মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪৭
عن سليمان بن أبى عبد اللٰه قال: رأيت سعد بن أبى وقاص أخذ رجلا يصيد فى حرم المدينة الذى حرم رسول اللٰه ﷺ فسلبه ثيابه فجاءه مواليه فكلموه فيه فقال: إن رسول اللٰه ﷺ حرم هٰذا الحرم وقال: «من أخذ أحدا يصيد فيه فليسلبه». فلا أرد عليكم طعمة أطعمنيها رسول اللٰه ﷺ ولكن إن شئتم دفعت إليكم ثمنه. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) কে দেখলাম, তিনি জনৈক ব্যক্তির জামা-কাপড় কেড়ে নিয়েছেন, (কারণ) সে মাদীনার হারামে শিকার করছিল, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম (শিকার নিষিদ্ধ) করে দিয়েছিলেন। অতঃপর লোকটির অভিভাবকগণ এসে তার সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করলে তিনি উত্তরে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হারামকে হারাম (সম্মানিত) ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি এতে কাউকে শিকার করতে দেখে সে যেন তার জামা-কাপড় ও অস্ত্র কেড়ে নেয়। তাই আমি তোমাদেরকে এমন খাবার ফিরিয়ে দিতে পারি না, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে খেতে দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ, তোমরা যদি চাও তাহলে আমি তোমাদেরকে এর মূল্য দিতে পারি। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪৮
وعن صالح مولى لسعد أن سعدا وجد عبيدا من عبيد المدينة يقطعون من شجر المدينة فأخذ متاعهم وقال يعنى لمواليهم سمعت رسول اللٰه ﷺ ينهٰى أن يقطع من شجر المدينة شىء وقال: «من قطع منه شيئا فلمن أخذه سلبه». رواه أبو داود
একদিন সা‘দ মাদীনার কিছু দাসকে মাদীনার কোন গাছ কাটতে দেখে তাদের আসবাবপত্র কেড়ে নিলেন। আর (তাদের অভিভাবকগণ ফেরত চাইলে) তিনি তাদেরকে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাদীনার কোন গাছ-পালা কাটার নিষিদ্ধতার কথা শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাদীনার কোন গাছ কাটবে, তাকে যে ধরতে পারবে, সে তার জামা-কাপড় কেড়ে নেবে। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪৯
وعن الزبير قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن صيد وج وعضاهه حرم محرم للٰه». رواه أبو داود وقال محيى السنة: وج ذكروا أنها من ناحية الطائف وقال الخطابى: إنه بدل إنها
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওয়াজ্জ-এর শিকার করা ও এর কাঁটাযুক্ত গাছ কেটে ফেলা আল্লাহর পক্ষ থেকে হারাম করা হারাম। [আবূ দাঊদ; মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ বলেন, وَجٌّ (ওয়াজ্জ) হলো ত্বয়িফের একটি অঞ্চল। ইমাম খাত্ত্বাবী (রহঃ) أَنَّهَا এর স্থলে إِنَّه বলেছেন।][১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫০
وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من استطاع أن يموت بالمدينة فليمت لها فإنى أشفع لمن يموت بها». رواه أحمد والترمذى وقال: هٰذا حديث حسن صحيح غريب إسنادا
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মাদীনায় মৃত্যবরণ করতে (সমর্থ হয়) পারে, সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে; কেননা যে লোক মাদীনায় মৃত্যুবরণ করবে আমি তার জন্যে (পরিপূর্ণরূপে) সুপারিশ করবো। (আহমাদ, তিরমিযী; তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ, তবে সানাদ হিসেবে গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: اٰخر قرية من قرى الإسلام خرابا المدينة. رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (ক্বিয়ামাতের সন্নিকটবর্তী সময়ে) ইসলামী জনপদসমূহের মধ্যে সর্বশেষে ধ্বংস হবে মাদীনাহ্। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫২
وعن جرير بن عبد اللٰه عن النبى ﷺ قال: «إن اللٰه أوحٰى إلى: أى هؤلاء الثلاثة نزلت فهى دار هجرتك المدينة أو البحرين أو قنسرين». رواه الترمذى
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আমার কাছে ওয়াহী নাযিল করেছিলেন যে, এ তিনটি জায়গায় যে কোনটিতে আপনি অবতরণ করবেন সেটিই হবে আপনার হিজরতের স্থল- মাদীনাহ্, বাহরায়ন ও ক্বিন্নাস্রীন (দেশের নাম)। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫৩
عن أبى بكرة عن النبى ﷺ قال: «لا يدخل المدينة رعب المسيح الدجال لها يومئذ سبعة أبواب علٰى كل باب ملكان». رواه البخارى
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মাদীনায় কক্ষনো মাসীহ দাজ্জালের আতঙ্ক বা ভীতি প্রবেশ করতে পারবে না। তখন মাদীনায় সাতটি গেট থাকবে এবং প্রতিটি গেটেই দু’জন করে মালাক (ফেরেশতা) নিযুক্ত থাকবেন। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫৪
وعن أنس عن النبى ﷺ قال: «اللٰهم اجعل بالمدينة ضعفى ما جعلت بمكة من البركة». (متفق عليه)
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দু‘আ করেছেন, ‘‘আল্লা-হুম্মাজ্‘আল বিল মাদীনাতি যি‘ফাই মা- জা‘আলতা বিমাক্কাতা মিনাল বারাকাহ্’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি মাক্কায় যে বারাকাত দান করেছো মাদীনায় তার দ্বিগুণ বারাকাত দান কর।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫৫
وعن رجل من اٰل الخطاب عن النبى ﷺ قال: «من زارنى متعمدا كان فى جوارى يوم القيامة ومن سكن المدينة وصبر علٰى بلائها كنت له شهيدا وشفيعا يوم القيامة ومن مات فى احد الحرمين بعثه اللٰه من الاٰمنين يوم القيامة
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কেবল আমার উদ্দেশেই এসে আমার কবর যিয়ারত করবে, ক্বিয়ামাতের দিন সে আমার পাশে থাকবে। আর যে ব্যক্তি মাদীনাতে বসবাস করবে এবং মুসীবাতে ধৈর্য ধারণ করবে, ক্বিয়ামাতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হবো। আর যে ব্যক্তি দু’ হারামের কোন একটিতে মৃত্যুবরণ করবে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বিপদমুক্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে উঠাবেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫৬
وعن ابن عمر مرفوعا: «من حج فزار قبرى بعد موتى كان كمن زارنى فى حياتى». رواهما البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি মারফূ‘ হিসেবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার মৃত্যুর পর হজ্জ সম্পন্ন করে আমার (কবর) যিয়ারত করবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আমার জীবিতাবস্থায় আমার সাথেই যিয়ারত করেছে। (অত্র হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বী ‘‘শু‘আবুল ঈমান’’-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫৭
وعن يحيى بن سعيد أن رسول اللٰه ﷺ كان جالسا وقبر يحفر بالمدينة فاطلع رجل فى القبر فقال: بئس مضجع المؤمن فقال رسول اللٰه ﷺ: «بئس ما قلت» قال الرجل إنى لم أرد هٰذا إنما أردت القتل فى سبيل اللٰه فقال رسول اللٰه ﷺ: «لا مثل القتل فى سبيل اللٰه ما علٰى الأرض بقعة أحب إلى أن يكون قبرى بها منها» ثلاث مرات. رواه مالك مرسلا
তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেছিলেন, এমন সময় মাদীনায় একটি কবর খোঁড়া হচ্ছিল। তখন জনৈক ব্যক্তি ক্ববরে উঁকি মেরে বললো, মু’মিনের জন্য কি এটা মন্দ স্থান? এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি খারাপ কথাই না বললে! লোকটি তখন বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি কথাটি এ উদ্দেশে বলিনি, বরং আমার কথা বলার অর্থ হলো, সে আল্লাহর পথে বিদেশে এসে কেন শাহীদ হলো না (অর্থাৎ- মাদীনায় মৃত্যুবরণ করল এবং এখানে কবরস্থ হতে চলল)? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর পথে শাহীদ হবার মতো সমতুল্য আর অন্য কিছুই সম্ভব নয়। তবে মনে রাখবে, আল্লাহর জমিনে এমন কোন জায়গা নেই, যেখানে আমার কবর হওয়া মাদীনার চেয়ে আমার কাছে প্রিয়তম হতে পারে। এ কথাটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার বললেন। [ইমাম মালিক (রহঃ) হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন][১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫৮
وعن ابن عباس قال: قال عمر بن الخطاب: سمعت رسول اللٰه ﷺ وهو بوادى العقيق يقول: أتانى الليلة اٰت من ربى فقال: صل فى هٰذا الوادى المبارك وقل: عمرة فى حجة». وفى رواية: «قل عمرة وحجة». رواه البخارى
তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (হজের সফরে) ‘আক্বীক্ব উপত্যকায় বলতে শুনেছি, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এ রাতে আমার রবের পক্ষ হতে আমার কাছে এক আগন্তুক এসে বললো, আপনি এ বারাকাতময় উপত্যকায় (দু’ রাক্‘আত নফল) সালাত আদায় করুন এবং বলুন, ‘উমরা হজ্জের মধ্যে গণ্য। অন্য এক বর্ণনায় আছে, একে ‘উমরা ও হজ্জ বলুন। (বুখারী)[১]