মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১২
عن ابن عباس رضي اللٰه عنهما أن رسول اللٰه ﷺ أمر أصحابه أن يبدلوا الهدى الذى نحروا عام الحديبية فى عمرة القضاء. رواه أبو داود وفيه قصة وفى سنده محمد بن إسحاق
তিনি বলেন, রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে হুদায়বিয়ার বছরে তারা যে পশু কুরবানী করেছিলেন (পরের বছর) কাযা ‘উমরার সময় তার বদলে অন্য পশু কুরবানীর হুকুম দিয়েছিলেন। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১৩
وعن الحجاج بن عمرو الأنصارى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من كسر أو عرج فقد حل وعليه الحج من قابل. رواه الترمذى وأبو داود والنسائى وابن ماجه والدارمى وزاد أبو داود فى رواية أخرٰى: «أو مرض». وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن. وفى المصابيح: ضعيف
তিনি বলেন, রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার হাড় ভেঙ্গে গেছে অথবা খোঁড়া হয়ে গেছে সে হালাল হয়ে গেছে। তবে পরের বছর তার ওপর হজ্জ করা অত্যাবশ্যক। [তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী; কিন্তু আবূ দাঊদ আরেক বর্ণনায় আরো বেশি বলেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘অথবা রোগাক্রান্ত হয়েছে’’। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান। ইমাম বাগাবী মাসাবীহ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি দুর্বল।][১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১৪
وعن عبد الرحمٰن بن يعمر الديلى قال: سمعت النبى ﷺ يقول: «الحج عرفة من أدرك عرفة ليلة جمع قبل طلوع الفجر فقد أدرك الحج أيام منى ثلاثة أيام فمن تعجل فى يومين فلا إثم عليه ومن تأخر فلا إثم عليه». رواه الترمذى وأبو داود والنسائى وابن ماجه والدارمى وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن صحيح
তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ‘আরাফাই হচ্ছে হজ্জ/হজ। যে ব্যক্তি ‘আরাফায় মুযদালিফার রাতে (৯ যিলহজ্জ শেষ রাতে) ভোর হবার আগে ‘আরাফাতে পৌঁছতে পেরেছে সে হজ্জ পেয়ে গেছে। মিনায় অবস্থানের সময় হলো তিনদিন। যে দুই দিনে তাড়াতাড়ি মিনা হতে ফিরে আসলো তার গুনাহ হলো না। আর যে (তিনদিন পূর্ণ করে) দেরী করবে তারও গুনাহ হলো না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী; তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১৫
عن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ يوم فتح مكة: «لا هجرة ولكن جهاد ونية وإذا استنفرتم فانفروا». وقال يوم فتح مكة: «إن هٰذا البلد حرمه اللٰه يوم خلق السماوات والأرض فهو حرام بحرمة اللٰه إلٰى يوم القيامة وإنه لم يحل القتال فيه لأحد قبلى ولم يحل لى إلا ساعة من نهار فهو حرام بحرمة اللٰه إلٰى يوم القيامة لا يعضد شوكه ولا ينفر صيده ولا يلتقط لقطته إلا من عرفها ولا يختلٰى خلاها». فقال العباس: يا رسول اللٰه إلا الإذخر فإنه لقينهم ولبيوتهم؟ فقال: إلا الإذخر. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেনঃ আর হিজরত নেই, তবে অবশিষ্ট আছে জিহাদ ও নিয়্যাত। তাই যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য বের হতে বলা হবে, বের হয়ে পড়বে। সেদিন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, এ শহরকে সেদিন হতে আল্লাহ তা‘আলা সম্মানিত করেছেন যেদিন তিনি আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; আর এটা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহর সম্মানেই সম্মানিত (হারাম বা পবিত্র) থাকবে। এ শহরে আমার আগে কারো জন্য যুদ্ধ করা হালাল ছিল না আর আমার জন্যও একদিনের অল্প সময়ের জন্য মাত্র হালাল করা হয়েছিল। অতঃপর তা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহর সম্মানেই সম্মানিত। এ শহরের কাঁটাযুক্ত গাছ পর্যন্ত কাটা যাবে না, এখানে শিকার হাঁকানো যাবে না, এর রাস্তায় পড়ে থাকা কোন জিনিস ঘোষণাকারী ছাড়া কেউ উঠাতে পারবে না। আর এর ঘাসও কাটতে পারবে না। বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ সময় ‘আব্বাস (রাঃ) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! ইযখির ঘাস ছাড়া? এ ঘাসতো কর্মকরদের জন্যে ও লোকদের ঘরের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ঠিক আছে ইযখির ঘাস ছাড়া। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১৬
وفى رواية لأبى هريرة: «لا يعضد شجرها ولا يلتقط ساقطتها إلا منشد». (متفق عليه)
গাছ-পালা কাটা যাবে না এবং এর পথে-ঘাটে পড়ে থাকা জিনিস ঘোষণাকারী ছাড়া উঠাতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১৭
وعن جابر قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «لا يحل لأحدكم أن يحمل بمكة السلاح». رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মাক্কায় অস্ত্র বহন করা কারো জন্য হালাল নয়। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১৮
وعن أنس أن النبى ﷺ دخل مكة يوم الفتح وعلٰى رأسه المغفر فلما نزعه جاء رجل وقال: إن ابن خطل متعلق بأستار الكعبة. فقال: اقتله. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন মাক্কায় প্রবেশ করার সময় তাঁর মাথায় ছিল লোহার শিরস্ত্রাণ। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিরস্ত্রাণটি খুললেন জনৈক ব্যক্তি এসে বললো, ইবনু খাত্বাল কা‘বার গেলাফের সাথে ঝুলে (আশ্রয় নিয়েছে) রয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে হত্যা করো। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১৯
وعن جابر: أن رسول اللٰه ﷺ دخل يوم فتح مكة وعليه عمامة سوداء بغير إحرام. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ইহরাম বাঁধা ছাড়াই মাক্কায় প্রবেশ করেছিলেন তখন তাঁর মাথায় একটি কালো পাগড়ী ছিল। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২০
وعن عائشة قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «يغزو جيش الكعبة فإذا كانوا ببيداء من الأرض يخسف بأولهم واٰخرهم». قلت: يا رسول اللٰه وكيف يخسف بأولهم واٰخرهم وفيهم أسواقهم ومن ليس منهم؟ قال: «يخسف واٰخرهم ثم يبعثون علٰى نياتهم». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শেষ জামানায়) কাবা ঘর ধ্বংস করার জন্য এক বিশাল বাহিনী রওয়ানা হবে। কিন্তু যখন তারা এক সমতল ময়দানে এসে পৌঁছবে, তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকেই জমিনে ধসিয়ে দেয়া হবে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! কি করে তাদের প্রথম থেকে শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত ধসিয়ে দেয়া হবে, তাদের মধ্যে বাজার থাকবে এবং এমন লোকও থাকবে যারা এদের দলভুক্ত নয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, নিশ্চয়ই তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে ধসিয়ে দেয়া হবে। তবে তাদেরকে (ক্বিয়ামাতের দিন) প্রত্যেকের নিয়্যাত অনুসারেই উঠানো হবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ «يخرب الكعبة ذو السويقتين من الحبشة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শেষ জামানায়) কাবা ঘর ধ্বংস করবে আবিসিনিয়ার এক ছোট নলাবিশিষ্ট (আল্লাহদ্রোহী) ব্যক্তি। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২২
وعن ابن عباس عن النبى ﷺ قال:كأنى به أسود أفحج يقلعها حجرا حجرا. رواه البخارى
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমি যেন কাবা ঘর ধ্বংসকারী সেই ব্যক্তিটিকে দেখছি। সে কালো এবং কোল ভেঙ্গুর কা‘বার এক একটি পাথর খসিয়ে ফেলছে। (বুখারী)[১]