শামায়েলে তিরমিযি > রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর পাঁজরের ভূনা গোশত পছন্দ করতেন
শামায়েলে তিরমিযি ১২২
حدثنا الحسن بن محمد الزعفراني ، قال : حدثنا الحجاج بن محمد ، قال : قال ابن جريج : أخبرني محمد بن يوسف ، أن عطاء بن يسار أخبره ، أن أم سلمة أخبرته ، أنها " قربت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم , جنبا مشويا , فأكل منه ، ثم قام إلى الصلاة , وما توضأ " .
একদা তিনি বকরীর পাঁজরের ভূনা গোশত রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সামনে পরিবেশন করেন। তিনি তা হতে খেলেন এবং ওযু না করেই সালাতে দাড়িয়ে যান। [১২৪] ব্যাখ্যাঃ অত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, আগুনে তৈরি খাবার খেলেও ওযু ভঙ্গ হয় না। তবে অন্য হাদীস দ্বারা আগুনে পাক করা খাদ্য খেলে ওযু নষ্ট হয়ে যায় বলেও প্রমাণিত রয়েছে। কিছু সংখ্যক সাহাবী ও তাবিয়ীর মতামতও এটাই। তবে চার খলীফা এবং অধিকাংশ মুহাদিসগণের মতে আগুনে তৈরি খাবার খেলেও ওযু ভঙ্গ হয় না। তারা বলেন, যে সকল হাদীস থেকে ওযু ওয়াজিব হওয়ার কথা উল্লেখও হয়েছে, সেগুলো রহিত হয়ে গেছে।
শামায়েলে তিরমিযি ১২৩
حدثنا قتيبة ، قال : حدثنا ابن لهيعة ، عن سليمان بن زياد ، عن عبد الله بن الحارث ، قال : " أكلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم شواء في المسجد " .
তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও এর সাথে মসজিদে ভূনা গোশত খেয়েছি। ব্যাখ্যাঃ এ হাদীসের আলোকে বুঝা যায়, একা বা জামা'আতবদ্ধভাবে মসজিদে পানাহার করা বৈধ, তবে মসজিদের পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে হবে।
শামায়েলে তিরমিযি ১২৪
حدثنا محمود بن غيلان ، قال : حدثنا وكيع ، قال : حدثنا مسعر ، عن أبي صخرة جامع بن شداد ، عن المغيرة بن عبد الله ، عن المغيرة بن شعبة ، قال : ضفت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة , فأتي بجنب مشوي ، ثم أخذ الشفرة فجعل يحز ، فحز لي بها منه ، قال : فجاء بلال يؤذنه بالصلاة فألقى الشفرة , فقال : " ما له تربت يداه ؟ " ، قال : وكان شاربه قد وفى ، فقال له : " أقصه لك على سواك " أو " قصه على سواك " .
তিনি বলেন, আমি একবার রাতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সাথে মেহমান হলাম। তখন (আমার সামনে) ছাগলের পাঁজরের ভুনা গোশত পরিবেশন করা হলো।তারপর তিনি ছুরি দ্বারা তা কাটলেন এবং আমাকে দিলেন। এমন সময় বিলাল (রাঃ) তাঁকে সালাতের আহ্বান জানালেন। তিনি ছুরিটি ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, তাঁর কী তাঁর উভয় হাত ধূলোয় ধূসরিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর গোঁফ লম্বা হয়ে গিয়েছিল। তাই তিনি তাঁকে বললেন, তোমার গোঁফ আমি মিসওয়াকের উপরে রেখে কেটে দেব। ব্যাখ্যাঃ তার দু'হাত ধূলিময় হোক। শাব্দিক বিবেচনার হিসেবে এটা বদদু’আ। অর্থাৎ- সে দরিদ্র ও নিঃস্ব হয়ে যাক। তবে এখানে বদদু'আ উদ্দেশ্য নয়। ধমক, তিরস্কার ও আক্ষেপমূলক বাক্য হিসেবে এ শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়; এখানে এটাই উদ্দেশ্য।
শামায়েলে তিরমিযি > রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উরুর গোশত পছন্দ করতেন
শামায়েলে তিরমিযি ১২৫
حدثنا واصل بن عبد الأعلى ، قال : حدثنا محمد بن فضيل ، عن أبي حيان التيمي ، عن أبي زرعة ، عن أبي هريرة ، قال : " أتي النبي صلى الله عليه وسلم بلحم , فرفع إليه الذراع , وكانت تعجبه , فنهس منها " .
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও এর সামনে বকরীর সামনের উরু পরিবেশন করা হলো। তিনি তা খুবই পছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি তা থেকে দাঁত দিয়ে কেটে খেলেন। [১২৬] ব্যাখ্যাঃ মানুষের ক্ষেত্রে কুনুই থেকে আঙ্গুলের আগা পর্যন্তকে যিরা বলে। গরু ও বকরীর ক্ষেত্রে বাহু বলতে রানকে বুঝায়। এখানে বাহু বলতে রান উদ্দেশ্য।
শামায়েলে তিরমিযি ১২৬
حدثنا محمد بن بشار ، قال : حدثنا مسلم بن إبراهيم ، قال : حدثنا أبان بن يزيد ، عن قتادة ، عن شهر بن حوشب ، عن أبي عبيدة ، قال : طبخت للنبي صلى الله عليه وسلم , قدرا , وقد كان يعجبه الذراع , فناولته الذراع , ثم قال : " ناولني الذراع " ، فناولته , ثم قال : " ناولني الذراع " , فقلت : يا رسول الله ، وكم للشاة من ذراع , فقال : " والذي نفسي بيده لو سكت لناولتني الذراع ما دعوت " .
তিনি বলেন, আমি একবার নবী (সঃ) এর জন্য এক ডেগ গোশত রান্না করলাম। তিনি বকরীর সামনের উরুর গোশত অধিক পছন্দ করতেন। তাই আমি তাঁকে সামনের একটি পা দিলাম। তারপর তিনি বললেন, আমাকে সামনের আরেকটি পা দাও। তখন আমি তাঁকে সামনের আরেকটি পা দিলাম। তারপর তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে সামনের আরেকটি পা দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বকরীর সামনের পা কয়টি থাকে? তিনি বললেন, সে মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন! যদি তুমি চুপ থাকতে তাহলে আমি যতক্ষন সামনের পা চাইতাম, ততক্ষন তুমি দিতে পারতে। ১২৭