মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৭৯
عن القعقاع: أن كعب الأحبار قال: لولا كلمات أقولهن لجعلتنى يهود حمارا فقيل له: ما هن؟ قال: أعوذ بوجه اللٰه العظيم الذى ليس شىء أعظم منه وبكلمات اللٰه التامات التى لا يجاوزهن بر ولا فاجر وبأسماء اللٰه الحسنٰى ما علمت منها وما لم أعلم من شر ما خلق وذرأ وبرأ. رواه مالك
তিনি বলেন, কা‘ব আল আহবার বলেছেন, যদি আমি এ বাক্যগুলো না বলতাম, তবে ইয়াহূদীরা নিশ্চয়ই আমাকে গাধা বানিয়ে ফেলতো। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সে বাক্যগুলো কি? তিনি বলেন, ‘‘আ‘ঊযু বিওয়াজ্ হিল্লা-হিল ‘আযীম আল্লাযী লায়সা শাইউন আ‘যমা মিনহু, ওয়াবিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তিল্লাতি লা- ইউজা-বিযুহুন্না বাররুন ওয়ালা- ফা-জিরুন, ওয়াবি আসমা-য়িল্লা-হিল হুসনা-, মা- ‘আলিমতু মিনহা-, ওয়ামা- লাম্ আ‘লাম মিন্ শাররি মা- খলাকা ওয়া যারাআ ওয়া বারাআ’’ (অর্থাৎ- আমি মহান আল্লাহর সত্তার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর অপেক্ষা মহান আর কেউ নেই এবং আমি আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি যা অতিক্রম করার শক্তি ভালো-মন্দ কোন লোকের নেই। আমি আরো আশ্রয় চাচ্ছি আল্লাহর ‘আসমা-য়ি হুসনা-’ বা উত্তম নামসমূহের, যা আমি জানি আর যা আমি জানি না তাঁর সৃষ্টির অনিষ্টতা হতে যাদেরকে তিনি সৃষ্টি করেছেন ও পৃথিবীতে ছড়িয়ে রেখেছেন।)। (মালিক)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮০
وعن مسلم بن أبى بكرة قال: كان أبى يقول فى دبر الصلاة: اللٰهم إن أعوذ بك من الكفر والفقر وعذاب القبر فكنت أقولهن فقال: أى بنى عمن أخذت هٰذا؟ قلت: عنك قال: إن رسول اللٰه ﷺ كان يقولهن فى دبر الصلاة. رواه النسائى والترمذى إلا أنه لم يذكر فى دبر الصلاة. وروٰى أحمد لفظ الحديث وعنده: فى دبر كل صلاة
তিনি বলেন, আমার পিতা আবূ বাকরা (রাঃ) সলাত আদায় শেষে বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্ আ‘ঊযুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি ওয়া ‘আযা-বিল কবরি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফরী, পরমুখাপেক্ষিতা ও কবর ‘আযাব হতে আশ্রয় চাই)। আর আমিও তাই বলতাম। একবার তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস! তুমি এটা (দু‘আটি) কার থেকে গ্রহণ করেছো? আমি বললাম, আপনার কাছে থেকেই তো। তখন তিনি বললেন, তবে শুন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্য সলাত শেষ হবার পর বলতেন। (তিরমিযী; নাসায়ী ‘সলাত শেষে’ শব্দ ছাড়া, আহমাদ শুধু দু‘আটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় রয়েছে ‘প্রতিটি সলাত শেষে’)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮১
وعن أبى سعيد قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «أعوذ باللٰه من الكفر والدين» فقال رجل: يا رسول اللٰه أتعدل الكفر بالدين؟ قال: «نعم». وفى رواية «اللٰهم إنى أعوذ بك من الكفر والفقر». قال رجل: ويعدلان؟ قال: «نعم». رواه النسائى
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাল কুফরি ওয়াদ্দায়নি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফরী ও ঋণ হতে আশ্রয় চাই)। এটা শুনে জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলো, হে আল্লাহ রসূল! আপনি ঋণকে কুফরীর সমান মনে করেছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফরী ও পরমুখাপেক্ষিতা হতে আশ্রয় চাই)। তখন এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রসূল! এ দু’টো কি সমান (এক বিষয়)? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। (নাসায়ী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮২
عن أبى موسى الأشعرى عن النبى ﷺ: أنه كان يدعو بهٰذا الدعاء: «اللٰهم اغفر لى خطيئتى وجهلى وإسرافى فى امرى وما أنت أعلم به منى اللٰهم اغفر لى جدى وهزلى وخطئى وعمدى وكل ذٰلك عندى اللٰهم اغفر لى ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أنت به أعلم به منى أنت المقدم وأنت المؤخر وأنت علٰى كل شىء قدير». (متفق عليه)
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন কোন সময় এরূপ দু‘আ করতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী খত্বীআতী ওয়া জাহলী ওয়া ইস্রা-ফী ফী আম্রী ওয়ামা- আন্তা আ‘লামু বিহী মিন্নী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী জিদ্দী ওয়া হাযলী ওয়া খত্বায়ি ওয়া ‘আম্দী ওয়া কুল্লু যা-লিকা ‘ইনদী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী মা- কদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা- আসরারতু ওয়ামা- আ‘লানতু ওয়ামা- আনতা বিহী আ‘লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু ওয়া আনতা ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ মাফ করো, আমার অজ্ঞতা ও আমার কাজে সীমালঙ্ঘন, আর যা তুমি আমার চেয়েও বেশি জানো। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ মাফ করো যা আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, খামখেয়ালী করা, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় করা আর যা সবগুলোই আমার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বের ও পরের গুনাহ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গুনাহ মাফ করে দাও, আর যা তুমি আমার চেয়েও বেশি জানো। তুমিই আগে বাড়াও, তুমিই পেছনে হটাও এবং প্রত্যেকটি ব্যাপারেই তুমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।)। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮৩
وعن أبى هريرة قال: كان رسول اللٰه ﷺ يقول: «اللٰهم أصلح لى دينى الذى هو عصمة أمرى وأصلح لى دنياى التى فيها معاشى وأصلح لى اٰخرتى التى فيها معادى واجعل الحياة زيادة لى فى كل خير واجعل الموت راحة لى من كل شر». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু‘আ) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা আস্লিহ লী দীনিল্লাযী হুওয়া ‘ইস্মাতু আম্রী ওয়া আস্লিহ লী দুন্ইয়া- ইয়াল্লাতী ফীহা- মা‘আ-শী ওয়া আস্লিহ লী আ-খিরাতিল্লাতী ফীহা- মা‘আ-দী ওয়াজ্‘আলিল হায়া-তা যিয়া-দাতান লী ফী কুল্লি খয়রিন ওয়াজ্‘আলিল মাওতা রা-হাতান লী মিন কুল্লি শাররিন’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য আমার দ্বীন [ধর্ম]-কে ঠিক করে দাও, যা ঠিক করে দেবে আমার কার্যাবলী। তুমি ঠিক করে দাও আমার দুনিয়া [ইহকাল], যাতে রয়েছে আমার জীবন। তুমি ঠিক করে দাও আমার আখিরাত [পরকাল], যেখানে আমি [অবশ্যই] ফিরে যাবো। আমার হায়াত [আয়ুষ্কাল] প্রত্যেক কল্যাণকর কাজের জন্য বাড়িয়ে দাও, আর আমার মৃত্যুকে আমার জন্য প্রত্যেক অকল্যাণ হতে শান্তিস্বরূপ কর।)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮৪
وعن عبد اللٰه بن مسعود عن النبى ﷺ أنه كان يقول: «اللٰهم إنى أسألك الهدٰى والتقٰى والعفاف والغنٰى». رواه مسلم
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু‘আয়) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল হুদা- ওয়াত্তুকা- ওয়াল ‘আফা-ফা ওয়াল গিনা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত [সঠিক পথ], তাকওয়া [পরহেযগারিতা], হারাম থেকে বেঁচে থাকা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রত্যাশা করি)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮৫
وعن على قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قل اللٰهم اهدنى وسددنى واذكر بالهدٰى هدايتك الطريق وبالسداد سداد السهم». رواه مسلم
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি (দু‘আ) বল, ‘‘আল্ল-হুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী ওয়াযকুর বিলহুদা- হিদা-য়াতাকাত্ব ত্বরীকা ওয়াবিস্ সাদা-দি সাদা-দাস্ সাহমি’’ (অর্থাৎ- ‘হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াতের পথ দেখাও এবং আমাকে সরল-সোজা রাখো।’ আর ‘হিদায়াত’ বলতে মনে করবে তুমি আল্লাহর পথ, আর ‘সোজা’ বলতে খেয়াল করবে তীরের মতো সোজা।)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮৬
وعن أبى مالك الأشجعى عن أبيه قال: كان الرجل إذا أسلم علمه النبى ﷺ الصلاة ثم أمره أن يدعو بهؤلاء الكلمات: «اللٰهم اغفر لى وارحمنى واهدنى وعافنى وارزقنى». رواه مسلم
তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তার পিতা বলেন, যখন কোন লোক ইসলাম গ্রহণ করতেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রথম সলাত শিক্ষা দিতেন। তারপর তাকে এ পূর্ণ বাক্যগুলো পড়ে দু‘আ করতে আদেশ করতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া ‘আ-ফিনী, ওয়ারযুকনী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে দয়া করো, আমাকে পথ দেখাও, আমাকে শান্তিতে রাখো এবং আমাকে রিযক দান করো)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮৭
وعن أنس قال: كان أكثر دعاء النبى ﷺ «اللٰهم اٰتنا فى الدنيا حسنة وفى الاٰخرة حسنة وقنا عذاب النار». (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময়ই এ দু‘আ করতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতাওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা- ‘আযা-বান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ায় এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করো। আর জাহান্নামের ‘আযাব [শাস্তি] হতে বাঁচাও)। (বুখারী ও মুসলিম)[১]