তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১২

وعن أبى مالك أن رسول اللٰه ﷺ قال: «إذا أصبح أحدكم فليقل: أصبحنا وأصبح الملك للٰه رب العالمين اللٰهم إنى أسألك خير هٰذا اليوم فتحه ونصره ونوره وبركته وهداه وأعوذ بك من شر ما فيه ومن شر ما بعده» ثم إذا أمسٰى فليقل مثل ذٰلك. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তখন যেন বলে, ‘ ‘আস্‌বাহনা- ওয়া আস্‌বাহাল মুল্‌কু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রা হা-যাল ইয়াওমি ফাত্হাহূ ওয়া নাসরাহূ, ওয়া নূরাহূ, ওয়া বারাকাতাহূ, ওয়া হুদা-হু। ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ শার্‌রি মা- ফীহি, ওয়া মিন্ শার্‌রি মা- বা‘দাহূ। সুম্মা ইযা- আমসা-, ফাল্ইয়াকুল মিসলা যা-লিকা’’ (অর্থাৎ- আমরা ভোরে এসে উপনীত হলাম আর আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশে রাজ্যও ভোরে এসে উপনীত হলো। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ দিনের কল্যাণ চাই, এর সফলতা ও সাহায্য, এর জ্যোতি, এর বারাকাত ও এর হিদায়াত এবং এতে যা অকল্যাণ রয়েছে তা হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং এর পরে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে আশ্রয় চাই।)। অতঃপর সে সন্ধ্যায় উপনীত হলেও যেন অনুরূপ দু‘আ করে। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৩

وعن عبد الرحمٰن بن أبى بكرة قال: قلت لأبى: يا أبت أسمعك تقول كل غداة: «اللٰهم عافنى فى بدنى اللٰهم عافنى فى سمعى اللٰهم عافنى فى بصرى لا إلٰه إلا أنت» تكررها ثلاثا حين تصبح وثلاثا حين تمسى فقال: يا بنى سمعت رسول اللٰه ﷺ يدعو بهن فأنا أحب أن أستن بسننه. رواه أبو داود

তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আমার পিতা! আপনাকে প্রতিদিন ভোরে বলতে শুনি, ‘‘আল্ল-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্ল-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী সাম্‘ঈ, আল্ল-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাসারী লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে শারীরিকভাবে নিরাপত্তায় রাখো, আমাকে শ্রবণশক্তিতে নিরাপত্তায় রাখো। হে আল্লাহ! আমাকে দৃষ্টিশক্তিতে নিরাপদে রাখো। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই।) এ দু‘আ ভোরে তিনবার ও বিকালে তিনবার বলেন। তখন তার পিতা বললেন, হে বৎস! আমি এ বাক্যগুলো দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু‘আ করতে শুনেছি। অতএব আমি তাঁর সুন্নাত পালন করাকে পছন্দ করি। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৪

وعن عبد اللٰه بن أبى أوفٰى قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا أصبح قال: «أصبحنا وأصبح الملك للٰه والحمد للٰه والكبرياء والعظمة للٰه والخلق والأمر والليل والنهار وما سكن فيهما للٰه اللٰهم اجعل أول هٰذا النهار صلاحا وأوسطه نجاحا واٰخره فلاحا يا أرحم الراحمين». ذكره النووى فى كتاب الأذكار برواية ابن السنى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে ঘুম হতে উঠে বলতেন, ‘ ‘আস্‌বাহনা- ওয়া আস্‌বাহাল মুলকু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্‌দুলিল্লা-হি ওয়াল কিব্‌রিয়া-উ ওয়াল ‘আযামাতু লিল্লা-হি ওয়াল খলক্বু ওয়াল আমরু ওয়াল্ লায়লু ওয়ান্ নাহা-রু ওয়ামা- সাকানা ফীহিমা- লিল্লা-হি আল্ল-হুম্মাজ্‘আল আও্ওয়ালা হা-যান্ নাহা-রি সলা-হান ওয়া আওসাত্বাহূ নাজা-হান ওয়া আ-খিরাহূ ফালা-হান ইয়া- আর্‌হামার্ র-হিমীন’’ (অর্থাৎ- আমরা ভোরে এসে উপনীত হলাম, আর ভোরে এসে উপনীত হলো আল্লাহরই উদ্দেশে আল্লাহর রাজ্য। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহরই জন্য সব অহংকার ও সম্মান। সমগ্র সৃষ্টি ও কর্তৃত্ব, রাত ও দিন এবং এতে যা বসবাস করে সবই আল্লাহর। হে আল্লাহ! তুমি এ দিনের প্রথমাংশকে কল্যাণকর করো, মধ্যাংশকে সাফল্যের ওয়াসীলাহ্ করো, আর শেষাংশকে সাফল্যময় করো। হে সর্বাধিক রহমকারী।’’ (নাবাবী কিতাবুল আযকার- ইবনুস্ সুন্নী’র বর্ণনার দ্বারা)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৫

وعن عبد الرحمٰن بن أبزٰى قال: كان رسول اللٰه ﷺ يقول إذا أصبح: «أصبحنا علٰى فطرة الإسلام وكلمة الإخلاص وعلٰى دين نبينا محمد ﷺ وعلٰى ملة أبينا إبراهيم حنيفا وما كان من المشركين». رواه أحمد والدارمى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে উঠে বলতেন, ‘‘আস্‌বাহনা- ‘আলা- ফিত্বরাতিল ইস্‌লা-মি ওয়া কালিমাতিল ইখলা-সি ওয়া ‘আলা- দীনি নাবিয়্যিনা- মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা- মিল্লাতি আবীনা- ইব্‌রা-হীমা হানীফাওঁ ওয়ামা- কা-না মিনাল মুশরিকীন’’ (অর্থাৎ- আমরা ইসলামের ফিত্বরাতের উপর ও কালিমায়ে তাওহীদের সাথে ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম এবং আমাদের নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের উপর ও ইব্রাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতের উপর, আর তিনি মুশরিক ছিলেন না।)। (আহমদ ও দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৬

عن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لو أن أحدكم إذا أراد أن يأتى أهله قال: بسم اللٰه اللٰهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا فإنه إن يقدر بينهما ولد فى ذٰلك لم يضره شيطان أبدا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের ইচ্ছা পোষণ করলে সে যেন বলে, ‘‘বিস্‌মিল্লা-হি আল্ল-হুম্মা জান্‌নিবনাশ্ শায়ত্ব-না ওয়া জান্‌নিবিশ্ শায়ত্ব-না মা- রযাকতানা-’’ (অর্থাৎ- মহান আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান হতে দূরে রাখো এবং আমাদের জন্য তুমি যা নির্ধারিত করে রেখেছ শয়তানকেও তা হতে দূরে রাখো।)। এ মিলনের ফলে তাদের জন্য যদি কোন সন্তান দেয়া হয় তাহলে কক্ষনো শয়তান তার কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৭

وعنه أن رسول اللٰه ﷺ كان يقول عند الكرب: «لا إلٰه إلا اللٰه العظيم الحليم لا إلٰه إلا اللٰه رب العرش العظيم لا إلٰه إلا اللٰه رب السماوات ورب الأرض رب العرش الكريم». (متفق عليه)

তিনি বলেন, বিপদের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ‘আযীমুল হালীম, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুল ‘আর্‌শিল ‘আযীম; লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি, ওয়া রব্বুল আরযি রব্বুল ‘আর্‌শিল কারীম’’ (অর্থাৎ- মহান ধৈর্যশীল আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। মহান ‘আরশের মালিক আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, যিনি সমগ্র আকাশম-লীর রব, মহান ‘আরশের রব।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৮

وعن سليمان بن صرد قال: استب رجلان عند النبى ﷺ ونحن عنده جلوس وأحدهما يسب صاحبه مغضبا قد احمر وجهه فقال النبى ﷺ: «إنى لأعلم كلمة لو قالها لذهب عنه ما يجد أعوذ باللٰه من الشيطان الرجيم». فقالوا للرجل: لا تسمع ما يقول النبى ﷺ؟ قال: إنى لست بمجنون. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দু’ ব্যক্তি পরস্পরকে গাল-মন্দ বলতে লাগল, আমরা তখন তাঁর পাশে বসা ছিলাম। তন্মধ্যে একজন তার সাথীকে খুব রাগতস্বরে গাল-মন্দ করছিল। এতে তার মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এটা দেখে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন একটি কালাম (বাক্য) জানি, যদি সে তা পড়ে তাহলে তার রাগ চলে যাবে। সেটা হলো ‘‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ্ শায়ত্ব-নির রজীম’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় চাই)। তখন সাহাবীগণ লোকটিকে বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলছেন, তুমি কী শুনছ না? লোকটি বলল, নিশ্চয়ই আমি ভূতগ্রস্ত (পাগল) নই। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا سمعتم صياح الديكة فسلوا اللٰه من فضله فإنها رأت ملكا وإذا سمعتم نهيق الحمار فتعوذوا باللٰه من الشيطان الرجيم فإنه رأى شيطانا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন মোরগের আওয়াজ শুনবে, আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহ প্রত্যাশা করবে। কারণ মোরগ মালাক (ফেরেশতা) দেখেছে। আর তোমরা যখন গাধার চিৎকার শুনবে, তখন বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, কারণ সে শয়তান দেখেছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২০

وعن ابن عمر أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا استوٰى علٰى بعيره خارجا إلى السفر كبر ثلاثا ثم قال: ﴿سبحان الذيى سخر لنا هٰذا وما كنا لهٗ مقرنين وإنا إلٰى ربنا لمنقلبون﴾ اللٰهم إنا نسألك فى سفرنا هٰذا البر والتقوٰى ومن العمل ما ترضٰى اللٰهم هون علينا سفرنا هٰذا واطو لنا بعده اللٰهم أنت الصاحب فى السفر والخليفة فى الأهل، اللٰهم إنى أعوذ بك من وعثاء السفر وكابة المنظر وسوء المنقلب فى المال والأهل. وإذا رجع قالهن وزاد فيهن: «اٰيبون تائبون عابدون لربنا حامدون». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হবার সময় উটের উপর ধীর-স্থিরতার সাথে বসার পর তিনবার ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ বলতেন। তারপর বলতেন, ‘‘সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না লাহূ মুকরিনীন। ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা লামুন্ ক-লিবূন। আল্ল-হুম্মা ইন্না- নাস্আলুকা ফী সাফারিনা- হা-যাল বির্‌রা ওয়াত্‌তাকওয়া-, ওয়া মিনাল ‘আমালি মা- তার্‌যা-। আল্ল-হুম্মা হাওবিন ‘আলায়না- সাফারানা- হা-যা- ওয়াত্বি লানা- বু‘দাহু। আল্ল-হুম্মা আন্‌তাস্ স-হিবু ফিস্‌সাফারি ওয়াল খলীফাতু ফিল আহ্‌লি। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন ওয়া‘সা-য়িস্ সাফারি ওয়া কা-বাতিল মান্‌যরি ওয়াসূয়িল মুনক্বলাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহ্‌লি।’’ (অর্থাৎ- ওই সত্তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি যিনি একে আমাদের অধীন করেছেন, অথচ আমরা তাকে অধীন করতে পারতাম না এবং আমরা আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে আসি। হে আল্লাহ! আমরা আমাদের এ ভ্রমণে তোমার কাছে পুণ্য ও সংযম চাই এবং এমন কাজ যা তুমি পছন্দ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য এ ভ্রমণকে সহজ করো এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই ভ্রমণে আমাদের সঙ্গী এবং পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদে আমাদের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভ্রমণের কষ্ট, খারাপ দৃশ্য ও ধন-সম্পদে অশুভ পরিবর্তন থেকে আশ্রয় চাই।)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফর থেকে ফিরে এসেও এ দু‘আগুলো পড়তেন এবং এর মধ্যে বেশি বেশি বলতেন, ‘‘আ-য়িবূনা তা-য়িবূনা ‘আ-বিদূনা লিরব্বিনা- হা-মিদূন’’ (অর্থাৎ- আমরা প্রত্যাবর্তন করলাম তাওবাহকারী, ‘ইবাদাতকারী এবং আমাদের মহান রবের প্রশংসাকারীরূপে)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২১

وعن عبد اللٰه بن سرجس قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا سافر يتعوذ من وعثاء السفر وكابة المنقلب والحور بعد الكور ودعوة المظلوم وسوء المنظر فى الأهل والمال. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে রওনা হতেন, তখন সফরের কষ্ট, প্রত্যাবর্তনের অনিষ্ট, কল্যাণের পর অকল্যাণ, মাযলূমের দু‘আ ও পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে খারাপ দৃশ্য দেখা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২২

وعن خولة بنت حكيم قالت: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «من نزل منزلا فقال: أعوذ بكلمات اللٰه التامات من شر ما خلق لم يضره شىء حتٰى يرتحل من منزله ذٰلك». رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন জায়গায় অবতরণ করে বলে, ‘‘আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- খলাক’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই)। তাহলে তাকে কোন জিনিস অনিষ্ট করতে পারবে না তার ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৩

وعن أبى هريرة قال: جاء رجل إلٰى رسول اللٰه ﷺ فقال: يا رسول اللٰه ما لقيت من عقرب لدغتنى البارحة قال: «أما لو قلت حين أمسيت: أعوذ بكلمات اللٰه التامات من شر ما خلق لم تضرك». رواه مسلم

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! গত রাতে আমি বিচ্ছুর দংশনে আক্রান্ত হয়েছি। এটা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যদি সন্ধ্যার পর বলতে, ‘‘আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- খলাক’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই)- তাহলে তোমাকে তা ক্ষতিসাধন করতে পারত না। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৪

وعنه أن النبى ﷺ كان إذا كان فى سفر وأسحر يقول: «سمع سامع بحمد الله وحسن بلائه علينا وربنا صاحبنا وأفضل علينا عائذا باللٰه من النار». رواه مسلم

তিনি বলেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকতেন ভোর হলে বলতেন, ‘‘সামি‘আ সা-মি‘উন বিহাম্‌দিল্লা-হি ওয়া হুসনি বিলা-য়িহী ‘আলায়না- ওয়া রব্বানা- স-হিবনা- ওয়া আফযিল ‘আলায়না- ‘আ-য়িযান বিল্লা-হি মিনান্ না-র’’ (অর্থাৎ- সর্বশ্রোতা শ্রবণ করুক, আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি, আমাদের প্রতি তাঁর মহা অবদানের স্বীকৃতি ঘোষণা করছি। হে আমাদের রব! তুমি আমাদের সাথী হও ও আমাদের প্রতি দয়া করো। আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই।)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৫

وعن ابن عمر قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا قفل من غزو أو حج أو عمرة يكبر علٰى كل شرف من الأرض ثلاث تكبيرات ثم يقول: «لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو علٰى كل شىء قدير اٰيبون تائبون عابدون ساجدون لربنا حامدون صدق اللٰه وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন যুদ্ধ, হজ্জ বা ‘উমরাহ্ হতে ফিরে আসতেন, তখন প্রতিটি উঁচু স্থানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করে তাকবীর দিতেন। আর বলতেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর। আ-য়িবূনা, তা-য়িবূনা ‘আ-বিদূনা ‘সা-জিদূনা লিরব্বিনা- হা-মিদূনা। সদাকল্ল-হু ওয়া‘দাহূ, ওয়া নাসারা ‘আবদাহূ ওয়া হাযামাল আহযা-বা ওয়াহদাহূ।’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। সাম্রাজ্য তাঁরই, তাঁরই প্রশংসা। তিনি সব জিনিসের উপরই ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তন করছি তাওবাহকারী, ‘ইবাদাতকারী, সাজদাহকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী হিসেবে। আল্লাহ তার ওয়া‘দাকে সত্যে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং শত্রুর সমন্বিত শক্তিকে একাই পরাজিত করেছেন।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৬

وعن عبد اللٰه بن أبى أوفى قال: دعا رسول اللٰه ﷺ يوم الأحزاب على المشركين فقال: «اللٰهم منزل الكتاب سريع الحساب اللٰهم اهزم الأحزاب اللٰهم اهزمهم وزلزلهم». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধের সময় মুশরিকদের জন্য বদ্দু‘আ করে বলেছিলেন, ‘‘আল্ল-হম্মা মুনযিলাল কিতা-বি, সারী‘আল হিসা-বি, আল্ল-হুম্মা আহযিমিল আহযা-বা, আল্ল-হুম্মা আহযিমহুম, ওয়া যালজিলহুম’’ (অর্থাৎ- হে কিতাব নাযিলকারী ও তড়িৎ বিচার ফায়সালাকারী [হিসাব গ্রহণকারী] আল্লাহ! হে আল্লাহ! তুমি শত্রুর সম্মিলিত শক্তিকে পরাজিত করো। হে আল্লাহ! তাদেরকে তুমি পরাজিত করো এবং তাদেরকে পর্যদস্ত-বিচলিত করে দাও।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২৭

وعن عبد الله بن بسر قال: نزل رسول اللٰه ﷺ علٰى ابى فقربنا إليه طعاما ووطبة فأكل منها ثم أتى بتمر فكان يأكله ويلقى النوٰى بين أصبعيه ويجمع السبابة والوسطٰى وفى رواية: فجعل يلقى النوٰى علٰى ظهر أصبعيه السبابة والوسطٰى ثم أتى بشراب فشربه فقال أبى وأخذ بلجام دابته: ادع اللٰه لنا فقال: «اللٰهم بارك لهم فيما رزقتهم واغفر لهم وارحمهم». رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার কাছে আসলেন। আমরা তাঁর সামনে কিছু খাদ্য ও হায়স (খেজুর, পনির ও ঘি মিশ্রিত এক জাতীয় মিষ্টান্ন) দিলাম। এর থেকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু খেলেন, তারপর তাঁর কাছে আরও কিছু খেজুর আনা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা খেতে লাগলেন। তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুরের মধ্যখান দিয়ে বিচি বের করতে লাগলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের পিঠের দিক দিয়ে বিচি ফেলতে থাকলেন। অতঃপর তাঁর কাছে কিছু পানীয় আনা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা পান করলেন। [তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখান থেকে রওনা হলে] আমার পিতা তাঁর আরোহীর লাগাম ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা- রযাকতাহুম ওয়াগফির লাহুম, ওয়ারহামহুম’’ (অথাৎ- হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে যা দান করেছো তাতে বারাকাত দাও এবং তাদেরকে ক্ষমা করো ও তাদের ওপর অনুগ্রহ করো)। (মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية