মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮১
عن عبد اللٰه قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا أمسٰى قال: «أمسينا وأمسى الملك للٰه والحمد للٰه ولا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو علٰى كل شىء قدير اللٰهم إنى أسألك من خير هٰذه الليلة وخير ما فيها وأعوذ بك من شرها وشر ما فيها اللٰهم إنى أعوذ بك من الكسل والهرم وسوء الكبر وفتنة الدنيا وعذاب القبر وإذا أصبح قال أيضا: «أصبحنا وأصبح الملك للٰه». وفى رواية: «رب إنى أعوذ بك من عذاب فى النار وعذاب فى القبر». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যার সময় বলতেন, ‘‘আম্সায়না- ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লা-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হি ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন খয়রি হা-যিহিল লায়লাতি ওয়া খয়রি মা- ফীহা- ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রিহা- ওয়া শার্রি মা- ফীহা- আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়াসূয়িল কিবারি ওয়া ফিত্নাতিদ্ দুন্ইয়া- ওয়া ‘আযা-বিল কবরি’’ (অর্থাৎ- আমরা সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম এবং সন্ধ্যায় প্রবেশ করল সাম্রাজ্যসমূহ আল্লাহর উদ্দেশে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। তিনি একক, তার কোন শারীক নেই। তাঁরই সাম্রাজ্য। তাঁরই সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ রাতের কল্যাণ চাই এবং এতে যা আছে তার কল্যাণ। আর আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে রাতের অকল্যাণ হতে আর এতে যা আছে তার অকল্যাণ হতে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, অলসতা, বার্ধক্য ও বার্ধক্যের অপকারিতা এবং দুনিয়ার বিপদাপদ ও কবরের ‘আযাব হতে।)। আর যখন ভোর হতো তখনও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ বলতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘আস্বাহনা- ওয়া আস্বাহাল মুলকু লিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আমরা ভোরে প্রবেশ করলাম, ভোরে প্রবেশ করল সাম্রাজ্যসমূহ আল্লাহর উদ্দেশে)। আর এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘‘রব্বি ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন ‘আযা-বিন ফিন্না-রি ওয়া ‘আযা-বিন ফিল কবরি’’ (অর্থাৎ- হে রব! আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে জাহান্নামের ‘আযাব ও কবরের শাস্তি হতে)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮২
وعن حذيفة قال: كان النبى ﷺ إذا أخذ مضجعه من الليل وضع يده تحت خده ثم يقول: «اللٰهم باسمك أموت وأحيا». وإذا استيقظ قال: الحمد للٰه الذى أحيانا بعد ما أماتنا وإليه النشور. رواه البخارى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুমানোর সময় গালের নীচে হাত রাখতেন আর বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি ও তোমার নামেই জীবিত হই)। আবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে জেগে বলতেন, ‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা‘দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলায়হিন্ নুশূর’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করলেন এবং তারই দিকে আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন)। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮৩
ومسلم عن البراء
হতে (বর্ণনা করেন)।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا أوٰى أحدكم إلٰى فراشه فلينفض فراشه بداخلة إزاره فإنه لا يدرى ما خلفه عليه ثم يقول: باسمك ربى وضعت جنبى وبك أرفعه إن أمسكت نفسى فارحمها وإن أرسلتها فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين». وفى رواية: «ثم ليضطجع علٰى شقه الأيمن ثم ليقل: باسمك». (متفق عليه) وفى رواية: «فلينفضه بصنفة ثوبه ثلاث مرات وإن أمسكت نفسى فاغفر لها
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ বিছানায় ঘুমানোর সময় যেন নিজের পরিধেয় বস্ত্রের ভিতর দিক দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না, তারপর বিছানায় কি এসে পড়েছে। অতঃপর সে যেন এ দু‘আ পড়ে, ‘‘বিস্মিকা রব্বী ওয়া য‘তু জাম্বী ওয়াবিকা আরফা‘উহ ইন্ আম্সাকতা নাফসী ফারহাম্হা- ওয়া ইন্ আরসালতাহা- ফাহফাযহা- বিমা- তাহফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস্ স-লিহীন’’ (অর্থাৎ- হে রব! তোমার নামে আমার দেহ রাখলাম এবং তোমার নামেই আবার তা উঠাব। যদি তুমি আমার আত্মাকে (মৃত্যু হতে) ফিরিয়ে রাখো, তবে তুমি আমার আত্মার উপর দয়া করো। আর যদি একে ছেড়ে দাও, তাহলে এর রক্ষা করো, যা দিয়ে তুমি তোমার নেক বান্দাদেরকে রক্ষা করে থাকো।)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর সে যেন নিজের ডান পাশে ঘুমায়, তারপর বলে, ‘‘বিসমিকা’’ (অর্থাৎ- তোমারই নামে)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮৫
وعن البراء بن عازب قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا أوى إلٰى فراشه نام علٰى شقه الأيمن ثم قال: «اللٰهم أسلمت نفسى إليك ووجهت وجهى إليك وفوضت أمرى إليك وألجأت ظهرى إليك رغبة ورهبة إليك لا ملجأ ولا منجا منك إلا إليك اٰمنت بكتابك الذى أنزلت ونبيك الذى أرسلت». وقال رسول اللٰه ﷺ: «من قالهن ثم مات تحت ليلته مات على الفطرة وفى رواية قال: قال رسول اللٰه ﷺ لرجل: «يا فلان إذا أويت إلٰى فراشك فتوضأ وضوءك للصلاة ثم اضطجع علٰى شقك الأيمن ثم قل: اللٰهم أسلمت نفسى إليك إلٰى قوله: أرسلت» وقال: «فإن مت من ليلتك مت على الفطرة وإن أصبحت أصبت خيرا». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় ডান কাত হয়ে ঘুমাতেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা আস্লামতু নাফসী ইলায়কা ওয়া ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী ইলায়কা ওয়া ফাও্ওয়াযতু আমরী ইলায়কা ওয়া আলজা’তু যহরী ইলায়কা রগবাতান ওয়া রহ্বাতান ইলায়কা লা- মালজাআ ওয়ালা- মানজা- মিনকা ইল্লা- ইলায়কা আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম, তোমার দিকে চেয়ে থাকলাম, আমার কাজ তোমার ওপর সমর্পণ করলাম এবং ভয়ে ও আগ্রহ ভরে তোমার সাহায্যের উপর ভরসা করলাম। তুমি ছাড়া আর কারো কাছে আশ্রয় ও মুক্তি পাওয়ার কোন স্থান নেই। যে কিতাব তুমি অবতীর্ণ করেছ ও যে নাবী তুমি পাঠিয়েছ, সম্পূর্ণরূপে আমি এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করি।)। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এ দু‘আ পড়বে তারপর ঐ রাতেই মারা যাবে, সে ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, বর্ণনাকারী [বারা (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, হে অমুক! তুমি বিছানায় ঘুমানোর সময় সলাতের ওযূর মতো ওযূ করবে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাবে, অতঃপর বলবে, ‘‘আল্ল-হুম্মা আস্লামতু নাফসী ইলায়কা.....আরসালতা’’ (অর্থাৎ- ‘হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম ...... পাঠিয়েছ’ পর্যন্ত।) অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি তুমি এ রাতেই মৃত্যুবরণ করো, তাহলে ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে। আর যদি ভোরে (জীবিত) ওঠো, তাহলে কল্যাণের উপর উঠবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮৬
وعن أنس أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا أوٰى إلٰى فراشه قال: الحمد للٰه الذى أطعمنا وسقانا وكفانا واٰوانا فكم ممن لا كافى له ولا مؤوى. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানা- ওয়া সাকা-না- ওয়া কাফা-না- ওয়াআ-ওয়া-না- ফাকাম মিম্মান্ লা-কা-ফিয়া লাহূ ওয়ালা- মু’বিয়া’’ (অর্থাৎ- প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন, পান করালেন, আমাদের প্রয়োজন পূরণ করলেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিলেন। অথচ এমন অনেক লোক আছে যাদের না আছে কেউ প্রয়োজন মিটাবার আর না আছে কোন আশ্রয়দাতা।)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮৭
وعن على: أن فاطمة أتت النبى ﷺ تشكو إليه ما تلقٰى فى يدها من الرحٰى وبلغها أنه جاءه رقيق فلم تصادفه فذكرت ذٰلك لعائشة فلما جاء أخبرته عائشة قال: فجاءنا وقد أخذنا مضاجعنا فذهبنا نقوم فقال: علٰى مكانكما فجاء فقعد بينى وبينها حتٰى وجدت برد قدمه علٰى بطنى فقال: «ألا أدلكما علٰى خير مما سألتما؟ إذا أخذتما مضجعكما فسبحا ثلاثا وثلاثين واحمدا ثلاثا وثلاثين وكبرا ثلاثا وثلاثين فهو خير لكما من خادم». (متفق عليه)
তিনি বলেন, একদিন ফাতিমা (রাঃ) (আটার) চাক্কি পিষতে পিষতে তার হাতের কষ্ট অনুভূত হওয়ার অভিযোগ স্বরূপ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তিনি [ফাতিমা (রাঃ)] জানতে পেরেছিলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যুদ্ধবন্দী গোলাম এসেছে। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রসূলের দেখা না পেয়ে মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে এ কথা বললেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফিরে আসলেন ‘আয়িশাহ্ ফাত্বিমার কথা তাঁকে জানালেন। ‘আলী (রাঃ) বলেন, অতঃপর খবর পেয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আমাদের এখানে আসলেন, তখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়ছিলাম। তাঁকে দেখে আমরা উঠতে চাইলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাকো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এসে আমার ও ফাত্বিমার মাঝে বসে গেলেন। এমনকি আমি আমার পেটে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়ের শীতলতা অনুভব করলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা যা আমার কাছে চেয়েছ এর (গোলামের) চেয়ে অনেক উত্তম এমন কথা আমি কি তোমাদেরকে বলে দেবো না? আর তা হলো যখন তোমরা ঘুমাবে তখন তেত্রিশবার ‘সুবহা-নাল্ল-হ’, তেত্রিশবার ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ এবং চৌত্রিশবার ‘আল্ল-হু আকবার’ পড়বে। এটা তোমাদের জন্য খাদিম (গোলাম) হতে অনেক উত্তম হবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮৮
وعن أبى هريرة قال: جاءت فاطمة إلى النبى ﷺ تسأله خادما فقال: «ألا أدلك علٰى ما هو خير من خادم؟ تسبحين اللٰه ثلاثا وثلاثين وتحمدين اللٰه ثلاثا وثلاثين وتكبرين اللٰه أربعا وثلاثين عند كل صلاة وعند منامك». رواه مسلم
তিনি বলেন, একদিন ফাতিমা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন খাদিম চাইতে আসলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি কি তোমাকে এমন পথ দেখাবো না, যা তোমার জন্য খাদিমের চেয়ে অনেক উত্তম হবে? তা হলো প্রত্যেক সলাতের সময় ও ঘুমানোর সময় পড়বে তেত্রিশবার ‘সুবহা-নাল্ল-হ’, তেত্রিশবার ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ ও চৌত্রিশবার ‘আল্ল-হু আকবার’ । (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮৯
عن أبى هريرة قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا أصبح قال: «اللٰهم بك أصبحنا وبك أمسينا وبك نحيا وبك نموت وإليك المصير». وإذا أمسٰى قال: «اللٰهم بك أمسينا وبك أصبحنا وبك نحيا وبك نموت وإليك النشور». رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে ঘুম থেকে উঠে বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা বিকা আসবাহনা-, ওয়াবিকা আমসায়না-, ওয়াবিকা নাহ্ইয়া-, ওয়াবিকা নামূতু, ওয়া ইলায়কাল মাসীর’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্যে সকালে [ঘুম থেকে] উঠি, তোমারই সাহায্যে আমরা সন্ধ্যায় পৌঁছি। তোমারই নামে আমরা জীবিত হই [ঘুম থেকে উঠি] ও তোমারই নামে আমরা মৃত্যুবরণ করি [ঘুমাতে যাই]। আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব।)। সন্ধ্যার সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা বিকা আমসায়না-, ওয়াবিকা আসবাহনা-, ওয়াবিকা নাহ্ইয়া-, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলায়কান্ নুশূর’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্যে সন্ধ্যা বেলায় এসে পৌঁছি, তোমারই সাহায্যে সকালে উঠি। তোমারই নামে আমরা জীবিত হই, তোমারই নামে আমরা মৃত্যুবরণ করি। আর তোমারই দিকে আমরা পুনঃএকত্রিত হব।)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯০
وعنه قال: قال أبو بكر: قلت يا رسول اللٰه مرنى بشىء أقوله إذا أصبحت وإذا أمسيت قال: «قل اللٰهم عالم الغيب والشهادة فاطر السماوات والأرض رب كل شىء ومليكه أشهد أن لا إلٰه إلا أنت أعوذ بك من شر نفسى ومن شر الشيطان وشركه قله إذا أصبحت وإذا أمسيت وإذا أخذت مضجعك». رواه الترمذى وأبو داود والدارمى
তিনি বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেছেন, একদিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দু‘আ বলে দিন যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে, ‘ ‘আল্ল-হুম্মা ‘আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্শাহা-দাতি, ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, রব্বা কুল্লি শাইয়িন, ওয়া মালীকাহূ আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা, আ‘ঊযুবিকা মিন্ শাররি নাফ্সী, ওয়ামিন শার্রিশ্ শায়ত্ব-নি, ওয়া শিরকিহী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার কাছে আমার মনের মন্দ হতে, শয়তানের মন্দ ও তাঁর শির্ক হতে আশ্রয় চাই।) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এ দু‘আ সকালে-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর সময় পড়বে।’’ (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯১
وعن أبان بن عثمان قال: سمعت أبى يقول: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من عبد يقول فى صباح كل يوم ومساء كل ليلة بسم اللٰه الذى لا يضر مع اسمه شىء فى الأرض ولا فى السماء وهو السميع العليم ثلاث مرات فيضره شىء». فكان أبان قد أصابه طرف فالج فجعل الرجل ينظر إليه فقال له أبان: ما تنظر إلى؟ أما إن الحديث كما حدثتك ولكنى لم أقله يومئذ ليمضى اللٰه على قدره. رواه الترمذى وابن ماجه وأبو داود وفى روايته: «لم تصبه فجاءة بلاء حتٰى يصبح ومن قالها حين يصبح لم تصبه فجاءة بلاء حتٰى يمسى
তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বান্দা প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বে, ‘‘বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াযুররু মা‘আইস্মিহী শায়উন ফিল আরযি ওয়ালা- ফিস্সামা-য়ি, ওয়া হুওয়াস্ সামী‘উল ‘আলিম’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে শুরু করছি, যে নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোন কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সব শুনেন ও জানেন)- কোন কিছু তাকে ক্ষতি করতে পারে না। বর্ণনাকারী বলেন, আবান পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এজন্য যারা হাদীস শুনছিলেন তারা তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। আবান তখন বললেন, আমার দিকে কী দেখছ? নিশ্চয়ই হাদীস যা আমি বর্ণনা করছি তাই, তবে যেদিন আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি সেদিন এ দু‘আ পড়িনি। এ কারণে আল্লাহ আমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছিলেন তা কার্যকরী হয়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ। কিন্তু আবূ দাঊদ-এর অপর বর্ণনায় রয়েছে, সে রাতে তাঁর ওপর কোন আকস্মিক বিপদাপদ ঘটবে না যে পর্যন্ত না ভোর হয়, আর যে তা ভোরে বলবে তার ওপর কোন আকস্মিক বিপদাপদ সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না সন্ধ্যা উপনীত হয়।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯২
وعن عبد اللٰه أن النبى ﷺ كان يقول إذا أمسٰى: «أمسينا وأمسى الملك للٰه والحمد للٰه لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو علٰى كل شىء قدير رب أسألك خير ما فى هٰذه الليلة وخير ما بعدها وأعوذ بك من شر ما فى هٰذه الليلة وشر ما بعدها رب أعوذ بك من الكسل ومن سوء الكبر أو الكفر». وفى رواية: «من سوء الكبر والكبر رب أعوذ بك من عذاب فى النار وعذاب فى القبر». وإذا أصبح قال ذٰلك أيضا: «أصبحنا وأصبح الملك للٰه». رواه أبو داود والترمذى وفى روايته لم يذكر: «من سوء الكفر
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যা হলে বলতেন, ‘ ‘আম্সায়না- ওয়া আম্সাল মুলকু লিল্লা-হি ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, রব্বী আস্আলুকা খয়রা মা- ফী হা-যিহিল লায়লাতি ওয়া খয়রা মা- বা‘দাহা- ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ শার্রি মা- ফী হা-যিহিল লায়লাতি ওয়াশার্রি মা- বা‘দাহা- রব্বী আ‘ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়ামিন্ সূয়িল কিবারি আউইল কুফরি’’ (অর্থাৎ- আমরা সন্ধ্যায় এসে পৌঁছলাম এবং সমগ্র সাম্রাজ্য সন্ধ্যায় এসে পৌঁছল আল্লাহর উদ্দেশে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। তাঁরই রাজত্ব ও শাসন, তাঁরই জন্য সব প্রশংসা। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমি তোমার কাছে চাই এ রাতে যা কল্যাণ আছে তা হতে, এরপরে যা আছে তার কল্যাণ হতে। আর আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এ রাতে যা অকল্যাণ রয়েছে তা হতে। এরপরে যা অকল্যাণ রয়েছে তা হতেও। হে রব! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা হতে ও বার্ধক্যের অকল্যাণ হতে; অথবা বলেছেন, কুফরীর অনিষ্টতা হতে।)। আর অপর এক বর্ণনায় আছে, বার্ধক্যের অকল্যাণ ও দাম্ভিকতা হতে। হে পরওয়ারদিগার! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সকালে উঠতেন তখনও এ দু‘আ পড়তেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পড়তেন, ‘‘আস্বাহনা- ওয়া আস্বাহাল মুলকু লিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আমরা সকালে এসে উপনীত হলাম। আর সমগ্র সাম্রাজ্যও আল্লাহর উদ্দেশে এসে উপনীত হলো।) (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী; তবে ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায় مِنْ سُوْءِ الْكُفْرِ বাক্যটির উল্লেখ নেই)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯৩
وعن بعض بنات النبى ﷺ أن النبى ﷺ كان يعلمها فيقول: قولى حين تصبحين: سبحان اللٰه وبحمده ولا قوة إلا باللٰه ما شاء اللٰه كان وما لم يشأ لم يكن أعلم أن اللٰه علٰى كل شىء قدير وأن اللٰه قد أحاط بكل شىء علما فإنه من قالها حين يصبح حفظ حتٰى يمسى ومن قالها حين يمسى حفظ حتٰى يصبح. رواه أبو داود
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে শিখাতেন এভাবে, যখন তুমি ভোরে বিছানা হতে উঠবে তখন বলবে, ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি, মা-শা-আল্ল-হু কা-না, ওয়ামা-লাম ইয়াশা’লাম ইয়াকুন, আ‘লামু আন্নাল্ল-হা ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, ওয়া আন্নাল্ল-হা কদ আহা-ত্বা বিকুল্লি শাইয়িন ‘ইলমা-’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আল্লাহর শক্তি-সামর্থ্য ছাড়া কারো কোন শক্তি নেই। আল্লাহ যা চান তাই হয়, যা তিনি চান না তা হয় না। আমি জানি, আল্লাহ সমস্ত জিনিসের উপর ক্ষমতাবান। আর সব জিনিসই আল্লাহ তার জ্ঞানের মাধ্যমে ঘিরে রেখেছেন।)। যে ভোরে উঠে এ দু‘আ পড়বে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত সে (আল্লাহর) হিফাযাতে থাকবে। আর যে সন্ধ্যা হবার পর এ দু‘আ পড়বে সে সকাল হওয়া (ঘুম হতে ওঠা) পর্যন্ত হিফাযাতে থাকবে। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯৪
وعن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من قال حين يصبح: ﴿فسبحان الله حين تمسون وحين تصبحون وله الحمد فى السمٰوٰت والأرض وعشيا وحين تظهرون إلٰى قوله: وكذٰلك تخرجون أدرك ما فاته فى يومه ذٰلك ومن قالهن حين يمسى أدرك ما فاته فى ليلته. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম হতে) উঠে এ আয়াতটি পড়বে, ‘‘ফাসুবহা-নাল্ল-হি হীনা তুম্সূনা ওহীনা তুসবিহূন, ওয়া লাহুল হাম্দু ফিস্সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, ওয়া ‘আশিয়্যাও ওহীনা তুযহিরূন..... ওয়াকাযা-লিকা তুখরাজূন’’ (অর্থাৎ- অতএব আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর তোমরা সন্ধ্যায় ও সকালে এবং আসমান ও জমিনে প্রশংসা একমাত্র তারই জন্য, আর বিকালে ও দুপুরে উপনীত হও..... এভাবে বের হবে’’ পর্যন্ত’’- (সূরা আর্ রূম ৩০ : ১৭-১৯)। সে লাভ করবে ঐদিন যা তার ছুটে গেছে। আর যখন এ দু‘আ সন্ধ্যায় পড়বে তখন সে লাভ করবে যা তার ঐ রাতে ছুটে গেছে। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯৫
وعن أبى عياش أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من قال إذا أصبح: لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو علٰى كل شىء قدير كان له عدل رقبة من ولد إسماعيل وكتب له عشر حسنات وحط عنه عشر سيئات ورفع عشر درجات وكان فى حرز من الشيطان حتٰى يمسى وإن قالها إذا أمسٰى كان له مثل ذٰلك حتٰى يصبح». [قال حماد بن سلمة]: فرأى رجل رسول اللٰه ﷺ فيما يرى النائم فقال: يا رسول اللٰه إن أبا عياش يحدث عنك بكذا وكذا. قال: «صدق أبو عياش». رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম থেকে) উঠে বলবে, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। সাম্রাজ্য তাঁরই, প্রশংসাও তাঁর এবং তিনি সকল জিনিসের উপর সবচেয়ে শক্তিশালী।)। তার জন্য এ দু‘আ ইসমা‘ঈল বংশীয় একটি চাকর মুক্ত করার সমতুল্য হবে এবং তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখা হবে ও তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, আর তার দশটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং (সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত) সে শয়তান হতে হিফাযাতে থাকবে। আর যদি সে ব্যক্তি এ দু‘আ সন্ধ্যায় পড়ে তাহলে আবার সকালে (ঘুম হতে) ওঠার পূর্ব পর্যন্ত অনুরূপ সাওয়াব ও মর্যাদা পেতে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আবূ ‘আইয়্যাশ আপনার নাম করে এসব কথা বলে। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আবূ ‘আইয়্যাশ সত্য কথা বলছে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯৬
وعن الحارث بن مسلم التميمى عن أبيه عن رسول اللٰه ﷺ أنه أسر إليه فقال: «إذا انصرفت من صلاة المغرب فقل قبل أن تكلم أحدا اللٰهم أجرنى من النار سبع مرات فإنك إذا قلت ذٰلك ثم مت فى ليلتك كتب لك جواز منها». رواه أبو داود
তাঁর পিতা হতে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। একদিন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃদুস্বরে বললেন, তুমি মাগরিবের সলাত আদায় শেষে কারো সাথে কথা বলার আগে সাতবার পড়বে, ‘‘আল্ল-হুম্মা আজিরনী মিনান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো)। তুমি এ দু‘আ পড়ার পর ঐ রাতে মারা গেলে, তোমার জন্য জাহান্নাম হতে ছাড়পত্র লেখা হবে। একইভাবে তুমি ফজরের সলাত আদায়ের পর এ দু‘আ পড়বে, তারপর তুমি ঐ দিন মারা গেলে, তোমাকে জাহান্নাম হতে ছাড়পত্র লেখা হবে। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯৭
وعن ابن عمر قال: لم يكن رسول اللٰه ﷺ يدع هؤلاء الكلمات حين يمسى وحين يصبح: «اللٰهم إنى أسألك العافية فى الدنيا والاٰخرة اللٰهم إنى أسألك العفو والعافية فى دينى ودنياى وأهلى ومالى اللٰهم استر عوراتى واٰمن روعاتى اللٰهم احفظنى من بين يدى ومن خلفى وعن يمينى وعن شمالى ومن فوقى وأعوذ بعظمتك أن أغتال من تحتى». [قال وكيع] يعنى الخسف. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কক্ষনো সকাল-সন্ধ্যায় এ দু‘আটি না পড়ে ছাড়েননি। (দু‘আটি হলো) ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্ দুন্ইয়া- ওয়াল আ-খিরাতি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আফ্ওয়া, ওয়াল ‘আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়া দুন্ইয়া-ইয়া ওয়া আহলী, ওয়ামা-লী। আল্ল-হুমাসতুর ‘আওর-তী, ওয়া আ-মিন রও‘আ-তী। আল্ল-হুম্মাহ্ ফাযনী, মিন বায়নি ইয়াদী ওয়ামিন খলফী, ওয়া ‘আন ইয়ামীনী, ওয়া ‘আন শিমা-লী, ওয়ামিন ফাওক্বী। ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহতী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার দীন, দুনিয়া, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সম্পর্কে নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার দোষ-ত্রুটিগুলো গোপন রাখো এবং ভীতিকর বিষয় হতে আমাকে নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার সামনের দিক হতে, পেছনের দিক হতে, আমার ডান দিক হতে, আমার বাম দিক হতে, আমার উপর হতে আমাকে হিফাযাত করো। হে আল্লাহ! আমি মাটিতে ধসে যাওয়া হতে তোমার মর্যাদার কাছে আশ্রয় চাই।)। ওয়াকী‘ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ- ‘ভূমিধ্বস হতে’। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯৮
وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قال حين يصبح: اللٰهم أصبحنا نشهدك ونشهد حملة عرشك وملائكتك وجميع خلقك أنك أنت اللٰه لا إلٰه إلا أنت وحدك لا شريك لك وأن محمدا عبدك ورسولك إلا غفر اللٰه له ما أصابه فى يومه ذٰلك من ذنب». رواه الترمذى وأبو داود وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম থেকে) উঠে বলবে, ‘‘আল্ল-হুম্মা আসবাহনা- নুশহিদুকা, ওয়া নুশহিদু হামালাতা ‘আরশিকা, ওয়া মালা-য়িকাতাকা, ওয়া জামী‘আ খলক্বিকা, আন্নাকা আনতাল্ল-হু, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু আন্তা ওয়াহদাকা, লা- শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুকা ওয়া রসূলুকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি ভোরে তোমাকে এবং তোমার ‘আরশের বহনকারীদেরকে, তোমার মালায়িকাহকে [ফেরেশতাগণকে], তোমার সমস্ত সৃষ্টিকে। নিশ্চয়ই তুমিই আল্লাহ! তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই। তুমি একক, তোমার কোন শারীক নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার বান্দা ও রসূল।)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ঐ দিনে তার যে গুনাহ হবে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর সে যদি এ দু‘আ সন্ধ্যায় পড়ে তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ঐ রাতে যে গুনাহ সংঘটিত হবে তা ক্ষমা করে দেবেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯৯
وعن ثوبان قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من عبد مسلم يقول إذا أمسٰى وإذا أصبح ثلاثا رضيت باللٰه ربا وبالإسلام دينا وبمحمد نبيا إلا كان حقا على اللٰه أن يرضيه يوم القيامة». رواه أحمد والترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম বান্দা সন্ধ্যার সময় ও ভোরে উঠে তিনবার বলবে, ‘‘রযীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলা-মি দীনান ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দ্বীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নাবী হিসেবে পেয়ে খুশি হয়েছি)- নিশ্চয়ই এ দু‘আ কিয়ামাতের দিন তাকে খুশী করানো আল্লাহর জন্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে। (আহমদ, তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০০
وعن حذيفة أن النبى ﷺ كان إذا أراد أن ينام وضع يده تحت رأسه ثم قال: «اللٰهم قنى عذابك يوم تجمع عبادك أو تبعث عبادك». رواه الترمذى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন হাত মাথার নীচে রাখতেন, অতঃপর বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা কিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাজমা‘উ ‘ইবা-দাকা, আও তাব্‘আসু ‘ইবা-দাকা’’ [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে তোমার শাস্তি হতে বাঁচিয়ে রেখ, যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনঃএকত্র করবে; অথবা (বলেছেন) যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে কবর হতে উঠাবে।]। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০১
ورواه أحمد عن البراء
হতে বর্ণনা করেছেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০২
وعن حفصة رضي اللٰه عنها أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا أراد أن يرقد وضع يده اليمنٰى تحت خده ثم يقول: «اللٰهم قنى عذابك يوم تبعث عبادك». ثلاث مرات رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর ইচ্ছা করলে ডান হাত গালের নীচে রাখতেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা কিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব্‘আসু ‘ইবা-দাকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি যেদিন তোমার বান্দাদেরকে কবর হতে উঠাবে, তোমার ‘আযাব হতে আমাকে রক্ষা করবে)। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০৩
وعن على أن رسول اللٰه ﷺ كان يقول عند مضجعه: «اللٰهم إنى أعوذ بوجهك الكريم وكلماتك التامات من شر ما أنت اٰخذ بناصيته اللٰهم أنت تكشف المغرم والمأثم اللٰهم لا يهزم جندك ولا يخلف وعدك ولا ينفع ذا الجد منك الجد سبحانك وبحمدك». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিওয়াজহিকাল কারীম, ওয়া কালিমা-তিকা তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- আন্তা আ-খিযুন বিনা-সিয়াতিহী, আল্ল-হুম্মা আন্তা তাকশিফুল মাগরামা, ওয়াল মা’সামা। আল্ল-হুম্মা লা- ইউহযামু জুনদুকা, ওয়ালা- ইউখলাফু ওয়া‘দুকা ওয়ালা- ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। সুবহা-নাকা, ওয়াবিহাম্দিকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার অধীনে যা আছে আমি তার অনিষ্ট হতে তোমার মহান সত্তার ও তোমার পূর্ণ কালামের স্মরণ করে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমিই ঋণগ্রস্ততা ও গুনাহের ভার দূর করে দাও। হে আল্লাহ! তোমার দল পরাভূত হয় না, কক্ষনো তোমার ওয়া‘দা ভঙ্গ হয় না এবং কোন সম্পদশালীর সম্পদ তাকে তোমা হতে রক্ষা করতে পারে না। তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।)। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০৪
وعن أبى سعيد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قال حين يأوى إلٰى فراشه: أستغفر اللٰه الذى لا إلٰه إلا هو الحى القيوم وأتوب إليه ثلاث مرات غفر اللٰه له ذنوبه وإن كانت مثل زبد البحر أو عدد رمل عالج أو عدد ورق الشجر أو عدد أيام الدنيا». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিছানায় ঘুমানোর সময় তিনবার পড়বে, ‘‘আস্তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, তার কাছে আমি তাওবাহ্ করি।)- এ দু‘আয় আল্লাহ তার গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা অথবা বালুর স্তূপ অথবা গাছের পাতার সংখ্যা অথবা দুনিয়ার দিনগুলোর সংখ্যার চেয়েও বেশি হয়। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০৫
وعن شداد بن أوس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من مسلم يأخذ مضجعه بقراءة سورة من كتاب اللٰه إلا وكل اللٰه به ملكا فلا يقربه شىء يؤذيه حتٰى يهب متٰى هب». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম কুরআন মাজীদের যে কোন একটি সূরা পড়ে বিছানায় যাবে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য অবশ্যই একজন মালাক (ফেরেশতা) নিয়োজিত করে দেবেন। অতঃপর কোন ক্ষতিকারক জিনিস তার কাছে পৌঁছতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘুম থেকে সে জেগে ওঠে। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০৬
وعن عبد اللٰه بن عمرو بن العاص رضي اللٰه عنهما قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «خلتان لا يحصيهما رجل مسلم إلا دخل الجنة ألا وهما يسير ومن يعمل بهما قليل يسبح اللٰه فى دبر كل صلاة عشرا ويحمده عشرا ويكبره عشرا» قال: فأنا رأيت رسول اللٰه ﷺ يعقدها بيده قال: «فتلك خمسون ومائة فى اللسان وألف وخمسمائة فى الميزان وإذا أخذ مضجعه يسبحه ويكبره ويحمده مائة فتلك مائة باللسان وألف فى الميزان فأيكم يعمل فى اليوم والليلة ألفين وخمسمائة سيئة؟» قالوا: وكيف لا نحصيها؟ قال: «يأتى أحدكم الشيطان وهو فى صلاته فيقول: اذكر كذا اذكر كذا حتٰى ينفتل فلعله أن لا يفعل ويأتيه فى مضجعه فلا يزال ينومه حتٰى ينام». رواه الترمذى وأبو داود والنسائى. وفى رواية أبى داود قال: «خصلتان أو خلتان لا يحافظ عليهما عبد مسلم». وكذا فى روايته بعد قوله: «وألف وخمسمائة فى الميزان» قال: «ويكبر أربعا وثلاثين إذا أخذ مضجعه» ويحمد ثلاثا وثلاثين ويسبح ثلاثا وثلاثين. وفى اكثر نسخ المصابيح عن: عبد الله بن عمر
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম দু’টি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, সে নিঃসন্দেহে জান্নাতে যাবে। জেনে রাখো, এ বিষয় দু’টো সহজ, কিন্তু এর ‘আমালকারী কম। (তা হলো) প্রত্যেক সলাত আদায়ের পর পড়বে ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ দশবার, ‘আল হাম্দুলিল্লা-হ’ দশবার, ‘আল্ল-হু আকবার’ দশবার। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু‘আ পড়ার সময় হাতে গুণতে দেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এ দু‘আ মুখে (পাঁচ বেলায়) একশ’ পঞ্চাশবার কিয়ামাতে মীযানের (পাল্লায়) এক হাজার পাঁচশ’বার। আর যখন বিছানায় যাবে, ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ ও ‘আলহাম্দুলিল্লা-হ’ ‘আল্লা-হু আকবার’ (তিনটি দু‘আ মিলিয়ে) একশ’বার পড়বে। এ দু‘আ মুখে একশ’বার বটে; কিন্তু মীযানে একহাজার বার। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ একদিন এক রাতে দু’ হাজার পাঁচশ’ গুনাহ করে? সাহাবীগণ বললেন, আমরা কেন এ দু’টি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এজন্য পারবে না যে, তোমাদের কারো কারো কাছে সলাত আদায় অবস্থায় শয়তান এসে বলে, ঐ বিষয় চিন্তা করো, ঐ বিষয় স্মরণ করো। এভাবে (শয়তানের) ওয়াস্ওয়াসা চলতে থাকে সলাত শেষ করা পর্যন্ত। অতঃপর সে হয়ত তা (পরিপূর্ণ) না করেই উঠে যায়। এভাবে শয়তান তার ঘুমানোর সময় এসে তাকে ঘুম পাড়াতে থাকবে, যতক্ষণ না সে তা (আদায় না) করে ঘুমিয়ে পড়ে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী) আবূ দাঊদ-এর আর এক বর্ণনায় আছে, ‘‘যে কোন মুসলিম দু’টি বিষয়ে লক্ষ্য করবে।’’ এভাবে তার বর্ণনায় আছে, ‘‘মীযানের পাল্লায় একহাজার পাঁচশ’’-এ শব্দের পর আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সে ঘুমাতে যায় তখন পড়বে, ‘আল্ল-হু আকবার’ চৌত্রিশবার ‘আলহাম্দুলিল্লা-হ’ তেত্রিশবার ও ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ তেত্রিশবার।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০৭
وعن عبد اللٰه بن غنام قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قال حين يصبح: اللٰهم ما أصبح بى من نعمة أو بأحد من خلقك فمنك وحدك لا شريك لك فلك الحمد ولك الشكر فقد أدٰى شكر يومه ومن قال مثل ذٰلك حين يمسى فقد أدٰى شكر ليلته». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম থেকে) উঠে এ দু‘আ পড়বে, ‘‘আল্ল-হুম্মা মা- আস্বাহা বী মিন্ নি‘মাতিন, আও বিআহাদিম মিন খলকিকা, ফামিনকা ওয়াহদাকা লা- শারীকা লাকা, ফালাকাল হাম্দু ওয়ালাকাশ্ শুকরু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! ভোরে আমার ওপর ও তোমার অন্য যে কোন সৃষ্টির ওপর যে নিয়ামত পৌঁছেছে তা একা তোমার পক্ষ থেকেই, এতে তোমার কোন শারীক নেই। সুতরাং তোমারই প্রশংসা ও তোমারই কৃতজ্ঞতা।)- সে ব্যক্তি তার ঐ দিনের কৃতজ্ঞতা আদায় করল। আর যে সন্ধ্যায় এ দু‘আ পড়ল, সে তার ঐ রাতের কৃতজ্ঞতা আদায় করল। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০৮
وعن أبى هريرة عن النبى ﷺ أنه كان يقول إذا أوٰى إلٰى فراشه: «اللٰهم رب السماوات ورب الأرض ورب كل شىء فالق الحب والنوٰى منزل التوراة والإنجيل والقراٰن أعوذ بك من شر كل ذى شر أنت اٰخذ بناصيته أنت الأول فليس قبلك شىء وأنت الاٰخر فليس بعدك شىء وأنت الظاهر فليس فوقك شىء وأنت الباطن فليس دونك شىء اقض عنى الدين واغننى من الفقر». رواه أبو داود والترمذى وابن ماجه ورواه مسلم مع اختلاف يسير
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়া রববাল আরযি ওয়া রব্বা কুল্লি শাইয়িন, ফালিকল হাব্বি ওয়ান্ নাওয়া- মুনযিলাত্ তাওরা-তি, ওয়াল ইঞ্জীলি ওয়াল কুরআ-নি। আ‘ঊযুবিকা মিন শাররি কুল্লি যী শাররি। আন্তা আ-খিযুন বিনা-সিয়াতিহী, আন্তাল আও্ওয়ালু, ফালায়সা কবলাকা শায়উন, ওয়া আন্তাল আ-খিরু, ফালায়সা বা‘দাকা শায়উন, ওয়া আন্তায্ যা-হিরু, ফালায়সা ফাওককা শাইউন। ওয়া আন্তাল বা-ত্বিনু, ফালায়সা দূনাকা শায়উন, ইকযি ‘আন্নিদ্দায়না, ওয়া আগ্নিনী মিনাল ফাকরি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! যিনি আসমানের রব, জমিনের রব, তথা প্রতিটি জিনিসের রব, শস্যবীজ ও খেজুর দানা ফেড়ে গাছ-পালা উৎপাদনকারী; তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী, আমি তোমার কাছে এমন প্রতিটি অনিষ্টকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই যা তোমার অধিকারে রয়েছে। তুমিই প্রথম- তোমার আগে কেউ ছিল না। তুমিই শেষ- তোমার পরে আর কেউ থাকবে না। তুমি প্রকাশ্য- তোমার চেয়ে প্রকাশ্য আর কিছু নেই। তুমি অন্তর্যামী- তোমার চেয়ে গোপনীয়তা আর কিছু নেই। তুমি আমাকে ঋণমুক্ত করে দাও এবং দারিদ্র্যতা হতে বাঁচিয়ে রেখ [স্বচ্ছলতা দাও])। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; কিছু ভিন্নতাসহ মুসলিমেও)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০৯
وعن أبى الأزهر الأنماري أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا أخذ مضجعه من الليل قال: «بسم اللٰه وضعت جنبى للٰه اللٰهم اغفر لى ذنبى واخسأ شيطانى وفك رهانى واجعلنى فى الندى الأعلٰى». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘বিস্মিল্লা-হি ওয়াযা‘তু যাম্বী লিল্লা-হি, আল্ল-হুম্মাগফিরলী যাম্বী ওয়াখসা’ শায়ত্ব-নী ওয়া ফুক্কা রিহা-নী, ওয়াজ্‘আল্নী ফিন্ নাদিয়্যিল আ‘লা-’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে, আল্লাহর উদ্দেশে আমি পার্শ্ব রাখলাম। হে আল্লাহ! তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা করো। আমার কাছ থেকে শয়তানকে তাড়িয়ে দাও। আমার ঘাড়কে মুক্ত করো এবং আমাকে উচ্চাসনে সমাসীন করো।)। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১০
وعن ابن عمر: أن رسول اللٰه ﷺ كان إذا أخذ مضجعه من الليل قال: «الحمد للٰه الذى كفانى واٰوانى وأطعمنى وسقانى والذى من على فأفضل والذى أعطانى فأجزل الحمد للٰه علٰى كل حال اللٰهم رب كل شىء ومليكه وإلٰه كل شىء أعوذ بك من النار». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী কাফা-নী, ওয়াআ-ওয়া-নী, ওয়া আত্ব‘আমানী, ওয়া সাকা-নী, ওয়াল্লাযী মান্না ‘আলাইয়্যা ফাআফযালা ওয়াল্লাযী আ‘ত্বা-নী ফাআজ্যালা, আলহাম্দুলিল্লা-হি ‘আলা- কুল্লি হা-ল, আল্ল-হুম্মা রব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালীকাহূ, ওয়া ইলা-হা কুল্লি শাইয়িন আ‘ঊযুবিকা মিনান্না-র’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার প্রয়োজন পূরণ করলেন, আমাকে রাতে আশ্রয় দিলেন, আমাকে খাওয়ালেন, আমাকে পান করালেন, যিনি আমার প্রতি দয়াপ্রদর্শন করলেন, অনেক অনুগ্রহ করলেন, যিনি আমাকে দান করলেন এবং যথেষ্ট দান করলেন। তাই সকল অবস্থায় আল্লাহর শুকর। হে আল্লাহ! যিনি প্রতিটি বস্ত্তর প্রতিপালক ও এর অধিকারী এবং প্রত্যেক বস্ত্তর উপাস্য। আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আগুন হতে আশ্রয় চাই। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১১
وعن بريدة قال: شكا خالد بن الوليد إلى النبى ﷺ فقال يا رسول الله ما أنام من الليل من الأرق فقال نبى اللٰه ﷺ: «إذا أويت إلٰى فراشك فقل: اللٰهم رب السماوات السبع وما أظلت ورب الأرضين وما أقلت ورب الشياطين وما أضلت كن لى جارا من شر خلقك كلهم جميعا أن يفرط على أحد منهم أو أن يبغى عز جارك وجل ثناؤك ولا إلٰه غيرك لا إلٰه إلا أنت». رواه الترمذى وقال هٰذا حديث ليس إسناده بالقوى والحكم بن ظهير الراوى قد ترك حديثه بعض أهل الحديث
তিনি বলেন, একদিন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অভিযোগ করলেন, হে আল্লাহর রসূল! (স্বপ্নের কারণে) রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। (এ কথা শুনে) আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বিছানায় ঘুমাতে গেলে এ দু‘আ পড়বে, ‘‘আল্ল-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব্‘ই, ওয়ামা- আযল্লাত, ওয়া রব্বাল আরযীনা ওয়ামা- আকল্লাত, ওয়া রব্বাশ্ শায়া-ত্বীনি ওয়ামা- আযল্লাত, কুল্লী জা-রম্ মিন্ শাররি খলকিকা কুল্লিহিম জামী‘আন আই ইয়াফ্রুত্বা ‘আলাইয়্যা আহাদুম্ মিনহুম আও আই ইয়াবগিয়া ‘আযযা জা-রুকা ওয়া জাল্লা সানা-উকা, ওয়ালা- ইলা-হা গইরুকা, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! সাত আকাশের এবং এ সাত আকাশ যাকে ছায়া দিয়েছে তার রব! আর জমিনসমূহ ও তা যাকে ধারণ করেছে তার রব! সকল শয়তান ও তারা যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদের রব! তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান কর, তোমার সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হতে; তাদের কেউ যে আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করুক অথবা আমার ওপর অবিচার করুক তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান করো। বিজয়ী সে যাকে তুমি নিরাপত্তা দান করেছ। মহান প্রশংসা তোমার, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসের সানাদ দুর্বল। কোন কোন হাদীস বিশারদ এর রাবী হাকাম ইবনু যুহায়র-কে মাতরূক বা পরিত্যাজ্য বলেছেন।)[১]