ফজর ও এশার জামাআতে হাযির হতে উৎসাহদান - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > ফজর ও এশার জামাআতে হাযির হতে উৎসাহদান

রিয়াদুস সলেহিন ১০৭৮

وعن بريدة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة، فمن تركها فقد كفر‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে এশার নামায আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত কিয়াম (ইবাদত) করল । আর যে ফজরের নামায জামাতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত নামায পড়ল ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৭৯

وعن شقيق بن عبد الله التابعي المتفق على جلالته رحمه الله قال‏:‏ كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم لا يرون شيئًا من الأعمال تركه كفر غير الصلاة‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي في كتاب الإيمان بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏.‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যদি লোকে এশা ও ফজরের নামাযের ফযীলত জানতে পারত, তাহলে তাদেরকে হামাগুড়ি বা পাছা ছেঁচড়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই ঐ নামাযদ্বয়ে আসত ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮০

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏إن أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة من عمله صلاته، فإن صلحت، فقد أفلح وأنجح، وإن فسدت، فقد خاب وخسر، فإن انتقص من فريضته شيئًا، قال الرب، عز وجل‏:‏ انظروا هل لعبدي من تطوع، فيكمل منها ما انتقص من الفريضة‏؟‏ ثم يكون سائر أعماله على هذا‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুনাফিক (কপট)দের উপর ফজর ও এশার নামায অপেক্ষা অধিক ভারী নামায আর নেই । যদি তারা এর ফযীলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত ।”


রিয়াদুস সলেহিন > ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি

রিয়াদুস সলেহিন ১০৮১

عن جابر بن سمرة، رضي الله عنهما، قال‏:‏ خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ ‏‏ألا تصفون كما تصف الملائكة عند ربها‏؟‏‏"‏ فقلنا‏:‏ يا رسول الله وكيف تصف الملائكة عند ربها‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏يتمون الصفوف الأُول، ويتراصون في الصف‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সর্বোত্তম আমল কি ?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে নামায আদায় করা ।” আমি বললাম, ‘তারপর কি ?’ তিনি বললেন, “মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা ।” আমি বললাম, ‘তারপর কি ?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮২

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏لو يعلم الناس ما في النداء والصف الأول، ثم لم يجدوا إلا أن يستهموا عليه لاستهموا‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত । (১) এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ । (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা । (৩) যাকাত প্রদান করা । (৪) কা‘বা গৃহের হজ্জ করা । (৫) রমযান মাসে রোযা পালন করা ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৩

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏خير صفوف الرجال أولها، وشرها آخرها، وخير صفوف النساء آخرها، وشرها أولها‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “লোকদের বিরুদ্ধে আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত (সশস্ত্র) সংগ্রাম চালাবার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ’ এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত আদায় করবে । সুতরাং যখনই তারা সেসব বাস্তবায়ন করবে, তখনই তারা ইসলামী হক ব্যতিরেকে নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে বাঁচিয়ে নিবে । আর তাদের (আভ্যন্তরীণ বিষয়ের) হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে থাকবে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৪

وعن أبي سعيد الخدري، رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأي في أصحابه تأخرًا، فقال لهم‏:‏ ‏ ‏تقدموا فَأتموا بي وليأتم بكم مَن بعدكم، لا يزال قوم يتأخرون حتى يؤخرهم الله‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ইয়ামান পাঠালেন ও বললেন, “নিশ্চয় তুমি কিতাব ধারী সম্প্রদায়ের কাছে যাত্রা করছ । সুতরাং তুমি তাদেরকে এই কথার প্রতি আহ্বান জানাবে যে, তারা সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল । যদি তারা ঐ প্রস্তাব গ্রহণ ক’রে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি দিবারাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন । যদি তারা এ কথাটিও মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে অবহিত করবে যে, মহান আল্লাহ তাদের (ধনীদের) উপর যাকাত ফরয করেছেন যা তাদের ধনী ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে । যদি তারা এই আদেশটিও পালন করতে সম্মত হয়, তাহলে তুমি (যাকাত আদায়ের সময়) তাদের উৎকৃষ্ট মাল-ধন হতে বিরত থাকবে এবং মজলূম (অত্যাচারিত) ব্যক্তির বদ্দুআ থেকে দূরে থাকবে । কেননা, তার ও আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৫

وعن أبي مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح مناكبنا في الصلاة، ويقول‏:‏ ‏ ‏استووا ولا تختلفوا فتختلف قلوبكم، ليلني منكم أولو الأحلام والنهى، ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “মানুষ ও কুফরির মধ্যে (পর্দা) হল, নামায ত্যাগ করা ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৬

وعن أنس، رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏‏سووا صفوفكم، فإن تسوية الصف من تمام الصلاة‏"‏‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ وفي رواية البخاري‏:‏ ‏"‏فإن تسوية الصفوف من إقامة الصلاة‏"‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে চুক্তি আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে বিদ্যমান, তা হচ্ছে নামায (পড়া) । অতএব যে নামায ত্যাগ করবে, সে নিশ্চয় কাফের হয়ে যাবে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৭

وعنه قال‏:‏ أقيمت الصلاة، فأقبل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم بوجهه فقال‏:‏ ‏‏أقيموا صفوفكم وتراصوا، فإني أراكم من وراء ظهري‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري بلفظه، ومسلم بمعناه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية للبخاري‏:‏ وكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه‏"‏‏.‏"

‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহচরবৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফরীমূলক কাজ বলে মনে করতেন না ।’


রিয়াদুস সলেহিন ১০৮৮

وعن النعمان بن بشير رضي الله عنهما، قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏‏لتسون صفوفكم، أو ليخالفن الله بين وجوهكم‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ وفي رواية لمسلم‏:‏ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسوي صفوفنا حتى كأنما يسوي بها القداح، حتى رأى أنا قد عقلنا عنه‏.‏ ثم خرج يومًا فقام حتى كاد يكبر، فرأى رجلا باديا صدره من الصف، فقال ‏"‏عباد الله لتسون صفوفكم، أو ليخالفن الله بين وجوهكم‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার (হক্বুক্বুল্লাহর মধ্যে) যে কাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে তা হচ্ছে তার নামায । সুতরাং যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে পরিত্রাণ পাবে । আর যদি (নামায) পণ্ড ও খারাপ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে । যদি তার ফরয (ইবাদতের) মধ্যে কিছু কম পড়ে যায়, তাহলে প্রভু বলবেন, ‘দেখ তো ! আমার বান্দার কিছু নফল (ইবাদত) আছে কি না, যা দিয়ে ফরযের ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে ?’ অতঃপর তার অবশিষ্ট সমস্ত আমলের হিসাব ঐভাবে গৃহীত হবে ।


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية