সালাম দেওয়ার গুরুত্ব ও তা ব্যাপকভাবে প্রচার করার নির্দেশ - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > সালাম দেওয়ার গুরুত্ব ও তা ব্যাপকভাবে প্রচার করার নির্দেশ

রিয়াদুস সলেহিন ৮৪৯

وعن أبي يوسف عبد الله بن سلام رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏يا أيها الناس أفشوا السلام، وأطعموا الطعام، وصلوا الأرحام وصلوا والناس نيام، تدخلوا الجنة بسلام‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, ‘সর্বোত্তম ইসলামী কাজ কী?’ তিনি বললেন, “(ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে (ব্যাপকভাবে) সালাম পেশ করবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫০

وعن الطفيل بن أبي بن كعب أنه كان يأتي عبد الله بن عمر، فيغدو معه إلى السوق، قال‏:‏ فإذا غدونا إلى السوق، لم يمر عبد الله على سقاط ولا صاحب بيعة، ولا مسكين، ولا أحد إلا سلم عليه، قال الطفيل، فجئت عبد الله بن عمر يومًا، فاستتبعني إلى السوق فقلت له‏:‏ ما تصنع بالسوق، وأنت لا تقف على البيع ولا تسأل عن السلع، ولا تسوم بها، ولا تجلس في مجالس السوق‏؟‏ وأقول‏:‏ اجلس بنا هاهنا نتحدث، فقال يا أبا بطن- وكان الطفيل ذا بطن- إنما نغدو من أجل السلام فنسلم على من لقيناه‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مالك في الموطأ بإسناد صحيح‏)‏‏)‏‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ যখন আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘তুমি যাও এবং ঐ যে ফিরিশ্‌তামন্ডলীর একটি দল বসে আছে, তাদের উপর সালাম পেশ কর। আর ওরা তোমার সালামের কী জবাব দিচ্ছে তা মন দিয়ে শুনো। কেননা, ওটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তান-সন্ততির সালাম বিনিময়ের রীতি।’ সুতরাং তিনি (তাঁদের কাছে গিয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাকুম’। তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকা অরাহমাতুল্লাহ’। অতএব তাঁরা ‘অরাহমাতুল্লাহ’ শব্দটা বেশী বললেন।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫১

عن عمران بن الحصين رضي الله عنهما قال‏:‏ جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ السلام عليكم، فرد عليه ثم جلس، فقال النبي صلى الله عليه وسلم‏:‏ “عشر” ثم جاء آخر، فقال‏:‏ السلام عليكم ورحمة الله، فرد عليه فجلس، فقال‏:‏ ‏ ‏عشرون‏" ‏ ثم جاء آخر، فقال‏:‏ السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، فرد عليه فجلس، فقال‏:‏ “ثلاثون” ‏(‏‏(‏رواه أبو داود والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি (কর্ম করতে) আদেশ করেছেনঃ (১) রোগী দেখতে যাওয়া, (২) জানাযার অনুসরণ করা, (৩) হাঁচির (ছিঁকের) জবাব দেওয়া, (৪) দুর্বলকে সাহায্য করা, (৫) নির্যাতিত ব্যক্তির সাহায্য করা, (৬) সালাম প্রচার করা, এবং (৭) শপথকারীর শপথ পুরা করা।’


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫২

وعن عائشة رضي الله عنه قالت‏:‏ قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ “هذا جبريل يقرأ عليك السلام‏‏ قالت‏:‏ قلت‏:‏ ‏"‏وعليه السلام ورحمة الله وبركاته‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ وهكذا وقع في بعض روايات الصحيحين‏:‏ "وبركاته" وفي بعضها بحذفها وزيادة الثقة مقبولة"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ না তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে লাগবে? (তা হচ্ছে) তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫৩

وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم، كان إذا تكلم بكلمة أعادها ثلاثًا حتى تفهم عنه، وإذا أتى على قوم فسلم عليهم سلم عليهم ثلاثًا‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏ وهذا محمول على ما إذا كان الجمع كثيرًا‏.‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান কর, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫৪

وعن المقداد رضي الله عنه في حديثه الطويل قال‏:‏ كنا نرفع للنبي صلى الله عليه وسلم نصيبه من اللبن، فيجيء من الليل، فيسلم تسليمًا لا يوقظ نائمًا، ويسمع اليقظان، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فسلم كما كان يُسلم‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর কাছে আসতেন এবং সকালে তাঁর সঙ্গে বাজার যেতেন। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সকালে বাজারে যেতাম, তখন তিনি প্রত্যেক খুচরা বিক্রেতা, স্থায়ী ব্যবসায়ী, মিসকীন, তথা অন্য কোন ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে সালাম দিতেন।’ তুফাইল বলেন, সুতরাং আমি একদিন (অভ্যাসমত) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি আমাকে তাঁর সঙ্গে বাজারে যেতে বললেন। আমি বললাম, ‘আপনি বাজার গিয়ে কী করবেন? আপনি তো বেচা-কেনার জন্য কোথাও থামেন না, কোন পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন না, তার দর-দাম জানতে চান না এবং বাজারের কোন মজলিসে বসেনও না। আমি বলছি, এখানে আমাদের সাথে বসে যান, এখানেই কথাবার্তা বলি।’ (তুফাইলের ভুঁড়ি মোটা ছিল, সেই জন্য) তিনি বললেন, ‘ওহে ভুঁড়িমোটা! আমরা সকাল বেলায় বাজারে একমাত্র সালাম পেশ করার উদ্দেশ্যে যাই; যার সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়, আমরা তাকে সালাম দিই।’


রিয়াদুস সলেহিন > সালাম দেওয়ার পদ্ধতি

রিয়াদুস সলেহিন ৮৫৫

وعن أسماء بنت يزيد رضي الله عنه عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مر في المسجد يومًا، وعصبة من النساء قعود، فألوى بيده بالتسليم‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏ وعن أبي أمامة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏إن أولى الناس بالله من بدأهم بالسلام‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد جيد، ورواه الترمذي بنحوه وقال‏:‏ حديث حسن، وقد ذكر بعده‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, একটি লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে এভাবে সালাম করল ‘আসসালামু আলাইকুম’ আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জবাব দিলেন। অতঃপর লোকটি বসে গেলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য দশটি নেকী।’’ তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম পেশ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দিলেন এবং লোকটি বসলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য বিশটি নেকী।’’ তারপর আর একজন এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরাহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ’ বলে সালাম দিল। তিনি তার জবাব দিলেন। অতঃপর সে বসলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য ত্রিশটি নেকী।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫৬

وعن أبي جري الهجيمي رضي الله عنه قال‏:‏ أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت‏:‏ عليك السلام يا رسول الله قال‏:‏ ‏ ‏لا تقل عليك السلام؛ فإن عليك السلام تحية الموتى‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏‏ وقد سبق بطوله‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘এই জিব্রীল আলাইহিস সালাম তোমাকে সালাম পেশ করছেন।’’ তিনি বলেন, আমিও উত্তরে বললাম, ‘অআলাইহিস সালামু অরাহ্‌মাতুল্লাহি অবারাকাতুহ।


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫৭

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏يسلم الراكب على الماشي، والماشي على القاعد، والقليل على الكثير” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ وفي رواية للبخاري‏:‏ ‏"‏والصغير على الكبير‏"‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কথা বলতেন, তখন তা তিনবার বলতেন; যাতে তাঁর কথা বুঝতে পারা যায়। আর যখন কোন গোষ্ঠীর কাছে আসতেন তখনও তিনি তিনবার করে সালাম পেশ করতেন।


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫৮

وعن أبي أمامة صُدي بن عجلان الباهلي رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ “إن أولى الناس بالله من بدأهم بالسلام‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد جيد‏)‏‏)‏‏.‏ ورواه الترمذي عن أبي أمامة رضي الله عنه‏:‏ قيل‏:‏ يا رسول الله، الرجلان يلتقيان، أيهما يبدأ بالسلام‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏أولاهما بالله تعالى‏"‏ قال الترمذي ‏:‏ حديث حسن‏.‏"

তিনি স্বীয় দীর্ঘ হাদীসে বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তাঁর অংশের দুধ রেখে দিতাম। তিনি রাতের বেলায় আসতেন এবং এমনভাবে সালাম দিতেন যে, তাতে কোন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দিতেন না এবং জাগ্রত ব্যক্তিদেরকে শুনাতেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর অভ্যাসমত) এসে সালাম দিলেন, যেমন তিনি সালাম দিতেন।


রিয়াদুস সলেহিন ৮৫৯

عن أبي هريرة رضي الله عنه في حديث المسيء صلاته أنه جاء فصلى، ثم جاء النبي صلى الله عليه وسلم، فسلم عليه، فرد عليه السلام، فقال‏:‏ ‏ ‏ارجع فصلِ، فإنك لم تصلِ‏" ‏ فرجع فصلى، ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم، حتى فعل ذلك ثلاث مرات” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একদল মহিলার নিকট দিয়ে পার হওয়ার সময় আমাদেরকে সালাম দিলেন।


রিয়াদুস সলেহিন ৮৬০

وعنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏ ‏إذا لقي أحدكم أخاه، فليسلم عليه، فإن حالت بينهما شجرة، أو جدار، أو حجر، ثم لقيه، فليسلم عليه‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম করে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৮৬১

وعن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏يا بُني، إذا دخلت على أهلك، فسلم، يكن بركة عليك، وعلى أهل بيتك‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে বললাম, ‘আলাইকাস সালাম’ ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন, ‘‘আলাইকাস সালাম’ বলো না। কেননা, ‘আলাইকাস সালাম’ হচ্ছে মৃত ব্যক্তিদেরকে জানানো অভিবাদন বাক্য।’’ (আবু দাঊদ,তিরমিযী হাসান সহীহ, ইতোপূর্বে সম্পূর্ণ হাদীসটি ৮০০ নম্বরে গত হয়েছে।)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية