প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০৪

عن هشام بن عروة عن أبيه قال: سئل أسامة بن زيد: كيف كان رسول اللٰه ﷺ يسير فى حجة الوداع حين دفع؟ قال: كان يسير العنق فإذا وجد فجوة نص. (متفق عليه)

তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার উসামাহ্ ইবনু যায়দকে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে ‘আরাফার ময়দান হতে ফিরে আসার সময় কিভাবে চলেছিলেন? জবাবে তিনি (‘উরওয়াহ্) বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বাভাবিক গতিতে চলতেন এবং যখনই খোলা পথ পেতেন দ্রুতবেগে চলতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০৫

وعن ابن عباس أنه دفع مع النبى ﷺ يوم عرفة فسمع النبى ﷺ وراءه زجرا شديدا وضربا للإبل فأشار بسوطه إليهم وقال: يا أيها الناس عليكم بالسكينة فإن البر ليس بالإيضاع. رواه البخارى

তিনি একবার ‘আরাফার দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘আরাফার ময়দান হতে ফিরে এসেছেন। এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছন হতে জোরে জোরে উট তাড়ানোর হাঁক ও উটকে পিটানোর শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের হাতের চাবুক দিয়ে পেছনে তাদের দিকে ইশারা করে বললেন, হে লোকেরা! তোমরা প্রশান্তির সাথে ধীরে সুস্থে চলো, কারণ উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়াই শুধু নেক কাজ নয়। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০৬

وعنه أن أسامة بن زيد كان ردف النبى ﷺ من عرفة إلى المزدلفة ثم أردف الفضل من المزدلفة إلٰى منى فكلاهما قال: لم يزل النبى ﷺ يلبى حتٰى رمٰى جمرة العقبة. (متفق عليه)

তিনি বলেন, উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) ‘আরাফার ময়দান হতে মুযদালিফা পর্যন্ত ফিরে আসার সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে বসেছিলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুযদালিফা হতে মিনায় আসা পর্যন্ত (আমার বড় ভাই) ফযল ইবনু ‘আব্বাসকেও তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। তাঁরা উভয়ে বলেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামারাতুল ‘আক্বাবায় কংকর মারা পর্যন্ত তালবিয়াহ্ পাঠ করেছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০৭

وعن ابن عمر قال: جمع النبى ﷺ المغرب والعشاء بجمع كل واحدة منهما بإقامة ولم يسبح بينهما ولا علٰى اثر كل واحدة منهما. رواه البخارى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও ‘ইশার সালাত মুযদালিফায় একত্রে আদায় করেছেন। প্রত্যেক সলাতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ইক্বামাত দিয়েছেন এবং এ দুই সলাতের মাঝে কোন নফল সলাত আদায় করেননি এবং পরেও আদায় করাননি। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০৮

وعن عبد اللٰه بن مسعود قال: ما رأيت رسول اللٰه ﷺ صلٰى صلاة إلا لميقاتها إلا صلاتين: صلاة المغرب والعشاء بجمع وصلى الفجر يومئذ قبل ميقاتها. (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কক্ষনো মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করা ছাড়া আর অন্য কোন সালাত একত্রে আদায় করতে দেখিনি। আর সেদিনই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সলাতও (কিছু) সময়ের আগে আদায় করেছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০৯

وعن ابن عباس قال: أنا ممن قدم النبى ﷺ ليلة المزدلفة فى ضعفة أهله. (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পরিবারের যেসব দুর্বল (শিশু ও মহিলা)-দেরকে মুযদালিফার রাতে সময়ের আগেই (মিনায়) পাঠিয়েছিলেন আমিও তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলাম। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১০

وعن الفضل بن عباس وكان رديف النبى ﷺ أنه قال فى عشية عرفة وغداة جمع للناس حين دفعوا: عليكم بالسكينة وهو كاف ناقته حتٰى دخل محسرا وهو من منى قال: عليكم بحصى الخذف الذى يرمٰى به الجمرة. وقال: لم يزل رسول اللٰه ﷺ يلبى حتٰى رمى الجمرة. رواه مسلم

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটের পেছনে বসাছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আরাফার সন্ধ্যায় ও মুযদালিফায় ভোরে লোকেদের উদ্দেশে বলেছেন, তোমরা (অবশ্যই) প্রশান্তির সাথে ধীরে সুস্থে চলবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেও নিজের উষ্ট্রীকে মিনার অন্তর্গত মুহাস্‌সির নামক স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত সংযত রেখেছিলেন। এখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা আঙ্গুল দিয়ে ধরা যায় এমন ছোট পাথর জামারাতে মারার জন্য লও’। ফযল বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামারায় পাথর মারা পর্যন্ত সব সময় তালবিয়াহ্ পড়ছিলেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১১

وعن جابر قال: أفاض النبى ﷺ من جمع وعليه السكينة وأمرهم بالسكينة وأوضع فى وادى محسر وأمرهم أن يرموا بمثل حصى الخذف وقال: «لعلى لا أراكم بعد عامى هٰذا». لم أجد هٰذا الحديث فى الصحيحين إلا فى جامع الترمذى مع تقديم وتأخير

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফা হতে প্রশান্তির সাথে ধীরস্থিরভাবে রওয়ানা হলেন, লোকজনকেও শান্তশিষ্টভাবে রওয়ানা হওয়ার জন্য আদেশ করলেন। তবে মুহাস্‌সির উপত্যকায় পৌঁছার পর উটকে কিছুটা দৌড়ালেন এবং তাদেরকে জামারায় আঙুল দিয়ে নিক্ষেপ করার মতো পাথর মারতে নির্দেশ দিলেন। এমন সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সম্ভবত এ বছরের পর আমি আর তোমাদেরকে দেখতে পাবো না। (গ্রন্থকার লিখেছেন, বুখারী ও মুসলিমে এ হাদীসটি পাইনি, তবে তিরমিযী কিছু আগ-পিছ করে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১২

وعن محمد بن قيس بن مخرمة قال: خطب رسول اللٰه ﷺ فقال: «إن أهل الجاهلية كانوا يدفعون من عرفة حين تكون الشمس كأنها عمائم الرجال فى وجوههم قبل أن تغرب ومن المزدلفة بعد أن تطلع الشمس حين تكون كأنها عمائم الرجال فى وجوههم. وإنا لا ندفع من عرفة حتٰى تغرب الشمس وندفع من المزدلفة قبل أن تطلع الشمس هدينا مخالف لهدى عبدة الأوثان والشرك». رواه البيهقى فى شعب الإيمان وقال فيه: خطبنا وساقه بنحوه

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দানকালে বললেন, জাহিলী যুগের লোকেরা যখন সূর্যাস্তের পূর্বে মানুষের চেহারায় মানুষের পাগড়ীর মতো দেখা যেত তখন ‘আরাফার ময়দান হতে রওয়ানা হতো। আর সূর্যোদয়ের পর মানুষের চেহারায় ওইভাবে মানুষের পাগড়ীর মতো যখন দেখাতো তখন মুযদালিফা হতে রওয়ানা হতো। আর আমরা সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত ‘আরাফার ময়দান হতে রওয়ানা হবো না এবং সূর্যোদয়ের আগে মুযদালিফা হতে রওয়ানা হবো। আমাদের নিয়ম-নীতি মূর্তিপূজক ও শির্কপন্থীদের নিয়ম-নীতির বিপরীত। (বায়হাক্বী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১৩

وعن ابن عباس قال: قدمنا رسول اللٰه ﷺ ليلة المزدلفة أغيلمة بنى عبد المطلب علٰى حمرات فجعل يلطح أفخاذنا ويقول: «أبينى لا ترموا الجمرة حتٰى تطلع الشمس». رواه أبو داود والنسائى وابن ماجه

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফার রাতে আমাদেরকে ‘আবদুল মুত্ত্বালিব বংশীয় বালকদেরকে গাধার উপর চড়িয়ে দিয়ে তাঁর আগেই মিনার দিকে রওয়ানা দিলেন। তখন আমাদের উরু চাপড়িয়ে বললেন, আমার প্রিয় সন্তানেরা! তোমরা সূর্যোদয়ের পূর্বে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করো না। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১৪

وعن عائشة قالت: أرسل النبى ﷺ بأم سلمة ليلة النحر فرمت الجمرة قبل الفجر ثم مضت فأفاضت وكان ذٰلك اليوم اليوم الذى يكون رسول اللٰه ﷺ عندها. رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর (আগের) রাতে উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে (মিনায়) পাঠালেন। তিনি [উম্মু সালামাহ (রাঃ)] ভোর হবার আগেই পাথর মারলেন। তারপর মাক্কায় পৌঁছে তাওয়াফে যিয়ারত (তাওয়াফে ইফাযাহ্) করলেন। আর সেদিনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাঁর ঘরে থাকারই দিন ছিল। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১৫

وعن ابن عباس، قال: يلبى المقيم أو المعتمر حتٰى يستلم الحجر). رواه أبو داود وقال: وروى موقوفا علٰى ابن عباس

তিনি বলেন, মুক্বীম (মাক্কাবাসী) অথবা ‘উমরাহকারী (মক্কার বাইরে থেকে আগন্তুক) হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ না করা পর্যন্ত তালবিয়াহ্ (লাব্বায়কা) পাঠ করতে থাকবে। (আবূ দাঊদ)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية