দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮৮

عن ابن عباس قال: كان النبى ﷺ يدعو يقول: «رب أعنى ولا تعن على وانصرنى ولا تنصر على وامكر لى ولا تمكر على واهدنى ويسر الهدٰى لى وانصرنى علٰى من بغٰى على رب اجعلنى لك شاكرا لك ذاكرا لك راهبا لك مطواعا لك مخبتا إليك أواها منيبا رب تقبل توبتى واغسل حوبتى وأجب دعوتى وثبت حجتى وسدد لسانى واهد قلبى واسلل سخيمة صدرى». رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করতেন, ‘‘রব্বি আ‘ইন্নী ওয়ালা- তু‘ইন্ ‘আলাইয়্যা ওয়ানসুরনী ওয়ালা- তানসুর ‘আলাইয়্যা ওয়াম্‌কুরলী ওয়ালা- তাম্‌কুর ‘আলাইয়্যা ওয়াহদিনী ওয়া ইয়াস্‌সিরিল হুদা- লী ওয়ানসুরনী ‘আলা- মান্ বাগা- ‘আলাইয়্যা রব্বিজ্‘আলনী লাকা শা-কিরান লাকা যা-কিরান লাকা র-হিবান লাকা মিত্বওয়া-‘আন লাকা মুখবিতান ইলায়কা আও্ওয়া-হান মুনীবান রব্বি তাকব্বাল তাওবাতী ওয়াগসিল হাওবাতী ওয়াআজিব্ দা‘ওয়াতী ওয়া সাব্বিত্ হুজ্জাতী ওয়া সাদ্দিদ্ লিসা-নী ওয়াহদি কলবী ওয়াসলুল সাখীমাতা সদরী’’ (অর্থাৎ- হে রব! আমাকে সাহায্য করো, আমার বিপক্ষে সাহায্য করো না। আমাকে সহযোগিতা করো আমার বিরুদ্ধে সহযোগিতা করো না। আমার পক্ষে উপায়-উপকরণ উদ্ভাবন করো, আমার বিরুদ্ধে উপায়-উপকরণ উদ্ভাবন করো না। আমাকে পথ দেখাও, আমার জন্য পথ সহজ করে দাও। যে আমার ওপর জবরদস্তি করে, তার ওপর আমাকে বিজয়ী করো। হে রব! আমাকে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ বানাও। আমাকে তোমার জিকিরকারী করো, তোমার ভয়ে আমাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করো। তোমার প্রতি অনুগত করো, তোমারই প্রতি বিনম্র করো। [অনুতপ্তের জন্য] তোমার কাছে মনের দুঃখ জানাতে শিখাও, তোমার প্রতি আমাকে ঝুকাও। হে রব! তুমি আমার তাওবাহ্ কবূল করো, আমার গুনাহ ধুয়ে দাও। আমার ডাকে সাড়া দাও, আমার ঈমান দৃঢ় করো, আমার মুখ ঠিক রাখো, আমার অন্তরকে হিদায়াত দান করো এবং আমার অন্তরের কলুষতা দূরীভূত করো।)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮৯

وعن أبى بكر قال: قام رسول اللٰه ﷺ على المنبر ثم بكٰى فقال: «سلوا اللٰه العفو والعافية فإن أحدا لم يعط بعد اليقين خيرا من العافية». رواه الترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب إسنادا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললেন, অতঃপর বললেনঃ তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং শান্তি চাও। কেননা ঈমান আনার পর কাউকেও শান্তির চেয়ে উত্তম আর কিছু দেয়া হয় না। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান তবে সানাদ হিসেবে গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯০

] وعن أنس أن رجلا جاء إلى النبى ﷺ فقال: يا رسول اللٰه أي الدعاء أفضل؟ قال: «سل ربك العافية والمعافاة فى الدنيا والاٰخرة» ثم أتاه فى اليوم الثانى فقال: يا رسول اللٰه أى الدعاء أفضل؟ فقال له مثل ذٰلك ثم أتاه فى اليوم الثالث فقال له مثل ذٰلك قال: «فإذا أعطيت العافية والمعافاة فى الدنيا والاٰخرة فقد أفلحت». رواه الترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب إسنادا

তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ দু‘আ সর্বোত্তম? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার রবের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করো। অতঃপর সেই ব্যক্তি আবার দ্বিতীয় দিন এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ দু‘আ সর্বোত্তম? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আগের মতো বললেন। আবার সেই ব্যক্তি তৃতীয় দিন আসলো (একই প্রশ্ন করলে), তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগের মতই উত্তর দিলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দুনিয়া ও আখিরাতে যখন শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করলে, তখন মুক্তি লাভ করলে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান তবে সানাদের দিক দিয়ে তা গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯১

وعن عبد الله بن يزيد الخطمى عن رسول اللٰه ﷺ أنه كان يقول فى دعائه: «اللٰهم ارزقنى حبك وحب من ينفعنى حبه عندك اللٰهم ما رزقتنى مما أحب فاجعله قوة لى فيما تحب اللٰهم ما زويت عنى مما أحب فاجعله فراغا لى فيما تحب». رواه الترمذى

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু‘আ করার সময় বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মার্ যুকনী হুব্বাকা ওয়াহুব্বা মান্ ইয়ানফা‘উনী হুব্বুহূ ‘ইন্‌দাকা, আল্ল-হুম্মা মা- রযাকতানী মিম্মা- উহিব্বু ফাজ্‘আলহু ক্যুওয়াতান লী ফীমা- তুহিব্বু, আল্ল-হুম্মা মা যাওয়াইতা ‘আন্নী মিম্মা- উহিব্বু ফাজ্‘আলহু ফারা-গান লী ফীমা- তুহিব্বু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার ভালোবাসা এবং যার ভালোবাসা তোমার কাছে আমার জন্য কল্যাণকর হবে মনে করো তার ভালোবাসা আমাকে দান করো। হে আল্লাহ! আমি ভালোবাসি এমন যা তুমি আমাকে দিয়েছো, একে তুমি আমার অনুকূল করে দাও যা তুমি তার জন্য ভালোবাসো। হে আল্লাহ! আমি যা ভালোবাসি তার যতখানি তুমি আমার কাছ হতে দূরে রেখেছো, তাকে তুমি যা আমার পক্ষে ভালোবাসো তা করার জন্য সুযোগ-সুবিধা দান করো।)। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯২

وعن ابن عمر قال: قلما كان رسول اللٰه ﷺ يقوم من مجلس حتٰى يدعو بهؤلاء الدعوات لأصحابه: «اللٰهم اقسم لنا من خشيتك ما تحول به بيننا وبين معاصيك ومن طاعتك ما تبلغنا به جنتك ومن اليقين ما تهون به علينا مصيبات الدنيا ومتعنا بأسماعنا وأبصارنا وقوتنا ما أحييتنا واجعله الوارث منا واجعل ثأرنا علٰى من ظلمنا وانصرنا علٰى من عادانا ولا تجعل مصيبتنا فى ديننا ولا تجعل الدنيا أكبر همنا ولا مبلغ علمنا ولا تسلط علينا من لا يرحمنا». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মাজলিস (বৈঠক) হতে খুব কমই উঠতেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাহাবীগণের জন্য এ দু‘আ না করতেন- ‘‘আল্ল-হুম্মাকসিম লানা- মিন্ খশ্ইয়াতিকা মা- তাহূলু বিহী বায়নানা- ওয়া বায়না মা‘আ-সীকা ওয়ামিন্ ত্ব-‘আতিকা মা- তুবাল্লিগুনা- বিহী জান্নাতাকা ওয়ামিনাল ইয়াক্বীনি মা- তুহাওবিনু বিহী ‘আলায়না- মুসীবা-তিদ্ দুন্ইয়া- ওয়া মাত্তি‘না- বিআসমা-‘ইনা- ওয়া আবস-রিনা- ওয়া ক্যুওয়াতিনা- মা- আহ্ইয়াইতানা- ওয়াজ্‘আলহুল ওয়া-রিসা মিন্না- ওয়াজ্‘আল সা’রানা- ‘আলা- মান্ যলামনা- ওয়ানসুরনা- ‘আলা- মান ‘আ-দা-না ওয়ালা- তাজ্‘আল মুসীবাতানা- ফী দীনিনা- ওয়ালা- তাজ্‘আলিদ্ দুন্ইয়া- আকবারা হাম্মিনা- ওয়ালা- মাব্‌লাগা ‘ইলমিনা- ওয়ালা- তুসাল্লিত্ব ‘আলায়না- মান্ লা- ইয়ার্‌হামুনা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদের মধ্যে ঐ পরিমাণ তোমার ভীতি-সঞ্চার করো যা দিয়ে তুমি আমাদের মাঝে ও তোমার নাফরমানীর মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। তোমার ‘ইবাদাত-আনুগত্যের ঐ পরিমাণ আমাদেরকে দান করো, যা দিয়ে তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং তোমার ওপর ঈমানের ঐ পরিমাণ দান করো যা দিয়ে তুমি দুনিয়ার বিপদাপদ সহজ করে দেবে। হে আল্লাহ! আমাদের উপকার সাধন করো আমাদের কানের মাধ্যমে, আমাদের চোখের মাধ্যমে ও আমাদের শক্তির মাধ্যমে, যতক্ষণ না তুমি আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের উত্তরাধিকারী জারী রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিশোধ-প্রতিরোধকে সীমাবদ্ধ রাখো তাদের ওপর, যারা আমাদের ওপর যুলম [অত্যাচার-অবিচার] করেছে এবং আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করো তাদের বিরুদ্ধে, যারা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে। হে আল্লাহ! আমাদের দ্বীন সম্পর্কে আমাদেরকে কোন বিপদে ফেলো না এবং দুনিয়াকে আমাদের মৌলিক চিন্তার বিষয় ও জ্ঞানের পরিসীমা করো না। হে আল্লাহ! যারা আমাদের ওপর দয়া প্রদর্শন করবে না, তাদেরকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিও না।)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯৩

وعن أبى هريرة قال: كان رسول اللٰه ﷺ يقول: «اللٰهم انفعنى بما علمتنى وعلمنى ما ينفعنى وزدنى علما الحمد للٰه علٰى كل حال وأعوذ باللٰه من حال أهل النار». رواه الترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب إسنادا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু‘আ) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মান্ ফা‘নী বিমা- ‘আল্লামতানী ওয়া ‘আল্লিমনী মা- ইয়ানফা‘উনী ওয়া যিদ্‌নী ‘ইলমা-, আলহামদু লিল্লা-হি ‘আলা- কুল্লি হা-লিন্ ওয়া আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিন হা-লি আহলিন্‌না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছো তা আমাদের উপকারে লাগাও এবং আমাদের উপকারে আসে এমন শিক্ষা দান করো, আর আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করো। প্রত্যেক অবস্থায়ই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি জাহান্নামীদের অবস্থা হতে এবং আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।)। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটির সানাদ গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯৪

وعن عمر بن الخطاب قال: كان النبى ﷺ إذا أنزل عليه الوحى سمع عند وجهه دوى كدوى النحل فأنزل عليه يوما فمكثنا ساعة فسرى عنه فاستقبل القبلة ورفع يديه وقال: «اللٰهم زدنا ولا تنقصنا وأكرمنا ولا تهنا وأعطنا ولا تحرمنا واٰثرنا ولا تؤثر علينا وأرضنا وارض عنا». ثم قال: «أنزل على عشر اٰيات من أقامهن دخل الجنة» ثم قرأ: ﴿(قد أفلح المؤمنون﴾ حتٰى ختم عشر اٰيات. رواه أحمد والترمذى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হতো তাঁর মুখে মৌমাছির গুন্ গুন্ শব্দের মতো আওয়াজ শোনা যেতে। এভাবে একদিন তাঁর ওপর ওহী নাযিল করা হলো। আমরা কিছু সময় তাঁর কাছে অপেক্ষা করলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বাভাবিক হয়ে কিবলার দিকে ফিরলেন এবং হাত উঠিয়ে বললেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা যিদনা- ওয়ালা- তানক্বুসনা- ওয়া আকরিমনা- ওয়ালা- তুহিন্না- ওয়া আ‘ত্বিনা- ওয়ালা- তাহ্‌রিম্‌না- ওয়া আ-সির্‌না- ওয়ালা- তু’সির ‘আলায়না- ওয়া আর্‌যিনা- ওয়ার্‌যা ‘আন্না-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের জন্য [তোমার দান] বাড়িয়ে দাও, কম করো না। আমাদেরকে সম্মানিত করো, অপমানিত করো না। আমাদেরকে দান করো, বঞ্চিত করো না। আমাদেরকে ক্ষমতা দাও, কাউকেও আমাদের বিপক্ষে ক্ষমতা দিও না। তুমি আমাদেরকে খুশী করো, আমাদের প্রতিও তুমি খুশী থাকো।)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখন আমার ওপর দশটি আয়াত নাযিল হলো, যে ব্যক্তি এ আয়াত বাস্তবায়ন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিলাওয়াত করতে লাগলেন, (সূরা মু’মিনূন-এর শুরু হতে) ‘‘কদ্ আফলাহাল মু’মিনূন’’ (অর্থাৎ- মু’মিনগণ কৃতকার্য হয়েছে)- এভাবে দশটি আয়াত (তিলাওয়াত) শেষ করলেন। (আহমাদ ও তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯৫

عن عثمان بن حنيف قال: إن رجلا ضرير البصر أتى النبى ﷺ فقال: ادع اللٰه أن يعافينى فقال: «إن شئت دعوت وإن شئت صبرت فهو خير لك». قال: فادعه قال: فأمره أن يتوضأ فيحسن الوضوء ويدعو بهٰذا الدعاء: «اللٰهم إنى أسألك وأتوجه إليك بنبيك محمد نبى الرحمة إنى توجهت بك إلٰى ربى ليقضى لى فى حاجتى هٰذه اللٰهم فشفعه فى». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن صحيح غريب

তিনি বলেন, জনৈক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকে আরোগ্য (দৃষ্টিশক্তি) দান করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি চাইলে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করবো। কিন্তু তুমি যদি চাও ধৈর্যধারণ করতে পারো, আর এটাই তোমার জন্য উত্তম হবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য দু‘আ করুন। বর্ণনাকারী [‘উসমান (রাঃ)] বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকটিকে উত্তমরূপে উযূ করতে ও এ দু‘আ পড়তে বললেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ওয়া আতাওয়াজ্জাহূ ইলায়কা বিনাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যির্ রহমাতি ইন্নী তাওয়াজ্জাহতু বিকা ইলা- রব্বী লিইয়াকযিয়া লী ফী হা-জাতী হা-যিহী আল্ল-হুম্মা ফাশাফ্‌ফি‘হু ফিয়্যা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার নাবী মুহাম্মাদ, যিনি রহমতের নাবী। তাঁর ওয়াসীলায় আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ও তোমার দিকে ফিরছি। হে নাবী! আমি আপনার ওয়াসীলায় আমার রবের দিকে ফিরছি, তিনি যেন আমার এ প্রয়োজন পূরণ করেন। হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্যে তাঁর সুপারিশ কবূল করো।)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯৬

وعن أبى الدرداء قال: قال رسول اللٰه ﷺ كان من دعاء داود يقول: «اللٰهم إنى أسألك حبك وحب من يحبك والعمل الذى يبلغنى حبك اللٰهم اجعل حبك أحب إلى من نفسى ومالى وأهلى ومن الماء البارد». قال: وكان رسول اللٰه ﷺ إذا ذكر داود يحدث عنه يقول: «كان أعبد البشر» رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাঊদ (আঃ)-এর দু‘আ ছিল এটা, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা হুব্বাকা ওয়াহুব্বা মান্ ইউহিব্বুকা ওয়াল ‘আমালাল্লাযী ইউবাল্লিগুনী হুব্বাকা, আল্ল-হুম্মাজ্‘আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন্ নাফসী ওয়ামা- লী ওয়া আহলী ওয়ামিনাল মা-য়িল বা-রিদ’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ভালোবাসা প্রত্যাশা করি, আর যে তোমাকে ভালোবাসে, তার ভালোবাসা চাই এবং আমি ঐ কাজের শক্তি চাই, যে শক্তি আমাকে তোমার ভালোবাসার দিকে নিয়ে যাবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার কাছে আমার জীবন, আমার ধন-সম্পদ, আমার পরিবার-পরিজন ও ঠাণ্ডা পানির চেয়েও বেশি পছন্দনীয় করে তোলো।) বর্ণনাকারী [আবূ দারদা (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঊদ (আঃ)-কে স্মরণ করতেন, তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, দাঊদ (আঃ) তাঁর যুগের সর্বাধিক ‘ইবাদাতগুজার ছিলেন। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯৭

وعن عطاء بن السائب عن أبيه قال: صلٰى بنا عمار بن ياسر صلاة فأوجز فيها فقال له بعض القوم: لقد خففت وأوجزت الصلاة فقال أما على ذٰلك لقد دعوت فيها بدعوات سمعتهن من رسول اللٰه ﷺ فلما قام تبعه رجل من القوم هو أبى غير أنه كنٰى عن نفسه فسأله عن الدعاء ثم جاء فأخبر به القوم: «اللٰهم بعلمك الغيب وقدرتك على الخلق أحينى ما علمت الحياة خيرا لى وتوفنى إذا علمت الوفاة خيرا لى اللٰهم وأسألك خشيتك فى الغيب والشهادة وأسألك كلمة الحق فى الرضٰى والغضب وأسألك القصد فى الفقر والغنٰى وأسألك نعيما لا ينفد وأسألك قرة عين لا تنقطع وأسألك الرضٰى بعد القضاء وأسألك برد العيش بعد الموت وأسألك لذة النظر إلٰى وجهك والشوق إلٰى لقائك فى غير ضراء مضرة ولا فتنة مضلة اللٰهم زينا بزينة الإيمان واجعلنا هداة مهديين». رواه النسائى

তার পিতা সায়িব হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন সাহাবী ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির আমাদেরকে এক সলাত আদায় করালেন। এতে তিনি (সূরা-কিরাআত) সংক্ষেপ করলেন। তখন সলাত আদায়কারীদের মধ্যে একজন বলে উঠলো, আপনি এত তাড়াতাড়ি সলাত আদায় করালেন ও সংক্ষেপ করলেন। তিনি বললেন, এতে আমার অসুবিধা হবে না। কেননা এতে আমি যেসব দু‘আ পড়েছি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শুনেছি। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি তার অনুকরণ করলো। ‘আত্বা বলেন, তিনি হলেন আমারই পিতা সায়িব, তবে তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করে ইশারায় বললেন। তিনি ‘আম্মারকে দু‘আটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন এবং পরে এসে লোকদেরকে তা জানালেন। দু‘আটি হলো, ‘‘আল্ল-হুম্মা বি‘ইলমিকাল গয়বা ওয়া ক্বুদরতিকা ‘আলাল খলকি আহয়িনী মা- ‘আলিমতাল হায়া-তা খয়রল লী, আল্ল-হুম্মা ওয়া আস্আলুকা খশ্ইয়াতাকা ফিল গয়বি ওয়াশ্ শাহা-দাতি ওয়া আস্আলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফিররিযা- ওয়াল গযাবি ওয়া আস্আলুকাল কসদা ফিল ফাকরি ওয়াল গিনা- ওয়া আস্আলুকা না‘ঈমাল লা- ইয়ানফাদু ওয়া আস্আলুকা ক্বুররতা ‘আয়নিল লা- তানক্বত্বি‘উ ওয়া আস্আলুকার্ রিযা- বা‘দাল কযা-য়ি ওয়া আস্আলুকা বার্‌দাল ‘আয়শি বা‘দাল মাওতি ওয়া আস্আলুকা লায্যাতান্ নাযারি ইলা- ওয়াজহিকা ওয়াশ্ শাওকা ইলা- লিকা-য়িকা ফী গয়রি যররা-আ মুযির্‌রতিন ওয়ালা- ফিত্‌নাতিন মুযিল্লাতিন, আল্ল-হুম্মা যায়ইয়ানা- বিযীনাতিল ঈমা-নি ওয়াজ্‘আলনা- হুদা-তান মাহদীয়্যিন’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার গায়বের ‘ইলম ও সৃষ্টির উপর তোমার ক্ষমতা রাখার দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাকে ততদিন জীবিত রাখবে, যতদিন আমার জীবন আমার জন্য কল্যাণকর বলে মনে করবে। আর আমাকে মৃত্যুদান করবে, যখন তুমি মৃত্যুকে আমার জন্য কল্যাণকর বলে মনে করবে। হে আল্লাহ! আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে যেন তোমাকে ভয় করি, তোমার কাছে সন্তুষ্ট ও অসন্তুষ্ট অবস্থায় সত্য বলার সাহস চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে স্বচ্ছলতা ও অভাবে মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাওফীক চাই। তোমার নিকট চাই এমন নিয়ামত যা কক্ষনো নিঃশেষ হবে না। আমি তোমার কাছে আরো চাই চোখ জুড়াবার বিষয়, যা কক্ষনো বন্ধ হবে না। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার হুকুমের উপর পরিতুষ্ট থাকতে চাই। তোমার কাছে চাই মৃত্যুর পরের উত্তম জীবন। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে (জান্নাতে) তোমার প্রতি দৃষ্টি দেবার স্বাদ গ্রহণ করতে চাই এবং ক্ষতিকর কষ্ট ও পথভ্রষ্টকারীর ফাসাদে পড়া ছাড়া তোমার সাক্ষাতের আশা-আকাঙ্খা করি। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের বলে বলীয়ান করো আর হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াত প্রদর্শনকারী করো।)। (নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯৮

وعن أم سلمة أن النبى ﷺ كان يقول فى دبر صلاة الفجر: «اللٰهم إنى أسألك علما نافعا وعملا متقبلا ورزقا طيبا». رواه أحمد وابن ماجه والبيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সলাত আদায় করে বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ‘ইলমান না-ফি‘আন ওয়া ‘আমালান মুতাকব্বালান ওয়া রিযকন ত্বইয়্যিবা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, কবূলযোগ্য ‘আমাল ও হালাল রিযক চাই)। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯৯

وعن أبى هريرة قال: دعاء حفظته من رسول اللٰه ﷺ لا أدعه: «اللٰهم اجعلنى أعظم شكرك وأكثر ذكرك وأتبع نصحك وأحفظ وصيتك». رواه الترمذى

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একটি দু‘আ মুখস্থ করেছি, যা আমি কক্ষনো পরিত্যাগ করি না- (দু‘আটি হলো) ‘‘আল্ল-হুম্মাজ্‘আলনী উ‘যিমু শুক্‌রাকা ওয়া উকসিরু যিক্‌রাকা ওয়া আত্তাবি‘উ নুস্‌হাকা ওয়া আহফাযু ওয়াসিয়্যাতাকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এমন তাওফীক দাও, যাতে আমি তোমার শুকর-গুজার হতে পারি, বেশি বেশি তোমার জিকির [স্মরণ] করতে পারি, তোমার নাসীহাত [উপদেশ] পালন করতে পারি এবং তোমার হুকুম রক্ষা করতে পারি।)। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫০০

وعن عبد الله بن عمرو قال: كان رسول اللٰه ﷺ يقول: «اللٰهم إنى أسألك الصحة والعفة والأمانة وحسن الخلق والرضٰى بالقدر

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু‘আয়) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাস্ সিহহাতা ওয়াল ‘ইফফাতা ওয়াল আমা-নাতা ওয়া হুস্‌নাল খুলুকি ওয়ার্ রিযা- বিল কদার’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সুস্বাস্থ্য, পবিত্রতা, আমানাতদারী, উত্তম চরিত্র এবং তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক কামনা করছি)।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫০১

وعن أم معبد قالت: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: اللٰهم طهر قلبى من النفاق وعملى من الرياء ولسانى من الكذب وعينى من الخيانة فإنك تعلم خائنة الأعين وما تخفى الصدور. رواهما البيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, [তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু‘আ করতেন] ‘‘আল্ল-হুম্মা ত্বহ্‌হির কলবী মিনান্ নিফা-কি ওয়া ‘আমালী মিনার্ রিয়া-য়ি ওয়া লিসা-নী মিনাল কাযিবি ওয়া ‘আয়নী মিনাল খিয়া-নাতি ফাইন্নাকা তা‘লামু খ-য়িনাতাল আ‘ইউনি ওয়ামা- তুখফিস্ সুদূর’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে মুনাফিক্বী হতে, আমার কাজকে লোক দেখানো হতে, আমার জবানকে মিথ্যা বলা হতে এবং [আমার] চোখকে খিয়ানাত করা হতে পাক-পবিত্র করো। তুমি অবশ্যই জানো চোখ যা খিয়ানাত করে এবং অন্তরসমূহ যা গোপন করে। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫০২

وعن أنس: أن رسول اللٰه ﷺ عاد رجلا من المسلمين قد خفت فصار مثل الفرخ فقال له رسول اللٰه ﷺ: «هل كنت تدعو اللٰه بشىء أو تسأله إياه؟». قال: نعم كنت أقول: اللٰهم ما كنت معاقبى به فى الاٰخرة فعجله لى فى الدنيا. فقال رسول اللٰه ﷺ: «سبحان اللٰه لا تطيقه ولا تستطيعه أفلا قلت: اللٰهم ﴿اٰتنا فى الدنيا حسنة وفى الاٰخرة حسنة وقنا عذاب النار﴾». قال: فدعا الله به فشفاه الله. رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রোগীকে দেখতে গেলেন, যে পাখির বাচ্চার মতো শুকিয়ে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে কোন বিষয়ে দু‘আ করেছিলে অথবা তা তাঁর কাছে কামনা করেছিলে? উত্তরে সে বললো, হ্যাঁ, আমি বলতাম, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখিরাতে যে শাস্তি দিবে তা আগেই দুনিয়াতে দিয়ে দাও। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুবহা-নাল্ল-হ! আখিরাতের শাস্তি তুমি দুনিয়াতে সহ্য করতে পারবে না এবং আখিরাতেও সহ্য করতে পারবে না। তুমি এভাবে বলনি কেন- ‘‘আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা- ‘আযা-বান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা কর)। বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ)] বলেন, পরে ঐ ব্যক্তি এভাবে দু‘আ করলো এবং আল্লাহ তা‘আলা তাকে আরোগ্য দান করলেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫০৩

وعن حذيفة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا ينبغى للمؤمن أن يذل نفسه». قالوا: وكيف يذل نفسه؟ قال: «يتعرض من البلاء لما لا يطيق» رواه الترمذى وابن ماجه والبيهقى فى شعب الإيمان. وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের কাম্য নয় সে নিজেকে লাঞ্ছিত করা। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! নিজেকে লাঞ্ছিত করে কিভাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এমন বিপদাপদ কামনা করা যা সহ্য করা সাধ্যাতীত। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী- শু‘আবূল ইমান; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫০৪

وعن عمر قال: علمنى رسول اللٰه ﷺ قال: «قل: اللٰهم اجعل سريرتى خيرا من علانيتى واجعل علانيتى صالحة اللٰهم إنى أسألك من صالح ما تؤتى الناس من الأهل والمال والولد غير الضال ولا المضل». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ দু‘আটি শিখিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ তুমি বল, ‘‘আল্ল-হুম্মাজ্‘আল সারীরতী খয়রান মিন্ ‘আলা-নিয়াতী ওয়াজ্‘আল ‘আলা-নিয়াতী স-লিহাতান, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন্ স-লিহি মা- তু’তিন্না-সা মিনাল আহলি ওয়াল মা-লি ওয়াল ওয়ালাদি গয়রিয্ য-ল্লি ওয়ালা-ল মুযিল্লি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার ভিতরকে বাহির হতে উত্তম করো এবং আমার বাহিরকে মার্জিত করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভালো চাই যা তুমি মানুষকে দিয়েছো- পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, যারা পথভ্রষ্ট বা পথভ্রষ্টকারী নয়।) (তিরমিযী)[১]


ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية