মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৫৯
عن أبى بكرة قال: خطبنا النبى ﷺ يوم النحر قال: «إن الزمان قد استدار كهيئته يوم خلق اللٰه السماوات والأرض السنة اثنا عشر شهرا منها أربعة حرم ثلاث متواليات ذو القعدة وذو الحجة والمحرم ورجب مضر الذى بين جمادٰى وشعبان» وقال: أى شهر هٰذا؟ قلنا: اللٰه ورسوله أعلم فسكت حتٰى ظننا أنه سيسميه بغير اسمه فقال: أليس ذا الحجة؟ قلنا: بلٰى. قال: أى بلد هٰذا؟ قلنا: اللٰه ورسوله أعلم فسكت حتٰى ظننا أنه سيسميه بغير اسمه قال: أليس البلدة؟ قلنا: بلٰى قال فأى يوم هٰذا؟ قلنا: اللٰه ورسوله أعلم فسكت حتٰى ظننا أنه سيسميه بغير اسمه. قال: أليس يوم النحر؟ قلنا: بلٰى. قال: فإن دماءكم وأموالكم وأعراضكم عليكم حرام كحرمة يومكم هٰذا فى بلدكم هٰذا فى شهركم هٰذا وستلقون ربكم فيسألكم عن أعمالكم ألا فلا ترجعوا بعدى ضلالا يضرب بعضكم رقاب بعض ألا هل بلغت؟» قالوا: نعم. قال: اللٰهم اشهد فليبلغ الشاهد الغائب فرب مبلغ أوعٰى من سامع. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন (১০ যিলহাজ্জ) আমাদের উদ্দেশে এক বক্তৃতা দিলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, বছর ঘুরে এসেছে সে তারিখের পুনরাবৃত্তি অনুযায়ী, যে তারিখে আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। বছর বারো মাসে, তন্মধ্যে চার মাস হারাম বা সম্মানিত মাস। তিন মাস পরপর এক সাথেই তথা যিলকদ, যিলহজ্জ ও মুহাররম। চতুর্থ মাস মুযার গোত্রের রজব মাস। যে মাস জমাদিউল উখরা ও শা‘বানের মাঝখানে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ এটা কোন্ মাস? আমরা উত্তর দিলাম- আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই এ ব্যাপারে বেশি ভালো জানেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। আমরা ভাবলাম তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হয়ত এ মাসের অন্য কোন নাম বলবেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ মাস কি যিলহজ্জ মাস নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ, এ মাস যিলহজ্জ মাস। এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটি কোন্ শহর? আমরা বললাম, আল্লাহর রসূলই ভালো জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। এতে আমরা ভাবলাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মনে হয় এ শহরের অন্য কোন নাম বলবেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটি কি (মক্কা) শহর নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ, এটি মক্কা শহর, হে আল্লাহর রসূল! এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা কোন্ দিন? উত্তরে আমরা বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই তা ভালো জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। এতে আমরা ভাবলাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মনে হয় এর অন্য কোন নাম বলবেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ, কুরবানীর দিন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘তোমাদের জীবন, সম্পদ ও সম্মান তোমাদের জন্য পবিত্র; যেমন তোমাদের এ মাস, এ শহর, এ দিন পবিত্র। তোমরা খুব তাড়াতাড়ি আল্লাহর কাছে পৌঁছবে, আর তিনি তোমাদেরকে কর্মকান্ড সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। সাবধান! আমার পর তোমরা বিভ্রান্ত হয়ে এক অন্যের প্রাণনাশ করো না। তোমরা বলো, আমি কি তোমাদের নিকট (আল্লাহর নির্দেশ) পৌঁছিয়ে দেইনি? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো। (এরপর বললেন) প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিকে এ কথা পৌঁছিয়ে দেয়। কেননা এমন অনেক ব্যক্তি আছে, যাকে পরে পৌঁছানো হয় কিন্তু সে আসল শ্রোতা হতেও বেশি উপলব্ধিকারী ও সংরক্ষণকারী হতে পারে। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬০
وعن وبرة قال: سألت ابن عمر: متٰى أرمى الجمار؟ قال: إذا رمٰى إمامك فارمه فأعدت عليه المسألة. فقال: كنا نتحين فإذا زالت الشمس رمينا. رواه البخارى
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কোন্ দিন পাথর মারবো? তিনি বললেন, তোমার ইমাম যেদিন মারবে তুমিও সেদিন পাথর মারবে। আবার আমি তাঁকে এ মাসআলাটি জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, আমরা সময়ের অপেক্ষায় থাকতাম, যখন সূর্যাস্ত হলো তখন আমরা পাথর মারতাম। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬১
وعن سالم عن ابن عمر: أنه كان يرمى جمرة الدنيا بسبع حصيات يكبر علٰى إثر كل حصاة ثم يتقدم حتٰى يسهل فيقوم مستقبل القبلة طويلا ويدعو ويرفع يديه ثم يرمى الوسطٰى بسبع حصيات يكبر كلما رمٰى بحصاة ثم يأخذ بذات الشمال فيسهل ويقوم مستقبل القبلة ثم يدعو ويرفع يديه ويقوم طويلا ثم يرمى جمرة ذات العقبة من بطن الوادى بسبع حصيات يكبر عند كل حصاة ولا يقف عندها ثم ينصرف فيقول: هٰكذا رأيت النبى ﷺ يفعله. رواه البخارى
তিনি বলেন, তিনি [‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] প্রথম জামারায় (নিকটবর্তী জামারায়) সাতটি পাথর মারতেন এবং প্রত্যেক পাথরের মারার সময় ‘আল্লা-হু আকবার’ বলতেন। তারপর তিনি কিছু দূর আগে বেড়ে নরম মাটিতে যেতেন এবং সেখানে কিবলার দিকে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় হাত তুলে দু‘আ করতেন। তারপর জামারায়ে উস্ত্বা’য় (মধ্যম জামারায়) এসে আবার সাতটি পাথর মারতেন। প্রত্যেক (ছোট) পাথর মারার সাথে ‘আল্লা-হু আকবার’ বলতেন। তারপর বামদিকে কিছু দূর এগিয়ে নরম মাটিতে পৌঁছে কিবলার দিকে দাঁড়িয়ে দু‘আ করতেন। এরপর জামারাতুল ‘আক্বাবায় গিয়ে বাত্বনি ওয়াদী (খোলা নিচু জায়গা) হতে সাতটি পাথর মারতেন। প্রত্যেক পাথর মারার সাথে ‘আল্লা-হু আকবার’ বলতেন। কিন্তু এখানে দাঁড়াতেন না, বরং (গন্তব্য পথে) চলে যেতেন এবং বলতেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবে পাথর (কঙ্কর) মারতে দেখেছি। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬২
وعن ابن عمر قال: استأذن العباس بن عبد المطلب رسول اللٰه ﷺ أن يبيت بمكة ليالى منى من أجل سقايته فأذن له. (متفق عليه)
তিনি বলেন, ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্ত্বালিব লোকদেরকে পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলো মাক্কায় থাকার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে অনুমতি দিলেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৩
وعن ابن عباس: أن رسول اللٰه ﷺ جاء إلى السقاية فاستسقٰى. فقال العباس: يا فضل اذهب إلٰى أمك فأت رسول اللٰه ﷺ بشراب من عندها فقال: «اسقنى» فقال: يا رسول اللٰه إنهم يجعلون أيديهم فيه قال: اسقنى. فشرب منه ثم أتٰى زمزم وهم يسقون ويعملون فيها. فقال: اعملوا فإنكم علٰى عمل صالح». ثم قال: «لولا أن تغلبوا لنزلت حتٰى اضع الحبل علٰى هٰذه». وأشار إلٰى عاتقه. رواه البخارى
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে ‘পানি পান’ করানো হয় সেখানে এসে পানি চাইলেন। তখন (আমার পিতা) ‘আব্বাস (আমার ভাইকে) বললেন, হে ফযল! তোমার মায়ের কাছে যাও। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তার কাছ থেকে খাবার পানি নিয়ে আসো। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে এখান থেকে পানি পান করাও। আমার পিতা তখন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এতে লোকেরা হাত দেয়। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে এখান থেকেই পানি পান করাও। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখান থেকেই পানি পান করলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যমযমের কূপের কাছে গেলেন। তখনও তারা পানি পান করছিলেন। (এ অবস্থা দেখে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কাজ করতে থাকো, কেননা তোমরা নেক কাজে ব্যস্ত আছ। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি লোকেরা তোমাদেরকে পরাভূত করবে- এ আশংকা আমার না থাকতো তাহলে আমি সওয়ারী হতে নেমে এতে রশি নিতাম। (রাবী বলেন) এটা বলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের কাঁধের দিকেই ইশারা করলেন। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৪
وعن أنس أن النبى ﷺ صلى الظهر والعصر والمغرب والعشاء ثم رقد رقدة بالمحصب ثم ركب إلى البيت فطاف به. رواه البخارى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্সাব নামক স্থানে যুহর, ‘আসর, মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায় করে এখানেই কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলেন। অতঃপর সেখান থেকে বায়তুল্লাহর দিকে রওয়ানা হলেন এবং (বিদায়ী) তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৫
وعن عبد العزيز بن رفيع قال: سألت أنس بن مالك. قلت: أخبرنى بشىء عقلته عن رسول اللٰه ﷺ: أين صلى الظهر يوم التروية؟ قال: بمنى. قلت: فأين صلى العصر يوم النفر؟ قال: بالأبطح. ثم قال افعل كما يفعل أمراؤك. (متفق عليه)
তিনি বলেন, একবার আমি আনাস ইবনু মালিক-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, এ ব্যাপারে আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা জেনেছেন তা আমাকে বলুন। (যেমন) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তালবিয়ার দিন (যিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখে) যুহরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? জবাবে আনাস বললেন, ‘মিনায়’। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, নাফরের দিন (যিলহজ্জ মাসের ১৩ তারিখে মাদীনায় রওনা হবার দিন) ‘আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, আবত্বাহ-এ। অতঃপর আনাস বললেন, কিন্তু তোমরা তোমাদের আমীর বা নেতৃবৃন্দ যেভাবে করেন সেভাবে করবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৬
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: نزول الأبطح ليس بسنة إنما نزله رسول اللٰه ﷺ لأنه كان أسمح لخروجه إذا خرج. (متفق عليه)
তিনি বলেন, ‘আবত্বাহ’-এ নামা বা অবস্থান করা সুন্নাতসম্মত নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যে ‘আবত্বাহ’ হতে (মাদীনার দিকে) রওয়ানা হওয়াটা সহজ ছিল বিধায় এখানে নেমেছেন বা অবস্থান করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৭
وعنها قالت: أحرمت من التنعيم بعمرة فدخلت فقضيت عمرتى وانتظرنى رسول اللٰه ﷺ بالأبطح حتٰى فرغت فأمر الناس بالرحيل فخرج فمر بالبيت فطاف به قبل صلاة الصبح ثم خرج إلى المدينة. هٰذا الحديث ما وجدته برواية الشيخين بل برواية أبى داود مع اختلاف يسير فى اٰخره
তিনি বলেন, আমি তান্‘ঈম হতে ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং মাক্কায় পৌঁছে আমি আমার কাযা ‘উমরা আদায় করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবত্বাহ-এ এসে আমার জন্যে অপেক্ষা করলেন যতক্ষণ পর্যন্ত আমি অবসর না হলাম (‘উমরা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত)। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদেরকে (মাদীনার দিকে) রওয়ানা হতে আদেশ করলেন এবং নিজেও (মক্কার দিকে) রওয়ানা হলেন। আর বায়তুল্লাহ পৌঁছে ফজরের সলাতের আগেই (বিদায়ী) তাওয়াফ করলেন। অতঃপর মাদীনার দিকে রওয়ানা হলেন। (মিশকাত গ্রন্থকার বলেন, ইমাম বাগাবী এ হাদীসকে প্রথম অনুচ্ছেদে স্থান দিলেও আমি তা বুখারী, মুসলিমে পাইনি; তবে কিছু এর শেষে তারতম্যসহ আবূ দাঊদে রয়েছে।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৮
وعن ابن عباس قال: كان الناس ينصرفون فى كل وجه فقال رسول اللٰه ﷺ: «لا ينفرن أحدكم حتٰى يكون اٰخر عهده بالبيت إلا أنه خفف عن الحائض». (متفق عليه)
তিনি বলেন, (হজ্জ/হজ সম্পন্ন করে শেষ তাওয়াফ না করেই) লোকজন চারদিক হতে দেশের দিকে ফিরতে শুরু করতো। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কেউ যেন বায়তুল্লাহর সাথে (শেষ) সাক্ষাৎ না করে বাড়ীর দিকে রওয়ানা না হয়। তবে ঋতুমতী মহিলাদের (প্রতি শিথিলতা স্বরূপ) এর থেকে বিরত থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৯
وعن عائشة قالت: حاضت صفية ليلة النفر فقالت: ما أرانى إلا حابستكم. قال النبى ﷺ: «عقرٰى حلقٰى أطافت يوم النحر؟» قيل: نعم. قال: «فانفرى». (متفق عليه)
তিনি বলেন, মাদীনাহ্ হতে রওয়ানা হবার রাতেই বিবি সফিয়্যাহ্ ঋতুমতী হয়ে পড়লেন। তিনি (সফিয়্যাহ্) বললেন, আমার মনে হয় আমি আপনাদেরকে আটকে দিলাম। (এ কথা শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ধ্বংস হোক, নিপাত যাক। সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ (ইফাযাহ্) করেনি? বলা হলো, হ্যাঁ, করেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে রওয়ানা হও। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭০
عن عمرو بن الأحوص قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول فى حجة الوداع: «أى يوم هٰذا؟» قالوا: يوم النحر الأكبر. قال: «فإن دماءكم وأموالكم وأعراضكم بينكم حرام كحرمة يومكم هٰذا فى بلدكم هٰذا ألا لا يجنى جان علٰى نفسه ولا يجنى جان علٰى ولده ولا مولود علٰى والده ألا وإن الشيطان قد أيس أن يعبد فى بلدكم هٰذا أبدا ولكن ستكون له طاعة فيما تحتقرون من أعمالكم فسيرضٰى به». رواه ابن ماجه والترمذى وصححه
তিনি বলেন, আমি বলতে শুনেছি, বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোকেরা! এটা কোন্ দিন? (সমস্বরে) লোকেরা বললো, এটা হজে আকবারের (বড় হজের) দিন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (মনে রাখবে) তোমাদের জীবন, সম্পদ, ইজ্জত পরস্পরের মধ্যে যেমন হারাম বা পবিত্র। তেমনি আজকের এ দিন এ শহরে হারাম বা পবিত্র। সাবধান! কোন অপরাধকারী যেন তার জীবনের ওপর যুলুম না করে। সাবধান! কোন অপরাধী যেন নিজের সন্তানের ওপর যুলুম না করে। কোন সন্তান যেন তার পিতার ওপর যুলুম না করে। সাবধান! শয়তান চিরদিনের জন্যে নিরাশ হয়ে গেছে এ শহরে তার কোন পূজা হবে (না এ প্রসঙ্গে)। কিন্তু তোমাদের যে সব কাজের মধ্য দিয়ে তার অনুসারী হবে, অথচ সেসব কাজ তোমরা তুচ্ছ মনে করবে। আর এতেই সে খুশী হবে। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী; তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭১
وعن رافع بن عمرو المزنى قال: رأيت رسول اللٰه ﷺ يخطب الناس بمنى حين ارتفع الضحٰى علٰى بغلة شهباء وعلى يعبر عنه والناس بين قائم وقاعد. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি সাদা-কালো মিশ্রিত খচ্চরের উপর থেকে মিনায় ভাষণ দিতে দেখেছি, তখন সূর্য উপরে উঠেছিল। ‘আলী (রাঃ) তাঁর বক্তব্যকে লোকদের কাছে পৌঁছাচ্ছিলেন (উচ্চস্বরে ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন)। আর তখন লোকজনের মধ্যে কেউ দাঁড়ানো, কেউ বসা ছিল। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭২
وعن عائشة وابن عباس رضي اللٰه عنهم أن رسول اللٰه ﷺ أخر طواف الزيارة يوم النحر إلى الليل. رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারত কুরবানীর দিনে (১০ তারিখে) রাত পর্যন্ত দেরি করেছিলেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৩
وعن ابن عباس: أن النبى ﷺ لم يرمل فى السبع الذى أفاض فيه. رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে ইফাযার (তাওয়াফে যিয়ারতের) সাত চক্কর রমল করেননি (জোর পায়ে চলেননি)। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৪
] وعن عائشة أن النبى ﷺ قال: «إذا رمٰى أحدكم جمرة العقبة فقد حل له كل شىء إلا النساء». رواه فى شرح السنة وقال: إسناده ضعيف
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ জামারাতুল ‘আক্বাবায় (১০ তারিখে) পাথর মারার পর স্ত্রী সহবাস ছাড়া অন্য সকল কাজ তার জন্যে হালাল হয়ে যাবে। [শারহুস্ সুন্নাহ; ইমাম বাগাবী বলেছেন, এর সানাদ দুর্বল।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৫
وفى رواية أحمد والنسائى عن ابن عباس قال: «إذا رمى الجمرة فقد حل له كل شىء إلا النساء
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কেউ জামারাতুল ‘আক্বাবায়ে পাথর মারা শেষ করবে তার জন্য স্ত্রী সহবাস ছাড়া আর অন্য সব কাজ হালাল হয়ে যাবে।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৬
وعنها قالت : أفاض رسول اللٰه ﷺ من اٰخر يومه حين صلى الظهر ثم رجع إلٰى منى فمكث بها ليالى أيام التشريق يرمى الجمرة إذا زالت الشمس كل جمرة بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة ويقف عند الأولٰى والثانية فيطيل القيام ويتضرع ويرمى الثالثة فلا يقف عندها. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায়ে পর দিনের শেষ বেলায় তাওয়াফে ইফাযাহ্ সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার মিনায় ফিরে এলেন এবং সেখানেই আইয়্যামে তাশরীক্বের দিনগুলো অবস্থান করলেন। এ দিনগুলোতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্যাস্তের পর জামারায় সাতটি করে পাথর মারতেন। প্রত্যেক পাথর মারার সাথে সাথে ‘আল্লা-হু আকবার’ বলতেন। আর প্রথম ও দ্বিতীয় জামারার নিকট দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেন ও আল্লাহর কাছে (অনুনয়-বিনয় করে) প্রার্থনা করতেন। কিন্তু তৃতীয় জামারায় (পূর্বের ন্যায় পাথর মারার পর) অপেক্ষা করতেন না। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭৭
وعن أبى البداح بن عاصم بن عدى عن أبيه قال: رخص رسول اللٰه ﷺ لرعاء الإبل فى البيتوتة: أن يرموا يوم النحر ثم يجمعوا رمى يومين بعد يوم النحر فيرموه فى احدهما. رواه مالك والترمذى والنسائى وقال الترمذى: هٰذا حديث صحيح
তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট চালকদেরকে মিনায় রাত যাপন না করার এবং কুরবানীর তারিখে (জামারাতুল ‘আক্বাবায়) পাথর মারতে এবং তারপর কুরবানী দিনের পর দুই দিনের পাথর একদিনে মারতে অনুমতি দিয়েছিলেন। (মালিক, তিরমিযী, নাসায়ী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ)[১]