সফরের জন্য সাথী খোঁজ করা এবং কোন একজনকে আমীর (দলপতি) নিযুক্ত করে তার আনুগত্য করা শ্রেয় - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > সফরের জন্য সাথী খোঁজ করা এবং কোন একজনকে আমীর (দলপতি) নিযুক্ত করে তার আনুগত্য করা শ্রেয়

রিয়াদুস সলেহিন ৯৬৫

وعن سهل بن عمرو -وقيل سهل بن الربيع بن عمرو الأنصاري المعروف بابن الحنظلية، وهو من أهل بيعة الرضوان، رضي الله عنه، قال‏:‏ مر رسول الله صلى الله عليه وسلم ببعير قد لحق ظهره بطنه، فقال‏:‏ ‏ ‏اتقوا الله في هذه البهائهم المعجمة، فاركبوها صالحة وكلوها صالحة‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যদি লোকেরা জানত যে, একাকী সফরে কী ক্ষতি রয়েছে ; যা আমি জানি, তাহলে কোন সওয়ার একাকী সফর করত না ।’’(বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ৯৬৬

وعن أبي جعفر عبد الله بن جعفر، رضي الله عنهما، قال‏:‏ أردفني رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ذات يوم خلفه، وأسر إلي حديثاً لا أحدث به أحداً من الناس وكان أحب ما أستتر به رسول الله صلى الله عليه وسلم لحاجته هدف أو حائش نخل‏.‏ يعنى‏:‏ حائط نخل‏‏ ‏(‏‏(‏رواه هكذا مختصراً‏)‏‏)‏‏.‏ وزاد فيه البرقاني بإسناد مسلم بعد قوله‏:‏ حائش نخل‏:‏ فدخل حائطاً لرجل من الأنصار، فإذا فيه جمل، فلما رأي رسول الله صلى الله عليه وسلم جرجر وذرفت عيناه، فأتاه النبي صلى الله عليه وسلمى الله عليه وسلم الله عليه وسلم ، فمسح سراته -أى‏:‏ سنامه- وذفراه فسكن؛ فقال‏:‏ ‏ ‏من رب هذا الجمل، لمن هذا الجمل‏؟‏‏ ‏ فجاء فتى من الأنصار، فقال‏:‏ هذا لي يا رسول الله، فقال‏:‏ ‏ ‏أفلا تتقي الله في هذه البهيمة التي ملكك الله إياها‏؟‏ فإنه يشكو إلي أنك تجيعه وتدئبه‏ ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود كرواية البرقاني‏)‏‏)‏‏.‏ قوله‏:‏ ‏ ‏ذفراه‏ ‏ وهو بكسر الذال المعجمة وإسكان الفاء، وهو لفظ مفرد مؤنث‏.‏ قال أهل اللغة‏:‏ الذفري‏:‏ الموضع الذي يعرق من البعير خلف الأذن، وقوله‏:‏ ‏ ‏تذئبه‏ ‏ أي‏:‏ تتعبه‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘একজন (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু’জন আরোহী দু’টি শয়তান । আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা ।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ বিশুদ্ধসূত্রে)


রিয়াদুস সলেহিন ৯৬৭

وعن أنس، رضي الله عنه، قال‏:‏ كنا إذا نزلنا منزلا لا نسبح حتي نحل الرحال‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد علي شرط مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وقوله‏:‏ ‏ ‏لا نسبح‏ ‏‏:‏ أي لا نصلي النافلة، ومعناه‏:‏ أنا -مع حرصنا علي الصلاة- لا نقدمها على حط الرحال وإراحة الدواب

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন তিন ব্যক্তি সফরে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৯৬৮

وعن أبي سعيد الخدري، رضي الله عنه، قال‏:‏ بينما نحن في سفر إذ جاء رجل علي راحلة له، فجعل يصرف بصره يميناً وشمالاً، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏من كان معه فضل ظهر؛ فليعد به علي من لا ظهر له، ومن كان له فضل زاد فليعد به علي من لا زاد له‏"‏ فذكر من أصناف المال ما ذكره، حتي رأينا‏:‏ أنه لا حق لأحد منا في فضل‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘সর্বোত্তম সঙ্গী হল চারজন, সর্বোত্তম ছোট সেনাবাহিনী হল চারশ’ জন, সর্বোত্তম বড় সেনাবাহিনী হল চার হাজার জন । আর বারো হাজার সৈন্য স্বল্পতার কারণে কখনো পরাজিত হবে না ।’’


রিয়াদুস সলেহিন > সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো এবং সফরে ঘুমানোর আদব-কায়দা । রাতে পথচলা মুস্তাহাব, সওয়ারী পশুদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা এবং তাদের বিশ্রামের খেয়াল রাখা । যে তাদের অধিকারের ব্যাপারে ত্রুটি করে তাকে তাদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেওয়া । সওয়ারী সমর্থ হলে আরোহীর নিজের পিছনে অন্য কাউকে বসানো বৈধ ।

রিয়াদুস সলেহিন ৯৬৯

وعن جابر رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ، أنه أراد أن يغزو، فقال‏:‏ يا معشر المهاجرين والأنصار‏!‏ إن من إخوانكم قوماً، ليس لهم مال، ولا عشيرة، فليضم أحدكم إليه الرجلين، أو الثلاثة، فما لأحدنا من ظهر يحمله إلا كعقبة، يعني أحدهم‏.‏ قال‏:‏ فضممت إلي اثنين أو ثلاثة مالي إلا عقبة كعقبة أحدهم من جملي‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏)‏‏)‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন তোমরা সবুজ-শ্যামল ঘাসে ভরা যমীনে সফর করবে, তখন উটকে তার যমীনের অংশ দাও (অর্থাৎ কিছুক্ষণ চরতে দাও) । আর যখন তোমরা ঘাস-পানিবিহীন যমীনে সফর করবে, তখন তার উপর চড়ে দ্রুত চলো এবং তার শক্তি শেষ হওয়ার পূর্বেই গন্তব্যস্থানে পৌঁছে যাও । আর যখন তোমরা রাতে বিশ্রামের জন্য কোন স্থানে অবতরণ করবে, তখন আম রাস্তা থেকে দূরে থাকো । কারণ, তা রাতে (হিংস্র) জন্তুদের রাস্তা এবং (বিষাক্ত) পোকামাকড়ের আশ্রয় স্থল ।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭০

وعنه قال‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخلف في المسير، فيزجي الضعيف ويردف ويدعو له، ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد حسن‏)‏‏)‏‏.‏

‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করতেন । আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের চেটোর উপর মাথা রেখে আরাম করতেন ।’


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭১

وعن ابن عمر، رضي الله عنهما، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا استوى علي بعيره خارجاً إلى سفر، كبر ثلاثاً، ثم قال‏:‏ ‏‏سبحان الذي سخر لنا هذا وما كنا له مقرنين، وإنا إلي ربنا لمنقلبون‏.‏ اللهم إنا نسألك في سفرنا هذا البر والتقوى، ومن العمل ما ترضي‏.‏ اللهم هون علينا سفرنا هذا واطو عنا بعده‏.‏ اللهم أنت الصاحب في السفر والخليفة في الأهل‏.‏ اللهم إني أعوذ بك من وعثاء السفر وكآبة المنظر وسوء المنقلب في الأهل والمال والولد‏"‏ وإذا رجع قالهن وزاد فيهن‏:‏ ‏"‏آيبون تائبون عابدون لربنا حامدون‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ معنى ‏ ‏مقرنين‏ ‏‏:‏ مطيقين‏.‏ ‏ ‏والوعثاء‏ ‏ بفتح الواو وإسكان العين المهملة وبالثاء المثلثة وبالمد، وهي‏:‏ الشدة‏.‏ و‏ ‏الكآبة‏ ‏ بالمد، وهي‏:‏ تغير النفس من حزن ونحوه‏.‏ ‏ ‏والمنقلب‏ ‏‏:‏ المرجع‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা রাতে সফর কর । কেননা, রাতে যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয় ।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭২

وعن عبد الله بن سرجس، رضي الله عنه قال‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سافر يتعوذ من وعثاء السفر، وكآبة المنقلب، والحور بعد الكون، ودعوة المظلوم‏.‏ وسوء المنظر في الأهل والمال‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏ هكذا هو في صحيح مسلم‏:‏ الحور بعد الكون، بالنون، وكذا رواه الترمذي والنسائي‏.‏ قال الترمذي‏:‏ يروي ‏:‏الكور‏ ‏ بالراء، وكلاهما له وجه‏.‏ قال العلماء‏:‏ ومعناه بالنون والراء جميعاً‏:‏ الرجوع من الاستقامة أو الزيادة إلي النقص‏.‏ قالوا‏:‏ ورواية الراء مأخوذة من تكوير العمامة، وهو لفها وجمعها، ورواية النون، من الكون، مصدراً ‏ ‏كان يكون كوناً‏ ‏ إذا وجد واستقر‏.‏

লোকেরা যখন কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন । রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া শয়তানের কাজ ।’’ এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন ।


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭৩

وعن علي بن ربيعة قال‏:‏ شهدت علي بن أبي طالب رضي الله عنه أتي بدابة ليركبها، فلما وضع رجله في الركاب قال‏:‏ بسم الله، فلما استوي علي ظهرها قال‏:‏ الحمد لله الذي سخر لنا هذا، وما كنا له مقرنين، وإنا إلي ربنا لمنقلبون، ثم قال‏:‏ الحمد الله، ثلاث مرات، ثم قال‏:‏ الله اكبر ثلاث مرات، ثم قال‏:‏ سبحانك إني ظلمت نفسي فاغفر لي فإنه لا يغفر الذنوب إلا أنت، ثم ضحك، فقيل‏:‏ يا أمير المؤمنين من أي شئ ضحكت‏؟‏ قال‏:‏ رأيت النبي صلى الله عليه وسلم فعل كما فعلت، ثم ضحك، فقلت‏:‏ يا رسول الله من أي شئ ضحكت‏؟‏ قال‏:‏ “إن ربك سبحانه يعجب من عبده إذا قال‏:‏ اغفر لي ذنوبي، يعلم أنه لا يغفر الذنوب غيره‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏ ‏وفي بعض النسخ‏:‏ حديث صحيح‏.‏ وهذا لفظ أبي داود"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটা উটের পাশ দিয়ে গেলেন, যার পিঠটা (দুর্বলতার কারণে) পেটের সাথে লেগে গিয়েছিল । (তা দেখে) তিনি বললেন, ‘‘তোমরা এ সব অবলা জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর । সুতরাং তোমরা তাদের সুস্থ থাকা অবস্থায় আরোহণ কর এবং তাদের সুস্থ থাকা অবস্থায় মাংস খাও ।’’ (আবু দাঊদ, বিশুদ্ধ সূত্রে)


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭৪

عن جابر رضي الله عنه قال‏:‏ كنا إذا صعدنا كبرنا، وإذا نزلنا سبحنا‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

‘একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে সওয়ারীর উপর তাঁর পিছনে বসালেন এবং আমাকে তিনি একটি গোপন কথা বললেন, যা আমি কাউকে বলব না । আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঁচু জায়গা (দেওয়াল, ঢিবি ইত্যাদি) অথবা খেজুরের বাগানের আড়ালে মল-মূত্র ত্যাগ করা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন ।’ (ইমাম মুসলিম এটিকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন) বারক্বানী এতে মুসলিমের সূত্রে বর্ধিত আকারে ‘খেজুরের বাগান’ শব্দের পর বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক আনসারীর বাগানে প্রবেশ ক’রে সেখানে একটা উট দেখতে পেলেন । উটটা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে দেখে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল এবং তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে এসে তার কুঁজে এবং কানের পিছনের অংশে হাত ফিরালেন, ফলে সে শান্ত হল । তারপর তিনি বললেন, ‘‘এই উটের মালিক কে ? এই উটটা কার ?’’ অতঃপর আনসারদের এক যুবক এসে বলল, ‘এটা আমার হে আল্লাহর রসূল !’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি এই পশুটার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না, আল্লাহ তোমাকে যার মালিক বানিয়েছেন ? কারণ, সে আমার নিকট অভিযোগ করছে যে, তুমি তাকে ক্ষুধায় রাখ এবং (বেশি কাজ নিয়ে) ক্লান্ত করে ফেলো !’’


রিয়াদুস সলেহিন ৯৭৫

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال‏:‏ كان النبي صلى الله عليه وسلم وجيوشه إذا علو الثنايا كبروا، وإذا هبطوا سبحوا‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏.‏

‘আমরা যখন (সফরে) কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতাম, তখন সওয়ারীর পালান নামাবার পূর্বে নফল নামায পড়তাম না ।’


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية