রিয়াদুস সলেহিন > পান করার আদব-কায়দা
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬১
وعن سهل بن سعد رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتى بشراب، فشرب منه وعن يمينه غلام، وعن يساره أشياخ، فقال للغلام: أتأذن لي أن أعطى هؤلاء.؟" فقال الغلام: لا والله ، لا أوثر بنصيبي منك أحدا، فتله رسول الله صلى الله عليه وسلم في يده
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার সময় তিনবার দম নিতেন। (অর্থাৎ তিনি পান পাত্রের বাইরে তিনবার নিঃশ্বাস ফেলতেন।)
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬২
عن أبى سعيد الخدرى رضى الله عنه قال : نهى رسول الله عن اختناث الأسقية : يعنى: أن تكسر أفواهها، ويشرب منها . .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উঁটের ন্যায় তোমরা এক নিঃশ্বাসে পানি পান করো না, বরং দুই তিনবার (শ্বাস নিয়ে) পান করো। আর যখন তোমরা পানি পান করা শুরু কর তখন বিসমিল্লাহ বলো এবং যখন পান করা শেষ করো তখন ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলো। হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান হাদীস। (আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির সনদ দুর্বল যেমনটি আমি ‘‘তাখরীজুল মিশকাত’’ গ্রন্থে (নং ৪২৭৮) বলেছি। কারণ এর বর্ণনাকারী ইবনু আতা ইবনে আবী রাবাহ্ দুর্বল। তিনি হচ্ছেন ইয়াকূব। আর ইয়াযীদ ইবনু সিনান জাযারী হচ্ছেন আবূ ফারওয়াহ্ আররাহাবী। তার সম্পর্কে নাসাঈ বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস আর ইবনু আদী বলেনঃ তার অধিকাংশ হাদীস নিরাপদ নয়। দেখুন ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬৩
وعن أبى هريرة رضى الله عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يشرب من في السقاء أو القربة . .
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন।
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬৪
وعن أم ثابت كبشة بنت ثابت أخت حسان بن ثابت رضى الله عنه وعنها قالت: دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فشرب من في قربة معلقة قائماً، فقمت إلى فيها فقطعته. .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পানি মিশ্রিত দুধ আনা হল। (তখন) তাঁর ডান দিকে এক বেদুঈন ছিল ও বাম দিকে আবূ বকর (রাঃ) (বসে) ছিলেন। বস্তুত তিনি তা পান করে বেদুঈনকে দিলেন এবং বললেন, ‘‘ডান দিকের ব্যক্তির অগ্রাধিকার রয়েছে, তারপর তার ডান দিকের ব্যক্তির অগ্রাধিকার রয়েছে।’’
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬৫
عن أبى سعيد الخدرى رضى الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن النفخ في الشراب، فقال رجل : القذاة أراها في الإناء؟ فقالب: أهرقها" قال: إني لا أروى من نفس واحد؟ قال: "فأبن القدح إذاً عن فيك" ."
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে শরবত পরিবেশন করা হল। তিনি তা থেকে পান করলেন। আর তাঁর ডান দিকে ছিল একটি বালক। আর বাম দিকে ছিল কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালকটিকে বললেন, ‘‘তুমি কি আমাকে অনুমতি দেবে, আমি ঐ বয়স্ক লোকগুলিকে আগে পান করতে দিই?’’ বালকটি বলল, ‘আল্লাহর কসম! আপনার কাছ থেকে আমার ভাগে আসা জিনিসের ক্ষেত্রে আমি কাউকে আমার উপর অগ্রাধিকার দেব না।’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পেয়ালাটি তার হাতে তুলে দিলেন।’
রিয়াদুস সলেহিন > মশ্ক ইত্যাদির মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা অপছন্দনীয়, তবে তা হারাম নয়
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬৬
وعن ابن عباس رضى الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يتنفس في الإناء، أو ينفخ فيه. .
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ বাঁকিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬৭
وعن ابن عباس رضى الله عنهما قال: سقيت النبي صلى الله عليه وسلم من زمزم، فشرب وهو قائم . .
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে বারণ করেছেন।
রিয়াদুস সলেহিন ৭৬৮
وعن النزال بن سبرة رضى الله عنه قال: أتى علي رضى الله عنه باب الرحبة فشرب قائماً، وقال: إني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل كما رأيتموني فعلت. .
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশকের মুখ থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন। সুতরাং আমি উঠে তার মুখটা কেটে নিলাম। (তিরমিযী হাসান সহীহ)