রিয়াদুস সলেহিন > সুললিত কণ্ঠে কুরআন পড়া মুস্তাহাব । মধুরকণ্ঠ কারীকে তা পড়ার আবেদন করা ও তা মনোযোগ সহকারে শোনা প্রসঙ্গে
রিয়াদুস সলেহিন ১০১১
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في:{ قل هو الله أحد} إنها تعدل ثلث القرآن" (( رواه مسلم ))
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “মহান আল্লাহ এভাবে উৎকর্ণ হয়ে কোন কথা শোনেন না, যেভাবে সেই মধুরকণ্ঠী পয়গম্বরের প্রতি উৎকর্ণ হয়ে শোনেন, যিনি মধুর কণ্ঠে উচ্চ স্বরে কুরআন মাজীদ পড়তেন ।” (বুখারী, মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০১২
وعن أنس رضي الله عنه أن رجلا قال: يارسول الله إني أحب هذه السورة قل هو الله أحد":"إن حبها أدخلك الجنة" ((رواه الترمذي وقال: حديث حسن- رواه البخاري في صحيحه تعليقًا))."
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “তোমাকে দাউদের সুললিত কণ্ঠের মত মধুর কণ্ঠ দান করা হয়েছে ।” (বুখারী, মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০১৩
وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ألم ترَ آيات أنزلت هذه الليلة لم يرَ مثلهن قط ؟ قل أعوذ برب الفلق، وقل أعوذ برب الناس " ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এশার নামাযে সূরা ‘অততীন অযযাইতূন’ পড়তে শুনেছি । বস্তুতঃ আমি তাঁর চেয়ে মধুর কণ্ঠ আর কারো শুনিনি ।” (বুখারী, মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০১৪
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعوذ من الجان، وعين الإنسان، حتى نزلت المعوذتان، فلما نزلتا، أخذ بهما وترك ما سواهما . ((رواه الترمذي وقال :حديث حسن )).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিষ্ট স্বরে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের মধ্যে নয় ।” (অর্থাৎ আমাদের ত্বরীকা ও নীতি-আদর্শ বহির্ভূত ।)
রিয়াদুস সলেহিন ১০১৫
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : من القرآن سورة ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفرت له ،وهي: تبارك الذي بيده الملك ". ((رواه أبو داود والترمذي وقال :" حديث حسن ، وفي رواية أبي داود: "تشفع "))."
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “(হে ইবনে মাসঊদ !) আমাকে কুরআন পড়ে শুনাও ।” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমি আপনাকে পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরে তা অবতীর্ণ করা হয়েছে ?’ তিনি বললেন, “অপরের মুখ থেকে (কুরআন পড়া) শুনতে আমি ভালবাসি ।” সুতরাং তাঁর সামনে আমি সূরা নিসা পড়তে লাগলাম, পড়তে পড়তে যখন এই (৪১নং) আয়াতে পৌঁছলাম---যার অর্থ, “তখন তাদের কি অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব ?” তখন তিনি বললেন, “যথেষ্ট, এখন থাম ।” অতঃপর আমি তাঁর দিকে ফিরে দেখি, তাঁর নয়ন যুগল অশ্রু ঝরাচ্ছে ।
রিয়াদুস সলেহিন > বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান
রিয়াদুস সলেহিন ১০১৬
وعن أبي مسعود البدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : من قرأ بالآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة كفتاه " ((متفق عليه))
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সবচেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব না ?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন । অতঃপর যখন আমরা বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আপনি যে আমাকে বললেন, তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সবচেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব ?’ সুতরাং তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ (সূরা ফাতেহা) । এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানী’ (অর্থাৎ নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত) এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০১৭
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : لا تجعلوا بيوتكم مقابر، إن الشيطان ينفر من البيت الذي تقرأ فيه سورة البقرة" ((رواه مسلم))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল ।” অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাগণকে বললেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ ?’ প্রস্তাবটি তাঁদের পক্ষে ভারী মনে হল । তাই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল ! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে ?’ (অর্থাৎ কেউ পারবে না ।) তিনি বললেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস স্বামাদ’ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল ।” (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়) (বুখারী)
রিয়াদুস সলেহিন ১০১৮
وعن أبي بن كعب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : يا أبا المنذر أتدري أي آية من كتاب الله معك أعظم ؟ قلت: الله لا إله إلا هو الحي القيوم، فضرب في صدري وقال :" ليهنك العلم أبا المنذر". ((رواه مسلم ))."
এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল । অতঃপর সে সকালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তা ব্যক্ত করল । সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করছিল । রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “সেই সত্তার শপথ ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান ।” (বুখারী)
রিয়াদুস সলেহিন ১০১৯
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: وكلني رسول الله صلى الله عليه وسلم بحفظ زكاة رمضان، فأتاني آتٍ، فجعل يحثو من الطعام، فأخذته فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إني محتاج، وعلي عيال، وبي حاجة شديدة، فخليت عنه، فأصبحت، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : يا أبا هريرة، ما فعل أسيرك البارحة؟" قلت: يا رسول الله شكا حاجة وعيالا، فرحمته، فخليت سبيله. فقال: " أما إنه قد كذبك وسيعود" فعرفت أنه سيعود لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم فرصدته، فجاء يحثو من الطعام، فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: دعني فإني محتاج، وعلي عيال لا أعود، فرحمته فخليت سبيله، فأصبحت فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا هريرة، ما فعل أسيرك البارحة؟" قلت: يا رسول الله شكا حاجة وعيالا فرحمته، فخليت سبيله، فقال: "إنه قد كذبك وسيعود" فرصدته الثالثة. فجاء يحثو من الطعام، فأخذته، فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا آخر ثلاث أنك تزعم أنك لا تعود، ثم تعود! فقال: دعني فإني أعلمك كلمات ينفعك الله بها، قلت: ما هن؟ قال: إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي، فإنه لن يزال عليك من الله حافظ، ولا يقربك شيطان حتى تصبح، فخليت سبيله فأصبحت، فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما فعل أسيرك البارحة؟ " قلت: يا رسول الله زعم أنه يعلمني كلمات ينفعني الله بها، فخليت سبيله. قال: "ما هي؟" قلت: قال لي: إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي من أولها حتى تختم الآية: {الله لا إله إلا هو الحي القيوم} وقال لي: لا يزال عليك من الله حافظ، ولن يقربك شيطان حتى تصبح، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "أما إنه قد صدقك وهو كذوب، تعلم من تخاطب منذ ثلاث يا أبا هريرة " ؟ قلت: لا، قال: "ذاك شيطان" ((رواه البخاري))."
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য ।” (মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০২০
وعن أبي الدرداء رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف، عصم من الدجال" وفي رواية: "من آخر سورة الكهف" ((رواهما مسلم))."
এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমি এই (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি ।’ তিনি বললেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০২১
-وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: بينما جبريل عليه السلام قاعد عند النبي صلى الله عليه وسلم سمع نقيضًا من فوقه، فرفع رأسه فقال: هذا باب من السماء فتح اليوم ولم يفتح قط إلا اليوم، فنزل منه ملك فقال: هذا ملك نزل إلى الأرض لم ينزل قط إلا اليوم، فسلم وقال: أبشر بنورين أوتيتهما، لم يؤتهما نبي قبلك: فاتحة الكتاب، وخواتيم سورة البقرة، لن تقرأ بحرف منها إلا أعطيته" ((رواه مسلم)) النقيض: الصوت
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা বললেন, “তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি ? (আর তা হল,) ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব’ ও ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিন নাস।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০২২
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله، ويتدارسونه بينهم، إلا نزلت عليهم السكينة، وغشيتهم الرحمة، وحفتهم الملائكة، وذكرهم الله فيمن عنده" ((رواه مسلم))
‘রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন । পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন ।’
রিয়াদুস সলেহিন ১০২৩
-وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن أمتي يدعون يوم القيامة غرًا محجلين من آثار الوضوء فمن استطاع منكم أن يطيل غرته، فليفعل" ((متفق عليه))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা ক’রে দেওয়া হবে, সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মুল্ক’ (সূরা মুল্ক) ।”
রিয়াদুস সলেহিন ১০২৪
وعنه قال: سمعت خليلي صلى الله عليه وسلم يقول: تبلغ الحلية من المؤمن حيث يبلغ الوضوء" ((رواه مسلم))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সে দু’টি যথেষ্ট হবে ।” (বুখারী, মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০২৫
وعن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ فأحسن الوضوء، خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من تحت أظفاره" ((رواه مسلم))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না । কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে ।” (মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০২৬
وعنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضأ مثل وضوئي هذا ثم قال: من توضأ هكذا، غفر له ما تقدم من ذنبه، وكانت صلاته ومشيه إلى المسجد نافلة" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ মুনযির ! তুমি কি জান, মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরআন) এর ভিতর তোমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোন্টি ?” আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরসি ।’ সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপড় মেরে বললেন, “আবুল মুনযির ! তোমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক ।” (মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১০২৭
-وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا توضأ العبد المسلم - أو المؤمن- فغسل وجهه، خرج من وجهه كل خطيئة نظر إليها بعينيه مع الماء، أو مع آخر قطر الماء، فإذا غسل يديه، خرج من يديه كل خطيئة كان بطشتها يداه مع الماء، أو مع آخر قطر الماء، فإذا غسل رجليه، خرجت كل خطيئة مشتها رجلاه مع الماء، أو مع آخر قطر الماء، حتى يخرج نقيًا من الذنوب" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, (একবার) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রমযানের যাকাত (ফিৎরার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন । বস্তুতঃ (আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল । আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পেশ করব ।’ সে আবেদন করল, ‘আমি একজন সত্যিকারের অভাবী । পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুণ অভাব ।’ কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম । সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলাম ।) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ হুরাইরা ! গত রাতে তোমার বন্দী কি আচরণ করেছে ?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল ! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল । সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম ।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে ।” আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুরূপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে । কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম । সে (পূর্ববৎ) এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল । আমি তাকে বললাম, ‘অবশ্যই তোকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে পেশ করব ।’ সে বলল, ‘আমি অভাবী, পরিবারের দায়িত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না ।’ সুতরাং আমার মনে দয়া হল । আমি তাকে ছেড়ে দিলাম । সকালে উঠে (যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলাম তখন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “আবূ হুরাইরা ! গত রাত্রে তোমার বন্দী কিরূপ আচরণ করেছে ?” আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তান-পরিবারের অভিযোগ জানাল । সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম ।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে ।” সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম । সে (এসে) আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল । আমি তাকে ধরে বললাম, “এবারে তোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে হাযির করবই । এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার । ‘ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস ।” সে বলল, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন ।’ আমি বললাম, ‘সেগুলি কি ?’ সে বলল, ‘যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করে (ঘুমাবে) । তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে । আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না ।’ সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম । আবার সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে গেলাম ।) তিনি আমাকে বললেন, “তোমার বন্দী কি আচরণ করেছে ?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল ! সে বলল, “আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন ।” বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম ।’ তিনি বললেন, “সে শব্দগুলি কি ?” আমি বললাম, ‘সে আমাকে বলল, “যখন তুমি বিছানায় (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে ।” সে আমাকে আরও বলল, “তার কারণে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে । আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না ।” (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, “শোনো ! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে । হে আবূ হুরাইরা ! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে ?” আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বললেন, “সে শয়তান ছিল ।” (বুখারী)
রিয়াদুস সলেহিন ১০২৮
وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتى المقبرة فقال: السلام عليكم دار قوم مؤمنين وإنا إن شاء الله بكم لاحقون، وددت أنا قد رأينا إخواننا" قالوا: أولسنا إخوانك يا رسول الله؟ قال: "أنتم أصحابي، وإخواننا الذين لم يأتوا بعد" قالوا: كيف تعرف من لم يأتِ بعد من أمتك يا رسول الله؟ فقال: "أرأيت لو أن رجلا له خيل غر محجلة بين ظهري خيل دهم بهم، ألا يعرف خيله ؟" قالوا بلى يا رسول الله، قال: فإنهم يأتون غرًا محجلين من الوضوء وأنا فرطهم على الحوض ((رواه مسلم))."
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের (ফিতনা) থেকে পরিত্রাণ পাবে ।” অন্য বর্ণনায় ‘কাহাফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে । (মুসলিম) (আমি (আলবানী) বলছিঃ দ্বিতীয় বর্ণনাটি শায আর প্রথম বর্ণনাটি নিরাপদ (সহীহ্) যেমনটি আমি “সিলসিলাহ্ সহীহাহ্” গ্রন্থে (নং ৫৮২) তাহকীক্ব করেছি । এর সাক্ষ্য দিচ্ছে নাওয়াস ইবনু সাম‘আনের আগত হাদীসটি । যেটিকে (১৮১৭) নম্বরে লেখক উল্লেখ করেছেন । কারণ এতে বলা হয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি দাজ্জালকে পেয়ে বসবে সে যেন তার বিপক্ষে সূরা কাহাফের প্রথম অংশ পাঠ করে ।
রিয়াদুস সলেহিন ১০২৯
وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ألا أدلكم على ما يمحو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات قالوا بلى يارسول الله قال: إسباغ الوضوء على المكاره، وكثرة الخطا إلى المساجد، وانتظار الصلاة بعد الصلاة، فذلكم الرباط، فذلكم الرباط" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, একদা জিবরীল عليه السلام নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বসে ছিলেন । এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন । তিনি (জিবরীল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল । ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয়নি । ওদিক দিয়ে একজন ফিরিশ্তা অবতীর্ণ হল । এই ফিরিশ্তা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে, ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি ।’ সুতরাং তিনি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সালাম জানিয়ে বললেন, “আপনি দু’টি জ্যোতির সুসংবাদ নিন । যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি । (সে দু’টি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্বারার শেষ আয়াতসমূহ । ওর মধ্য হতে যে বর্ণটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে ।” (মুসলিম)