতার বাঁধ এবং কাতারগুলিকে পরস্পরের কাছাকাছি রাখ । ঘাড়সমূহ একে অপরের বরাবর কর । সেই মহান সত্তার শপথ ! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, কাতারের মধ্যেকার ফাঁকে শয়তানকে আমি প্রবেশ করতে দেখতে পাই, যেন তা কালো ছাগলের ছানা ।” (এ হাদীসটি বিশুদ্ধ, আবূ দাঊদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী বর্ণনা করেছেন)
রিয়াদুস সলেহিন ১১০০
وعنها قالت: لم يكن النبي، صلى الله عليه وسلم على شيء من النوافل أشد تعاهدًا منه على ركعتي الفجر. ((متفق عليه))."
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (নামায প্রাক্কালে) বলেন, “তোমরা আগের কাতারটি পূর্ণ ক’রে নাও । তারপর ওর সংলগ্ন (কাতার পূর্ণ কর) । তারপর যে অসম্পূর্ণতা থাকে, তা শেষ কাতারে থাকুক ।” (আবূ দাঊদ, হাসান সূত্রে)
রিয়াদুস সলেহিন ১১০১
وعنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ركعتا الفجر خير من الدنيا وما فيها" ((رواه مسلم)) وفي رواية لهما لأحب إلي من الدنيا جميعًا
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ অবশ্যই কাতারগুলোর ডানদিকের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং আল্লাহর ফেরেশতারা তাদের জন্য দুআ করতে থাকেন । (আবূ দাঊদ)
রিয়াদুস সলেহিন ১১০২
وعن أبي عبد الله بلال بن رباح، رضي الله عنه مؤذن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليؤذنه بصلاة الغداة، فشغلت عائشة بلالا بأمر سألته عنه، حتى أصبح جدا فقام بلال فآذنه بالصلاة، وتابع أذانه، فلم يخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما خرج صلى بالناس، فأخبره أن عائشة شغلته بأمر سألته عنه حتى أصبح جدا، وأنه أبطأ عليه بالخروج، فقال -يعني النبي صلى الله عليه وسلم -: إني كنت ركعت ركعتي الفجر" فقال: يا رسول الله إنك أصبحت جدا؟ فقال: "لو أصبحت أكثر مما أصبحت، لركعتهما وأحسنتهما، وأجملتهما". ((رواه أبو داود بإسناد حسن))."
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিছনে যখন নামায পড়তাম তখন তাঁর ডান দিকে (দাঁড়ানো) পছন্দ করতাম । যাতে তিনি স্বীয় মুখমণ্ডল আমাদের দিকে ফিরান । বস্তুত: আমি (একদিন) তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘রাব্বি ক্বিনী আযা-বাকা ইয়াওমা তাবআসু (অথবা তাজমাউ) ইবা-দাক ।’ হে আমার প্রভু ! তুমি আমাকে তোমার সেই দিনের আযাব থেকে বাঁচিয়ো, যেদিন তুমি স্বীয় বান্দাদেরকে কবর থেকে উঠাবে কিংবা হিসাবের জন্য জমা করবে ।
রিয়াদুস সলেহিন ১১০৩
عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان يصلي ركعتين خفيفتين بين النداء والإقامة من صلاة الصبح. ((متفق عليه)) وفي رواية لهما: يصلي ركعتي الفجر، إذا سمع الأذان فيخففهما حتى أقول هل قرأ فيهمابأم القرآن!. وفي رواية لمسلم: كان يصلى ركعتيي الفجر إذا سمع الأذان ويخففهما. وفي رواية: إذا طلع الفجر."
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা ইমামকে কাতারের ঠিক মাঝখানে কর । আর কাতারের ফাঁক বন্ধ করো ।”