তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯২

عن نافع أن ابن عمر وجد القر فقال: ألق على ثوبا يا نافع فألقيت عليه برنسا فقال: تلقى على هٰذا وقد نهٰى رسول اللٰه ﷺ أن يلبسه المحرم؟. رواه أبو داود

তিনি বলেন, একবার ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) শীত অনুভব করে বললেন, নাফি‘! আমার গায়ে একটি কাপড় জড়িয়ে দাও। (নাফি‘ বলেন) আমি তাঁর গায়ের উপর একটি ওভারকোট জড়িয়ে দিলাম। তখন তিনি (ইবনু ‘উমার) বললেন, আমার গায়ে ওভারকোট জড়িয়ে দিলে অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিমের জন্য তা নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯৩

وعن عبد اللٰه بن مالك بن بحينة قال: احتجم رسول اللٰه ﷺ وهو محرم بلحٰى جمل من طريق مكة فى وسط رأسه. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধা অবস্থায় মক্কার পথে ‘লুহা- জামাল’ নামক জায়গায় নিজের মাথার মাঝখানে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯৪

وعن أنس قال: احتجم رسول اللٰه ﷺ وهو محرم علٰى ظهر القدم من وجع كان به. رواه أبو داود والنسائى

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ব্যথার কারণে তাঁর পায়ের পাতার উপর শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯৫

وعن أبى رافع قال: تزوج رسول اللٰه ﷺ ميمونة وهو حلال وبنٰى بها وهو حلال وكنت أنا الرسول بينهما. رواه أحمد والترمذى وقال: هٰذا حديث حسن

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবি মায়মূনাহ্-কে হালাল অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন এবং হালাল অবস্থায়ই তার সাথে মেলামেশা করেছিলেন। আর আমিই ছিলাম তাদের মধ্যে বার্তাবাহক। (আহমাদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী হাদীসটি হাসান বলেছেন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯৬

عن الصعب بن جثامة أنه أهدٰى رسول اللٰه ﷺ حمارا وحشيا وهو بالأبواء أو بودان فرد عليه فلما رأى ما فى وجهه قال: «إنا لم نرده عليك إلا أنا حرم»

তিনি আব্ওয়া বা ওয়াদ্দান নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি বন্যগাধা (শিকার করে এনে) হাদিয়্যাহ্ (উপহার) দিলেন। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গাধাটি ফেরত দিলেন। এতে তার মুখমন্ডলে বিমর্ষভাব (মনোকষ্ট হওয়ার নিদর্শন) লক্ষ্য করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমরা মুহরিম হওয়ার কারণে তা তোমাকে ফেরত দিলাম। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯৭

وعن أبى قتادة أنه خرج مع رسول اللٰه ﷺ فتخلف مع بعض أصحابه وهم محرمون وهو غير محرم فرأوا حمارا وحشيا قبل أن يراه فلما رأوه تركوه حتٰى راٰه أبو قتادة فركب فرسا له فسألهم أن يناولوه سوطه فأبوا فتناوله فحمل عليه فعقره ثم أكل فأكلوا فندموا فلما أدركوا رسول اللٰه ﷺ سألوه. قال: «هل معكم منه شىء؟ قالوا: معنا رجله فأخذها النبى ﷺ فأكلها. (متفق عليه) وفى رواية لهما: فلما أتوا رسول اللٰه ﷺ قال: أمنكم أحد أمره أن يحمل عليها؟ أو أشار إليها؟» قالوا: لا قال: فكلوا ما بقى من لحمها

তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (‘উমরা করতে) বের হয়েছেন এবং পথিমধ্যে তিনি তাঁর কিছু সহযাত্রীসহ পিছনে পড়ে গেলেন। সাথীদের সকলেই মুহরিম ছিলেন, কিন্তু আবূ কাতাদা তখনও ইহরাম বাঁধেননি। আবূ কাতাদা’র দেখার পূর্বে তার সাথীরা একটি বন্যগাধা দেখলেন। তারা বন্যগাধাটি দেখার পর তাকে (আবূ কাতাদা-কে) এভাবেই থাকতে দিলেন। অবশেষে আবূ কাতাদাও ওটাকে দেখে ফেললেন। এরপর তিনি (আবূ কাতাদা) তার ঘোড়ায় চড়ে সাথীদেরকে তার চাবুকটা দিতে বললেন। কিন্তু সাথীরা তা তাকে দিতে অস্বীকৃতি জানালেন। অতঃপর তিনি নিজেই চাবুক উঠিয়ে নিলেন। তারপর বন্যগাধাটির ওপর আক্রমণ করে আহত (দুর্বল) করলেন। অবশেষে (তা যাবাহ করার পর) আবূ কাতাদা তা খেলেন এবং তারাও (সাথীরাও) খেলেন কিন্তু এতে তারা অনুতপ্ত হলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছে তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের সাথে বন্যগাধার কিছু আছে কি? তারা উত্তরে বললেন, আমাদের সাথে (রন্ধনকৃত) এর একটি পা আছে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন ও খেলেন। (বুখারী, মুসলিম) বুখারী মুসলিমের আর এক বর্ণনায় আছে- তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কেউ কি আবূ কাতাদা-কে বন্যগাধাকে আক্রমণ করার জন্য বলেছিলে? তারা বললেন, জ্বি না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে তোমরা এর অবশিষ্ট গোশ্‌ত (গোসত/গোশত) খেতে পারো।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯৮

وعن ابن عمر عن النبى ﷺ قال: «خمس لا جناح علٰى من قتلهن فى الحرم والإحرام: الفأرة والغراب والحدأة والعقرب والكلب العقور». (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হারামে কিংবা ইহরাম অবস্থায় পাঁচটি প্রাণী তথা ইঁদুর, কাক, চিল, বিচ্ছু ও হিংস্র কুকুর হত্যা করেছে, তার কোন গুনাহ হবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯৯

وعن عائشة عن النبى ﷺ قال: «خمس فواسق يقتلن فى الحل والحرم: الحية والغراب الأبقع والفأرة والكلب العقور والحديا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি ক্ষতিকর প্রাণী হিল্ ও হারাম (সর্বস্থানে) যে কোন স্থানেই হত্যা করা যেতে পারে। সেগুলো হলো সাপ, (সাদা কালো) কাক, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর ও চিল। (বুখারী, মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية