রিয়াদুস সলেহিন > উঁচু জায়গায় চড়ার সময় মুসাফির ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে এবং নীচু জায়গায় নামবার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। ‘তক্বীর’ ইত্যাদি বলার সময় অত্যন্ত উচ্চঃস্বরে বলা নিষেধ
রিয়াদুস সলেহিন ৯৮২
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سافر فأقبل الليل قال: يا أرض ، ربي وربك الله، أعوذ بك من شرك وشر ما فيك ، وشر ما خلق فيك، وشر ما يدب عليك أعوذ بالله من شر أسد وأسود، ومن الحية والعقرب، ومن ساكن البلد، ومن والد وما ولد" ((رواه أبو داود)) والأسود : الشخص، قال الخطابي: و ساكن البلد : هم الجن الذين هم سكان الأرض قال: والبلد من الأرض: ما كان مأوى الحيوان، وإن لم يكن فيه بناء ومنازل قال: ويحتمل أن المراد بالوالد : إبليس وماولد : الشياطين
তিনি বলেন, আমরা (সফরে) যখন উঁচু জায়গায় চড়তাম তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতাম এবং নীচু জায়গায় নামতাম, তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতাম । (বুখারী)
রিয়াদুস সলেহিন ৯৮৩
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: السفر قطعة من العذاب، يمنع أحدكم طعامه، وشرابه ونومه، فإذا قضى أحدكم نهمته من سفره، فليعجل إلى أهله" ((متفق عليه)) نهمته : مقصوده
তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সেনা বাহিনী যখন উঁচু জায়গায় চড়তেন তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন । আর যখন নিচু জায়গায় নামতেন তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতেন । (আবূ দাঊদ, বিশুদ্ধ সানাদে)
রিয়াদুস সলেহিন ৯৮৪
عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا أطال أحدكم الغيبة فلا يطرقن أهله ليلاً" وفي رواية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن يطرق الرجل أهله ليلاً ((متفق عليه))
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হজ্জ কিংবা উমরাহ সেরে ফিরে আসতেন, যখনই কোন পাহাড়ী উঁচু জায়গায় অথবা ঢিবিতে চড়তেন তখনই তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন । অতঃপর তিনি বলতেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুল্কু অলাহুল হামদু অহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর । আ-ইয়বূনা তা-ইবূনা সা-জিদূনা লিরাব্বিনা হা-মিদূন । সাদাক্বাল্লাহু ওয়া’দাহ, অনাসারা আব্দাহ্, অহাযামাল আহযাবা অহদাহ ।’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই । তাঁরই সার্বভৌম অধিকার, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান । আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতগুযার, সাজদাহকারী, আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী । আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাহকে মদদ করেছেন এবং একাই শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন ।
রিয়াদুস সলেহিন ৯৮৫
وعن أنس رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يطرق أهله ليلاً، وكان يأتيهم غدوة أو عشية. ((متفق عليه)) الطروق :المجيء في الليل.
এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমি ইচ্ছা করেছি, সফরে যাব, আমাকে উপদেশ দিন ।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি আল্লাহ-ভীতি অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে নিয়মিত ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ো ।’’ যখন লোকটা পিছন ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি (তার জন্য দুআ করে) বললেন, ‘‘আল্লাহুম্মাত্ববি লাহুল বু‘দা অহাওবিন আলাইহিস সাফার ।’’ অর্থাৎ হে আল্লাহ ! তুমি ওর পথের দূরত্ব গুটিয়ে দিয়ো এবং ওর জন্য সফর আসান ক’রে দিয়ো । (তিরমিযী হাসান)
রিয়াদুস সলেহিন ৯৮৬
وعن أنس رضي الله عنه قال: أقبلنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ، حتي إذ كنا بظهر المدينة، قال: آيبون، تائبون ، عابدون ، لربنا حامدون" فلم يزل يقول ذلك حتي قدمنا المدينة، ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সফরে ছিলাম । আমরা যখন কোন উঁচু উপত্যকায় চড়তাম তখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ বলতাম । (একদা) আমাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন, ‘‘হে লোক সকল ! তোমরা নিজেদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন কর । কেননা, তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না । তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন । তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন > সফরে দুআ করা মুস্তাহাব
রিয়াদুস সলেহিন ৯৮৭
عن كعب بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قدم من سفر بدأ بالمسجد فركع فيه ركعتين . ((متفق عليه)) .
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তিন জনের দুআ সন্দেহাতীতভাবে গৃহীত হয়ঃ (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দুআ, (২) মুসাফিরের দুআ এবং (৩) ছেলের জন্য মাতা-পিতার বদ্দুয়া।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান)