মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৬
عن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لو أن أحدكم إذا أراد أن يأتى أهله قال: بسم اللٰه اللٰهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا فإنه إن يقدر بينهما ولد فى ذٰلك لم يضره شيطان أبدا». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের ইচ্ছা পোষণ করলে সে যেন বলে, ‘‘বিস্মিল্লা-হি আল্ল-হুম্মা জান্নিবনাশ্ শায়ত্ব-না ওয়া জান্নিবিশ্ শায়ত্ব-না মা- রযাকতানা-’’ (অর্থাৎ- মহান আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান হতে দূরে রাখো এবং আমাদের জন্য তুমি যা নির্ধারিত করে রেখেছ শয়তানকেও তা হতে দূরে রাখো।)। এ মিলনের ফলে তাদের জন্য যদি কোন সন্তান দেয়া হয় তাহলে কক্ষনো শয়তান তার কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৭
وعنه أن رسول اللٰه ﷺ كان يقول عند الكرب: «لا إلٰه إلا اللٰه العظيم الحليم لا إلٰه إلا اللٰه رب العرش العظيم لا إلٰه إلا اللٰه رب السماوات ورب الأرض رب العرش الكريم». (متفق عليه)
তিনি বলেন, বিপদের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ‘আযীমুল হালীম, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুল ‘আর্শিল ‘আযীম; লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি, ওয়া রব্বুল আরযি রব্বুল ‘আর্শিল কারীম’’ (অর্থাৎ- মহান ধৈর্যশীল আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। মহান ‘আরশের মালিক আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, যিনি সমগ্র আকাশম-লীর রব, মহান ‘আরশের রব।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৮
وعن سليمان بن صرد قال: استب رجلان عند النبى ﷺ ونحن عنده جلوس وأحدهما يسب صاحبه مغضبا قد احمر وجهه فقال النبى ﷺ: «إنى لأعلم كلمة لو قالها لذهب عنه ما يجد أعوذ باللٰه من الشيطان الرجيم». فقالوا للرجل: لا تسمع ما يقول النبى ﷺ؟ قال: إنى لست بمجنون. (متفق عليه)
তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দু’ ব্যক্তি পরস্পরকে গাল-মন্দ বলতে লাগল, আমরা তখন তাঁর পাশে বসা ছিলাম। তন্মধ্যে একজন তার সাথীকে খুব রাগতস্বরে গাল-মন্দ করছিল। এতে তার মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এটা দেখে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন একটি কালাম (বাক্য) জানি, যদি সে তা পড়ে তাহলে তার রাগ চলে যাবে। সেটা হলো ‘‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ্ শায়ত্ব-নির রজীম’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় চাই)। তখন সাহাবীগণ লোকটিকে বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলছেন, তুমি কী শুনছ না? লোকটি বলল, নিশ্চয়ই আমি ভূতগ্রস্ত (পাগল) নই। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا سمعتم صياح الديكة فسلوا اللٰه من فضله فإنها رأت ملكا وإذا سمعتم نهيق الحمار فتعوذوا باللٰه من الشيطان الرجيم فإنه رأى شيطانا». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন মোরগের আওয়াজ শুনবে, আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহ প্রত্যাশা করবে। কারণ মোরগ মালাক (ফেরেশতা) দেখেছে। আর তোমরা যখন গাধার চিৎকার শুনবে, তখন বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, কারণ সে শয়তান দেখেছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২০
وعن ابن عمر أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا استوٰى علٰى بعيره خارجا إلى السفر كبر ثلاثا ثم قال: ﴿سبحان الذيى سخر لنا هٰذا وما كنا لهٗ مقرنين وإنا إلٰى ربنا لمنقلبون﴾ اللٰهم إنا نسألك فى سفرنا هٰذا البر والتقوٰى ومن العمل ما ترضٰى اللٰهم هون علينا سفرنا هٰذا واطو لنا بعده اللٰهم أنت الصاحب فى السفر والخليفة فى الأهل، اللٰهم إنى أعوذ بك من وعثاء السفر وكابة المنظر وسوء المنقلب فى المال والأهل. وإذا رجع قالهن وزاد فيهن: «اٰيبون تائبون عابدون لربنا حامدون». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হবার সময় উটের উপর ধীর-স্থিরতার সাথে বসার পর তিনবার ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ বলতেন। তারপর বলতেন, ‘‘সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না লাহূ মুকরিনীন। ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা লামুন্ ক-লিবূন। আল্ল-হুম্মা ইন্না- নাস্আলুকা ফী সাফারিনা- হা-যাল বির্রা ওয়াত্তাকওয়া-, ওয়া মিনাল ‘আমালি মা- তার্যা-। আল্ল-হুম্মা হাওবিন ‘আলায়না- সাফারানা- হা-যা- ওয়াত্বি লানা- বু‘দাহু। আল্ল-হুম্মা আন্তাস্ স-হিবু ফিস্সাফারি ওয়াল খলীফাতু ফিল আহ্লি। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন ওয়া‘সা-য়িস্ সাফারি ওয়া কা-বাতিল মান্যরি ওয়াসূয়িল মুনক্বলাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহ্লি।’’ (অর্থাৎ- ওই সত্তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি যিনি একে আমাদের অধীন করেছেন, অথচ আমরা তাকে অধীন করতে পারতাম না এবং আমরা আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে আসি। হে আল্লাহ! আমরা আমাদের এ ভ্রমণে তোমার কাছে পুণ্য ও সংযম চাই এবং এমন কাজ যা তুমি পছন্দ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য এ ভ্রমণকে সহজ করো এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই ভ্রমণে আমাদের সঙ্গী এবং পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদে আমাদের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভ্রমণের কষ্ট, খারাপ দৃশ্য ও ধন-সম্পদে অশুভ পরিবর্তন থেকে আশ্রয় চাই।)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফর থেকে ফিরে এসেও এ দু‘আগুলো পড়তেন এবং এর মধ্যে বেশি বেশি বলতেন, ‘‘আ-য়িবূনা তা-য়িবূনা ‘আ-বিদূনা লিরব্বিনা- হা-মিদূন’’ (অর্থাৎ- আমরা প্রত্যাবর্তন করলাম তাওবাহকারী, ‘ইবাদাতকারী এবং আমাদের মহান রবের প্রশংসাকারীরূপে)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২১
وعن عبد اللٰه بن سرجس قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا سافر يتعوذ من وعثاء السفر وكابة المنقلب والحور بعد الكور ودعوة المظلوم وسوء المنظر فى الأهل والمال. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে রওনা হতেন, তখন সফরের কষ্ট, প্রত্যাবর্তনের অনিষ্ট, কল্যাণের পর অকল্যাণ, মাযলূমের দু‘আ ও পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে খারাপ দৃশ্য দেখা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২২
وعن خولة بنت حكيم قالت: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «من نزل منزلا فقال: أعوذ بكلمات اللٰه التامات من شر ما خلق لم يضره شىء حتٰى يرتحل من منزله ذٰلك». رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন জায়গায় অবতরণ করে বলে, ‘‘আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- খলাক’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই)। তাহলে তাকে কোন জিনিস অনিষ্ট করতে পারবে না তার ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৩
وعن أبى هريرة قال: جاء رجل إلٰى رسول اللٰه ﷺ فقال: يا رسول اللٰه ما لقيت من عقرب لدغتنى البارحة قال: «أما لو قلت حين أمسيت: أعوذ بكلمات اللٰه التامات من شر ما خلق لم تضرك». رواه مسلم
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! গত রাতে আমি বিচ্ছুর দংশনে আক্রান্ত হয়েছি। এটা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যদি সন্ধ্যার পর বলতে, ‘‘আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- খলাক’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই)- তাহলে তোমাকে তা ক্ষতিসাধন করতে পারত না। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৪
وعنه أن النبى ﷺ كان إذا كان فى سفر وأسحر يقول: «سمع سامع بحمد الله وحسن بلائه علينا وربنا صاحبنا وأفضل علينا عائذا باللٰه من النار». رواه مسلم
তিনি বলেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকতেন ভোর হলে বলতেন, ‘‘সামি‘আ সা-মি‘উন বিহাম্দিল্লা-হি ওয়া হুসনি বিলা-য়িহী ‘আলায়না- ওয়া রব্বানা- স-হিবনা- ওয়া আফযিল ‘আলায়না- ‘আ-য়িযান বিল্লা-হি মিনান্ না-র’’ (অর্থাৎ- সর্বশ্রোতা শ্রবণ করুক, আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি, আমাদের প্রতি তাঁর মহা অবদানের স্বীকৃতি ঘোষণা করছি। হে আমাদের রব! তুমি আমাদের সাথী হও ও আমাদের প্রতি দয়া করো। আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই।)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৫
وعن ابن عمر قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا قفل من غزو أو حج أو عمرة يكبر علٰى كل شرف من الأرض ثلاث تكبيرات ثم يقول: «لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو علٰى كل شىء قدير اٰيبون تائبون عابدون ساجدون لربنا حامدون صدق اللٰه وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন যুদ্ধ, হজ্জ বা ‘উমরাহ্ হতে ফিরে আসতেন, তখন প্রতিটি উঁচু স্থানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করে তাকবীর দিতেন। আর বলতেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর। আ-য়িবূনা, তা-য়িবূনা ‘আ-বিদূনা ‘সা-জিদূনা লিরব্বিনা- হা-মিদূনা। সদাকল্ল-হু ওয়া‘দাহূ, ওয়া নাসারা ‘আবদাহূ ওয়া হাযামাল আহযা-বা ওয়াহদাহূ।’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। সাম্রাজ্য তাঁরই, তাঁরই প্রশংসা। তিনি সব জিনিসের উপরই ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তন করছি তাওবাহকারী, ‘ইবাদাতকারী, সাজদাহকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী হিসেবে। আল্লাহ তার ওয়া‘দাকে সত্যে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং শত্রুর সমন্বিত শক্তিকে একাই পরাজিত করেছেন।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৬
وعن عبد اللٰه بن أبى أوفى قال: دعا رسول اللٰه ﷺ يوم الأحزاب على المشركين فقال: «اللٰهم منزل الكتاب سريع الحساب اللٰهم اهزم الأحزاب اللٰهم اهزمهم وزلزلهم». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধের সময় মুশরিকদের জন্য বদ্দু‘আ করে বলেছিলেন, ‘‘আল্ল-হম্মা মুনযিলাল কিতা-বি, সারী‘আল হিসা-বি, আল্ল-হুম্মা আহযিমিল আহযা-বা, আল্ল-হুম্মা আহযিমহুম, ওয়া যালজিলহুম’’ (অর্থাৎ- হে কিতাব নাযিলকারী ও তড়িৎ বিচার ফায়সালাকারী [হিসাব গ্রহণকারী] আল্লাহ! হে আল্লাহ! তুমি শত্রুর সম্মিলিত শক্তিকে পরাজিত করো। হে আল্লাহ! তাদেরকে তুমি পরাজিত করো এবং তাদেরকে পর্যদস্ত-বিচলিত করে দাও।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৭
وعن عبد الله بن بسر قال: نزل رسول اللٰه ﷺ علٰى ابى فقربنا إليه طعاما ووطبة فأكل منها ثم أتى بتمر فكان يأكله ويلقى النوٰى بين أصبعيه ويجمع السبابة والوسطٰى وفى رواية: فجعل يلقى النوٰى علٰى ظهر أصبعيه السبابة والوسطٰى ثم أتى بشراب فشربه فقال أبى وأخذ بلجام دابته: ادع اللٰه لنا فقال: «اللٰهم بارك لهم فيما رزقتهم واغفر لهم وارحمهم». رواه مسلم
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার কাছে আসলেন। আমরা তাঁর সামনে কিছু খাদ্য ও হায়স (খেজুর, পনির ও ঘি মিশ্রিত এক জাতীয় মিষ্টান্ন) দিলাম। এর থেকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু খেলেন, তারপর তাঁর কাছে আরও কিছু খেজুর আনা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা খেতে লাগলেন। তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুরের মধ্যখান দিয়ে বিচি বের করতে লাগলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের পিঠের দিক দিয়ে বিচি ফেলতে থাকলেন। অতঃপর তাঁর কাছে কিছু পানীয় আনা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা পান করলেন। [তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখান থেকে রওনা হলে] আমার পিতা তাঁর আরোহীর লাগাম ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা- রযাকতাহুম ওয়াগফির লাহুম, ওয়ারহামহুম’’ (অথাৎ- হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে যা দান করেছো তাতে বারাকাত দাও এবং তাদেরকে ক্ষমা করো ও তাদের ওপর অনুগ্রহ করো)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৮
عن طلحة بن عبيد اللٰه أن النبى ﷺ كان إذا رأى الهلال قال: «اللٰهم أهله علينا بالأمن والإيمان والسلامة والإسلام ربى وربك اللٰه». رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা আহিল্লাহূ ‘আলায়না- বিল আম্নি ওয়াল ঈমা-নি, ওয়াস্সালা-মাতি ওয়াল ইসলা-মি রব্বী ওয়া রব্বুকাল্ল-হু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের প্রতি চাঁদকে উদয় করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের উপর। [হে চাঁদ!] আমার রব ও তোমার রব এক আল্লাহ।)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৯
وعن عمر بن الخطاب وأبى هريرة قالا: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من رجل رأى مبتلى فقال: الحمد للٰه الذى عافاني مما ابتلاك به وفضلنى علٰى كثير ممن خلق تفضيلا إلا لم يصبه ذٰلك البلاء كائنا ما كان». رواه الترمذى
তাঁরা উভয়েই বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্ত লোককে দেখে বলবে, ‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফা-নী মিম্মাব্ তালা-কা বিহী ওয়া ফায্যালানী ‘আলা- কাসীরিম্ মিম্মান্ খলাকা তাফযীলা’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, যিনি তোমাকে এতে পতিত করেছেন, তা হতে আমাকে নিরাপদে রেখেছেন। আর আমাকে তাঁর সৃষ্টির বহু জিনিস হতে বেশি মর্যাদা দান করেছেন।)। সে যেখানেই থাকুক না কেন তার ওপর এ বিপদ কক্ষনো পতিত হবে না। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩০
ورواه ابن ماجه عن ابن عمر. وقال الترمذى هٰذا حديث غريب وعمرو بن دينار الراوى ليس بالقوى
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গরীব এবং তার রাবী ‘আমর ইবনু দীনার সবল নয়।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩১
وعن عمر أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من دخل السوق فقال: لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له له الملك وله الحمد يحيى ويميت وهو حى لا يموت بيده الخير وهو علٰى كل شىء قدير كتب اللٰه له ألف ألف حسنة ومحا عنه ألف ألف سيئة ورفع له ألف ألف درجة وبنٰى له بيتا فى الجنة». رواه الترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب وفى شرح السنة: «من قال فى سوق جامع يباع فيه» بدل «من دخل السوق
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বাজারে প্রবেশ করে এ দু‘আ পড়ে, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়াহুওয়া হায়য়ুন, লা- ইয়ামূতু, বিয়াদিহিল খয়রু, ওয়াহুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন, তিনি চিরঞ্জীব, কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তাঁর হাতেই কল্যাণ এবং তিনি সমস্ত জিনিসের উপর ক্ষমতাশীল।)। আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য দশ লক্ষ সাওয়াব লিখবেন, দশ লক্ষ গুনাহ মিটিয়ে দেন, এছাড়া তার জন্য দশ লক্ষ মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর তৈরি করবেন। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; কিন্তু তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব। আর শারহুস্ সুন্নাহয় ‘বাজার’ শব্দের স্থলে ‘বড় বাজার’ রয়েছে যেখানে ক্রয়-বিক্রয় হয়।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩২
وعن معاذ بن جبل قال: سمع النبى ﷺ رجلا يدعو يقول: اللٰهم إنى أسألك تمام النعمة فقال: «أى شىء تمام النعمة؟» قال: دعوة أرجو بها خيرا فقال: «إن من تمام النعمة دخول الجنة والفوز من النار». وسمع رجلا يقول: «يا ذا الجلال والإكرام» فقال: «قد استجيب لك فسل». وسمع النبى ﷺ رجلا وهو يقول: اللٰهم إنى أسألك الصبر فقال: «سألت اللٰه البلاء فاسأله العافية». رواه الترمذى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে দু‘আ করতে শুনলেন, লোকটি বলছেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা তামা-মান্ নি‘মাহ্’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পূর্ণ নিয়ামত চাই)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পূর্ণ নিয়ামত কি? সে বললো, এই দু‘আ দিয়ে আমি সম্পদ প্রাপ্তির (অধিক উত্তম বস্ত্ত) আশা করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পূর্ণ নিয়ামত তো হলো জান্নাতে প্রবেশ করা ও জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভ করা (দুনিয়াপ্রাপ্তি উদ্দেশ্য নয়)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আর এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘‘ইয়া- যাল জালা-লি ওয়াল ইক্র-ম’’ (অর্থাৎ- হে মহত্ব ও মর্যাদার অধিকারী)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার দু‘আ কবূল করা হবে, তুমি দু‘আ করো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, সে বলছে, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাস্ সব্রা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ধৈর্যধারণের শক্তি চাই)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তো আল্লাহর কাছে বিপদ চাইলে, বরং তুমি তাঁর কাছে নিরাপত্তা প্রত্যাশা করো। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩৩
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من جلس مجلسا فكثر فيه لغطه فقال قبل أن يقوم: سبحانك اللٰهم وبحمدك أشهد أن لا إلٰه إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك إلا غفر له ما كان فى مجلسه ذٰلك». رواه الترمذى والبيهقى فى الدعوات الكبير
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মাজলিসে (বৈঠকে) বসে অনর্থক কথা বলল, আর বৈঠক হতে ওঠার আগে বলে, ‘‘সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহাম্দিকা, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলায়কা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পাক-পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার কাছে তাওবাহ্ করছি।)। তাহলে ঐ মাজলিসে সে যা (ত্রুটি-বিচ্যুতি) করেছে আল্লাহ তা‘আলা তা ক্ষমা করে দেবেন। (তিরমিযী, বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩৪
وعن على: أنه أتي بدابة ليركبها فلما وضع رجله فى الركاب قال: بسم اللٰه فلما استوٰى علٰى ظهرها قال: الحمد للٰه ثم قال: ﴿سبحان الذى سخر لنا هٰذا وما كنا له مقرنين وإنا إلٰى ربنا لمنقلبون ثم قال: الحمد للٰه ثلاثا واللٰه أكبر ثلاثا سبحانك إنى ظلمت نفسى فاغفر لى فإنه لا يغفر الذنوب إلا أنت ثم ضحك فقيل: من أى شىء ضحكت يا أمير المؤمنين؟ قال: رأيت رسول اللٰه ﷺ صنع كما صنعت ثم ضحك فقلت: من أى شىء ضحكت يا رسول اللٰه؟ قال: «إن ربك ليعجب من عبده إذا قال: رب اغفر لى ذنوبى يقول: يعلم أنه لا يغفر الذنوب غيرى». رواه أحمد والترمذى وأبو داود
তিনি বলেন, একদিন আরোহণ করার জন্য তাঁর কাছে একটি আরোহী আনা হলো। তিনি রিকাবে পা রেখে বললেন, ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে)। যখন এর পিঠে আরোহিত হলেন তখন বললেন, ‘‘আলহাম্দুলিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর প্রশংসা)। এরপর বললেন, ‘‘সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না- লাহূ মুকরিনীন, ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা- লামুনক্ব লিবূন’’ (অর্থাৎ- প্রশংসা আল্লাহর, যিনি [আরোহণের জন্য] এটাকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন)। তারপর তিনি তিনবার বললেন, ‘‘আলহাম্দুলিল্লা-হ’’, তিনবার বললেন, ‘‘ওয়াল্ল-হু আকবার’’; এরপর বললেন, ‘‘সুবহা-নাকা ইন্নী যলামতু নাফসী, ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আন্তা’’ (অর্থাৎ- তোমার পবিত্রতা, আমি আমার ওপর যুলম করেছি, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও)। অতঃপর তিনি হেসে ফেললেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আমীরুল মু’মিনীন! কি কারণে আপনি হাসলেন? তিনি জবাবে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, আমি যেভাবে করলাম, তিনি ঐভাবে করলেন অর্থাৎ- হাসলেন। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কি কারণে আপনি হাসলেন, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন যখন সে বলে, ‘‘রব্বিগ্ ফিরলী যুনূবী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা করো)। আল্লাহ বলেন, সে বিশ্বাস করে আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অপরাধসমূহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩৫
وعن ابن عمر قال: كان النبى ﷺ إذا ودع رجلا أخذ بيده فلا يدعها حتٰى يكون الرجل هو يدع يد النبى ﷺ ويقول: «أستودع اللٰه دينك وأمانتك واٰخر عملك» وفى رواية «خواتيم عملك». رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه وفى روايتهما لم يذكر: «واٰخر عملك
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন লোককে বিদায় দিতেন তার হাত ধরে রাখতেন, তা ছাড়তেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি নিজে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ছেড়ে না দিতেন। আর হাত ছেড়ে দেবার সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘‘আস্তাও দি‘উল্ল-হা দীনাকা ওয়া আমা-নাতাকা ওয়া আ-খিরা ‘আমালিকা’’ (অর্থাৎ- তোমার দীন, তোমার আমানাত, তোমার শেষ ‘আমালকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করলাম)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ; কিন্তু শেষ দু’জনের বর্ণনায় ‘সর্বশেষ কাজ’ শব্দের উল্লেখ নেই)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩৬
وعن عبد اللٰه الخطمى قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا أراد أن يستودع الجيش قال: «أستودع اللٰه دينكم وأمانتكم وخواتيم أعمالكم». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈন্যবাহিনীকে বিদায় দেবার সময় বলতেন, ‘‘আস্তাও দি‘উল্ল-হা দীনাকুম ওয়া আমা-নাতাকুম ওয়া খওয়া-তীমা আ‘মা-লিকুম’’ (অর্থাৎ- তোমাদের দীন, তোমাদের আমানাত ও তোমাদের শেষ আ‘মাল আল্লাহর হাতে সমর্পণ করলাম)। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩৭
وعن أنس قال: جاء رجل إلى النبى ﷺ قال: يا رسول اللٰه إنى أريد سفرا فزودنى فقال: زودك اللٰه التقوٰى. قال: زدنى قال: وغفر ذنبك قال: زدنى بأبى أنت وأمى قال: ويسر لك الخير حيث ما كنت». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি সফরের ইচ্ছা করেছি, আমাকে কিছু পাথেয় (উপদেশ) দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তোমাকে তাকওয়া অবলম্বনের পাথেয় দান করুন (ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বাঁচান)। লোকটি বললো, আমাকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করুন। লোকটি আবার বললো, আমার মাতাপিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমাকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহ যেন তোমার জন্য কল্যাণকর কাজ করা সহজ করে দেন। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩৮
وعن أبى هريرة قال: إن رجلا قال: يا رسول اللٰه إنى أريد أن أسافر فأوصنى قال: عليك بتقوى اللٰه والتكبير علٰى كل شرف». قال: فلما ولى الرجل قال: «اللٰهم اطو له البعد وهون عليه السفر. رواه الترمذى
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি সফরে যাবার ইচ্ছা পোষণ করছি। আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি সবসময় আল্লাহর ভয় মনে পোষণ করবে এবং (পথিমধ্যে) প্রতিটি উঁচু জায়গায় অবশ্যই ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ বলবে। সে লোকটি যখন চলে গেল তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা আত্ববিলাহুল বু‘দা ওয়া হাওবিন্ ‘আলায়হিস্ সাফার’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! লোকটির সফরের দূরত্ব কমিয়ে দাও এবং তার জন্য সফর সহজ করে দাও)। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩৯
وعن ابن عمر قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا سافر فأقبل الليل قال: «يا أرض ربى وربك اللٰه أعوذ باللٰه من شرك وشر ما فيك وشر ما خلق فيك وشر ما يدب عليك وأعوذ باللٰه من أسد وأسود ومن الحية والعقرب ومن شر ساكن البلد ومن والد وما والد». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হবার সময় রাত হয়ে গেলে বলতেন, ‘‘ইয়া- আরযু রব্বী ওয়া রব্বুকিল্লা-হু আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিন শাররিকি ওয়া শাররি মা- ফীকি ওয়া শাররি মা- খুলিকা ফীকি ওয়া শাররি মা- ইয়াদিব্বু ‘আলায়কি ওয়া আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিন্ আসাদিন ওয়া আস্ওয়াদা ওয়া মিনাল হাইয়্যাতি ওয়াল ‘আকরাবি ওয়ামিন্ শাররি সা-কিনিল বালাদি ওয়ামিন্ ওয়া-লিদিন ওয়ামা- ওয়া-লিদ’’ (অর্থাৎ- হে জমিন! আমার প্রতিপালক ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। সুতরাং আমি তোমার অনিষ্ট হতে, তোমার মধ্যে যা আছে তার অনিষ্ট হতে, তোমার মধ্যে যা সৃষ্টি করা হয়েছে এর অনিষ্ট হতে এবং যা তোমার ওপর চলাফেরা করে তার অনিষ্ট হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আমি আল্লাহর কাছে আরো আশ্রয় চাই সিংহ, বাঘ, কালো সাপ ও সাপ-বিচ্ছু হতে, শহরের অধিবাসী ও পিতা-পুত্র হতে।)। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪০
وعن أنس قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا غزا قال: «اللٰهم أنت عضدى ونصيرى بك أحول وبك أصول وبك أقاتل». رواه الترمذى وأبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধে বের হবার সময় বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা আন্তা ‘আযুদী ওয়া নাসীরী বিকা আহূলু ওয়াবিকা আসূলু ওয়াবিকা উকাতিলু’’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার শক্তি-বল। তুমি আমার সাহায্যকারী। তোমার সাহায্যেই আমি শত্রুর ষড়যন্ত্র পর্যুদস্ত করি। তোমার সাহায্যেই আমি আক্রমণে অগ্রসর হই এবং তোমারই সাহায্যে আমি যুদ্ধ পরিচলনা করি।)। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪১
وعن أبى موسٰى: أن النبى ﷺ كان إذا خاف قوما قال: «اللٰهم إنا نجعلك فى نحورهم ونعوذ بك من شرورهم». رواه أحمد وأبو داود
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন দলের ব্যাপারে ভয় করতেন, তখন বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্না- নাজ্‘আলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়ানা‘ঊযুবিকা মিন্ শুরূরিহিম’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে তাদের মোকাবেলা করলাম [তুমিই তাদের প্রতিহত কর] এবং তাদের অনিষ্টতা হতে তোমার কাছে আশ্রয় নিলাম)। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪২
وعن أم سلمة رضي اللٰه عنها أن النبى ﷺ كان إذا خرج من بيته قال: «بسم اللٰه توكلت على اللٰه اللٰهم إنا نعوذ بك من أن نزل أو نضل أو نظلم أو نظلم أو نجهل أو يجهل علينا». رواه أحمد والترمذى والنسائى وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن صحيح وفى رواية أبى داود وابن ماجه قالت أم سلمة: ما خرج رسول اللٰه ﷺ من بيتى قط إلا رفع طرفه إلى السماء فقال: «اللٰهم إنى أعوذ بك أن أضل أو أضل أو أظلم أو أظلم أو أجهل أو يجهل على
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর হতে বের হবার সময় বলতেন, ‘‘বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্ল-হি, আল্ল-হুম্মা ইন্না- না‘ঊযুবিকা মিন্ আন্ নাযিল্লা আও নাযিল্লা আও নাযলিমা আও নুযলামা আও নাজহালা আও ইউজহালা ‘আলায়না-’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই পদস্খলিত হওয়া, বিপথগামী হওয়া, উৎপীড়ন করা, উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং কারো অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া হতে।)। (আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী; তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ) আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহর অন্য বর্ণনায় আছে, উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ঘর হতে বের হতেন, তখন আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা আন্ আযিল্লা আও উযল্লা, আও আযলিমা আও উযলামা, আও আজহালা আও ইউজহালা ‘আলাইয়্যা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই বিপথগামী হওয়া, বিপথগামী করা, উৎপীড়ন করা, উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া হতে।)।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪৩
وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إذا خرج الرجل من بيته فقال: بسم اللٰه توكلت على اللٰه لا حول ولا قوة إلا باللٰه يقال له حينئذ هديت وكفيت ووقيت فيتنحٰى له الشيطان ويقول شيطان اٰخر: كيف لك برجل قد هدى وكفى ووقى. رواه أبو داود وروى الترمذى إلٰى قوله: الشيطان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঘর হতে বের হবার সময় যখন বলে, ‘‘বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কাল্তু ‘আলাল্ল-হি, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে বের হলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোন উপায় নেই, ক্ষমতা নেই)- তখন তাকে বলা হয়, পথ পেলে, উপায়-উপকরণ পেলে এবং নিরাপদ থাকলে। সুতরাং শয়তান তার কাছ হতে দূর হয়ে যায় এবং অন্য এক শয়তান এই শয়তানকে বলে, যে ব্যক্তিকে পথ দেখানো হয়েছে, উপায়-উপকরণ দেয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে- তাকে তুমি কি করতে পারবে? (আবূ দাঊদ; আর তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে ‘শয়তান বিদূরিত হয়ে যায়’ পর্যন্ত)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪৪
وعن أبى مالك الأشعرى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا ولج الرجل بيته فليقل: اللٰهم إنى أسألك خير المولج وخير المخرج بسم اللٰه ولجنا وعلى اللٰه ربنا توكلنا ثم ليسلم علٰى اهله». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করবে সে যেন বলে, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রল মাওলিজি ওয়া খয়রল মাখর-জি বিস্মিল্লা-হি ওয়ালাজনা- ওয়া ‘আলাল্ল-হি রব্বিনা- তাওয়াক্কালনা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ঘরে প্রবেশ ও ঘর হতে বের হওয়ার কল্যাণ চাই। তোমার নামেই আমি প্রবেশ করি (ও বের হই)। হে আমাদের বর! আল্লাহর নামে ভরসা করলাম।)। অতঃপর সে যেন নিজ পরিবারের লোকদেরকে সালাম দেয়। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪৫
وعن أبى هريرة أن النبى ﷺ كان إذا رفأ الإنسان إذا تزوج قال: «بارك اللٰه لك وبارك عليكما وجمع بينكما فى خير» رواه أحمد والترمذى وأبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি বিয়ে করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলতেন, ‘‘বা-রকাল্ল-হ লাকা ওয়া বা-রকা ‘আলায়কুমা- ওয়া জামা‘আ বায়নাকুমা- ফী খায়রিন’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দিন, তোমাদের উভয়ের ওপর বারাকাতময় করুন এবং তোমাদেরকে [সর্বদা] কল্যাণের সাথে একত্রিত রাখুন)। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪৬
وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده عن النبى ﷺ قال: «إذا تزوج أحدكم امرأة أو اشترٰى خادما فليقل اللٰهم إنى أسألك خيرها وخير ما جبلتها عليه وأعوذ بك من شرها وشر ما جبلتها عليه وإذا اشترٰى بعيرا فليأخذ بذروة سنامه وليقل مثل ذٰلك». وفى رواية فى المرأة والخادم: «ثم ليأخذ بناصيتها وليدع بالبركة». رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি তার পিতার মাধ্যমে দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোন মহিলাকে বিয়ে অথবা কোন চাকর ক্রয় করে তখন সে যেন বলে, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রহা- ওয়া খয়রা মা- জাবালতাহা- ‘আলায়হি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ শাররিহা- ওয়া শাররি মা- জাবালতাহা- ‘আলায়হি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তার কল্যাণ এবং তাকে যে সৎ চরিত্রের সাথে সৃষ্টি করেছো তার কল্যাণ চাই। আর তোমার কাছে আমি তার অনিষ্ট ও তাকে যে খারাপ স্বভাবের সাথে সৃষ্টি করেছো তা হতে আশ্রয় চাই।)। আর যখন কোন ব্যক্তি উট ক্রয় করে, তখন যেন ঠোঁটের চূড়া ধরে আগের মতো দু‘আ পড়ে। অন্য এক বর্ণনায় মহিলা ও চাকর সম্বদ্ধে বলা হয়েছে, তখন সে যেন তার সামনের চুল ধরে বারাকাতের জন্য দু‘আ করে। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪৭
وعن أبى بكرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «دعوات المكروب اللٰهم رحمتك أرجو فلا تكلنى إلٰى نفسى طرفة عين وأصلح لى شأنى كله لا إلٰه إلا أنت». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিপদগ্রস্ত লোকের দু‘আ হলো, ‘‘আল্ল-হুম্মা রহমতাকা আরজূ ফালা- তাকিলনী ইলা- নাফসী ত্বরফাতা ‘আয়নিন, ওয়া আসলিহ লী শা’নী কুল্লা-হূ, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার রহমত প্রত্যাশা করি। তুমি আমাকে আমার নিজের ওপর ক্ষণিকের জন্যও ছেড়ে দিও না। বরং তুমি নিজে আমার সকল বিষয়াদি সংশোধন করে দাও। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই।)। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪৮
وعن أبى سعيد الخدرى قال: قال رجل: هموم لزمتنى وديون يا رسول اللٰه قال: «أفلا أعلمك كلاما إذا قلته أذهب اللٰه همك وقضٰى عنك دينك؟» قال: قلت: بلٰى قال: «قل إذا أصبحت وإذا أمسيت: اللٰهم إنى أعوذ بك من الهم والحزن، وأعوذ بك من العجز والكسل وأعوذ بك من البخل والجبن، وأعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال. قال: ففعلت ذٰلك فأذهب اللٰه همى وقضٰى عنى دينى». رواه أبو داود
তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি বড় দুশ্চিন্তায় আছি, আমার ঘাড়ে ঋণ চেপে আছে। (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি কালাম (বাক্য) বলে দেবো না, যা পড়লে আল্লাহ তোমার চিন্তা দূর করবেন ও ঋণ পরিশোধ করবেন। সে বললো, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই বলুন, হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়বে, ‘ ‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল হাম্মি, ওয়াল হুযনি, ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল ‘আজযি, ওয়াল কাসালি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়াল জুবনি, ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ গলাবাতিদ্ দায়নি ওয়া কহরির রিজা-ল’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা হতে মুক্তি চাই। আশ্রয় চাই অপারগতা ও অলসতা এবং কৃপণতা ও কাপুরুষতা হতে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের কঠোরতা হতে।)। সে বললো, পরিশেষে আমি তা-ই করলাম। আর আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা মুক্ত করে দিলেন এবং ঋণও পরিশোধ করে দিলেন। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪৯
وعن على: أنه جاءه مكاتب فقال: إنى عجزت عن كتابتى فأعنى قال: ألا أعلمك كلمات علمنيهن رسول اللٰه ﷺ لو كان عليك مثل جبل كبير دينا أداه اللٰه عنك. قل: اللٰهم اكفنى بحلالك عن حرامك وأغننى بفضلك عمن سواك. رواه الترمذى والبيهقى فى الدعوات الكبير وسنذكر حديث جابر: إذا سمعتم نباح الكلاب» فى باب تغطية الأوانى إن شاء الله تعالٰى
তিনি বলেন, একদিন তাঁর কাছে একজন মুকাতাব (চুক্তিবদ্ধ দাস) এসে বললো, আমি আমার কিতাবাতের (মুনিবের সাথে সম্পদের লিখিত চুক্তিপত্রের) মূল্য পরিশোধ করতে পারছি না, আমাকে সাহায্য করুন। উত্তরে তিনি [‘আলী (রাঃ)] বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালাম (বাক্য) শিখিয়ে দেবো, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছেন? (এ দু‘আর মাধ্যমে) যদি তোমার ওপর বড় পাহাড়সম ঋণের বোঝাও থাকে, আল্লাহ তা পরিশোধ করে দেবেন। তুমি পড়বে, ‘‘আল্ল-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন্ হারা-মিকা, ওয়া আগ্নিনী বিফাযলিকা ‘আম্মান্ সিওয়াক’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হালাল [জিনিসের] সাহায্যে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখো এবং তুমি তোমার রহমতের মাধ্যমে আমাকে পরমুখাপেক্ষী হতে রক্ষা করো।)। (তিরমিযী, বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]