আযানের ফযীলত - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > আযানের ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ১০৪০

وعن أنس قال : قَالَ رسول الله : « الدُّعَاءُ لا يُرَدُّ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإقَامَةِ » . رواه أَبُو داود والترمذي ، وقال : ( حَدِيثٌ حَسَنٌ )

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “লোকেরা যদি জানত যে, আযান দেওয়া ও নামাযের প্রথম সারিতে দাঁড়াবার কি মাহাত্ম্য আছে, অতঃপর (তাতে অংশগ্রহণের জন্য) যদি লটারি ব্যতিরেকে অন্য কোনো উপায় না পেত, তবে তারা অবশ্যই সে ক্ষেত্রে লটারির সাহায্য নিত । (অনুরূপ) তারা যদি জানত যে, আগে আগে মসজিদে আসার কি ফযীলত, তাহলে তারা সে ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করত । আর তারা যদি জানত যে, এশা ও ফজরের নামায (জামাতে) পড়ার ফযীলত কত বেশি, তাহলে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছা ছেঁচড়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই আসত ।” (বুখারী-মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪১

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏‏أرأيتم لو أن نهرًا بباب أحدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات، هل يبقى من درنه شيء‏؟‏‏"‏ قالوا‏:‏ لا يبقى من درنه شيء، قال‏:‏ ‏"‏فذلك مثل الصلوات الخمس، يمحو الله بهن الخطايا‏"‏‏.‏‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিনে সমস্ত লোকের চাইতে মুয়ায্‌যিনদের গর্দান লম্বা হবে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪২

وعن جابر رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏ ‏مثل الصلوات الخمس كمثل نهر غمر جار على باب أحدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات‏" ‏‏‏‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

একদা আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁকে বললেন, ‘আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি ছাগল ও মরুভূমি ভালোবাসো । সুতরাং তুমি যখন তোমার ছাগলে বা মরুভূমিতে থাকবে আর নামাযের জন্য আযান দেবে, তখন উচ্চ স্বরে আযান দিয়ো । কারণ মুয়ায্‌যিনের আযান ধ্বনি যতদূর পর্যন্ত মানব-দানব ও অন্যান্য বস্তু শুনতে পাবে, কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য সাক্ষ্য দেবে ।’ আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, ‘আমি এটি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট শুনেছি ।’ (বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৩

وعن ابن مسعود رضي الله عنه أن رجلا أصاب من امرأة قُبلةً، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبره فأنزل الله تعالى‏:‏ ‏{‏أقم الصلاة طرفي النهار وزلفًا من الليل، إن الحسنات يذهبن السيئات‏}‏ فقال الرجل‏:‏ ألي هذا‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏لجميع أمتي كلهم‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান বাতকর্ম করতে করতে পিঠ ঘুরিয়ে পলায়ন করে, যাতে সে আযান শুনতে না পায় । তারপর আযান শেষ হলে ফিরে আসে । শেষ পর্যন্ত যখন ‘তাকবীর’ দেওয়া হয়, তখন আবার পিঠ ঘুরিয়ে পালায় । অতঃপর যখন ‘তাকবীর’ শেষ হয়, তখন আবার ফিরে আসে । পরিশেষে (নামাযী) ব্যক্তির মনে এই কুমন্ত্রণা প্রক্ষেপ করে যে, অমুক জিনিসটা স্মরণ কর, অমুক বস্তুটা খেয়াল কর । সে সমস্ত বিষয় (স্মরণ করায়) যা পূর্বে তার স্মরণে ছিল না । শেষ পর্যন্ত এ ব্যক্তি এরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যে, সে বুঝতে পারে না, কত রাক‘আত নামায সে আদায় করল ।” (বুখারী, মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৪

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏‏ ‏الصلوات الخمس، والجمعة إلى الجمعة، كفارة لما بينهن، ما لم تغشَ الكبائر‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, “তোমরা যখন আযান শুনবে, তখন (আযানের উত্তরে) মুআয্‌যিন যা কিছু বলবে, তোমরাও ঠিক তাই বলবে । তারপর আযান শেষে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে । কেননা, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে তার প্রতি আল্লাহ দশটি রহমত নাযেল করবেন । অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ‘অসীলা’ প্রার্থনা করবে । কারণ, ‘অসীলা’ হচ্ছে জান্নাতের এমন একটি স্থান, যা সমস্ত বান্দার মধ্যে কেবল আল্লাহর একটি বান্দা (তার উপযুক্ত) হবে । আর আশা করি, আমিই সেই বান্দা হব । সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য অসীলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য (আমার) সুপারিশ অনিবার্য হয়ে যাবে ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৫

وعن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏ما من امرئ مسلم تحضره صلاة مكتوبة فيحسن وضوءها وخشوعها وركوعها إلا كانت كفارة لما قبلها من الذنوب مالم تؤتَ كبيرة وذلك الدهر كله‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমরা আযান ধ্বনি শুনবে, তখন (আযানের উত্তরে) মুআয্‌যিন যা কিছু বলবে, তোমরাও ঠিক তাই বলো” (বুখারী, মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৬

عن أبي موسى رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏‏ ‏من صلى البردين دخل الجنة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আযান শুনে (আযানের শেষে) এই দুআ বলবে, ‘আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ দা‘অতিত্ তা-ম্মাহ, অস্স্বালা-তিল ক্বা-য়িমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল অসীলাতা অলফাযীলাহ, অবআষহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী অ‘আত্তাহ ।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ এই পূর্ণা-ঙ্গ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠা লাভকারী নামাযের প্রভু ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তুমি অসীলা (জান্নাতের এক উচ্চ স্থান) ও মর্যাদা দান কর এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ । সে ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ অনিবার্য হয়ে যাবে ।” (বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৭

وعن أبي زهير عمارة بن رؤيبة رضي الله عنه قال، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏‏لن يلج النار أحد صلى قبل طلوع الشمس وقبل غروبها‏"‏ (11) ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, “আযান শুনে যে ব্যক্তি এই দুআ পড়বে, ‘আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অ আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ, রাদ্বীতু বিল্লা-হি রাব্বিঁউ অ বিমুহাম্মাদির রাসূলাঁউ অ বিলইসলা-মি দ্বীনা ।’ অর্থাৎ আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাস ও প্রেরিত রসূল । আল্লাহকে প্রতিপালক বলে মেনে নিতে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবীরূপে স্বীকার করতে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করতে আমি সম্মত ও তুষ্ট হয়েছি । সে ব্যক্তির (ছোট ছোট) গুনাহ ক্ষমা ক’রে দেওয়া হবে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৮

وعن جندب بن سفيان رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏من صلى الصبح فهو في ذمة الله فانظر يابن آدم، لا يطلبنك الله من ذمته بشيء‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আযান ও ইকামতের মধ্য সময়ে কৃত প্রার্থনা রদ করা হয় না ।” (অর্থাৎ এ সময়ের দুআ কবুল হয়) ।


রিয়াদুস সলেহিন > নামাযের ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ১০৪৯

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل، وملائكة بالنهار، ويجتمعون في صلاة الصبح وصلاة العصر، ثم يعرج الذين باتوا فيكم، فيسألهم الله -وهو أعلم بهم-‏:‏ كيف تركتم عبادي‏؟‏ فيقولون تركناهم وهم يصلون، وأتيناهم وهم يصلون‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন, “আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার ক’রে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি ?” সাহাবীগণ বললেন, ‘(না,) কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না ।’ তিনি বললেন, “পাঁচ অক্তের নামাযের উদাহরণও সেইরূপ । এর দ্বারা আল্লাহ পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন ।” (বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫০

- وعن جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال‏:‏ كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم، فنظر إلى القمر ليلة البدر فقال‏:‏ ‏‏إنكم سترون ربكم كما"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পাঁচ অক্তের নামাযের উদাহরণ ঠিক প্রবাহিত নদীর ন্যায়, যা তোমাদের কোনো ব্যক্তির দরজার পাশে থাকে; যাতে সে প্রত্যহ পাঁচবার ক’রে গোসল ক’রে থাকে ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫১

وعن بريدة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏ ‏من ترك صلاة العصر فقد حبط عمله‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমা দিয়ে ফেলে । অতঃপর সে (অনুতপ্ত হয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে ঘটনাটি বলে । তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার অর্থ: “তুমি নামায প্রতিষ্ঠা কর দিবসের দুই প্রান্তে এবং রাত্রির প্রথম ভাগে, নিশ্চয় পুণ্য কর্মাদি পাপ-রাশিকে বিদূরিত ক’রে থাকে ।” (সূরা হুদ ১১৪ আয়াত) লোকটি বলল, ‘এ বিধান কি কেবল আমার জন্য ?’ তিনি বললেন, “আমার উম্মতের সকলের জন্য ।” (বুখারী মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫২

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ من غدا إلى المسجد أو راح، أعد الله له في الجنة نزلا كلما غدا أو راح‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পাঁচ অক্তের নামায, এক জুমআহ থেকে পরবর্তী জুমআহ পর্যন্ত এর মধ্যবর্তী সময়ে যেসব পাপ সংঘটিত হয়, সে সবের মোচন-কারী হয় (এই শর্তে যে,) যদি মহাপাপে লিপ্ত না হয় ।” (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ১০৫৩

وعنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏‏ ‏من تطهر في بيته، ثم مضى إلى بيت من بيوت الله، ليقضي فريضة من فرائض الله كانت خطواته، إحداها تحط خطيئة، والأخرى ترفع درجة‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি ফরয নামাযের জন্য ওযূ করবে এবং উত্তমরূপে ওযূ সম্পাদন করবে । (অতঃপর) তাতে উত্তমরূপে ভক্তি-বিনয়-নম্রতা প্রদর্শন করবে এবং উত্তমরূপে ‘রুকু’ সমাধা করবে । তাহলে তার নামায পূর্বে সংঘটিত পাপরাশির জন্য কাফ্‌ফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হয়ে যাবে; যতক্ষণ মহাপাপে লিপ্ত না হবে । আর এ (রহমতে ইলাহির ধারা) সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য ।” (মুসলিম)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية