তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২৬

عن أبى شريح العدوى أنه قال لعمرو بن سعيد وهو يبعث البعوث إلٰى مكة: ائذن لى أيها الأمير أحدثك قولا قام به رسول اللٰه ﷺ الغد من يوم الفتح سمعته أذناى ووعاه قلبى وأبصرته عيناى حين تكلم به: حمد اللٰه وأثنٰى عليه ثم قال: «إن مكة حرمها اللٰه ولم يحرمها الناس فلا يحل لامرئ يؤمن باللٰه واليوم الاٰخر أن يسفك بها دما ولا يعضد بها شجرة فإن أحد ترخص بقتال رسول اللٰه ﷺ فيها فقولوا له: إن اللٰه قد أذن لرسوله ولم يأذن لكم وإنما أذن لى فيها ساعة من نهار وقد عادت حرمتها اليوم كحرمتها بالأمس وليبلغ الشاهد الغائب». فقيل لأبى شريح: ما قال لك عمرو؟ قال: قال: أنا أعلم بذٰلك منك يا أبا شريح أن الحرم لا يعيذ عاصيا ولا فارا بدم ولا فارا بخربة. متفق عليه. وفى البخارى: الخربة: الجناية. (متفق عليه)

তিনি ‘আমর ইবনু সা‘ঈদ-কে বললেন, যখন আমীর মাক্কায় সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছিলেন (‘আব্দুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র-এর বিরুদ্ধে এমন সময় বললেন), হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনাকে একটি কথা বলব যা মক্কা বিজয়ের দিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দানকালে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- এমন কথা যা আমার এই দুই কান শুনেছে, অন্তর মনে রেখেছে এবং দুই চোখ দেখেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ভাষণ দান শুরু করলেন, তখন প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা স্বরূপ শুকরিয়া আদায় করলেন, এরপর বললেন, আল্লাহ মাক্কাকে হারাম করেছেন। কোন মানুষ তা হারাম করেনি। তাই আল্লাহ তা‘আলা ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন লোকের পক্ষে মাক্কায় রক্তপাত ঘটানো এবং এর গাছ কাটা হালাল হবে না। যদি কেউ মাক্কায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে অনুমতি আছে মনে করে, তবে তাকে বলবে- আল্লাহ তাঁর রসূলকে অনুমতি দিয়েছেন, তোমাকে অনুমতি দেননি। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে (রসূলকে) দিনের খুব অল্প সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর তার পবিত্রতা পুনরায় ফিরে এসেছে, যেমন গতকাল ছিল। প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তিই আমার এ কথা যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিকে পৌঁছিয়ে দেয়। তারপর আবূ শুরাইহ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, এ কথা শুনে ‘আমর আপনাকে কি উত্তর দিয়েছিলেন? তিনি (আবূ শুরাইহ্) বললেন, জবাবে তখন তিনি বললেন, এ কথা আমি আপনার চেয়েও বেশি জানি। (মক্কার) হারাম কোন অপরাধীকে আশ্রয় দেয় না এবং রক্তপাত করে এমন পলাতককেও আশ্রয় দেয় না। অথবা আশ্রয় দেয় না তাকে যে অপরাধ করে মাক্কায় পালিয়েছে (এমন ব্যক্তিকে)। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২৭

وعن عياش بن أبى ربيعة المخزومى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تزال هٰذه الأمة بخير ما عظموا هٰذه الحرمة حق تعظيمها فإذا ضيعوا ذٰلك هلكوا». رواه ابن ماجه

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ উম্মাত সবসময় কল্যাণের মধ্যেই থাকবে, যতদিন পর্যন্ত তারা (মক্কার) হারামের এ মর্যাদা পরিপূর্ণরূপে রক্ষা করবে। আর যখন তারা মক্কার এ মর্যাদা বিনষ্ট করে ফেলবে (ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে) তখন ধ্বংস হয়ে যাবে। (ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২৮

عن على قال: ما كتبنا عن رسول اللٰه ﷺ إلا القراٰن وما فى هٰذه الصحيفة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: المدينة حرام ما بين عير إلٰى ثور فمن أحدث فيها حدثا أو اٰوٰى محدثا فعليه لعنة اللٰه والملائكة والناس أجمعين لا يقبل منه صرف ولا عدل ذمة المسلمين واحدة يسعٰى بها أدناهم فمن أخفر مسلما فعليه لعنة اللٰه والملائكة والناس أجمعين لا يقبل منه صرف ولا عدل ومن والٰى قوما بغير إذن مواليه فعليه لعنة اللٰه والملائكة والناس أجمعين لا يقبل منه صرف ولا عدل». (متفق عليه) وفى رواية لهما: من ادعٰى إلٰى غير أبيه أو تولٰى غير مواليه فعليه لعنة اللٰه والملائكة والناس أجمعين لا يقبل منه صرف ولا عدل

তিনি বলেন, কুরআন ও এ সহীফায় (পুস্তকে) যা আছে তা ছাড়া অন্য কোন কিছু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে আমরা লিখে রাখিনি। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনাহ্ হারাম (অর্থাৎ- সম্মানিত বা পবিত্র) ‘আয়র হতে সওর পর্যন্ত। যে ব্যক্তি এতে কোন বিদ্‘আত (অসৎ প্রথা) চালু করবে অথবা বিদ্‘আত চালুকারীকে আশ্রয় দেবে তার ওপর আল্লাহ ও মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) এবং সকল মানুষেরই অভিসম্পাত। তার ফরয বা নফল কিছুই কবূল (গ্রহণযোগ্য) হবে না। সকল মুসলিমের প্রতিশ্রুতি বা দায়িত্ব এক; তাদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিও তার চেষ্টা করতে পারে। যে কোন মুসলিমের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তার ওপর আল্লাহ ও মালায়িকাহ্ এবং সকল মানুষেরই অভিসম্পাত। তার ফরয ও নফল কোনটিই গৃহীত হবে না। আর যে নিজের মালিকের অনুমতি ছাড়া অন্য সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব (সম্পর্ক) স্থাপন করে তার ওপর আল্লাহর ও মালায়িকাহ্’র এবং সকল মানুষেরই অভিসম্পাত। তার ফরয বা নফল কোনটিই গৃহীত হবে না। (বুখারী, মুসলিম) বুখারী ও মুসলিমের আর এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে স্বীকার করেছে অথবা যে ক্রীতদাস নিজের মালিক ছাড়া অন্যকে মালিক বলে গ্রহণ করেছে তার ওপর আল্লাহর, মালায়িকাহ্’র এবং সকল মানুষেরই অভিসম্পাত। তার কোন ফরয বা নফল কোনটাই গৃহীত হবে না।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২৯

وعن سعد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إنى أحرم ما بين لابتى المدينة: أن يقطع عضاهها أو يقتل صيدها» وقال: «المدينة خير لهم لو كانوا يعلمون لا يدعها أحد رغبة عنها إلا أبدل اللٰه فيها من هو خير منه ولا يثبت أحد علٰى لأوائها وجهدها إلا كنت له شفيعا أو شهيدا يوم القيامة». رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মাদীনার দু’ সীমানার মধ্যবর্তী জায়গাকে হারাম ঘোষণা করছি- এর বৃক্ষলতা কাটা যাবে না এবং এর শিকার করা যাবে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন, মাদীনাহ্ ঐসব লোকের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা বুঝতে পারে। যে ব্যক্তি অনাগ্রহী হয়ে মাদীনাহ্ ত্যাগ করবে, তার বদলে আল্লাহ তা‘আলা তার চেয়েও উত্তম ব্যক্তিকে সেখানে স্থান দেবেন। যে ব্যক্তি মাদীনার অভাব-অনটন ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করে অটুট থাকবে, ক্বিয়ামাতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হবো। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩০

وعن أبى هريرة أن رسول اللٰه ﷺ قال: «لا يصبر علٰى لأواء المدينة وشدتها أحد من أمتى إلا كنت له شفيعا يوم القيامة». رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি মাদীনায় অভাব-অনটন ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করবে আমি অবশ্যই ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী হবো। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩১

وعنه قال: كان الناس إذا رأوا أول الثمرة جاءوا به إلى النبى ﷺ فإذا أخذه قال: «اللٰهم بارك لنا فى ثمرنا وبارك لنا فى مدينتنا وبارك لنا فى صاعنا وبارك لنا فى مدنا اللٰهم إن إبراهيم عبدك وخليلك ونبيك وإنى عبدك ونبيك وإنه دعاك لمكة وأنا أدعوك للمدينة بمثل ما دعاك لمكة ومثله معه». ثم قال: يدعو أصغر وليد له فيعطيه ذٰلك الثمر. رواه مسلم

তিনি বলেন, লোকেরা যখন গাছের প্রথম ফল দেখতো তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাযির করতো। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ফল গ্রহণ করতেন, তখন বলতেন, আল্লাহ! আমাদের ফলে (শস্য-ফসলে) বারাকাত দান কর এবং আমাদের এ শহরে বারাকাত দান কর। আমাদের সা'-তে বারাকাত দান কর, আমাদের মুদ-এ (মাপার যন্ত্র বা পাত্রে) বারাকাত দান কর। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইব্রাহীম (আঃ) তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু ও তোমার নাবী। আর আমিও তোমার বান্দা ও নাবী। তিনি মক্কার জন্য তোমার কাছে দু‘আ করেছেন, আর আমিও মাদীনার জন্য তোমার কাছে দু‘আ করছি, যেভাবে তিনি মক্কার জন্য তোমার কাছে দু‘আ করেছেন। বর্ণনাকারী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] বলেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সবচেয়ে ছোট শিশু সন্তানকে ডাকতেন এবং তাকে ঐ ফল (খেতে) দিতেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩২

وعن أبى سعيد عن النبى ﷺ قال: «إن إبراهيم حرم مكة فجعلها حراما وإنى حرمت المدينة حراما ما بين مأزميها أن لا يهراق فيها دم ولا يحمل فيها سلاح لقتال ولا تخبط فيها شجرة إلا لعلف». رواه مسلم

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইব্রাহীম (আঃ) মাক্কাকে সম্মানিত করেছেন এবং একে হারাম (পবিত্রতা) ঘোষণা করেছেন, আর আমি মাদীনাকে এর দু’ সীমার মধ্যবর্তী স্থানকে যথাযথভাবে সম্মানে সম্মানিত করলাম। এতে রক্তপাত করা যাবে না, যুদ্ধের জন্য অস্ত্র গ্রহণ করা যাবে না, পশুর খাবার ছাড়া এতে কোন গাছপালার পাতা ঝরানো যাবে না। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩৩

وعن عامر بن سعد: أن سعدا ركب إلٰى قصره بالعقيق فوجد عبدا يقطع شجرا أو يخبطه فسلبه فلما رجع سعد جاءه أهل العبد فكلموه أن يرد علٰى غلامهم أو عليهم ما أخذ من غلامهم فقال: معاذ اللٰه أن أرد شيئا نفلنيه رسول اللٰه ﷺ وأبى أن يرد عليهم. رواه مسلم

তিনি বলেন, (আমার পিতা) সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সওয়ারীতে চড়ে তাঁর আক্বীক্বস্থ গৃহস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি দেখলেন একটি ক্রীতদাস (মাদীনায়) একটি গাছ অথবা পাতা কাটছে বা ঝড়াচ্ছে। এতে তিনি কৃতদাসটির জামা-কাপড় ও অস্ত্রশস্ত্র কেড়ে নিলেন। অতঃপর সা‘দ মাদীনায় ফিরে আসলে ক্রীতদাসের মালিকগণ তার নিকট এসে তাদের দাসের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া সমস্ত জিনিস ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করলেন। তখন তিনি (সা‘দ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা দান করেছেন তা আমি ফিরিয়ে দেয়া হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আর তিনি তা ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করলেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩৪

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: لما قدم رسول اللٰه ﷺ المدينة وعك أبو بكر وبلال فجئت رسول اللٰه ﷺ فأخبرته فقال: اللٰهم حبب إلينا المدينة كحبنا مكة أو أشد وصححها وبارك لنا فى صاعها ومدها وانقل حماها فاجعلها بالجحفة. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আসার পর আমার পিতা আবূ বাকর ও (মুয়াযযিন) বিলাল (রাঃ) ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হলেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁকে তাদের অসুস্থতার খবর জানালে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য মাদীনাকে প্রিয় কর যেভাবে মক্কা আমাদের নিকট প্রিয় অথবা তার চেয়েও বেশি। হে আল্লাহ! তুমি মাদীনাকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর কর, আমাদের জন্য এর সা' এবং মুদ-এ (পরিমাপ যন্ত্রে) বারাকাত দাও, এর জ্বরকে ‘‘জুহফাহ্’’য় (হাওযের কিনারাসমূহে) স্থানান্তরিত করে দাও। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩৫

وعن عبد اللٰه بن عمر فى رؤيا النبى ﷺ فى المدينة: رأيت امرأة سوداء ثائرة الرأس خرجت من المدينة حتٰى نزلت مهيعة فتأولتها: أن وباء المدينة نقل إلٰى مهيعة وهى الجحفة. رواه البخارى

তিনি মাদীনাহ্ সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্নের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমি দেখলাম একটি এলোমেলো চুলবিশিষ্টা কালো মহিলা মাদীনাহ্ হতে বের হয়ে মাহ্ইয়া‘আহ্ (নামক স্থানে) গিয়ে পৌঁছলো। তখন আমি এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলাম যে, মাদীনার মহামারী মাহ্ইয়া‘আহ্ স্থানান্তরিত হয়ে গেলো। বর্ণনাকারী বলেন, (মাহ্ইয়া‘আহ্) হলো ‘জুহফাহ্’। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩৬

وعن سفيان بن أبى زهير قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «يفتح اليمن فيأتى قوم يبسون فيتحملون بأهليهم ومن أطاعهم والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون ويفتح الشام فيأتى قوم يبسون فيتحملون بأهليهم ومن أطاعهم والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون ويفتح العراق فيأتى قوم يبسون فيتحملون بأهليهم ومن أطاعهم والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون». (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ইয়ামান বিজিত হবে, সেখানে (মাদীনার) কিছু লোক (স্থায়ীভাবে) চলে যাবে এবং তাদের সাথে তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদেরও নিয়ে যাবে। অথচ মাদীনাই তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা বুঝতে পারতো। ঠিক এভাবেই শাম (সিরিয়া) দেশ বিজিত হবে, সেখানে কিছু লোক চলে যাবে তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদেরকেও সাথে নিয়ে যাবে। অথচ মাদীনাহ্ হচ্ছে তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা বুঝতে পারতো। অনুরূপভাবে ‘ইরাক বিজিত হবে, সেখানে কিছু লোক চলে যাবে তাদের সাথে তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদেরকেও নিয়ে যাবে। অথচ মাদীনাই হচ্ছে তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা বুঝতে পারতো। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩৭

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ : «أمرت بقرية تأكل القرٰى. يقولون: يثرب وهى المدينة تنفى الناس كما ينفى الكير خبث الحديد». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এমন এক জনপদে হিজরতের জন্য আদিষ্ট হলাম যে জনপদ অন্য জনপদসমূহকে গ্রাস করবে। লোকেরা একে ইয়াসরিব বলে, আর এটাই হলো মাদীনাহ্। মাদীনাহ্ মানুষকে খাঁটি করে। যেভাবে হাঁপর খাদ ঝেড়ে লোহাকে খাঁটি করে। (বুখারী , মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩৮

وعن جابر بن سمرة قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «إن الله سمى المدينة طابة». رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা মাদীনার নাম রেখেছেন ‘ত্ব-বাহ্’ (পবিত্র)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩৯

وعن جابر بن عبد اللٰه: أن أعرابيا بايع رسول اللٰه ﷺ فأصاب الأعرابى وعك بالمدينة فأتى النبى ﷺ فقال: يا محمد أقلنى بيعتى فأبٰى رسول اللٰه ﷺ ثم جاءه فقال: أقلنى بيعتى فأبٰى ثم جاءه فقال: أقلنى بيعتى فأبى فخرج الأعرابى فقال رسول اللٰه ﷺ: «إنما المدينة كالكير تنفى خبثها وتنصع طيبها». (متفق عليه)

তিনি বলেন, এক বেদুঈন এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়‘আত করলো। অতঃপর মাদীনায় সে (বেদুঈন) জ্বরে পতিত হল। সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমার বায়‘আত বাতিল করে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকার করলেন। আবারও সে এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমার বায়‘আত বাতিল করে দিন। এবারও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আবারও সে এসে বললো, আমার বায়‘আত বাতিল করে দিন। এবারও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন জানালেন। এরপর বেদুঈন মাদীনাহ্ ছেড়ে চলে গেলো। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাদীনাহ্ হচ্ছে হাঁপরের মতো। যে এর খাদকে দূর করে দেয়, আর এর উত্তমটাকে খাঁটি করে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪০

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تقوم الساعة حتٰى تنفى المدينة شرارها كما ينفى الكير خبث الحديد». رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মাদীনাহ্ এর মন্দ লোকদেরকে দূর না করবে, যেমনিভাবে হাঁপর লোহার খাদকে দূর করে দেয়। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪১

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «على أنقاب المدينة ملائكة لا يدخلها الطاعون ولا الدجال». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার দরজাসমূহে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) পাহারায় রয়েছেন। তাই এতে (মাদীনায়) মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪২

وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ليس من بلد إلا سيطؤه الدجال إلا مكة والمدينة ليس نقب من أنقابها إلا عليه الملائكة صافين يحرسونها فينزل السبخة فترجف المدينة بأهلها ثلاث رجفات فيخرج إليه كل كافر ومنافق». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মক্কা মাদীনাহ্ ছাড়া এমন কোন শহর নেই, যেখানে দাজ্জালের পদচারণা (বিপর্যয়) হবে না। মক্কা মাদীনায় এমন কোন দরজা নেই যেখানে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) সারিবদ্ধ হয়ে পাহারা দিচ্ছে না। সুতরাং দাজ্জাল সাবিখাহ্’য় পৌঁছবে। তখন মাদীনাহ্ ভূমিকম্পের মাধ্যমে তিনবার এর অধিবাসীদেরকে কাঁপিয়ে দিবে। আর এতে সকল কাফির মুনাফিক্ব মাদীনাহ্ ছেড়ে দাজ্জালের দিকে রওনা হয়ে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪৩

وعن سعد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يكيد أهل المدينة أحد إلا انماع كما ينماع الملح فى الماء». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউই মাদীনাবাসীদের সাথে প্রতারণা করবে সে গলে যাবে, যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪৪

وعن أنس: أن النبى ﷺ كان إذا قدم من سفر فنظر إلٰى جدرات المدينة أوضع راحلته وإن كان علٰى دابة حركها من حبها. رواه البخارى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সফর হতে আসার সময় মাদীনার দেয়াল দেখতে পেতেন তখন নিজের আরোহীকে তাড়া করতেন। আর যদি তিনি ঘোড়া বা খচ্চরের পিঠে থাকতেন, তবে মাদীনার ভালবাসার উচ্ছাসে ওকে নাড়া দিতেন। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪৫

وعنه أن النبى ﷺ طلع له أحد فقال: هٰذا جبل يحبنا ونحبه اللٰهم إن إبراهيم حرم مكة وإنى أحرم ما بين لابتيها. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উহুদ পাহাড় দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা দেখে বললেন, এ পাহাড় আমাদেরকে ভালবাসে, আর আমরাও এ পাহাড়কে ভালবাসি। হে আল্লাহ! ইব্রাহীম (আঃ) মাক্কাকে সম্মানিত করেছেন, আর আমি মাদীনার দু’ সীমানার মধ্যবর্তী স্থানকে সম্মানিত করলাম। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪৬

وعن سهل بن سعد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أحد جبل يحبنا ونحبه. رواه البخارى

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উহুদ এমন একটি পাহাড়, যে পাহাড় আমাদেরকে ভালোবাসে আর আমরাও একে ভালোবাসি। (মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية