শামায়েলে তিরমিযি > রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাতে গেলেও ক্ৰন্দন করতেন
শামায়েলে তিরমিযি ২৪৯
حدثنا قتيبة ، قال : حدثنا جرير ، عن عطاء بن السائب ، عن أبيه ، عن عبد الله بن عمرو ، قال : انكسفت الشمس يوما على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم , فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي ، حتى لم يكد يركع ثم ركع ، فلم يكد يرفع رأسه ، ثم رفع رأسه ، فلم يكد أن يسجد ، ثم سجد فلم يكد أن يرفع رأسه ، ثم رفع رأسه ، فلم يكد أن يسجد ، ثم سجد فلم يكد أن يرفع رأسه ، فجعل ينفخ ويبكي ، ويقول : " رب ألم تعدني أن لا تعذبهم وأنا فيهم ؟ رب ألم تعدني أن لا تعذبهم وهم يستغفرون ؟ ونحن نستغفرك " . فلما صلى ركعتين انجلت الشمس ، فقام فحمد الله تعالى , وأثنى عليه ، ثم قال : " إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله لا ينكسفان لموت أحد ولا لحياته ، فإذا انكسفا , فافزعوا إلى ذكر الله تعالى " .
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাতে দণ্ডায়মান হন। এতে তিনি এত বিলম্ব করলেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর রুকূতে যাবেন না। যখন রুকূতে গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল, তিনি যেন আর মাথা তুলবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর তিনি যখন সিজদায় গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠাবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর যখন সিজদায় গেলেন। তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠবেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন আর ক্ৰন্দন করছিলেন এবং দুআ পাঠ করছিলেন যে, হে আমার রব! তুমি কি এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, আমার উপস্থিতিতে আমার উম্মতকে শাস্তি দেবে না? আমরা তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। রাসূলুল্লাহ যখন ২ রাক’আত সালাত শেষ করলেন, তখন সূর্যও বের হয়ে আসল। অতঃপর তিনি কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর হামদ ও ছানার পর বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। কারো জন্ম বা মৃত্যুর সঙ্গে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই। যখন চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকর-এ লিপ্ত হও।[১]
শামায়েলে তিরমিযি > রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যার মৃত্যুশোকে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন
শামায়েলে তিরমিযি ২৫০
حدثنا محمود بن غيلان ، قال : حدثنا أبو أحمد ، قال : حدثنا سفيان ، عن عطاء بن السائب ، عن عكرمة ، عن ابن عباس ، قال : أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ابنة له تقضي فاحتضنها فوضعها بين يديه , فماتت وهي بين يديه وصاحت أم أيمن , فقال يعني صلى الله عليه وسلم : " أتبكين عند رسول الله ؟ " فقالت : ألست أراك تبكي ؟ قال : " إني لست أبكي ، إنما هي رحمة ، إن المؤمن بكل خير على كل حال ، إن نفسه تنزع من بين جنبيه ، وهو يحمد الله عز وجل " .
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর। এক কন্যা মূমুর্ষ অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাকে কোলে তুলে সামনে রাখলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তখন উম্মে আয়মান (রাঃ) চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আল্লাহর রাসূলের সামনেই তুমি ক্ৰন্দন করছ? উম্মে আয়মান বললেন, আমি আপনাকেও কি অশ্রুসিক্ত দেখতে পাচ্ছি না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যে কান্না করছি তা নিষেধ নয়, তা আল্লাহর রহমত। অতঃপর তিনি বললেন, একজন মুমিন সর্বাবস্থায় মঙ্গলজনক অবস্থায় থাকে। এমনকি তাঁর জীবন নিয়ে যাওয়ার সময়ও আল্লাহর প্রশংসা করে।[১]