মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪০
عن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كنت أطيب رسول اللٰه ﷺ لإحرامه قبل أن يحرم ولحله قبل أن يطوف بالبيت بطيب فيه مسك كأنى أنظر إلٰى وبيص الطيب فى مفارق رسول اللٰه ﷺ وهو محرم. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইহরামের জন্য ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং ইহরাম খোলার জন্যে (দশ তারিখে) বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করার পূর্বে সুগন্ধি লাগাতাম, এমন সুগন্ধি যাতে মিস্ক থাকতো। আমি যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিঁথিতে এখনো সুগন্ধি দ্রব্যের উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪১
وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يهل ملبدا يقول: «لبيك اللٰهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك». لا يزيد علٰى هؤلاء الكلمات. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাথার চুল জড়ানো অবস্থায় তালবিয়াহ্ বলতে শুনেছি, ‘‘লাব্বায়ক আল্লা-হুম্মা লাব্বায়ক, লাব্বায়কা লা- শারীকা লাক লাব্বায়ক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্ নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা- শারীকা লাকা’’ অর্থাৎ- ‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি! আমি তোমার খিদমাতে উপস্থিত হয়েছি। তোমার কোন শারীক নেই। আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। সব প্রশংসা, অনুগ্রহের দান তোমারই এবং সমগ্র রাজত্বও তোমারই, তোমার কোন শারীক নেই।’’ এ কয়টি কথার বেশি কিছু তিনি বলেননি। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪২
وعنه قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا أدخل رجله فى الغرز واستوت به ناقته قائمة أهل من عند مسجد ذى الحليفة. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিদায় হজ্জের সময়) যখন যুলহুলায়ফাহ্ মাসজিদের নিকট নিজের পা রিকাবে রাখার পর উটনী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তালবিয়াহ্ পাঠ করেছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪৩
وعن أبى سعيد الخدرى قال: خرجنا مع رسول اللٰه ﷺ نصرخ بالحج صراخا. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (হজের উদ্দেশে) বের হলাম এবং উচ্চস্বরে তালবিয়াহ্ বলতে থাকলাম। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪৪
وعن أنس ؓ قال: كنت رديف أبى طلحة وإنهم ليصرخون بهما جميعا: الحج والعمرة. رواه البخارى
তিনি বলেন, আমি একই সওয়ারীতে আবূ ত্বলহাহর সাথে পিছনে বসেছিলাম, তখন সাহাবীগণ সম্মিলিতভাবে হজ্জ ও ‘উমরার জন্যে উচ্চস্বরে তালবিয়াহ্ পাঠ করছিলেন। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪৫
وعن عائشة قالت: خرجنا مع رسول اللٰه ﷺ عام حجة الوداع فمنا من أهل بعمرة ومنا من أهل بحج وعمرة ومنا من أهل بالحج وأهل رسول اللٰه ﷺ بالحج فأما من أهل بعمرة فحل وأما من أهل بالحج أو جمع الحج والعمرة فلم يحلوا حتٰى كان يوم النحر. (متفق عليه)
তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের বছর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (হজের উদ্দেশে) রওয়ানা হলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু ‘উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন, আবার কেউ কেউ হজ্জ ও ‘উমরা উভয়ের জন্যে ইহরাম বেঁধেছিলেন, আবার কেউ কেউ শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। অতঃপর যারা শুধু ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা (তাওয়াফ ও সা‘ঈর পর) হালাল হয়ে গেলেন (অর্থাৎ- ইহরাম খুলে ফেললেন)। আর যারা শুধু হজ্জ অথবা হজ্জ ও ‘উমরা উভয়ের জন্য ‘ইহরাম’ বেঁধেছিলেন তারা কুরবানীর দিন আসা পর্যন্ত হালাল হননি। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪৬
وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما قال: تمتع رسول اللٰه ﷺ فى حجة الوداع بالعمرة إلى الحج بدأ فأهل بالعمرة ثم أهل بالحج. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের সাথে ‘উমরারও উপকারিতা লাভ করেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবে শুরু করেছিলেন যে, প্রথমে ‘উমরার তালবিয়াহ্ পাঠ করেছিলেন, এরপর হজ্জের তালবিয়াহ্। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪৭
عن زيد بن ثابت أنه رأى النبى ﷺ تجرد لإهلاله واغتسل. رواه الترمذى والدارمى
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইহরাম বাঁধার উদ্দেশে কাপড় খুলতে ও গোসল করতে দেখেছেন। (তিরমিযী ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪৮
وعن ابن عمر أن النبى ﷺ لبد رأسه بالغسل. رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঠালো বস্তু দিয়ে মাথার চুল জড়ো করেছিলেন। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪৯
وعن خلاد بن السائب عن أبيه قال: قال رسول اللٰه ﷺ «أتانى جبريل فأمرنى أن اٰمر أصحابى أن يرفعوا أصواتهم بالإهلال أو التلبية». رواه مالك والترمذى وأبو داود والنسائى وابن ماجه والدارمى
তার পিতা (সায়িব) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন আমার সাহাবীগণকে উচ্চস্বরে তালবিয়াহ্ পাঠ করতে আদেশ করি। (মালিক, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৫০
وعن سهل بن سعد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من مسلم يلبى إلا لبٰى من عن يمينه وشماله: من حجر أو شجر أو مدر حتٰى تنقطع الأرض من هٰهنا وهٰهنا». رواه الترمذى وابن ماجه
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম যখন তালবিয়াহ্ পাঠ করে, তখন তার সাথে সাথে তার ডান বামে যা কিছু আছে- পাথর, গাছ-গাছড়া কিংবা মাটির ঢেলা তালবিয়াহ্ পাঠ করে থাকে। এমনকি এখান থেকে এদিক ও ওদিকে (পূর্ব ও পশ্চিমের) ভূখগুের শেষ সীমা পর্যন্ত। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৫১
وعن ابن عمر قال: كان رسول اللٰه ﷺ يركع بذى الحليفة ركعتين ثم إذا استوت به الناقة قائمة عند مسجد ذى الحليفة أهل بهؤلاء الكلمات ويقول: «لبيك اللٰهم لبيك لبيك وسعديك والخير فى يديك لبيك والرغباء إليك والعمل». متفق عليه ولفظه لمسلم
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলায়ফায় ইহরাম বাঁধার সময় দুই রাক্‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর যুলহুলায়ফার মাসজিদের কাছে তাঁর উষ্ট্রী তাঁকে নিয়ে দাঁড়ালে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সব শব্দের দ্বারা তালবিয়াহ্ পাঠ করলেন, ‘‘লাব্বায়কা আল্লা-হুম্মা লাব্বায়কা লাব্বায়কা ওয়া সা‘দায়কা, ওয়াল খয়রু ফী ইয়াদায়কা লাব্বায়কা, ওয়ার্ রগবা-উ ইলায়কা ওয়াল ‘আমালু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে উপস্থিত, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। আমি উপস্থিত আছি ও তোমার দরবারের সৌভাগ্য লাভ করেছি, সব কল্যাণ তোমার হাতে নিহীত। আমি উপস্থিত, সকল কামনা-বাসনা তোমারই হাতে, সকল ‘আমাল তোমারই জন্যে।)। (বুখারী ও মুসলিম; তবে শব্দগুলো মুসলিমের)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৫২
وعن عمارة بن خزيمة بن ثابت عن أبيه عن النبى ﷺ أنه كان إذا فرغ من تلبيته سأل اللٰه رضوانه والجنة واستعفاه برحمته من النار. رواه الشافعى
তিনি তার পিতা হতে এবং তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তালবিয়াহ্ শেষ করলেন, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর সন্তুষ্টি ও জান্নাত কামনা করলেন এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রহমাতের দ্বারা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাইলেন। (শাফি‘ঈ)[১]