তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫০

وعن عائشة قالت: إن رسول اللٰه ﷺ كان إذا جلس مجلسا أو صلٰى تكلم بكلمات فسألته عن الكلمات فقال: «إن تكلم بخير كان طابعا عليهن إلٰى يوم القيامة وإن تكلم بشر كان كفارة له: سبحانك اللٰهم وبحمدك لا إلٰه إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك». رواه النسائى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন মাজলিসে (বৈঠকে) বসতেন অথবা সলাত আদায় করতেন, তখন কিছু কালাম (বাক্য) পড়তেন। একদিন আমি ঐ সব কালাম সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (মাজলিসে) যদি কল্যাণকামী আলোচনা হয় তবে তা তার জন্য কিয়ামাত পর্যন্ত ‘মুহর’ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি (মাজলিসে) অকল্যাণকর আলোচনা হয় তবে তা তার জন্য কাফফারার মধ্যে গণ্য হবে। কালামটি হলো, ‘‘সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহাম্‌দিকা, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা, আস্‌তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলায়কা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবাহ্ করি।)। (নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫১

وعن قتادة: بلغه أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا رأى الهلال قال: هلال خير ورشد هلال خير ورشد هلال خير ورشد اٰمنت بالذى خلقك ثلاث مرات ثم يقول: الحمد للٰه الذى ذهب بشهر كذا وجاء بشهر كذا. رواه أبو داود

তিনি বলেন, তাঁর কাছে বিশ্বস্তসূত্রে খবর এসেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে এ বাক্যটি তিনবার বলতেন, ‘‘হিলা-লু খয়রিন ওয়া রুশদিন হিলা-লু খয়রিন ওয়া রুশদিন হিলা-লু খয়রিন ওয়া রুশদিন আ-মানতু বিল্লাযী খলাকক’’ (অর্থাৎ- কল্যাণ ও হিদায়াতের চাঁদ, কল্যাণ ও হিদায়াতের চাঁদ, কল্যাণ ও হিদায়াতের চাঁদ। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তার ওপর আমি ঈমান আনলাম।)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী যাহাবা বিশাহরি কাযা- ওয়াজা-আ বিশাহরি কাযা-’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি [বিগত] মাস শেষ করলেন এবং এই মাস আনলেন)। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫২

وعن ابن مسعود أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من كثر همه فليقل: اللٰهم إنى عبدك وابن عبدك وابن أمتك وفى قبضتك ناصيتى بيدك ماض فى حكمك عدل فى قضاؤك أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك أو أنزلته فى كتابك أو علمته أحدا من خلقك أو ألهمت عبادك أو استأثرت به فى مكنون الغيب عندك أن تجعل القراٰن ربيع قلبى وجلاء همى وغمى ما قالها عبد قط إلا أذهب اللٰه غمه وأبدله فرجا». رواه رزين

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বেশি চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সে যেন বলে, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী ‘আবদুকা, ওয়াবনু ‘আবদিকা ওয়াবনু আমাতিকা, ওয়াফী কবযাতিকা, না-সিয়াতী বিয়াদিকা মা-যিন ফী হুকমুকা ‘আদলুন ফি কযা-উকা আস্আলুকা বিকুল্লি ইসমিন, হুওয়া লাকা সাম্‌মায়তা বিহী নাফসাকা, আও আনযালতাহূ ফী কিতা-বিকা, আও ‘আল্লামতাহূ আহাদাম্ মিন্ খলকিকা, আও আলহামতা ‘ইবা-দাকা, আউইস্‌তা’সারতা বিহী ফী মাকনূনিল গয়বি ‘ইনদাক আন্ তাজ্‘আলাল কুরআ-না রবী‘আ কলবী ওয়াজালা-আ হাম্মী ওয়া গম্মী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দা, তোমার বান্দার পুত্র, তোমার দাসীর পুত্র। আমি তোমার হাতের মুঠে, আমার অদৃষ্ট তোমার হাতে। তোমার হুকুম আমার ওপর কার্যকর, তোমার আদেশ আমার পক্ষে ন্যায়। আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার সেসব নামের ওয়াসীলায় যাতে তুমি নিজেকে অভিহিত করেছো, অথবা তুমি তোমার কিতাবে নাযিল করেছো অথবা তুমি তোমার সৃষ্টির কাউকেও তা শিক্ষা দিয়েছো, অথবা তুমি তোমার বান্দাদের ওপর ইলহাম করেছো (অদৃশ্য অবস্থায় থেকে অন্তরে কথা বসিয়ে দেয়া) অথবা তুমি গায়বের পর্দায় তা তোমার কাছে অদৃশ্য রেখেছো- তুমি কুরআনকে আমার অন্তরের বসন্তকাল স্বরূপ চিন্তা-ফিকির দূর করার উপায় স্বরূপ গঠন করো।)। যে বান্দা যখনই তা পড়বে আল্লাহ তার চিন্তা-ভাবনা দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে মনে নিশ্চিন্ততা (প্রশান্তি) দান করবেন। (রযীন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫৩

وعن جابر قال: كنا إذا صعدنا كبرنا وإذا نزلنا سبحنا. رواه البخارى

তিনি বলেন, আমরা যখন উপরের দিকে উঠতাম, ‘আল্ল-হু আকবার’ ও যখন নীচের দিকে নামতাম ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ বলতাম। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫৪

وعن أنس أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا كربه أمر يقول: «يا حى يا قيوم برحمتك أستغيث». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب وليس بمحفوظ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বিষয়ে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লে বলতেন, ‘‘ইয়া- হাইয়্যু, ইয়া কইয়ূমু বিরহমতিকা আস্‌তাগীস’’ (অর্থাৎ- হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! তোমার রহমতের সাথে আমি প্রার্থনা করছি)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব ও গায়রে মাহফূয)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫৫

وعن أبى سعيد الخدرى قال: قلنا يوم الخندق: يا رسول اللٰه هل من شىء نقوله؟ فقد بلغت القلوب الحناجر قال: «نعم اللٰهم استر عوراتنا واٰمن روعاتنا» قال: فضرب اللٰه وجوه أعدائه بالريح وهزم اللٰه بالريح. رواه أحمد

তিনি বলেন, আমরা খন্দক যুদ্ধের দিন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে কি কিছু বলবেন? আমাদের প্রাণ তো ওষ্ঠাগত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ আছে। তোমরা বল, ‘‘আল্ল-হুম্মাসতুর ‘আওর-তিনা- ওয়া আ-মিন রও‘আ-তিনা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দোষ-ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখো, আমাদের ভয়-ভীতি নিরাপত্তায় পরিণত করো। বর্ণনাকারী [আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)] বলেন, অতএব আল্লাহ তা‘আলা তার শত্রুদের ঝড়-ঝঞ্ঝা হাওয়া দিয়ে দমন করলেন এবং এ ঝড়-ঝঞ্ঝা হাওয়া দিয়েই তাদেরকে পরাজিত করলেন। (আহমাদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫৬

وعن بريدة قال: كان النبى ﷺ إذا دخل السوق قال: «بسم اللٰه اللٰهم إنى أسألك خير هٰذه السوق وخير ما فيها وأعوذ بك من شرها وشر ما فيها اللٰهم إنى أعوذ بك أن أصيب فيها صفقة خاسرة». رواه البيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বাজারে প্রবেশ করলে বলতেন, ‘‘বিস্‌মিল্লা-হি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রা হা-যিহিস্ সূকি ওয়া খয়রা মা- ফীহা-, ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ শাররিহা- ওয়া শাররি মা- ফীহা-। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা আন্ উসীবা ফীহা- সফক্বতান খ-সিরাতান’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে বাজারের কল্যাণ এবং এতে যা আছে তার কল্যাণ চাই। আমি আশ্রয় চাই এর অকল্যাণ হতে এবং এতে যা আছে তার অকল্যাণ হতে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, এতে যেন কোন ক্ষয়-ক্ষতি ও ক্রয়-বিক্রয়ের ফাঁদে না পড়ি।)। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫৭

عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ «تعوذوا باللٰه من جهد البلاء ودرك الشقاء وسوء القضاء وشماتة الأعداء». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বিপদাপদে কষ্ট-ক্লিষ্ট ও দুর্ভাগ্যের আক্রমণ, ভাগ্যের অনিষ্টতা এবং বিপদগ্রস্তে শত্রুর উপহাস থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫৮

وعن أنس قال كان النبى ﷺ يقول: «اللٰهم إنى أعوذ بك من الهم والحزن والعجز والكسل والجبن والبخل وضلع الدين وغلبة الرجال». (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া যলা‘ইদ্ দায়নি ওয়া গলাবাতির্ রিজা-ল’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা, শোক-তাপ, অক্ষমতা-অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের জোর-জবরদস্তি হতে আশ্রয় চাই)। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫৯

وعن عائشة قالت: كان النبى ﷺ يقول: «اللٰهم إنى أعوذ بك من الكسل والهرم والمغرم والمأثم اللٰهم إنى أعوذ بك من عذاب النار وفتنة النار وفتنة القبر وعذاب القبر ومن شر فتنة الغنٰى ومن شر فتنة الفقر ومن شر فتنة المسيح الدجال اللٰهم اغسل خطاياى بماء الثلج والبرد ونق قلبى كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس وباعد بينى وبين خطاياى كما باعدت بين المشرق والمغرب». (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়াল মাগ্‌রামি ওয়াল মা’সামি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন্ ‘আযা-বিন্ না-রি ওয়া ফিত্‌নাতিন্ না-রি ওয়া ওয়া ফিতনাতিল কব্‌রি ‘আযা-বিল কব্‌রি ওয়ামিন্ শার্‌রি ফিত্‌নাতিল গিনা-, ওয়ামিন্ শার্‌রি ফিত্‌নাতিল ফাকরি ওয়ামিন্ শার্‌রি ফিত্‌নাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-লি, আল্ল-হুম্মাগসিল খত্বা-ইয়া-ইয়া বিমা-য়িস্ সালজি ওয়াল বারাদি ওয়া নাক্কি কলবী কামা- ইউনাক্কাস্ সাওবুল আবয়াযু মিনাদ্দানাসি ওয়াবা-‘ইদ্ বায়নী ওয়াবায়না খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা- বা‘আদ্তা বায়নাল মাশরিকি ওয়াল মাগ্‌রিব’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অলসতা, বার্ধক্য, ঋণ ও গুনাহ থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আগুন, জাহান্নামের পরীক্ষা, কবরের পরীক্ষা ও শাস্তি হতে, স্বচ্ছলতার পরীক্ষার মন্দাভাব ও দারিদ্রের পরীক্ষার মন্দাভাব হতে এবং মাসীহুদ (কানা) দাজ্জালের পরীক্ষার অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ বরফের ও শিলার পানি দিয়ে ধুয়ে দাও। আমার অন্তরকে পরিষ্কার করে দাও যেভাবে সাদা কাপড়, ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয় এবং আমার ও আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান তৈরি করে দাও যেমনভাবে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে রেখেছো।)। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৬০

وعن زيد بن أرقم قال: كان رسول اللٰه ﷺ يقول: «اللٰهم إنى أعوذ بك من العجز والكسل والجبن والبخل والهرم وعذاب القبر اللٰهم اٰت نفسى تقواها وزكها أنت خير من زكاها أنت وليها ومولاها اللٰهم إنى أعوذ بك من علم لا ينفع ومن قلب لا يخشع ومن نفس لا تشبع ومن دعوة لا يستجاب لها». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়াল হারামি ওয়া ‘আযা-বিল কবরি, ‘আল্ল-হুম্মা আ-তি নাফসী তাকওয়া-হা- ওয়াযাক্কিহা- আন্‌তা খয়রু মিন্ যাক্কা-হা- আন্‌তা ওয়ালিয়্যুহা- ওয়ামাও লা- হা-, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন্ ‘ইল্‌মিন লা- ইয়ানফা‘উ ওয়ামিন্ কলবিন লা- ইয়াখশা‘উ ওয়ামিন্ নাফসিন লা- তাশবা‘উ ওয়ামিন্ দা‘ওয়াতিন্ লা- ইউসতাজা-বু লাহা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য ও কবরের ‘আযাব হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার আত্মাকে সংযমী করো ও একে পবিত্র করো। তুমিই শ্রেষ্ঠ পুতঃপবিত্রকারী, তুমি তার অভিভাবক ও রব। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ঐ জ্ঞান লাভ হতে আশ্রয় চাই, যে জ্ঞান (আত্মার) কোন উপকারে আসে না, ঐ অন্তর হতে মুক্তি চাই যে অন্তর তোমার ভয়ে ভীত হয় না। ঐ মন হতে আশ্রয় চাই যে মন তৃপ্তি লাভ করে না এবং ঐ দু‘আ হতে, যে দু‘আ কবূল করা হয় না।)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৬১

وعن عبد بن عمر قال: كان من دعاء رسول اللٰه ﷺ: «اللٰهم إنى أعوذ بك من زوال نعمتك وتحول عافيتك وفجاءة نقمتك وجميع سخطك». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আগুলোর মধ্যে এটাও ছিল, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন্ যাওয়া-লি নি‘মাতিকা ওয়া তাহাওউলি ‘আ-ফিয়াতিকা ওয়া ফুজা-আতি নিকমাতিকা ওয়া জামী‘ই সাখাত্বিকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই [আমার ওপর] তোমার নিয়ামতের ঘাটতি, [আমার ওপর হতে] তোমার নিরাপত্তার ধারাবাহিকতা, [আমার ওপর] তোমার শাস্তির অকস্মাৎ আক্রমণ এবং তোমার সমস্ত অসন্তুষ্ট হতে।)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৬২

وعن عائشة قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يقول: «اللٰهم إنى أعوذ بك من شر ما عملت ومن شر ما لم أعمل». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দু‘আ করতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন শাররি মা- ‘আমিলতু ওয়ামিন্ শাররি মা-লাম আ‘মাল’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি তার অনিষ্টতা বা অপকারিতা হতে)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৬৩

وعن ابن عباس أن رسول اللٰه ﷺ كان يقول: «اللٰهم لك أسلمت وبك اٰمنت وعليك توكلت وإليك أنبت وبك خاصمت اللٰهم إنى أعوذ بعزتك لا إلٰه إلا أنت أن تضلنى أنت الحى الذى لا يموت والجن والإنس يموتون». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু‘আ) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা লাকা আস্‌লাম্‌তু, ওয়াবিকা আ-মান্‌তু, ওয়া ‘আলায়কা তাওয়াক্কালতু, ওয়া ইলায়কা আনাবতু, ওয়াবিকা খ-সমতু, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বি‘ইয্যাতিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা, আন্ তুযিল্লানী। আন্‌তাল হাইয়্যুল্লাযী লা- ইয়ামূতু, ওয়াল জিন্‌নু ওয়াল ইন্‌সু ইয়ামূতূনা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমারই কাছে সমর্পণ করলাম, তোমারই ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম, তোমারই ওপর ভরসা করলাম এবং তোমারই দিকে নিজকে ফিরালাম এবং তোমারই সাহায্যে [শত্রুর সাথে] লড়লাম। হে আল্লাহ! আমি পথভ্রষ্টতা হতে তোমার মর্যাদার আশ্রয় গ্রহণ করছি। তুমি ছাড়া সত্য আর কোন মা‘বূদ নেই, তুমি চিরঞ্জীব, তুমি মৃত্যুবরণ করবে না, আর মানুষ আর জিন্ মৃত্যুবরণ করবে।)। (বুখারী ও মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية