নামাযের ফযীলত - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > নামাযের ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৯

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل، وملائكة بالنهار، ويجتمعون في صلاة الصبح وصلاة العصر، ثم يعرج الذين باتوا فيكم، فيسألهم الله -وهو أعلم بهم-‏:‏ كيف تركتم عبادي‏؟‏ فيقولون تركناهم وهم يصلون، وأتيناهم وهم يصلون‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন, “আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার ক’রে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি ?” সাহাবীগণ বললেন, ‘(না,) কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না ।’ তিনি বললেন, “পাঁচ অক্তের নামাযের উদাহরণও সেইরূপ । এর দ্বারা আল্লাহ পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন ।” (বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫০

- وعن جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال‏:‏ كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم، فنظر إلى القمر ليلة البدر فقال‏:‏ ‏‏إنكم سترون ربكم كما"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পাঁচ অক্তের নামাযের উদাহরণ ঠিক প্রবাহিত নদীর ন্যায়, যা তোমাদের কোনো ব্যক্তির দরজার পাশে থাকে; যাতে সে প্রত্যহ পাঁচবার ক’রে গোসল ক’রে থাকে ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫১

وعن بريدة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏ ‏من ترك صلاة العصر فقد حبط عمله‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমা দিয়ে ফেলে । অতঃপর সে (অনুতপ্ত হয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে ঘটনাটি বলে । তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার অর্থ: “তুমি নামায প্রতিষ্ঠা কর দিবসের দুই প্রান্তে এবং রাত্রির প্রথম ভাগে, নিশ্চয় পুণ্য কর্মাদি পাপ-রাশিকে বিদূরিত ক’রে থাকে ।” (সূরা হুদ ১১৪ আয়াত) লোকটি বলল, ‘এ বিধান কি কেবল আমার জন্য ?’ তিনি বললেন, “আমার উম্মতের সকলের জন্য ।” (বুখারী মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫২

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ من غدا إلى المسجد أو راح، أعد الله له في الجنة نزلا كلما غدا أو راح‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পাঁচ অক্তের নামায, এক জুমআহ থেকে পরবর্তী জুমআহ পর্যন্ত এর মধ্যবর্তী সময়ে যেসব পাপ সংঘটিত হয়, সে সবের মোচন-কারী হয় (এই শর্তে যে,) যদি মহাপাপে লিপ্ত না হয় ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৩

وعنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏‏ ‏من تطهر في بيته، ثم مضى إلى بيت من بيوت الله، ليقضي فريضة من فرائض الله كانت خطواته، إحداها تحط خطيئة، والأخرى ترفع درجة‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি ফরয নামাযের জন্য ওযূ করবে এবং উত্তমরূপে ওযূ সম্পাদন করবে । (অতঃপর) তাতে উত্তমরূপে ভক্তি-বিনয়-নম্রতা প্রদর্শন করবে এবং উত্তমরূপে ‘রুকু’ সমাধা করবে । তাহলে তার নামায পূর্বে সংঘটিত পাপরাশির জন্য কাফ্‌ফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হয়ে যাবে; যতক্ষণ মহাপাপে লিপ্ত না হবে । আর এ (রহমতে ইলাহির ধারা) সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন > ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৪

-وعن أبي بن كعب رضي الله عنه قال‏:‏ كان رجل من الأنصار لا أعلم أحدًا أبعد من المسجد منه، وكانت لا تخطئه صلاة‏!‏ فقيل له‏:‏ لو اشتريت حمارًا � ‏قد جمع الله لك ذلك كله‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা নামায পড়ে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৫

وعن جابر رضي الله عنه قال‏:‏ خلت البقاع حول المسجد فأراد بنو سلمة أن ينتقلوا قرب المسجد، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال لهم‏:‏ ‏‏بلغني أنكم تريدون أن تنتقلوا قرب المسجد‏؟‏ قالوا‏:‏ نعم يا رسول الله قد أردنا ذلك، فقال‏:‏ ‏"‏ بني سلمة دياركم تكتب آثاركم، دياركم تكتب آثاركم‏"‏ فقالوا‏:‏ ما يسرنا أنا كنا تحولنا‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم، وروى البخاري معناه من رواية أنس‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের নামায) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৬

وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏إن أعظم الناس أجرًا في الصلاة أبعدهم إليها ممشى، فأبعدهم، والذي ينتظر الصلاة حتى يصليها مع الإمام أعظم أجرًا من الذي يصليها ثم ينام‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়ল, সে আল্লাহর জামানত লাভ করল। অতএব হে আদম সন্তান! লক্ষ্য রাখ, আল্লাহ যেন অবশ্যই তোমাদের কাছে তার জামানতের কিছু দাবী না করেন ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৭

وعن بريدة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏بشروا المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود والترمذي‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের নিকট দিবারাত্রি ফিরিশতাবর্গ পালাক্রমে যাতায়াত করতে থাকেন । আর ফজর ও আসরের নামাযে তাঁরা একত্রিত হন । অতঃপর যারা তোমাদের কাছে রাত কাটিয়েছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বে (আকাশে) চলে যান । অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন---অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে ভালভাবে পরিজ্ঞাত, ‘তোমরা আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় ছেড়ে এসেছ ?’ তাঁরা বলেন, ‘আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে এসেছি, তখন তারা নামাযে প্রবৃত্ত ছিল । আর যখন আমরা তাদের নিকট গিয়েছিলাম, তখনও তারা নামাযে প্রবৃত্ত ছিল ।”(বুখারী ও মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৮

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏ألا أدلكم على ما يمحو الله به الخطايا، ويرفع به الدرجات‏؟‏ ‏"‏ قالوا بلى يا رسول الله‏.‏ قال‏:‏ ‏"‏إسباغ الوضوء على المكاره، وكثرة الخطا إلى المساجد، وانتظار الصلاة بعد الصلاة، فذلكم الرباط، فذلكم الرباط‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট পূর্ণিমার রাতে বসে ছিলাম । তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “নিঃসন্দেহে তোমরা (পরকালে) তোমাদের প্রতিপালককে ঠিক এইভাবে দর্শন করবে, যেভাবে তোমরা এই পূর্ণিমার চাঁদ দর্শন করছ । তাঁকে দেখতে তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না । সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে (নিয়মিত) নামায পড়তে পরাহত না হতে সক্ষম হও (অর্থাৎ এ নামায ছুটে না যায়), তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন কর ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৯

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏إذا رأيتم الرجل يعتاد المساجد فاشهدوا له بالإيمان، قال الله عز وجل ‏{‏إنما يعمر مساجد الله من آمن بالله واليوم الآخر‏}‏ ‏(‏‏(‏الآية‏.‏ رواه الترمذي وقال حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করল, নিঃসন্দেহে তার আমল নষ্ট হয়ে গেল ।”


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية