মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯২
عن محمد بن أبى بكر الثقفى أنه سأل أنس بن مالك وهما غاديان من منى إلٰى عرفة: كيف كنتم تصنعون فى هٰذا اليوم مع رسول اللٰه ﷺ؟ فقال: كان يهل منا المهل فلا ينكر عليه ويكبر المكبر منا فلا ينكر عليه. (متفق عليه)
তিনি একবার আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তখন তারা উভয়ে মিনা হতে সকালে ‘আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলেন। আপনারা এ ‘আরাফার দিনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কি করতেন? তখন তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়াহ্ পাঠ করার পাঠ করতো, এজন্যে তাদের তা হতে নিষেধ করা হতো না এবং যারা তাকবীর ধ্বনি দিতো এতেও নিষেধ করা হতো না। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯৩
وعن جابر أن رسول اللٰه ﷺ قال: «نحرت هٰهنا ومنى كلها منحر فانحروا فى رحالكم. ووقفت ههنا وعرفة كلها موقف. ووقفت هٰهنا وجمع كلها موقف». رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি, মিনা সম্পূর্ণটাই কুরবানীর স্থান। তাই তোমরা তোমাদের বাসায় কুরবানী কর। আমি এ স্থানে (‘আরাফায়) অবস্থান করেছি, আর ‘আরাফাহ্ সম্পূর্ণটাই অবস্থানের স্থান এবং আমি এ জায়গায় অবস্থান করেছি, আর মুযদালিফা সম্পূর্ণটাই অবস্থানের স্থান। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯৪
وعن عائشة قالت: إن رسول اللٰه ﷺ قال: ما من يوم أكثر من أن يعتق اللٰه فيه عبدا من النار من يوم عرفة وإنه ليدنو ثم يباهى بهم الملائكة فيقول: ما أراد هؤلاء. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে ‘আরাফার দিনের চেয়ে জাহান্নাম থেকে বেশি মুক্তি দিয়ে থাকেন। তিনি সেদিন বান্দাদের খুব নিকটবর্তী হন, তাদেরকে নিয়ে মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) কাছে গর্ববোধ করে বলেন, এরা কি চায়? (অর্থাৎ- যা চায় আমি তাদেরকে তাই দেবো)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯৫
عن عمرو بن عبد اللٰه بن صفوان عن خال له يقال له يزيد بن شيبان قال: كنا فى موقف لنا بعرفة يباعده عمرو من موقف الإمام جدا فأتانا ابن مربع الأنصارى فقال: إنى رسول رسول اللٰه ﷺ إليكم يقول لكم: «قفوا علٰى مشاعركم فإنكم علٰى ارث من إرث أبيكم إبراهيم عليه السلام». رواه الترمذى وأبو داود والنسائى وابن ماجه
যাকে ইয়াযীদ ইবনু শায়বান বলা হতো। ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, আমরা ‘আরাফাতে আমাদের (পূর্ব পুরুষদের) নির্দিষ্ট স্থানে ছিলাম। ‘আমর বলেন, এ স্থানটি ছিল ইমামের (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) স্থান হতে অনেক দূরে। ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, এমন সময় আমাদের কাছে ইবনু মিরবা‘ আল আনসারী এসে বললেন, আমি তোমাদের কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে প্রেরিত প্রতিনিধি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে তোমাদের অবস্থানেই (‘ইবাদাতগাহেই) থাকার জন্য বলেছেন। কারণ তোমরা তোমাদের পিতা ইবরাহীমের সুন্নাতের উপরেই রয়েছ। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯৬
وعن جابر أن رسول اللٰه ﷺ قال: كل عرفة موقف وكل منى منحر وكل المزدلفة موقف وكل فجاج مكة طريق ومنحر. رواه أبو داود والدارمى
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আরাফার সম্পূর্ণ স্থানই অবস্থানস্থল এবং মিনার সম্পূর্ণ স্থানই কুরবানীর স্থান, মুযদালিফার সম্পূর্ণটাই অবস্থানস্থল এবং মক্কার সকল পথই রাস্তা ও কুরবানীর স্থান। (আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯৭
وعن خالد بن هوذة قال: رأيت النبى ﷺ يخطب الناس يوم عرفة علٰى بعير قائما فى الركابين. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উটের উপর চড়ে ‘আরাফার দিনে দু’ পাদানীতে পা রেখে সওয়ার অবস্থায় ভাষণ দিতে দেখেছি। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯৮
وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن النبى ﷺ قال: خير الدعاء دعاء يوم عرفة وخير ما قلت أنا والنبيون من قبلى: لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو علٰى كل شىء قدير. رواه الترمذى
তাঁর পিতা শু‘আয়ব হতে, তিনি তাঁর দাদা [‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] হতে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল দু‘আর শ্রেষ্ঠ দু‘আ হলো ‘আরাফার দিনের দু‘আ আর শ্রেষ্ঠ কালিমাহ্ (যিকির) যা আমি পাঠ করেছি ও আমার পূর্ববর্তী নাবীগণ পাঠ করেছেন তা হলো, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শারীক নেই। তাঁরই রাজত্ব। তার জন্যই সকল প্রশংসা। তিনি সকল শক্তির আঁধার।)। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯৯
وروٰى مالك عن طلحة بن عبيد اللٰه إلٰى قوله: لا شريك له
ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ হতে ‘‘লা- শারীকা লাহূ’’ বাক্য পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০০
وعن طلحة بن عبيد اللٰه بن كريز أن رسول اللٰه ﷺ قال: ما رئى الشيطان يوما هو فيه أصغر ولا أدحر ولا أحقر ولا أغيظ منه فى يوم عرفة وما ذاك إلا لما يرٰى من تنزل الرحمة وتجاوز اللٰه عن الذنوب العظام إلا ما رئى يوم بدر». فقيل: ما رئى يوم بدر؟ قال: «فإنه قد رأى جبريل يزع الملائكة. رواه مالك مرسلا وفى شرح السنة بلفظ المصابيح
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তানকে ‘আরাফার দিন ব্যতীত অন্য কোন দিন এত অপমানিত, এত লাঞ্ছিত, এত বেশি ঘৃণিত ও এত বেশী রাগান্বিত হতে দেখা যায় না। কেননা শয়তান এদিন দেখতে থাকে বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমাত নাযিল হচ্ছে, তাদের বড় বড় গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হচ্ছে। তবে এটা বাদরের দিন দেখে গিয়েছিল। কেউ জিজ্ঞেস করলো, বাদরের দিন কি দেখা গিয়েছিল (হে আল্লাহ রসূল!)। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেদিন সে নিশ্চিতভাবে শয়তান দেখেছিল, জিবরীল (আঃ) মালায়িকাকে (ফেরেশতাগণকে) কাতারবন্দী করতে দেখেছিল। (মালিক মুরসাল হিসেবে; ইমাম বাগাবী শারহুস্ সুন্নাহয় তবে শব্দবিন্যাস মাসাবীহ-এর)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০১
وعن جابر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا كان يوم عرفة إن اللٰه ينزل إلى السماء الدنيا فيباهى بهم الملائكة فيقول: انظروا إلٰى عبادى أتونى شعثا غبرا ضاجين من كل فج عميق أشهدكم أنى قد غفرت لهم فيقول الملائكة: يا رب فلان كان يرهق وفلان وفلانة قال: يقول اللٰه عز وجل: قد غفرت لهم». قال رسول اللٰه ﷺ: «فما من يوم أكثر عتيقا من النار من يوم عرفة». رواه فى شرح السنة
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আরাফার দিন আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং হাজীদের ব্যাপারে মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) সম্মুখে গর্ববোধ করেন এবং বলেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা আমার কাছে আসছে এলোমেলো চুলে, ধূলাবালি গায়ে, আহাজারী করতে করতে দূর-দূরান্ত হতে উপস্থিত হয়েছে। আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি তাদেরকে মাফ করে দিলাম। তখন মালায়িকাহ্ বলেন, হে রব! অমুক বান্দাকে তো বড় গুনাহগার বলে অভিহিত করা হয় এবং অমুক পুরুষ ও নারীকেও। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তখন বলেন, আমি তাদেরকেও ক্ষমা করে দিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আরাফার দিনের চেয়ে এত বেশি জাহান্নাম হতে মুক্তি দেবার মতো আর কোন দিন নেই। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[১]