প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৮

عن عبد اللٰه بن عمر: أن رجلا سأل رسول اللٰه ﷺ: ما يلبس المحرم من الثياب؟ فقال: «لا تلبسوا القمص ولا العمائم ولا السراويلات ولا البرانس ولا الخفاف إلا أحد لا يجد نعلين فيلبس خفين وليقطعهما أسفل من الكعبين ولا تلبسوا من الثياب شيئا مسه زعفران ولا ورس». متفق عليه وزاد البخارى فى رواية: «ولا تنتقب المرأة المحرمة ولا تلبس القفازين

জনৈক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসে জিজ্ঞেস করলো, মুহরিম কোন্ ধরনের পোশাক পরবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জামা, পাগড়ি, পাজামা, টুপী, মোজা পরবে না। তবে যে লোকের জুতা নেই সে মোজা পরতে পারবে কিন্তু পায়ের গোড়ালির নিচ হতে মোজাদ্বয়কে কেটে দিবে। এমন কোন কাপড়ও পরবে না যাতে জা‘ফারানের ও ওয়ার্‌স-এর রং রয়েছে। (বুখারী, মুসলিম; বুখারীর এক বর্ণনায় আরো একটু বেশি আছে- মুহরিম নারী বোরকা পরবে না, হাত মোজাও পরবে না।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৯

وعن ابن عباس قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يخطب وهو يقول: إذا لم يجد المحرم نعلين لبس خفين وإذا لم يجد إزارا لبس سراويل. (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক বক্তৃতায় বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মুহরিম যদি জুতা না পায় তবে মোজা পরতে পারবে এবং সেলাইবিহীন লুঙ্গি না পায় তবে পাজামা পরতে পারবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮০

وعن يعلى بن أمية قال: كنا عند النبى ﷺ بالجعرانة إذ جاء رجل أعرابى عليه جبة وهو متضمخ بالخلوق فقال: يا رسول اللٰه إنى أحرمت بالعمرة وهٰذه على. فقال: «أما الطيب الذى بك فاغسله ثلاث مرات وأما الجبة فانزعها ثم اصنع فى عمرتك كما تصنع فى حجك». (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমরা জি‘রানাহ্ নামক স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন তাঁর নিকট একজন বেদুঈন আসলো। তার পরনে ছিল জুব্বা আর শরীরে ছিল সুগন্ধি ছিটানো। সে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি ‘উমরা করার জন্য ইহরাম বেঁধেছি আর আমার গায়ে এসব আছে। তার কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার শরীরে যে সুগন্ধি রয়েছে তা তিনবার করে ধুয়ে ফেলো, আর জুব্বা খুলে ফেলো। অতঃপর হজে যা কর ‘উমরাতেও তাই কর। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮১

وعن عثمان قال: قال رسول اللٰه ﷺ: لا ينكح المحرم ولا ينكح ولا يخطب. رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করবে না, বিয়ে দেবে না এবং বিয়ের প্রস্তাবও দিবে না। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮২

وعن ابن عباس: أن النبى ﷺ تزوج ميمونة وهو محرم. (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনাহ্ (রাঃ)-কে ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৩

وعن يزيد بن الأصم ابن أخت ميمونة عن ميمونة أن رسول اللٰه ﷺ تزوجها وهو حلال. رواه مسلم قال الشيخ الإمام محيى السنة رحمه الله : والأكثرون علٰى انه تزوجها حلالا وظهر أمر تزويجها وهو محرم ثم بنٰى بها وهو حلال بسرف فى طريق مكة

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনাহ্ (রাঃ)-কে হালাল অবস্থায় (ইহরাম অবস্থায় নয়) বিয়ে করেছিলেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৪

وعن أبى أيوب: أن النبى ﷺ كان يغسل رأسه وهو محرم. (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় নিজের মাথা ধুতেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৫

وعن ابن عباس قال: احتجم النبى ﷺ وهو محرم. (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৬

وعن عثمان حدث عن رسول اللٰه ﷺ فى الرجل إذا اشتكٰى عينيه وهو محرم ضمدهما بالصبر. رواه مسلم

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় চোখে ব্যথা অনুভব করে সে মুসাববার দিয়ে পট্টি বাঁধবে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৭

وعن أم الحصين قالت: رأيت أسامة وبلالا وأحدهما اٰخذ بخطام ناقة رسول اللٰه ﷺ والاٰخر رافع ثوبه يستره من الحر حتٰى رمٰى جمرة العقبة. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি উসামাহ্ ও বিলাল (রাঃ)-কে দেখেছি তাদের একজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনীর লাগাম ধরে রেখেছে আর অপরজন কাপড় উপরে উঠিয়ে রোদ্র হতে তাঁকে ছায়া দিচ্ছে জামারাতুল ‘আক্বাবায় পাথর মারা পর্যন্ত। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৮

وعن كعب بن عجرة أن النبى ﷺ مر به وهو بالحديبية قبل أن يدخل مكة وهو محرم وهو يوقد تحت قدر والقمل تتهافت علٰى وجهه فقال: أتؤذيك هوامك؟. قال: نعم. قال: فاحلق رأسك وأطعم فرقا بين ستة مساكين». والفرق: ثلاثة اٰصع: «أو صم ثلاثة أيام أو انسك نسيكة. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় পৌঁছার আগে হুদায়বিয়ায় তাঁর (কা‘ব-এর) নিকট দিয়ে গেলেন। তখন তিনি (কা‘ব) ইহরাম অবস্থায় একটি হাঁড়ির তলায় আগুন ধরাচ্ছে, আর তার মুখমণ্ডল বেয়ে উকুন ঝরছিল। এটা দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার (গায়ের) পোকা কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি (কা‘ব) বললেন, জি, হ্যাঁ। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি তোমার মাথা মুণ্ডন করে ফেলো এবং ছয়জন মিসকীনকে এক ‘ফারাক্ব’ খাবার খাওয়াও কিংবা তিনদিন সিয়াম পালন কর অথবা একটি পশু কুরবানী কর। বর্ণনাকারী বলেন, এক ‘ফারাক্ব’ তিন সা'-এর সমতুল্য। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৯

عن ابن عمر: أنه سمع رسول اللٰه ﷺ ينهى النساء فى احرامهن عن القفازين والنقاب وما مس الورس والزعفران من الثياب ولتلبس بعد ذٰلك ما أحبت من ألوان الثياب معصفر أوخز أو حلى أو سراويل أو قميص أو خف. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে তাদের ইহরামে হাত মোজা ও বোরকা এবং ওয়ারস্ (জা‘ফরানে রঞ্জিত কাপড়) পরতে নিষেধ করতে শুনেছেন। তারপর (ইহরামের পর) তারা যে কোন কাপড় পছন্দ করে পরতে পারবে- তা কুসুমী বা রেশমী হোক অথবা যে কোন ধরনের অলংকার অথবা পাজামা বা পিরান বা মোজা পরতে পারে। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯০

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان الركبان يمرون بنا ونحن مع رسول اللٰه ﷺ محرمات فإذا جاوزوا بنا سدلت إحدانا جلبابها من رأسها علٰى وجهها فإذا جاوزونا كشفناه. رواه أبو داود ولابن ماجه معناه

তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম, তখন আরোহী দল আমাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করতো। তারা আমাদের কাছাকাছি আসলে আমাদের সকলেই নিজ নিজ মাথার চাদর চেহারার উপর ঢেকে দিতাম। আর তারা চলে যেত আমরা তখন তা (খুলতাম) সরিয়ে নিতাম। (আবূ দাঊদ, আর ইবনু মাজাহ এর মর্মার্থ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯১

وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما أن النبى ﷺ كان يدهن بالزيت وهو محرم غير المقنت يعنى غير المطيب. رواه الترمذى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিহীন তেল ব্যবহার করতেন। (তিরমিযী)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية