মসজিদে যাওয়ার ফযীলত - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > মসজিদে যাওয়ার ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ১০৬০

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏لا يزال أحدكم في صلاة مادامت الصلاة تحبسه لا يمنعه أن ينقلب إلى أهله إلا الصلاة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকাল অথবা সন্ধ্যায় মসজিদে গমন করে, আল্লাহ তার জন্য আপ্যায়ন সামগ্রী জান্নাতের মধ্যে প্রস্তুত করেন । সে যতবার সকাল অথবা সন্ধ্যায় গমনাগমন করে, আল্লাহও তার জন্য ততবার আতিথেয়তার সামগ্রী প্রস্তুত করেন ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬১

وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ الملائكة تصلي على أحدكم ما دام في مصلاه الذي صلى فيه ما لم يحدث تقول اللهم اغفر له اللهم ارحمه‏‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে ওযূ ক’রে আল্লাহর কোনো ঘরের দিকে এই উদ্দেশ্যে যাত্রা করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত কোনো ফরয ইবাদত (নামায) আদায় করবে, তাহলে তার কৃত প্রতিটি দুই পদক্ষেপের মধ্যে একটিতে একটি ক’রে গুনাহ মিটাবে এবং অপরটিতে একটি ক’রে মর্যাদা উন্নত করবে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬২

وعن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخر ليلة صلاة العشاء إلى شطر الليل ثم أقبل علينا بوجهه بعدما صلى فقال‏:‏ ‏ ‏صلى الناس ورقدوا ولم تزالوا في صلاة منذ انتظرتموها‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, এক আনসারী ছিল । মসজিদ থেকে তার চাইতে দূরে কোনো ব্যক্তি থাকত বলে আমার জানা নেই । তবুও সে কোনো নামায (মসজিদে জামাআতসহ) আদায় করতে ত্রুটি করত না । একদা তাকে বলা হল, ‘যদি একটা গাধা খরিদ করতে এবং রাতের অন্ধকারে ও উত্তপ্ত রাস্তায় তার উপর আরোহণ করতে, (তাহলে ভাল হত) ।’ সে বলল, ‘আমার বাসস্থান মসজিদের পার্শ্বে হলেও তা আমাকে আনন্দ দিতে পারত না । কারণ আমার মনস্কামনা এই যে, মসজিদে যাবার ও নিজ বাড়ি ফিরার সময় কৃত প্রতিটি পদক্ষেপ যেন লিপিবদ্ধ হয় ।’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (তার এহেন পুণ্যাগ্রহ দেখে) বললেন, “নিশ্চিতরূপে আল্লাহ তোমার (ভাগ্যে) তা সমস্তই জুটিয়েছেন ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬৩

وعن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏صلاة الجماعة أفضل من صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏"

তিনি বলেন, মসজিদে নববীর আশে-পাশে কিছু জায়গা খালি হল। (এ দেখে) সালেমা গোত্র মসজিদে (নববী)এর নিকট স্থানান্তরিত হবার ইচ্ছা প্রকাশ করল । এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতে পারলে তিনি তাদেরকে বললেন, “আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাচ্ছ !” তারা বলল, ‘জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এ ইচ্ছা করেছি ।’ তিনি বললেন, “হে সালেমা গোত্র ! তোমরা নিজেদের (বর্তমান) বাড়িতেই থাক । তোমাদের (মসজিদের পথে) পদক্ষেপসমূহের চিহ্নগুলি লিপিবদ্ধ করা হবে । তোমরা নিজেদের (বর্তমান) বাড়িতেই থাক । তোমাদের (মসজিদের পথে) পদক্ষেপসমূহের চিহ্নগুলি লিপিবদ্ধ করা হবে ।” তারা বলল, ‘(মসজিদের নিকট) স্থানান্তরিত হওয়া আমাদেরকে আনন্দ দেবে না ।’


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬৪

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏صلاة الرجل في جماعة تُضعَّف على صلاته في بيته وفي سوقه خمسًا وعشرين ضعفًا، وذلك أنه إذا توضأ فأحسن الوضوء، ثم خرج إلى المسجد، لا يخرجه إلا الصلاة، لم يخطُ خطوة إلا رفعت له بها درجة، وحطت عنه بها خطيئة، فإذا صلى لم تزل الملائكة تصلي عليه ما دام في مصلاه، ما لم يحدث، تقول اللهم صلِّ عليه، اللهم ارحمه‏.‏ ولا يزال في صلاة ما انتظر الصلاة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏‏ وهذا لفظ البخاري‏)‏‏)‏

আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “(মসজিদে জামাআতসহ) নামায পড়ার ক্ষেত্রে, সেই ব্যক্তি সর্বাধিক বেশী নেকী পায়, যে ব্যক্তি সব চাইতে দূর-দূরান্ত থেকে আসে । আর যে ব্যক্তি (জামাতের সাথে) নামাযের অপেক্ষা না করেই একা নামায পড়ে শুয়ে যায়, তার চাইতে সেই বেশী নেকী পায়, যে নামাযের জন্য প্রতীক্ষা করে ও ইমামের সাথে জামাআত সহকারে নামায আদায় করে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬৫

وعنه قال‏:‏ أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل أعمي، فقال‏:‏ يا رسول الله، ليس لي قائد يقودني إلى المسجد، فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يرخص له فيصلي في بيته، فرخص له، فلما ولى دعاه فقال له‏:‏ ‏‏هل تسمع النداء بالصلاة‏؟‏ ‏"‏ قال نعم، قال‏:‏ ‏"‏فأجب‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “রাত্রির অন্ধকারে মসজিদে যাতায়াতকারী লোকাদেরকে কিয়ামতের দিনে পরিপূর্ণ জ্যোতির শুভ সংবাদ জানিয়ে দাও।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬৬

وعن عبد الله- وقيل‏:‏ عمرو بن قيس المعروف بابن أم مكتوم المؤذن رضي الله عنه أنه قال‏:‏ يا رسول الله إن المدينة كثيرة الهوام والسباع‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏تسمع حي على الصلاة، حي على الفلاح، فحيهلا‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد حسن‏.‏ (12)"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (একদা সমবেত সহচরদের উদ্দেশ্যে) বললেন, “তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না কি, যার দ্বারা আল্লাহ গোনাহসমূহকে মোচন ক’রে দেবেন এবং (জান্নাতে) তার দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন?” তাঁরা বললেন, ‘অবশ্যই, হে আল্লাহ রসূল!’ তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) কষ্টকর অবস্থায় পরিপূর্ণরূপে ওযূ করা, অধিক মাত্রায় মসজিদে গমন করা এবং এক অক্তের নামায আদায় ক’রে পরবর্তী অক্তের নামাযের জন্য প্রতীক্ষা করা । আর এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ । এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬৭

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏والذي نفسي بيده، لقد هممت أن آمر بحطب فيحتطب، ثم آمر بالصلاة فيؤذن لها، ثم آمر رجلا فيؤم الناس، ثم أخالف إلى رجال فأحرق عليهم بيوتهم‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: কোনো ব্যক্তিকে তোমরা যখন মসজিদে যাওয়া আসায় অভ্যস্ত দেখতে পাও তখন তার ঈমানদারীর সাক্ষী দাও । কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করে কেবল তারাই যারা আল্লাহর উপর এবং শেষ দিবসের (পরকালের) উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে... ।” (সূরা আত্-তাওবাহ্ঃ ১৮) (তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন) (আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি এরূপই বলেছেন । কিন্তু এর সনদটি দুর্বল যেমনটি আমি “আলমিশকাত” গ্রন্থে (নং ৭২৩) বর্ণনা করেছি। তবে এর ভাবার্থ সহীহ্ । এর সনদে দার্রাজ ইবনু আবিস সাম্হ্‌ নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন । তার সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার “আত্‌তাক্বরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি তার হাদীসের ব্যাপারে সত্যবাদী, তবে আবুল হাইশাম হতে তার বর্ণনা করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে । এ কারণেই হাফিয যাহাবী ইমাম হাকিমের সমালোচনা করে বলেছেনঃ দার্রাজ বহু মুনকারের অধিকারী ।


রিয়াদুস সলেহিন > নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ১০৬৮

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ من سره أن يلقى الله تعالى غدًا مسلمًا، فليحافظ على هؤلاء الصلوات، حيث ينادى بهن، فإن الله شرع لنبيكم صلى الله عليه وسلم سنن الهدى، وإنهن من سنن الهدى، ولو أنكم صليتم في بيوتكم كما يصلي هذا المتخلف في بيته لتركتم سنة نبيكم، ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم، ولقد رأيتنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق، ولقد كان الرجل يؤتى به، يهادى بين الرجلين حتى يقام في الصف‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم وفي رواية له قال‏:‏ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم علمنا سنن الهدى، وإن من الهدى الصلاة في المسجد الذي يؤذن فيه‏)‏‏)‏‏.‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নামাযের প্রতীক্ষা যতক্ষণ (কাউকে) আবদ্ধ রাখে, ততক্ষণ সে আসলে নামাযের মধ্যেই থাকে । যখন নামায ছাড়া (তাকে) তার স্বীয় পরিবারের কাছে ফিরে যেতে অন্য কোন জিনিস বাধা না দেয় ।” (অর্থাৎ নামাযের উদ্দেশ্যে যতক্ষণ বসে থাকে, পুণ্যপ্রাপ্তির দিক দিয়ে সে পরোক্ষভাবে নামাযেই প্রবৃত্ত থাকে ।)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৬৯

وعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏ما من ثلاثة في قرية ولا بدو لا تقام فيهم الصلاة إلا قد استحوذ عليهم الشيطان‏.‏ فعليكم بالجماعة، فإنما يأكل الذئب من الغنم القاصية‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد حسن‏)‏‏)‏‏‏

আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “ফিরিশ্‌তাবর্গ তোমাদের প্রত্যেকের জন্য দুআ করে থাকেন, যতক্ষণ সে সেই স্থানে অবস্থান করে, যেখানে সে নামায পড়েছে; যতক্ষণ পর্যন্ত না তার ওযূ নষ্ট হয়েছে; বলেন, ‘হে আল্লাহ! ওকে ক্ষমা ক’রে দাও । হে আল্লাহ , ওর প্রতি সদয় হও ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৭০

عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏‏من صلى العشاء في جماعة، فكأنما قام نصف الليل ومن صلى الصبح في جماعة، فكانما صلى الليل كله‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية الترمذي عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏من شهد العشاء في جماعة كان له قيام نصف ليلة، ومن شهد العشاء والفجر في جماعة، كان له كقيام ليلة‏"‏ ‏(‏‏(‏قال الترمذي حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏"

তিনি বলেন, এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এশার নামায অর্ধেক রাত পর্যন্ত পিছিয়ে দিলেন । অতঃপর নামায পড়ার পর আমাদের দিকে মুখ ক’রে বললেন, “লোকেরা নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর তোমরা নামাযেই ছিলে; যখন থেকে তার অপেক্ষায় ছিলে ।”


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية