সফরের সঙ্গীকে সাহায্য করা প্রসঙ্গে - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > সফরের সঙ্গীকে সাহায্য করা প্রসঙ্গে

রিয়াদুস সলেহিন ৯৭৬

وعنه قال كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قفل من الحج أو العمرة كلما أوفى علي ثنيه أو فدفد كبر ثلاثاً، ثم قال‏:‏ ‏ ‏ لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو علي كل شئ قدير آيبون تائبون عابدون ساجدون لربنا حامدون‏.‏ صدق الله وعده، ونصر عبده، وهزم الأحزاب وحده‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏ وفي رواية لمسلم‏:‏ إذا قفل من الجيوش أو السرايا أو الحج أو العمرة قوله‏:‏ ‏ ‏أوفى‏ ‏ أي‏:‏ ارتفع، وقوله‏:‏ ‏ ‏فدفد‏ ‏ هو بفتح الفاءين بينهما دال مهملة ساكنة وآخره دال أخرى وهو ‏:‏ الغليظ المرتفع من الأرض‏‏

একদা আমরা সফরে ছিলাম । ইত্যবসরে এক ব্যক্তি তার সওয়ারীর উপর চড়ে এল । অতঃপর তার দৃষ্টি ডানে ও বামে ফেরাতে লাগল । রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘যার বাড়তি সওয়ারী আছে, সে যেন তা তাকে দেয় যার সওয়ারী নেই এবং যার অতিরিক্ত সফরের সম্বল রয়েছে, সে যেন সম্বলহীন ব্যক্তিকে দেয় ।’’ অতঃপর তিনি আরো কয়েক প্রকার মালের কথা বললেন । এমনকি শেষ পর্যন্ত আমরা ধারণা করলাম যে, বাড়তি মালে আমাদের কারোর কোন অধিকারই নেই । (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭৭

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رجلاً قال‏:‏ يا رسول الله ، إني أريد أن أسافر فأوصني، قال‏:‏ ‏‏عليك بتقوى الله، والتكبيرعلي كل شرف‏"‏ فلما ولى الرجل قال‏:‏ ‏"‏ اللهم اطو له البعد، وهون عليه السفر” ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন । অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘হে মুহাজির ও আনসারের দল ! তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যাদের কোন মাল নেই, স্বগোত্রীয় লোকও নেই । সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন দুই অথবা তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নেয় । কারণ, আমাদের কারো এমন কোন সওয়ারী নেই, যা তাদের সাথে পালাক্রমে ছাড়া তাকে বহন করতে পারে ।’’ জাবের (রাঃ) বলেন, সুতরাং আমি দু’জন অথবা তিনজনকে সাথে নিলাম । অন্যান্যদের মত আমার উটেও তাদের সাথে পালাক্রমে চড়তাম ।


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭৮

وعن أبي موسي الأشعري رضي الله عنه قال‏:‏ كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فكنا إذا أشرفنا على واد هللنا وكبرنا وارتفعت أصواتنا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏”يا أيها الناس أربعوا عل أنفسكم فإنكم لا تدعون أصم ولا غائباً‏.‏ إنه معكم ، إنه سميع قريب‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ أربعوا” بفتح الباء الموحدة أي ‏:‏ أرفقوا بأنفسكم‏."

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরে (সকলের) পিছনে চলতেন । তিনি দুর্বলকে চলতে সাহায্য করতেন এবং তাকে পিছনে বসিয়ে নিতেন ও তার জন্য দুআ করতেন ।


রিয়াদুস সলেহিন > কোন সওয়ারী বা যানবাহনে চড়ার সময় দুআ

রিয়াদুস সলেহিন ৯৭৯

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال ‏:‏ رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ ثلاث دعوات مستجابات لا شك فيهن‏:‏ دعوة المظلوم، ودعوة المسافر، ودعوة الوالد على ولده‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏ وليس في رواية أبي داود‏:‏ “على ولده”

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সফরে বেরিয়ে উটের পিঠে স্থির হয়ে বসতেন, তখন তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ে এই দুআ পড়তেন, ‘সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা অমা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন । অইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবূন । আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বির্রা অত্তাক্বওয়া, অমিনাল আমালি মা তারদ্বা । আল্লাহুম্মা হাওবিন আলাইনা সাফারানা হা-যা অত্ববি আন্না বু‘দাহ । আল্লাহুম্মা আন্তাস সা-হিবু ফিস সাফারি অলখালীফাতু ফিল আহল । আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন অ‘সাইস সাফার অকাআবাতিল মানযার, অসূইল মুনক্কালাবি ফিল মা-লি অল আহ্লি অল অলাদ।’ অর্থাৎ পবিত্র ও মহান যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না । অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী । ওগো আল্লাহ ! নিশ্চয় আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আমাদের এই যাত্রায় পুণ্যকর্ম, সংযমশীলতা এবং তোমার সন্তোষজনক কার্যকলাপ । হে আল্লাহ ! আমাদের এ যাত্রাকে আমাদের জন্য সহজ ক’রে দাও । আমাদের থেকে ওর দূরত্ব গুটিয়ে নাও । হে আল্লাহ ! তুমিই সফরের সঙ্গী । আর পরিবার পরিজনের জন্য (আমাদের) প্রতিনিধি । হে আল্লাহ ! সফরের কষ্ট ও ক্লান্তি থেকে, ভয়ংকর দৃশ্য থেকে এবং বাড়ি ফিরে ধন-সম্পদ, পরিবার ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে কোন অপ্রীতিকর দৃশ্য থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি । আর বাড়ি ফিরার সময় উক্ত দুআর সাথে এগুলিও পড়তেন, ‘আ-ইবূনা, তা-ইবূনা ‘আ-বিদূনা, লিরাব্বিনা হা-মিদূন।’ (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ৯৮০

عن أبي موسي الأشعري رضي الله عنه أن رسول الله كان إذا خاف قوماً قال‏:‏ ‏ ‏ اللهم إنا نجعلك في نحورهم ، ونعوذ بك من شرورهم‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والنسائي بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফর করতেন, তখন তিনি সফরের কষ্ট থেকে, দুশ্চিন্তাজনক পরিস্থিতি থেকে বা অপ্রীতিকর প্রত্যাবর্তন, পূর্ণতার পর হ্রাস থেকে, অত্যাচারিতের বদ্দুআ থেকে, মাল-ধন ও পরিবারের ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর দৃশ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন । (মুসলিম)


রিয়াদুস সলেহিন ৯৮১

-عن خولة بنت حكيم رضي الله عنها قالت‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏من نزل منزلاً ثم قال‏:‏ أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق‏:‏ لم يضره شيء حتي يرتحل من منزله ذلك‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে আবু ত্বালেব (রাঃ)-এর নিকট হাজির ছিলাম । যখন তাঁর নিকট আরোহন করার উদ্দেশ্যে বাহন আনা হল এবং যখন তিনি বাহনের পাদানে স্বীয় পা রাখলেন তখন ‘বিসমিল্লাহ’ বললেন । অতঃপর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন বললেন, ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা অমা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন । অইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবূন ।’ অতঃপর তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন । অতঃপর তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়লেন । অতঃপর পড়লেন, ‘সুবহানাকা ইন্নী যালামতু নাফ্সী ফাগফিরলী, ইন্নাহু লা য়্যাগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আন্ত্।’ অতঃপর তিনি হাসলেন । তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আমীরুল মু’মিনীন ! আপনি হাসলেন কেন ?’ তিনি বললেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম, তিনি তাই করলেন, যা আমি করলাম । অতঃপর তিনি হাসলেন । আমি প্রশ্ন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আপনি হাসলেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার মহান প্রতিপালক তাঁর সেই বান্দার প্রতি আশ্চর্যান্বিত হন, যখন সে বলে, ‘ইগফিরলী যুনূবী’ (অর্থাৎ আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও ।) সে জানে যে, আমি (আল্লাহ) ছাড়া পাপরাশি আর কেউ মাফ করতে পারে না ।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান, কোন কোন কপিতে আছে, ‘হাসান সহীহ’। আর এ শব্দমালা আবূ দাঊদের।)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية