দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭৫

عن عقبة بن عامر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن مثل الذى يعمل السيئات ثم يعمل الحسنات كمثل رجل كانت عليه درع ضيقة قد خنقته ثم عمل حسنة فانفكت حلقة ثم عمل أخرٰى فانفكت أخرٰى حتٰى تخرج إلى الأرض». رواه فى شرح السنة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অসৎ কাজ করার পর আবার সৎ কাজ করে, তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির মতো, যার গায়ে সংকীর্ণ বর্ম রয়েছে এবং তা তার গলা কষে ধরেছে। অতঃপর সে কোন সৎ কাজ করল যাতে তার একটি গিরা খসে পড়ল। অতঃপর আর একটি সৎ কাজ করল এতে আর একটি গিরা খুলে গেল। পরিশেষে বর্মটি খুলে মাটিতে পড়ে গেল। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭৬

وعن أبى الدرداء: أنه سمع النبى ﷺ يقص على المنبر وهو يقول: ﴿ولمن خاف مقام ربهٗ جنتٰن﴾ قلت: وإن زنٰى وإن سرق؟ يا رسول اللٰه فقال الثانية: ﴿ولمن خاف مقام ربهٗ جنتٰن﴾ فقلت الثانية: وإن زنٰى وإن سرق؟ يا رسول اللٰه فقال الثالثة: ﴿ولمن خاف مقام ربهٗ جنتٰن﴾ فقلت الثالثة: وإن زنٰى وإن سرق؟ يا رسول اللٰه قال: «وإن رغم أنف أبى الدرداء». رواه أحمد

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দানকালে বলতে শুনেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি (কিয়ামাতের দিন হিসাব দেবার জন্য) নিজের রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য দু’টি জান্নাত রয়েছে’’- (সূরা আর্ রহমান ৫৫ : ৪৬)। বর্ণনাকারী [আবূ দারদা (রাঃ)] বলেন, আমি (এ কথা শুনে) জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি সে যিনা করে অথবা চুরি করে, তারপরও কি (সে দু’টি জান্নাত পাবে)? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বিতীয়বার বললাম, ‘‘যে ব্যক্তি (কিয়ামাতের দিন) নিজের রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য দু’টি জান্নাত রয়েছে’’। আমি দ্বিতীয়বার বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি সে যিনা করে অথবা চুরি করে, তারপরও কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তৃতীয়বারও বললেন, ‘‘যে ব্যক্তি (কিয়ামাতের দিন) নিজের রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য দু’টি জান্নাত রয়েছে’’। আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! সে ব্যক্তি যিনা করে অথবা চুরি করে, তারপরও কি? এবারও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, যদি আবূ দারদার নাকও কাটা যায় (ধূলায়িত হয়)। (আহমাদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭৭

وعن عامر الرام قال: بينا نحن عنده يعنى عند النبى ﷺ إذ أقبل رجل عليه كساء وفى يده شىء قد التف عليه فقال: يا رسول اللٰه مررت بغيضة شجر فسمعت فيها أصوات فراخ طائر فأخذتهن فوضعتهن فى كسائى فجاءت أمهن فاستدارت علٰى رأسى فكشفت لها عنهن فوقعت عليهن فلففتهن بكسائى فهن أولاء معى قال: «ضعهن» فوضعتهن وأبت أمهن إلا لزومهن فقال رسول اللٰه ﷺ: «أتعجبون لرحم أم الفراخ فراخها؟ فو الذى بعثنى بالحق:اللٰه أرحم بعباده من أم الفراخ بفراخها ارجع بهن حتٰى تضعهن من حيث أخذتهن وأمهن معهن». فرجع بهن. رواه أبو داود

তিনি বলেন, একবার আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি আসলো, যার গায়ে একটি চাদর জাতীয় জিনিস জড়ানো ছিল, আর তার হাতে কোন কিছু ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি বনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময়ে পাখির বাচ্চার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বাচ্চাগুলোকে আমার চাদরে রাখলাম। হঠাৎ এদের মা এসে আমার মাথার উপর ঘুরতে লাগল। অবস্থাদৃষ্টে আমি তার জন্য বাচ্চাগুলোকে উন্মুক্ত করলাম, এমন সময় মা পাখিটি ওদের মধ্যে এসে মিলে গেল। তখন আমি এদের সকলকে আমার চাদরে জড়িয়ে ফেললাম। এগুলো এখনো আমার সাথে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এদেরকে ছেড়ে দাও। আমি সাথে সাথে ছেড়ে দিলাম, কিন্তু তাদের মা বাচ্চাদের ছেড়ে গেল না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাচ্চাদের ওপর তাদের মায়ের মমত্ববোধ দেখে তোমরা কী আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ? সেই সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, বাচ্চাগুলোর ওপর তাদের মায়ের দয়ার চেয়েও অবশ্যই আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর বেশি দয়াবান। এগুলোকে নিয়ে যাও এবং যেখান থেকে নিয়ে এসেছ যথাস্থানে তাদের মায়ের সাথে রেখে এসো। তাই সে (বাচ্চাগুলো) নিয়ে গেল। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭৮

عن عبد اللٰه بن عمر قال: كنا مع النبى ﷺ فى بعض غزواته فمر بقوم فقال: «من القوم؟» قالوا: نحن المسلمون وامرأة تحضب بقدرها ومعها ابن لها فإذا ارتفع وهج تنحت به فأتت النبى ﷺ فقال: أنت رسول اللٰه؟ قال: «نعم» قالت: بأبى أنت وأمى أليس اللٰه أرحم الراحمين؟ قال: «بلٰى» قالت: أليس اللٰه أرحم بعباده من الأم ولدها؟ قال: «بلٰى» قالت: إن الأم لا تلقى ولدها فى النار فأكب رسول اللٰه ﷺ يبكى ثم رفع رأسه إليها فقال: «إن اللٰه لا يعذب من عباده إلا المارد المتمرد الذى يتمرد على اللٰه وأبٰى أن يقول: لا إلٰه إلا الله». رواه ابن ماجه

তিনি বলেন, আমরা কোন এক যুদ্ধে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি একদল লোকের পাশ দিয়ে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন্ জাতি? তারা উত্তরে বলল, আমরা মুসলিম। জনৈকা মহিলা তখন তার পাতিলের নীচে আগুন ধরাচ্ছিল, তার সাথে ছিল তারই একটি শিশু সন্তান। হঠাৎ আগুনের একটি ফুলকি উপরের দিকে জ্বলে উঠলে তখনই সে তার সন্তানকে দূরে সরিয়ে দিলো। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মহিলাটি এসে বলল, আপনিই কী আল্লাহর রসূল? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আপনার জন্য আমার মাতাপিতা কুরবান হোক। বলুন! আল্লাহ তা‘আলা কি সবচেয়ে বড় দয়ালু নন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্যই। মহিলাটি বলল, তবে আল্লাহ তা‘আলা কি তাঁর বান্দাদের ওপর সন্তানের প্রতি মায়ের দয়ার চেয়ে বড় দয়ালু নন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্যই। তখন মহিলাটি বলল, মা তো কক্ষনো তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে না। মহিলার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীচের দিকে মাথা নুইয়ে কাঁদতে লাগলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা উঠিয়ে মহিলার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে একান্ত অবাধ্য ছাড়া কাউকেও ‘আযাব (শাস্তি) দেন না- যে আল্লাহর সাথে অবাধ্যতা করে ও যারা ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই) বলতেও অস্বীকার করে। (ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭৯

وعن ثوبان عن النبى ﷺ قال: «إن العبد ليلتمس مرضاة اللٰه فلا يزال بذٰلك فيقول اللٰه عز وجل لجبريل: إن فلانا عبدى يلتمس أن يرضينى ألا وإن رحمتى عليه فيقول جبريل: رحمة اللٰه علٰى فلان ويقولها حملة العرش ويقولها من حولهم حتٰى يقولها أهل السماوات السبع ثم تهبط له إلى الأرض». رواه أحمد

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায় আর সাধ্যাতীত চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। তাই আল্লাহ তা‘আলা জিবরীলকে বলেন, আমার অমুক বান্দা আমাকে সন্তুষ্ট করতে চায়। জেনে রাখো, তার প্রতি আমার রহমত আছে। তখন জিবরীল বলেন, অমুকের প্রতি আল্লাহর রহমত আছে, এ কথা বলতে থাকেন ‘আরশ বহনকারী মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ), তাদের আশেপাশের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)-ও। অবশেষে সপ্ত আকাশের অধিবাসীগণও অনুরূপ কথা বলেন। অতঃপর তার জন্য রহমত জমিনের দিকে নেমে আসতে থাকে। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮০

وعن أسامة بن زيد عن النبى ﷺ فى قول اللٰه عز وجل: ﴿فمنهم ظالم لنفسهٖ ومنهم مقتصد ومنهم سابق بالخيرات﴾ قال: كلهم فى الجنة. رواه البيهقى فى كتاب البعث والنشور

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার এ কালাম, ‘‘ফামিনহুম যা-লিমুন লিনাফসিহী, ওয়া মিনহুম মুকতাসিদুন্, ওয়া মিনহুম সা-বিকুন বিল্ খইর-ত’’ (অর্থাৎ- বান্দাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি যুলম করে, তাদের মধ্যে কেউ ভালো মন্দ উভয়ই করে, আবার কেউ কল্যাণের দিকে অগ্রবর্তী হয়।)- (সূরা আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩২)। এরা সকলেই জান্নাতে যাবে। (ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘‘কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية