পবিত্র কুরআন পড়ার ফযীলত - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > পবিত্র কুরআন পড়ার ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ৯৯৮

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال ‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من قرأ حرفًا من كتاب الله فله حسنة، والحسنة بعشر أمثالها لا أقول‏:‏ ألم حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف‏" ‏‏(‏‏(‏راوه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “তোমরা কুরআন মাজীদ পাঠ কর । কেননা, কিয়ামতের দিন কুরআন, তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে ।”(মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ৯৯৯

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال ‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏إن الذي ليس في جوفه شيء من القرآن كالبيت الخرب‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “কুরআন ও ইহজগতে তার উপর আমলকারীদেরকে (বিচারের দিন মহান আল্লাহর সামনে) পেশ করা হবে । সূরা বাকারাহ ও সূরা আলে ইমরান তার আগে আগে থাকবে এবং তাদের পাঠকারীদের স্বপক্ষে (প্রভুর সঙ্গে) বাদানুবাদে লিপ্ত হবে ।


রিয়াদুস সলেহিন ১০০০

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهماعن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏يقال لصاحب القرآن‏:‏ اقرأ وارتقِ ورتل كم كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয় ।”(বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ১০০১

عن أبي موسى رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ ‏تعاهدوا هذا القرآن فوالذي نفس محمد بيده لهو أشد تفلتًا من الإبل في عقلها‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عله‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআনের (শুদ্ধ ভাবে পাঠকারী ও পানির মত হিফয্কারী পাকা) হাফেয মহাসম্মানিত পুণ্যবান লিপিকার (ফেরেশতাবর্গের) সঙ্গী হবে । আর যে ব্যক্তি (পাকা হিফ্য না থাকার কারণে) কুরআন পাঠে ‘ওঁ-ওঁ’ করে এবং পড়তে কষ্টবোধ করে, তার জন্য রয়েছে দু’টি সওয়াব।” (একটি তেলাওয়াত ও দ্বিতীয়টি কষ্টের দরুন।)


রিয়াদুস সলেহিন ১০০২

وعن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إنما مثل صاحب القرآن كمثل الإبل المعقلة، إن عاهد عليها أمسكها، وإن أطلقها، ذهبت‏" ‏ متفق عليه‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআন পাঠকারী মুমিনের উদাহরণ হচ্ছে ঠিক কমলা লেবুর মত; যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও উত্তম । আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক খেজুরের মত; যার (উত্তম) ঘ্রাণ তো নেই, তবে স্বাদ মিষ্ট। (অন্যদিকে) কুরআন পাঠকারী মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হচ্ছে সুগন্ধিময় (তুলসী) গাছের মত; যার ঘ্রাণ উত্তম, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক মাকাল ফলের মত; যার (উত্তম) ঘ্রাণ নেই, স্বাদও তিক্ত।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০০৩

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال ‏:‏سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏ما أذن الله لشيء ما أذن لنبي حسن الصوت يتغنى بالقرآن يجهر به ‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মহান আল্লাহ এই গ্রন্থ (কুরআন মাজীদ) দ্বারা (তার উপর আমলকারী) জনগোষ্ঠীর উত্থান ঘটান এবং এরই দ্বারা (এর অবাধ্য) অন্য গোষ্ঠীর পতন সাধন করেন ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০০৪

وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له ‏:‏‏‏ لقد أتيت مزمارا من مزامير آل داود ‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏ وفي روايه لمسلم ‏:‏ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له ‏:‏ ‏"‏ لو رأيتني وأنا أستمع لقراءتك البارحة‏"‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “দু’জনের ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা সিদ্ধ । (১) যাকে আল্লাহ কুরআন (মুখস্থ করার শক্তি) দান করেছেন, সুতরাং সে ওর (আলোকে) দিবা-রাত্রি পড়ে ও আমল করে । (২) যাকে আল্লাহ তা‘আলা মালধন দান করেছেন এবং সে (আল্লাহর পথে) দিন-রাত ব্যয় করে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০০৫

وعن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال ‏:‏سمعت النبي صلى الله عليه وسلم قرأ في العشاء بالتين والزيتون، فما سمعت أحدًا أحسن صوتا منه ‏.‏‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏

তিনি বলেন, একদা একটি লোক সূরা কাহাফ পাঠ করছিল । তার পাশেই দুটো রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল । ইতোমধ্যে লোকটিকে একটি মেঘে ঢেকে নিলো । মেঘটি লোকটির নিকটবর্তী হতে থাকলে ঘোড়াটি তা দেখে চমকাতে আরম্ভ করল । অতঃপর যখন সকাল হলো তখন লোকটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে হাজির হয়ে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল । তা (শুনে) তিনি বললেন, “ওটি প্রশান্তি ছিল, যা তোমার কুরআন পড়ার দরুন অবতীর্ণ হয়েছে ।”


রিয়াদুস সলেহিন ১০০৬

وعن أبي لبابة بشير بن عبد المنذر رضي الله عنه قال، أ‏ن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ من لم يتغنَ بالقرآن فليس منا ‏‏‏.‏‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد جيد‏)‏‏)‏ ‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব (কুরআন মাজীদ)এর একটি বর্ণ পাঠ করবে, তার একটি নেকী হবে । আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমান হয় । আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি বর্ণ; বরং আলিফ একটি বর্ণ, লাম একটি বর্ণ এবং মীম একটি বর্ণ ।” (অর্থাৎ তিনটি বর্ণ দ্বারা গঠিত ‘আলিফ-লাম-মীম, যার নেকীর সংখ্যা হবে ত্রিশ ।


রিয়াদুস সলেহিন ১০০৭

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ قال لي النبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏‏اقرأ علي القرآن ‏"‏، فقلت ‏:‏ يا رسول الله، أقرأ عليك وعليك أنزل ‏؟‏‏!‏ قال ‏:‏ ‏"‏إني أحب أن أسمعه من غيري‏"‏ فقرأت عليه سورة النساء حتى جئت إلى هذه الآية ‏:‏ ‏{‏فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد وجئنا بك على هؤلاء شهيدا‏}‏ قال‏:‏ ‏"‏حسبك الآن‏"‏ فالتفت إليه، فإذا عيناه تذرفان ‏.‏‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কুরআনের কোনো অংশই যে ব্যক্তির পেটে নেই সে (সেই পেট বা উদর) বিরান ঘরের সমতুল্য । (তিরমিযি) যইফ । (আমি (আলবানী) বলছিঃ অর্থাৎ যে কুরআনের কিছু অংশ হেফয না করবে । হাদীসটির দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে আমি “আলমিশকাত” গ্রন্থে (নং ২১৩৫) আলোচনা করেছি । হাদীসটির সনদকে “মুসনাদু আহমাদ” এর তাহকীক্ব করতে গিয়ে শু‘য়াইব আলআরনাঊতও দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন । এর সনদে কাবূস ইবনু আবী যিবইয়ান নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন তিনি দুর্বল ।


রিয়াদুস সলেহিন ১০০৮

عن أبي سعيد رافع بن المعلى رضي الله عنه قال ‏:‏ قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏‏ألا أعلمك أعظم سورة في القرآن قبل أن تخرج من المسجد‏؟‏ فأخذ بيدي ، فلما أردنا أن نخرج قلت ‏:‏ يا رسول الله إنك قلت لأعلمنك أعظم سورة في القرآن ‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏الحمد لله رب العالمين هي السبع المثاني، والقرآن العظيم الذي أوتيته ‏"‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পবিত্র কুরআনের পাঠক, হাফেয ও তার উপর আমলকারীকে (কিয়ামতের দিন) বলা হবে, ‘তুমি কুরআন করীম পড়তে থাক ও চড়তে থাক । আর ঠিক সেইভাবে স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে পড়তে থাক, যেভাবে দুনিয়াতে পড়তে । কেননা, (জান্নাতের ভিতর) তোমার স্থান ঠিক সেখানে হবে, যেখানে তোমার শেষ আয়াতটি খতম হবে ।


রিয়াদুস সলেহিন > কুরআন মাজীদ সযত্নে নিয়মিত পড়া ও তা ভুলে যাওয়া থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

রিয়াদুস সলেহিন ১০০৯

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في‏:‏‏{‏ قل هو الله أحد‏}‏‏:‏‏‏ والذي نفسي بيده، إنها لتعدل ثلث القرآن‏"‏‏.‏ وفي رواية‏:‏ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأصحابه‏:‏‏"‏ أيعجز أحدكم أن يقرأ بثلث القرآن في ليلة‏"‏ فشق ذلك عليهم، وقالوا‏:‏ أينا يطيق ذلك يارسول الله‏:‏ فقال ‏:‏‏"‏ ‏{‏قل هو الله أحد‏}‏ ثلث القرآن‏.‏‏"‏‏.‏ ‏(‏‏(‏ رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “এই কুরআনের প্রতি যত্ন নাও (অর্থাৎ, নিয়মিত পড়তে থাক ও তার চর্চা রাখ ।) সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মদের জীবন আছে, উট যেমন তার রশি থেকে অতর্কিতে বের হয়ে যায়, তার চেয়ে অধিক অতর্কিতে কুরআন (স্মৃতি থেকে) বের হয়ে (বিস্মৃত হয়ে) যায় ।” (অর্থাৎ অতিশীঘ্র ভুলে যাবার সম্ভাবনা থাকে ।)


রিয়াদুস সলেহিন ১০১০

وعنه أن رجل سمع رجلاً يقرأ‏:‏‏{‏قل هو الله احد‏}‏ يرددها فلما أصبح جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكر ذلك له وكان الرجل يتقالها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏ ‏ والذي نفسي بيده، إنها لتعدل ثلث القرآن‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري ‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআন-ওয়ালা হল বাঁধা উট-ওয়ালার মত । সে যদি তা বাঁধার পর তার যথারীতি দেখাশোনা করে, তাহলে বাঁধাই থাকবে । নচেৎ ঢিল দিলেই উট পালিয়ে যাবে ।”


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية