মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭০
عن عمرو بن الأحوص قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول فى حجة الوداع: «أى يوم هٰذا؟» قالوا: يوم النحر الأكبر. قال: «فإن دماءكم وأموالكم وأعراضكم بينكم حرام كحرمة يومكم هٰذا فى بلدكم هٰذا ألا لا يجنى جان علٰى نفسه ولا يجنى جان علٰى ولده ولا مولود علٰى والده ألا وإن الشيطان قد أيس أن يعبد فى بلدكم هٰذا أبدا ولكن ستكون له طاعة فيما تحتقرون من أعمالكم فسيرضٰى به». رواه ابن ماجه والترمذى وصححه
তিনি বলেন, আমি বলতে শুনেছি, বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোকেরা! এটা কোন্ দিন? (সমস্বরে) লোকেরা বললো, এটা হজে আকবারের (বড় হজের) দিন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (মনে রাখবে) তোমাদের জীবন, সম্পদ, ইজ্জত পরস্পরের মধ্যে যেমন হারাম বা পবিত্র। তেমনি আজকের এ দিন এ শহরে হারাম বা পবিত্র। সাবধান! কোন অপরাধকারী যেন তার জীবনের ওপর যুলুম না করে। সাবধান! কোন অপরাধী যেন নিজের সন্তানের ওপর যুলুম না করে। কোন সন্তান যেন তার পিতার ওপর যুলুম না করে। সাবধান! শয়তান চিরদিনের জন্যে নিরাশ হয়ে গেছে এ শহরে তার কোন পূজা হবে (না এ প্রসঙ্গে)। কিন্তু তোমাদের যে সব কাজের মধ্য দিয়ে তার অনুসারী হবে, অথচ সেসব কাজ তোমরা তুচ্ছ মনে করবে। আর এতেই সে খুশী হবে। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী; তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭১
وعن رافع بن عمرو المزنى قال: رأيت رسول اللٰه ﷺ يخطب الناس بمنى حين ارتفع الضحٰى علٰى بغلة شهباء وعلى يعبر عنه والناس بين قائم وقاعد. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি সাদা-কালো মিশ্রিত খচ্চরের উপর থেকে মিনায় ভাষণ দিতে দেখেছি, তখন সূর্য উপরে উঠেছিল। ‘আলী (রাঃ) তাঁর বক্তব্যকে লোকদের কাছে পৌঁছাচ্ছিলেন (উচ্চস্বরে ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন)। আর তখন লোকজনের মধ্যে কেউ দাঁড়ানো, কেউ বসা ছিল। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭২
وعن عائشة وابن عباس رضي اللٰه عنهم أن رسول اللٰه ﷺ أخر طواف الزيارة يوم النحر إلى الليل. رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারত কুরবানীর দিনে (১০ তারিখে) রাত পর্যন্ত দেরি করেছিলেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৩
وعن ابن عباس: أن النبى ﷺ لم يرمل فى السبع الذى أفاض فيه. رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে ইফাযার (তাওয়াফে যিয়ারতের) সাত চক্কর রমল করেননি (জোর পায়ে চলেননি)। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৪
] وعن عائشة أن النبى ﷺ قال: «إذا رمٰى أحدكم جمرة العقبة فقد حل له كل شىء إلا النساء». رواه فى شرح السنة وقال: إسناده ضعيف
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ জামারাতুল ‘আক্বাবায় (১০ তারিখে) পাথর মারার পর স্ত্রী সহবাস ছাড়া অন্য সকল কাজ তার জন্যে হালাল হয়ে যাবে। [শারহুস্ সুন্নাহ; ইমাম বাগাবী বলেছেন, এর সানাদ দুর্বল।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৫
وفى رواية أحمد والنسائى عن ابن عباس قال: «إذا رمى الجمرة فقد حل له كل شىء إلا النساء
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কেউ জামারাতুল ‘আক্বাবায়ে পাথর মারা শেষ করবে তার জন্য স্ত্রী সহবাস ছাড়া আর অন্য সব কাজ হালাল হয়ে যাবে।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৬
وعنها قالت : أفاض رسول اللٰه ﷺ من اٰخر يومه حين صلى الظهر ثم رجع إلٰى منى فمكث بها ليالى أيام التشريق يرمى الجمرة إذا زالت الشمس كل جمرة بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة ويقف عند الأولٰى والثانية فيطيل القيام ويتضرع ويرمى الثالثة فلا يقف عندها. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায়ে পর দিনের শেষ বেলায় তাওয়াফে ইফাযাহ্ সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার মিনায় ফিরে এলেন এবং সেখানেই আইয়্যামে তাশরীক্বের দিনগুলো অবস্থান করলেন। এ দিনগুলোতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্যাস্তের পর জামারায় সাতটি করে পাথর মারতেন। প্রত্যেক পাথর মারার সাথে সাথে ‘আল্লা-হু আকবার’ বলতেন। আর প্রথম ও দ্বিতীয় জামারার নিকট দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেন ও আল্লাহর কাছে (অনুনয়-বিনয় করে) প্রার্থনা করতেন। কিন্তু তৃতীয় জামারায় (পূর্বের ন্যায় পাথর মারার পর) অপেক্ষা করতেন না। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৭
وعن أبى البداح بن عاصم بن عدى عن أبيه قال: رخص رسول اللٰه ﷺ لرعاء الإبل فى البيتوتة: أن يرموا يوم النحر ثم يجمعوا رمى يومين بعد يوم النحر فيرموه فى احدهما. رواه مالك والترمذى والنسائى وقال الترمذى: هٰذا حديث صحيح
তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট চালকদেরকে মিনায় রাত যাপন না করার এবং কুরবানীর তারিখে (জামারাতুল ‘আক্বাবায়) পাথর মারতে এবং তারপর কুরবানী দিনের পর দুই দিনের পাথর একদিনে মারতে অনুমতি দিয়েছিলেন। (মালিক, তিরমিযী, নাসায়ী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৮
عن عبد اللٰه بن عمر: أن رجلا سأل رسول اللٰه ﷺ: ما يلبس المحرم من الثياب؟ فقال: «لا تلبسوا القمص ولا العمائم ولا السراويلات ولا البرانس ولا الخفاف إلا أحد لا يجد نعلين فيلبس خفين وليقطعهما أسفل من الكعبين ولا تلبسوا من الثياب شيئا مسه زعفران ولا ورس». متفق عليه وزاد البخارى فى رواية: «ولا تنتقب المرأة المحرمة ولا تلبس القفازين
জনৈক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসে জিজ্ঞেস করলো, মুহরিম কোন্ ধরনের পোশাক পরবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জামা, পাগড়ি, পাজামা, টুপী, মোজা পরবে না। তবে যে লোকের জুতা নেই সে মোজা পরতে পারবে কিন্তু পায়ের গোড়ালির নিচ হতে মোজাদ্বয়কে কেটে দিবে। এমন কোন কাপড়ও পরবে না যাতে জা‘ফারানের ও ওয়ার্স-এর রং রয়েছে। (বুখারী, মুসলিম; বুখারীর এক বর্ণনায় আরো একটু বেশি আছে- মুহরিম নারী বোরকা পরবে না, হাত মোজাও পরবে না।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৯
وعن ابن عباس قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يخطب وهو يقول: إذا لم يجد المحرم نعلين لبس خفين وإذا لم يجد إزارا لبس سراويل. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক বক্তৃতায় বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মুহরিম যদি জুতা না পায় তবে মোজা পরতে পারবে এবং সেলাইবিহীন লুঙ্গি না পায় তবে পাজামা পরতে পারবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮০
وعن يعلى بن أمية قال: كنا عند النبى ﷺ بالجعرانة إذ جاء رجل أعرابى عليه جبة وهو متضمخ بالخلوق فقال: يا رسول اللٰه إنى أحرمت بالعمرة وهٰذه على. فقال: «أما الطيب الذى بك فاغسله ثلاث مرات وأما الجبة فانزعها ثم اصنع فى عمرتك كما تصنع فى حجك». (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমরা জি‘রানাহ্ নামক স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন তাঁর নিকট একজন বেদুঈন আসলো। তার পরনে ছিল জুব্বা আর শরীরে ছিল সুগন্ধি ছিটানো। সে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি ‘উমরা করার জন্য ইহরাম বেঁধেছি আর আমার গায়ে এসব আছে। তার কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার শরীরে যে সুগন্ধি রয়েছে তা তিনবার করে ধুয়ে ফেলো, আর জুব্বা খুলে ফেলো। অতঃপর হজে যা কর ‘উমরাতেও তাই কর। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮১
وعن عثمان قال: قال رسول اللٰه ﷺ: لا ينكح المحرم ولا ينكح ولا يخطب. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করবে না, বিয়ে দেবে না এবং বিয়ের প্রস্তাবও দিবে না। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮২
وعن ابن عباس: أن النبى ﷺ تزوج ميمونة وهو محرم. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনাহ্ (রাঃ)-কে ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৩
وعن يزيد بن الأصم ابن أخت ميمونة عن ميمونة أن رسول اللٰه ﷺ تزوجها وهو حلال. رواه مسلم قال الشيخ الإمام محيى السنة رحمه الله : والأكثرون علٰى انه تزوجها حلالا وظهر أمر تزويجها وهو محرم ثم بنٰى بها وهو حلال بسرف فى طريق مكة
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনাহ্ (রাঃ)-কে হালাল অবস্থায় (ইহরাম অবস্থায় নয়) বিয়ে করেছিলেন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৪
وعن أبى أيوب: أن النبى ﷺ كان يغسل رأسه وهو محرم. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় নিজের মাথা ধুতেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৫
وعن ابن عباس قال: احتجم النبى ﷺ وهو محرم. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৬
وعن عثمان حدث عن رسول اللٰه ﷺ فى الرجل إذا اشتكٰى عينيه وهو محرم ضمدهما بالصبر. رواه مسلم
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় চোখে ব্যথা অনুভব করে সে মুসাববার দিয়ে পট্টি বাঁধবে। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৭
وعن أم الحصين قالت: رأيت أسامة وبلالا وأحدهما اٰخذ بخطام ناقة رسول اللٰه ﷺ والاٰخر رافع ثوبه يستره من الحر حتٰى رمٰى جمرة العقبة. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি উসামাহ্ ও বিলাল (রাঃ)-কে দেখেছি তাদের একজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনীর লাগাম ধরে রেখেছে আর অপরজন কাপড় উপরে উঠিয়ে রোদ্র হতে তাঁকে ছায়া দিচ্ছে জামারাতুল ‘আক্বাবায় পাথর মারা পর্যন্ত। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮৮
وعن كعب بن عجرة أن النبى ﷺ مر به وهو بالحديبية قبل أن يدخل مكة وهو محرم وهو يوقد تحت قدر والقمل تتهافت علٰى وجهه فقال: أتؤذيك هوامك؟. قال: نعم. قال: فاحلق رأسك وأطعم فرقا بين ستة مساكين». والفرق: ثلاثة اٰصع: «أو صم ثلاثة أيام أو انسك نسيكة. (متفق عليه)
তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় পৌঁছার আগে হুদায়বিয়ায় তাঁর (কা‘ব-এর) নিকট দিয়ে গেলেন। তখন তিনি (কা‘ব) ইহরাম অবস্থায় একটি হাঁড়ির তলায় আগুন ধরাচ্ছে, আর তার মুখমণ্ডল বেয়ে উকুন ঝরছিল। এটা দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার (গায়ের) পোকা কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি (কা‘ব) বললেন, জি, হ্যাঁ। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি তোমার মাথা মুণ্ডন করে ফেলো এবং ছয়জন মিসকীনকে এক ‘ফারাক্ব’ খাবার খাওয়াও কিংবা তিনদিন সিয়াম পালন কর অথবা একটি পশু কুরবানী কর। বর্ণনাকারী বলেন, এক ‘ফারাক্ব’ তিন সা'-এর সমতুল্য। (বুখারী, মুসলিম)[১]