মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১৬
عن يعقوب بن عاصم بن عروة أنه سمع الشريد يقول: أفضت مع رسول اللٰه ﷺ فما مست قدماه الأرض حتٰى اتٰى جمعا. رواه أبو داود
তিনি শারীদ (ইবনু সুওয়াইদ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (‘আরাফাহ্ হতে) রওয়ানা হয়েছি। মুযদালিফায় না পৌঁছা পর্যন্ত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর) পা কোথাও মাটি স্পর্শ করেনি। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১৭
وعن ابن شهاب قال: أخبرنى سالم أن الحجاج بن يوسف عام نزل بابن الزبير سأل عبد اللٰه: كيف نصنع فى الموقف يوم عرفة؟ فقال سالم إن كنت تريد السنة فهجر بالصلاة يوم عرفة فقال عبد اللٰه بن عمر: صدق إنهم كانوا يجمعون بين الظهر والعصر فى السنة فقلت لسالم: أفعل ذٰلك رسول اللٰه ﷺ؟ فقال سالم: وهل يتبعون فى ذٰلك إلا سنته؟ رواه البخارى
তিনি বলেন, আমাকে সালিম (রহঃ) (‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর পুত্র) বলেছেন, যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ‘আব্দুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র-এর বিরুদ্ধে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে মাক্কায় পৌঁছেন, (আমার পিতা) ‘আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আরাফার দিনে ‘আরাফার ময়দানে আমরা হজ্জের কাজ কিভাবে সম্পন্ন করবো? সালিমই (তাৎক্ষণিক) বলেন, আপনি যদি সুন্নাতের অনুসারী হয়ে করতে চান, তাহলে ‘আরাফার দিন সকালে শীঘ্র সালাত আদায় করবেন (যুহর ও ‘আসর এক সাথে তথা যুহরের প্রথম সময়ে)। তখন (আমার পিতা) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে (সালিম) সঠিক বলেছে, কেননা সাহাবীগণ সুন্নাত অনুসারে যুহর ও ‘আসর একত্রে সালাত আদায় করতেন। রাবী ইবনু শিহাব বলেন, আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এটা করেছেন (অর্থাৎ- যুহর ও ‘আসর একত্রে আদায় করেছেন)? তখন সালিম (রহঃ) বললেন, তাঁরা কি রসূলের সুন্নাত ব্যতীত অন্য কিছুর অনুসরণ করতেন? অর্থাৎ- করতেন না। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১৮
عن جابر قال: رأيت النبى ﷺ يرمى علٰى راحلته يوم النحر ويقول: لتأخذوا مناسككم فإنى لا أدرى لعلى لا أحج بعد حجتى هٰذه. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরবানীর দিন নিজ সওয়ারীর উপর থেকে পাথর মারতে দেখেছি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমার নিকট হতে হজ্জের হুকুম-আহকাম শিখে নাও। কারণ এ হজ্জের পর আর আমি হজ্জ করতে পারব কিনা তা জানি না। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১৯
وعنه قال: رأيت رسول اللٰه ﷺ رمى الجمرة بمثل حصى الخذف. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জামারায় খযফ-এর পাথরের মতো পাথর মারতে দেখেছি। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬২০
وعنه قال: رمٰى رسول اللٰه ﷺ الجمرة يوم النحر ضحى وأما بعد ذٰلك فإذا زالت الشمس. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সকাল বেলায় পাথর মেরেছেন, কিন্তু এর পরের দিনগুলোতে সূর্যাস্তের পর মেরেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬২১
وعن عبد اللٰه بن مسعود: أنه انتهٰى إلى الجمرة الكبرٰى فجعل البيت عن يساره ومنى عن يمينه ورمٰى بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة ثم قال: هٰكذا رمى الذى أنزلت عليه سورة البقرة. (متفق عليه)
তিনি জামারাতুল কুবরার (বড় জামারার) নিকট পৌঁছে বায়তুল্লাহকে বামে আর মিনাকে ডানে রেখে এর উপর সাতটি পাথর মারলেন, এতে প্রত্যেকবার ‘আল্লা-হু আকবার’ বলেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, যাঁর ওপর সূরা আল বাক্বারাহ্ নাযিল হয়েছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও এভাবে পাথর মেরেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬২২
وعن جابر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «الاستجمار تو ورمى الجمار تو والسعى بين الصفا والمروة تو والطواف تو وإذا استجمر أحدكم فليستجمر بتو». رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইস্তিঞ্জার ঢেলা নিতে হয় বেজোড়, জামারায় পাথর মারা বেজোড়, সাফা মারওয়ায় সা‘ঈ বেজোড় এবং তাওয়াফ করতে হয় বেজোড়। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি সুগন্ধি ধোঁয়া গ্রহণ করে সেও যেন বেজোড় লাগায়। (মুসলিম)[১]