মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬১
عن نافع قال: إن ابن عمر كان لا يقدم مكة إلا بات بذى طوى حتٰى يصبح ويغتسل ويصلى فيدخل مكة نهارا وإذا نفر منها مر بذى طوى وبات بها حتٰى يصبح ويذكر أن النبى ﷺ كان يفعل ذٰلك. (متفق عليه)
তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখনই মাক্কায় আসতেন ‘যী তুওয়া’ নামক স্থানে সকাল না হওয়া পর্যন্ত রাত যাপন করতেন। এরপর তিনি গোসল করতেন এবং (নফল) সালাত আদায় করতেন। তারপর দিনের বেলায় মাক্কায় প্রবেশ করতেন যখন তিনি মক্কা হতে প্রত্যাবর্তন করতেন আর তখন ‘যী তুওয়া’র পথেই ফিরতেন এবং সেখানে রাত কাটাতেন যতক্ষণ না সকাল হতো এবং তিনি আরো বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬২
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: إن النبى ﷺ لما جاء إلٰى مكة دخلها من أعلاها وخرج من أسفلها. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কায় আসতেন, উঁচু দিক হতে প্রবেশ করতেন এবং নিচু দিক দিয়ে বের হতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬৩
وعن عروة بن الزبير قال: قد حج النبى ﷺ فأخبرتنى عائشة أن أول شىء بدأ به حين قدم مكة أنه توضأ ثم طاف بالبيت ثم لم تكن عمرة ثم حج أبو بكر فكان أول شىء بدأ به الطواف بالبيت ثم لم تكن عمرة ثم عمر ثم عثمان مثل ذٰلك. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করলেন, (আমার খালা) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাক্কায় প্রবেশ করে প্রথমে উযূ করলেন। অতঃপর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। তবে তা ‘উমরায় পরিণত করলেন না (অর্থাৎ- ইহরাম খুললেন না)। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) হজ্জ করেছেন, তিনিও প্রথমে যে কাজ করেছেন তা হলো বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। তিনি এ তাওয়াফকে ‘উমরায় পরিণত করেননি। অতঃপর ‘উমার, তারপর ‘উসমান (রাঃ) এই একইভাবে হজ্জ সম্পাদন করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬৪
وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا طاف فى الحج أو العمرة ما يقدم سعٰى ثلاثة أطواف ومشٰى أربعة ثم سجد سجدتين ثم يطوف بين الصفا والمروة. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ বা ‘উমরা করতে এসে প্রথমে যখন তাওয়াফ করতেন তিন পাক জোরে পদক্ষেপ করতেন, আর চার পাক স্বাভাবিকভাবে চলতেন। তারপর (মাকামে ইবরাহীমের কাছে) দু’ রাক্‘আত (তাওয়াফের) সালাত আদায় করতেন এবং সাফা মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬৫
وعنه قال: رمل رسول اللٰه ﷺ من الحجر ثلاثا ومشٰى أربعا وكان يسعٰى ببطن المسيل إذا طاف بين الصفا والمروة. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে আবার হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত তিন পাক রমল (দ্রুতবেগে) তাওয়াফ করেছেন এবং চার পাক স্বাভাবিকভাবে করেছেন। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাফা মারওয়ার মাঝেও সা‘ঈ করতেন তখন বাত্বনিল মাসীলে মাঝখানে (নিচু জায়গায়) দ্রুতবেগে চলতেন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬৬
وعن جابر قال: إن رسول اللٰه ﷺ لما قدم مكة أتى الحجر فاستلمه ثم مشٰى علٰى يمينه فرمل ثلاثا ومشٰى أربعا. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় এলেন, হাজারে আসওয়াদের নিকট গেলেন এবং একে স্পর্শ করলেন। তারপর এর ডানদিকে ঘুরে তিন চক্কর রমল (কা‘বাকে বামে রেখে) করলেন আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬৭
وعن الزبير بن عربى قال: سأل رجل ابن عمر عن استلام الحجر فقال: رأيت رسول اللٰه ﷺ يستلمه ويقبله. رواه البخارى
তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) কে হাজারে আসওয়াদে ‘চুমু দেয়া’ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলো। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) জবাবে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা স্পর্শ করতে ও চুমু দিতে দেখেছি। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬৮
وعن ابن عمر قال: لم أر النبى ﷺ يستلم من البيت إلا الركنين اليمانيين. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বায়তু্ল্লাহর ইয়ামানী দিকের দুই কোণ ছাড়া অন্য কোন কোণকে স্পর্শ করতে দেখিনি। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬৯
وعن ابن عباس قال: طاف النبى ﷺ فى حجة الوداع علٰى بعير يستلم الركن بمحجن. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে উটের উপর থেকে তাওয়াফ করেছেন, মাথা বাঁকা লাঠি দিয়ে হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭০
وعنه أن رسول اللٰه ﷺ طاف بالبيت علٰى بعير كلما أتٰى على الركن أشار إليه بشىء فى يده وكبر. رواه البخارى
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের উপর সওয়ার অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন। হাজারে আসওয়াদের কাছে পৌঁছেই নিজের হাতের কোন জিনিস (লাঠি) দিয়ে ইশারা করতেন এবং (আল্লা-হু আকবার) তাকবীর দিয়েছেন। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭১
وعن أبى الطفيل قال: رأيت رسول اللٰه ﷺ يطوف بالبيت ويستلم الركن بمحجن معه ويقبل المحجن. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার সময় তাঁর হাতের বাঁকা লাঠি দিয়ে হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করতে এবং বাঁকা লাঠিকে চুমু দিতে দেখেছি। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭২
وعن عائشة قالت: خرجنا مع النبى ﷺ لا نذكر إلا الحج فلما كنا بسرف طمثت فدخل النبى ﷺ وأنا أبكى فقال: «لعلك نفست؟» قلت: نعم قال: «فإن ذٰلك شىء كتبه اللٰه علٰى بنات اٰدم فافعلى ما يفعل الحاج غير أن لا تطوفى بالبيت حتٰى تطهرى». (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (হজের উদ্দেশে) রওনা হলাম। তখন আমরা হজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর (‘উমরার) তালবিয়াহ্ পড়তাম না। আমরা ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলে আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেলো। এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন। আমি হজ্জ করতে পারবো না বিধায় কাঁদছিলাম। (কাঁদতে দেখে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মনে হয় তোমার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। আমি বললাম, হ্যাঁ! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা এমন বিষয় যা আল্লাহ তা‘আলা আদাম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তাই হাজীগণ যা করে তুমিও তা করতে থাকো, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তুমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ থেকে বিরত থাকো। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭৩
وعن أبى هريرة قال: بعثنى أبو بكر فى الحجة التى أمره النبى ﷺ عليها قبل حجة الوداع يوم النحر فى رهط أمره أن يؤذن فى الناس: ألا لا يحج بعد العام مشرك ولا يطوفن بالبيت عريان. (متفق عليه)
তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের (এক বছর) আগে যে হজে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-কে হজ্জের আমির বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন, সে হজে আবূ বাকর কুরবানীর দিনে আরো কিছু লোকসহ আমাকে লোকদের মাঝে ঘোষণা দিতে আদেশ করে পাঠালেন- সাবধান! এ বছরের পর আর কোন মুশরিক বায়তুল্লাহর হজ্জ করতে পারবে না এবং কেউ কক্ষনো উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭৪
عن المهاجر المكى قال: سئل جابر عن الرجل يرى البيت يرفع يديه فقال قد حججنا مع النبى ﷺ فلم نكن نفعله. رواه الترمذى وأبو داود
তিনি বলেন, একবার জাবির -কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহকে দেখে (দু‘আ পাঠের সময়) নিজের দুই হাত উঠাবে। জবাবে জাবির (রাঃ) বললেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ্জ করেছি, কিন্তু কক্ষনো আমরা এরূপ করিনি। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭৫
وعن أبى هريرة قال: أقبل رسول اللٰه ﷺ فدخل مكة فأقبل إلى الحجر فاستلمه ثم طاف بالبيت ثم أتى الصفا فعلاه حتٰى ينظر إلى البيت فرفع يديه فجعل يذكر اللٰه ما شاء ويدعو. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ্ হতে (হজ্জ/হজ ও ‘উমরা পালনের জন্য) মাক্কায় প্রবেশ করে হাজারে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হলেন, একে চুমু খেলেন। তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন, এরপর সাফা পাহাড়ের দিকে এলেন এবং এর উপর উঠলেন যাতে বায়তুল্লাহ দেখতে পান। তারপর দু’ হাত উঠালেন এবং উদারমনে আল্লাহর যিকির ও দু‘আ করতে লাগলেন। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭৬
وعن ابن عباس أن النبى ﷺ قال: «الطواف حول البيت مثل الصلاة إلا أنكم تتكلمون فيه فمن تكلم فيه فلا يتكلمن إلا بخير». رواه الترمذى والنسائى والدارمى وذكر الترمذى جماعة وقفوه على ابن عباس
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বায়তুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফ করা সলাতেরই মতো, তবে এতে তোমরা কথা বলতে পারো। তাই তাওয়াফের সময় ভালো কথা ব্যতীত আর কিছু বলবে না। (তিরমিযী, নাসায়ী ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭৭
وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «نزل الحجر الأسود من الجنة وهو أشد بياضا من اللبن فسودته خطايا بنى اٰدم». رواه أحمد والترمذى وقال: هٰذا حديث حسن صحيح
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাজারে আসাওয়াদ যখন জান্নাত হতে নাযিল হয়, তখন তা দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল। অতঃপর আদাম সন্তানের গুনাহ একে কালো করে দেয়। [আহমাদ ও তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।][১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭৮
وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ فى الحجر: واللٰه ليبعثنه اللٰه يوم القيامة له عينان يبصر بهما ولسان ينطق به يشهد علٰى من استلمه بحق. رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কসম! ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ এটিকে উঠাবেন, তখন এর দু’টি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখতে পাবে। তার একটি জিহবা থাকবে ও এই জিহবা দিয়ে সে কথা বলবে এবং যে তাকে ঈমানের সাথে চুমু দিয়েছে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে । (তিরমিযী, ইনু মাজাহ ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭৯
وعن ابن عمر قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «إن الركن والمقام ياقوتتان من ياقوت الجنة طمس اللٰه نورهما ولو لم يطمس نورهما لأضاءا ما بين المشرق والمغرب». رواه الترمذى
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হাজারে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহীম জান্নাতের ইয়াকূতসমূহের মধ্যে দু’টি ইয়াকূত। আল্লাহ এদের নূর (আলো) দূর করে দিয়েছেন। যদিও এ দু’টির নূর (আলো) আল্লাহ তা‘আলা দূর করে না দিতেন। তবে এরা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মধ্যে যা আছে তাকে আলোকময় করে দিতো। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৮০
وعن عبيد بن عمير: أن ابن عمر كان يزاحم على الركنين زحاما ما رأيت أحدا من أصحاب رسول اللٰه ﷺ يزاحم عليه قال: إن أفعل فإنى سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: إن مسحهما كفارة للخطايا وسمعته يقول: من طاف بهٰذا البيت أسبوعا فأحصاه كان كعتق رقبة. وسمعته يقول: لا يضع قدما ولا يرفع أخرٰى إلا حط اللٰه عنه بها خطيئة وكتب له بها حسنة. رواه الترمذى
তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) দু’ রুকনের (হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর) কাছে যেভাবে ভীড় করতেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের আর কাউকে এমনভাবে (প্রতিযোগিতামূলকভাবে) ভীড় করতে দেখিনি। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি যদি এরূপ করি (তাতে দোষের কোন বিষয় নয়), কেননা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই এদের স্পর্শ করা গুনাহের কাফফারাহ্। আমি তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) আরো বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করবে ও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করবে, তবে তা তার জন্য গোলাম মুক্ত করে দেবার সমতুল্য হবে। এটা ছাড়াও তাঁকে (ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে) বলতে শুনেছি, কোন লোক এতে এক পা ফেলে অপর পা উঠানোর আগেই বরং আল্লাহ তা‘আলা তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন ও তার জন্যে একটি সাওয়াব নির্ধারণ করেন। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৮১
وعن عبد الله بن السائب قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول ما بين الركنين: ﴿ربنا اٰتنا فى الدنيا حسنة وفى الاٰخرة حسنة وقنا عذاب النار﴾. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু’ রুকনের (হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী) মধ্যবর্তী স্থানে এ দু‘আ পড়তে শুনেছি- ‘‘রব্বানা- আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতাওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াক্বিনা- ‘আযা-বান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর।)। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৮২
وعن صفية بنت شيبة قالت: أخبرتنى بنت أبى تجراة قالت: دخلت مع نسوة من قريش دار اٰل أبى حسين ننظر إلٰى رسول اللٰه ﷺ وهو يسعٰى بين الصفا والمروة فرأيته يسعٰى وإن مئزره ليدور من شدة السعى وسمعته يقول: اسعوا فإن اللٰه كتب عليكم السعى. رواه فى شرح السنة ورواه أحمد مع اختلاف
তিনি বলেন, আবূ তুজরাহ্-এর মেয়ে আমাকে বলেছেন, আমি কুরায়শ গোত্রের কিছু মহিলার সাথে আবূ হুসায়ন পরিবারের একটি ঘরে প্রবেশ করলাম যাতে আমরা সাফা মারওয়ার সা‘ঈর সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পাই। তখন আমি তাঁকে সা‘ঈ করতে দেখলাম, জোরে জোরে পা ফেলার কারণে তাঁর চাঁদর এদিকে-সেদিকে দুলছিল। আর তখন আমি তাঁকে এ কথাও বলতে শুনেছি, ‘‘তোমরা সা‘ঈ করো’’। কেননা সা‘ঈ করা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিপিবদ্ধ (নির্ধারণ) করেছেন। (বাগাবীর শারহুস্ সুন্নাহ এবং আহমাদ কিছু ভিন্নতার সাথে)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৮৩
وعن قدامة بن عبد اللٰه بن عمار قال: رأيت رسول اللٰه ﷺ يسعٰى بين الصفا والمروة علٰى بعير لا ضرب ولا طرد ولا إليك. رواه فى شرح السنة
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উটের পিঠে চড়ে সাফা মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করতে দেখেছি। কিন্তু কাউকেও মারতে বা হাঁকাতে দেখিনি এবং এমনকি আশেপাশে ‘সরো’ ‘সরো’ বলতেও শুনিনি। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৮৪
وعن يعلى بن أمية قال: إن رسول اللٰه ﷺ طاف بالبيت مضطبعا ببرد أخضر. رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه والدارمى
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সবুজ চাদর ইযত্বিবা হিসেবে গায়ে দিয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৮৫
وعن ابن عباس أن رسول اللٰه ﷺ وأصحابه اعتمروا من الجعرانة فرملوا بالبيت ثلاثا وجعلوا أرديتهم تحت اٰباطهم ثم قذفوها علٰى عواتقهم اليسرٰى. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ জি‘রানাহ্ হতে ‘উমরা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বায়তুল্লাহর তাওয়াফে তিনবার জোরে জোরে চলেছেন এবং তাঁদের চাদরসমূহ ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের উপর রেখেছেন। (আবূ দাঊদ)[১]