রিয়াদুস সলেহিন > মৃতের নিকট কী বলা যাবে? এবং মৃতের পরিজনরা কী বলবে?
রিয়াদুস সলেহিন ৯২৫
عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد سعد بن عباده ومعه عبد الرحمن بن عوف، وسعد بن أبي وقاص، وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم، فبكي رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فلما رأي القوم بكاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ، بكوا ؛ فقال: “ألا تسمعون؟ إن الله لا يعذب بدمع العين، ولا بحزن القلب، ولكن بهذا أو يرحم وأشار إلا لسانه" ((متفق عليه))
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা পীড়িত অথবা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে ভাল কথা বল। কেননা, ফিরিশ্তারা তোমাদের কথায় ‘আমীন’ বলেন।’’ (উম্মে সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হা) বলেন, অতঃপর যখন (আমার স্বামী) আবূ সালামাহ মারা গেলেন, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আবূ সালামাহ মারা গেছেন। (সুতরাং আমি এখন কী বলব?)’ তিনি বললেন, তুমি এই দো‘আ বল, ‘আল্লাহুম্মাগফির লী অলাহু, অআ‘ক্বিবনী মিনহু উক্ববা হাসানাহ।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ও তাঁকে মার্জনা কর এবং আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় প্রদান কর।’ সুতরাং আমি তা বললাম, ফলে মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (স্বামীরূপে) প্রদান করলেন।
রিয়াদুস সলেহিন ৯২৬
وعن أسامة بن زيد رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رفع إليه ابن ابنته وهو في الموت، ففاض عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له سعد: ما هذا يا رسول الله؟! قال: هذه رحمة جعلها الله تعالي في قلوب عباده الرحماء" ((متفق عليه))
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘যে বান্দা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় এই দো‘আ বলবে, ‘ইন্না লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জি‘ঊন, আল্লা-হুম্মা’জুরনী ফী মুসীবাতী অখ্লুফলী খাইরাম মিনহা।’ (যার অর্থ, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করব। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার এই বিপদে প্রতিদান দাও এবং তার জায়গায় উত্তম বিনিময় প্রদান কর।) আল্লাহ তাকে তার বিপদে প্রতিদান ও তার জায়গায় উত্তম বিনিময় দান করবেন।’’ উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, ‘যখন আবূ সালামাহ মারা গেলেন, তখন আমি সেইরূপ বললাম, যেরূপ বলার আদেশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দিয়েছিলেন। সুতরাং আল্লাহ আমাকে তার চেয়ে উত্তম বিনিময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (স্বামীরূপে) প্রদান করলেন।’
রিয়াদুস সলেহিন ৯২৭
وعن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل علي ابنه إبراهيم رضي الله عنه وهو يجود بنفسه فجعلت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم تذرفان . فقال له عبد الرحمن بن عوف: وأنت يا رسول الله ؟! فقال: “يا ابن عوف إنها رحمة” ثم أتبعها بأخرى، فقال:”إن العين تدمع والقلب يحزن ، ولا نقول إلا ما يرضي ربنا، وإنا بفراقك يا إبراهيم لمحزونون. ((رواه البخاري، وروي مسلم بعضه)). والأحاديث في الباب كثيرة في الصحيح مشهورة والله أعلم."
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায় আল্লাহ ফিরিশ্তাদেরকে বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানের প্রাণ নিয়েছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তার অন্তরের ফল কেড়ে নিয়েছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তারপর তিনি বলেন, ‘আমার বান্দা কী বলেছে?’ তাঁরা উত্তরে বলেন, ‘সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং ‘‘ইন্না লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জিঊন’’ পড়েছে।’ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং তার নাম রাখ---প্রসংশা-গৃহ।’
রিয়াদুস সলেহিন ৯২৮
عن أبي رافع أسلم مولي رسول الله صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من غسل ميتاً فكتم عليه ، غفر الله له أربعين مرة" ((رواه الحاكم وقال صحيح علي شرط مسلم))
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি আমার বান্দার পছন্দনীয় পার্থিব জিনিসকে কেড়ে নিই, অতঃপর সে (তাতে) সওয়াবের আশা রাখে, তখন তার জন্য আমার নিকট জান্নাত ছাড়া অন্য কোন বিনিময় নেই।’
রিয়াদুস সলেহিন ৯২৯
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “من شهد الجنازة حتي يصلى عليها، فله قيراط ، ومن شهدها حتي تدفن، فله قيراطان قيل: وما القيراطان؟ قال: “مثل الجبلين العظيمين” ((متفق عليه)) ."
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা তাঁকে ডাকার জন্য এবং এ সংবাদ দেওয়ার জন্য দূত পাঠালেন যে, তাঁর শিশু অথবা পুত্র মরণাপন্ন। অতঃপর তিনি দূতকে বললেন, ‘‘তুমি তার নিকট ফিরে গিয়ে বল, ‘তা আল্লাহরই--যা তিনি নিয়েছেন এবং যা কিছু দিয়েছেন--তাও তাঁরই। আর তাঁর নিকট প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে।’ অতএব তাকে বল, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং নেকীর আশা রাখে।’’ ---অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
রিয়াদুস সলেহিন > মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ
রিয়াদুস সলেহিন ৯৩০
وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من اتبع جنازة مسلم إيماناً واحتساباً، وكان معه حتي يصلى عليها ويفرغ من دفنها، فإنه يرجع من الأجر بقيراطين كل قيراط مثل أحدٍ، ومن صلى عليها، ثم رجع قبل أن تدفن ، فإنه يرجع بقيراط” ((رواه البخاري))."
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দ ইবনে উবাদার সাক্ষাতে গেলেন। তাঁর সঙ্গে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সাদ ইবনে আবী অক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)ও ছিলেন। সেখানে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁদা দেখে লোকেরাও কাঁদতে আরম্ভ করল। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তোমরা কি শুনতে পাও না যে, আল্লাহ চোখের অশ্রু এবং অন্তরের দুঃখের উপর শাস্তি দেন না। কিন্তু তিনি এটার কারণে শাস্তি দেন অথবা দয়া করেন।’’ সেই সাথে তিনি নিজের জিভের দিকে ইঙ্গিত করলেন।
রিয়াদুস সলেহিন ৯৩১
وعن أم عطية رضي الله عنها قالت: نهينا عن اتباع الجنائز، ولم يعزم علينا ((متفق عليه)) . "ومعناه " ولم يشدد في النهي كما يشدد في المحرمات."
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাঁর নাতিকে তার মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে আসা হল। (ওকে দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা‘দ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ কী?’ তিনি বললেন, ‘‘এটা রহমত (দয়া); যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।’’
রিয়াদুস সলেহিন ৯৩২
وعن ابن عباسٍ رضي الله عنهما ، قَالَ : سَمِعْتُ رسول الله يقول : « مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ ، فَيقومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أرْبَعُونَ رَجُلاً لا يُشْرِكُونَ بِاللهِ شَيْئاً ، إِلا شَفَّعَهُمُ اللهُ فِيهِ » . رواه مسلم .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রুপাত হতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাঁকে বললেন, ‘আপনিও (কাঁদছেন)? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে আওফের পুত্র! এটা তো মমতা।’’ অতঃপর দ্বিতীয়বার কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘‘চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।’’