রিয়াদুস সলেহিন > মৃত ব্যক্তির জন্য মানুষের প্রশংসার মাহাত্ম্য
রিয়াদুস সলেহিন ৯৫৭
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لو أن الناس يعلمون من الوحدة ما أعلم ما سار راكب بليل وحده” ((رواه البخاري))."
কিছু লোক একটা জানাযা নিয়ে পার হয়ে গেল । লোকেরা তার প্রশংসা করতে লাগল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘অবধারিত হয়ে গেল ।’’ অতঃপর দ্বিতীয় আর একটি জানাযা নিয়ে পার হলে লোকেরা তার দুর্নাম করতে লাগল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘অবধারিত হয়ে গেল ।’’ উমার ইবন খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, ‘কী অবধারিত হয়ে গেল ?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা যে এর প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত, আর ওর দুর্নাম করলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেল । তোমরা হলে পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ৯৫৮
وعن عمر بن شعيب عن أبيه عن جده رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “الراكب شيطان والراكبان شيطانان والثلاثة ركب ((رواه أبو داود والترمذي والنسائي بأسانيد صحيحة، وقال الترمذي: حديث حسن))"
আমি মদীনায় এসে উমার ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ)-এর নিকট বসলাম । অতঃপর তাঁদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা পার হলে তার প্রশংসা করা হল । উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব (অনিবার্য) হয়ে গেল ।’ অতঃপর আর একটা জানাযা পার হলে তারও প্রশংসা করা হলে উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল ।’ অতঃপর তৃতীয় একটা জানাযা পার হলে তার নিন্দা করা হলে উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল ।’ আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, ‘কী ওয়াজেব হয়ে গেল ? হে আমীরুল মু’মিনীন !’ তিনি বললেন, ‘আমি বললাম, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, ‘‘যে মুসলিমের নেক হওয়ার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ।’’ আমরা বললাম, ‘আর তিনজন ?’ তিনি বললেন, ‘‘তিনজন হলেও ।’’ আমরা বললাম, ‘আর দু’জন ?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’জন হলেও ।’’ অতঃপর আমরা এক জনের (সাক্ষ্য) সম্পর্কে আর জিজ্ঞাসা করলাম না । (বুখারী)
রিয়াদুস সলেহিন > যার নাবালক সন্তান-সন্ততি মারা যাবে তার ফযীলত
রিয়াদুস সলেহিন ৯৫৯
وعن أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنهما قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “إذا خرج ثلاثة في سفر فليأمروا أحدهم حديث حسن، ((رواه أبو داود بإسناد حسن))."
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে কোন মুসলিমের তিনটি নাবালক সন্তান মারা যাবে, তাকে আল্লাহ তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের বরকতে জান্নাত দেবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ৯৬০
وعن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: “خير الصحابة أربعة وخير السرايا أربعمائة وخير الجيوش أربعة آلاف ولن يغلب اثنا عشر ألفاً عن قلة ((رواه أبو داود والترمذي وقال: حديث حسن))"
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালক) সন্তান মারা যাবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না । কিন্তু (আল্লাহ) তাঁর কসম পূরা করার জন্য (তাদেরকে জাহান্নামের উপর পার করাবেন) ।’’
রিয়াদুস সলেহিন ৯৬১
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “إذا سافرتم في الخصب فأعطوا الإبل حظها من الأرض وإذا سافرتم في الجدب فأسرعوا عليها السير وبادروا بها نقيها، وإذا عرستم، فاجتنبوا الطريق، فإن طرق الدواب، ومأوي الهوام بالليل” ((رواه مسلم)). معنى: “أعطوا الإبل حظها من الأرض” أي: ارفقوا بها في السير لترعي في حال سيرها وقوله: نقيها وهو بكسر النون، وإسكان القاف، وبالياء المثناة من تحت وهو: المخ، معناه: أسرعوا بها حتي تصلوا المقصد قبل أن يذهب مخها من ضنك السير. و التعريس النزول في الليل.
এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে । সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন । আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন ।’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও ।’’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন । তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে ।’’ এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে ?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।’’ (বুখারী ও মুসলিম)