মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৪
عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه عز وجل ليرفع الدرجة للعبد الصالح فى الجنة فيقول: يا رب أنٰى لى هٰذه؟ فيقول: باستغفار ولدك لك». رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হলো? তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে। (আহমাদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৫
وعن عبد اللٰه بن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما الميت فى القبر إلا كالغريق المتغوث ينتظر دعوة تلحقه من أب أو أم أو أخ أو صديق فإذا لحقته كان أحب إليه من الدنيا وما فيها وإن اللٰه تعالٰى ليدخل علٰى اهل القبور من دعاء أهل الأرض أمثال الجبال وإن هدية الأحياء إلى الأموات الاستغفار لهم». رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী। সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধুর দু‘আ পৌঁছার প্রতীক্ষায় থাকে। তার কাছে যখন দু‘আ পৌঁছে, তখন তার কাছে সারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে এ দু‘আ বেশি প্রিয় হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াবাসীদের দু‘আয় কবরবাসীদেরকে পাহাড় পরিমাণ রহমত পৌঁছান এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের পক্ষ থেকে হাদিয়্যাহ্ (উপহার) হলো তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়া। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৬
وعن عبد الله بن بسر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «طوبٰى لمن وجد فى صحيفته استغفارا كثيرا». رواه ابن ماجه وروى النسائى فى «عمل اليوم والليلة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৌভাগ্যবান হবে সে, যার ‘আমালনামায় ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়া বেশি পাওয়া যাবে। (ইবনু মাজাহ। আর ইমাম নাসায়ী তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ্ ‘‘একদিন ও একরাতের ‘আমাল [কাজ]’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৭
وعن عائشة أن النبى ﷺ كان يقول: «اللٰهم اجعلنى من الذين إذا أحسنوا استبشروا وإذا أساؤوا استغفروا». رواه ابن ماجه والبيهقى فى الدعوات الكبير
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো যারা ভাল কাজ করে খুশী হয় ও মন্দ কাজ করে ক্ষমা চায়। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৮
وعن الحارث بن سويد قال: حدثنا عبد اللٰه بن مسعود حديثين: أحدهما عن رسول اللٰه ﷺ والاٰخر عن نفسه قال: إن المؤمن يرٰى ذنوبه كأنه قاعد تحت جبل يخاف أن يقع عليه وإن الفاجر يرٰى ذنوبه كذباب مر على انفه فقال به هكذا أى بيده فذبه عنه ثم قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «الله أفرح بتوبة عبده المؤمن من رجل نزل فى ارض دوية مهلكة معه راحلته عليها طعامه وشرابه فوضع رأسه فنام نومة فاستيقظ وقد ذهبت راحلته فطلبها حتى اذا اشتد عليه الحر والعطش أو ما شاء اللٰه قال: أرجع إلٰى مكانى الذى كنت فيه فأنام حتٰى اموت فوضع رأسه علٰى ساعده ليموت فاستيقظ فإذا راحلته عنده عليها زاده وشرابه فاللٰه أشد فرحا بتوبة العبد المؤمن من هٰذا براحلته وزاده». روٰى مسلم المرفوع إلٰى رسول الله ﷺ منه فحسب وروى البخارى الموقوف على ابن مسعود أيضا
বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) আমাকে দু’টো কথা বলেছেন- একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে, আর অপরটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, মু’মিন নিজের গুনাহকে মনে করে সে যেন কোন পাহাড়ের নীচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করে। অপরদিকে গুনাহগার ব্যক্তি নিজের গুনাহকে দেখে একটি মাছির মতো, যা তার নাকের উপর বসল, আর তা সে হাত দিয়ে নাড়িয়ে তাড়িয়ে দিলো। এরপর তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় সে লোকের চেয়ে বেশি আনন্দিত হন, যে লোক কোন ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছেছে, আর তার সাথে তার বাহন রয়েছে, যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় রয়েছে। সেখানে সে জমিনে মাথা রাখল ও কিছুক্ষণ ঘুমাল। অতঃপর জেগে দেখল তার বাহন পালিয়ে গেছে। সে তা খুঁজতে শুরু করল। অবশেষে গরম ও তৃষ্ণা এবং অপরাপর দুঃখ-বেদনা যা আল্লাহর মর্জি তাকে দুর্বল করে ফেলল। তখন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে (আমৃত্যু) শুয়ে থাকব। সুতরাং সে সেখানে গিয়ে নিজের বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল, যাতে সে মৃত্যুবরণ করে। হঠাৎ এক সময় জেগে দেখে তার বাহন তার কাছে, বাহনের উপর তার খাদ্য-সামগ্রীও আছে। তখন সে তার বাহন ও খাদ্য-সামগ্রী ফেরত পাওয়ার আকস্মিকতায় যেরূপ খুশী হয়, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় এর চেয়েও বেশি খুশী হয়। (ইমাম মুসলিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শুধু মারফূ‘ অংশ এবং ইমাম বুখারী ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে মাওকূফ ও মারফূ‘ উভয় অংশ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৯
وعن على قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه يحب العبد المؤمن المفتن التواب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ওই মু’মিন বান্দাকে ভালবাসেন, যে গুনাহ করে তাওবাহ্ করে।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬০
وعن ثوبان قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «ما أحب أن لى الدنيا بهٰذه الاٰية ﴿يا عبادى الذين أسرفوا علٰى أنفسهم لا تقنطوا﴾ الاٰية» فقال رجل: فمن أشرك؟ فسكت النبى ﷺ ثم قال: «ألا ومن أشرك» ثلاث مرات
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম, লা- তাকনাত্বূ ......’’ (অর্থাৎ- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমাত হতে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)। এ আয়াতের পরিবর্তে সারা দুনিয়া হাসিল হওয়াকেও আমি পছন্দ করি না। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬১
وعن أبى ذر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه تعالٰى ليغفر لعبده ما لم يقع الحجاب. قالوا: يا رسول اللٰه وما الحجاب؟ قال: أن تموت النفس وهى مشركة روى الأحاديث الثلاثة أحمد وروى البيهقى الأخير فى كتاب البعث والنشور
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত (আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যে) পর্দা না পড়ে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পর্দা কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা। উপরোক্ত তিনটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, আর শেষ হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬২
وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من لقى اللٰه لا يعدل به شيئا فى الدنيا ثم كان عليه مثل جبال ذنوب غفر اللٰه له». رواه البيهقى فى كتاب البعث والنشور
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কাউকেও আল্লাহর সমতুল্য মনে না করে মৃত্যুবরণ করবে, তার পাহাড় পরিমাণ গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। (বায়হাক্বী ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৩
وعن عبد اللٰه بن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: التائب من الذنب كمن لا ذنب له. رواه ابن ماجه والبيهقى فى شعب الإيمان وقال تفرد به النهرانى وهو مجهول. وفى شرح السنة روٰى عنه موقوفا قال: الندم توبة والتائب كمن لا ذنب له
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহ হতে তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই। (ইবনু মাজাহ।) আর বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বলেন, নাহরানী এটা একাই বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি মাজহূল ব্যক্তি। আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় ইমাম বাগাবী এটাকে মাওকূফ [‘আবদুল্লাহ-এর কথা] হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি [‘আবদুল্লাহ] বলেছেন, ‘‘অনুশোচনাই হলো তাওবাহ্, আর তাওবাহকারী হলো ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই’’।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৪
عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: لما قضى اللٰه الخلق كتب كتابا فهو عنده فوق عرشه: إن رحمتى سبقت غضبى «وفى رواية» غلبت غضبى. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা মাখলূকাত (সৃষ্টিজগত) সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলে একটি কিতাব লিখলেন, যা ‘আরশের উপর সংরক্ষিত আছে। এতে আছে, আমার রহমত আমার রাগকে প্রশমিত করেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমার রাগের উপর (রহমত) জয়ী হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৫
وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن للٰه مائة رحمة أنزل منها رحمة واحدة بين الجن والإنس والبهائم والهوام فبها يتعاطفون وبها يتراحمون وبها تعطف الوحش علٰى ولدها وأخر اللٰه تسعا وتسعين رحمة يرحم بها عباده يوم القيامة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার একশটি রহমত রয়েছে, তন্মধ্যে মাত্র একটি রহমত তিনি (দুনিয়ার) জিন্, মানুষ, পশু ও কীট-পতঙ্গের জন্যে অবতীর্ণ করেছেন। এই একটি রহমত দিয়ে তারা পরস্পরকে স্নেহ-মমতা করে, এ রহমাত দিয়ে তারা পরস্পরকে দয়া করে। এর দ্বারাই বন্য প্রাণীরা এদের সন্তান-সন্ততিকে ভালবাসে। আর অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমাত আল্লাহ তা‘আলা পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দিয়েছেন। যা দিয়ে তিনি কিয়ামাতের দিন তাঁর বান্দাদেরকে রহম করবেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৬
وفى رواية لمسلم عن سلمان نحوه وفى اٰخره قال: «فإذا كان يوم القيامة أكملها بهٰذه الرحمة
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল রহমত দিয়ে তাকে পূর্ণতা দান করবেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৭
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لو يعلم المؤمن ما عند اللٰه من العقوبة ما طمع بجنته أحد ولو يعلم الكافر ما عند اللٰه من الرحمة ما قنط من جنته أحد». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে কি শাস্তি রয়েছে মু’মিন বান্দা যদি তা জানত, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর কাফির যদি জানত আল্লাহর কাছে কি দয়া রয়েছে, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাত হতে নিরাশ হত না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৮
وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: الجنة أقرب إلٰى أحدكم من شراك نعله والنار مثل ذٰلك. رواه البخارى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত তোমাদের কারো জন্য জুতার ফিতা হতেও বেশি কাছে, আর জাহান্নামও ঠিক অনুরূপ। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قال رجل لم يعمل خيرا قط لأهله وفى رواية أسرف رجل علٰى نفسه فلما حضره الموت أوصٰى بنيه إذا مات فحرقوه ثم اذروا نصفه فى البر ونصفه فى البحر فو الله لئن قدر اللٰه عليه ليعذبنه عذابا لا يعذبه أحدا من العالمين فلما مات فعلوا ما أمرهم فأمر اللٰه البحر فجمع ما فيه وأمر البر فجمع ما فيه ثم قال له: لم فعلت هٰذا؟ قال: من خشيتك يا رب وأنت أعلم فغفر له». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন এক ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনকে বলল, কোন সময় সে কোন ভাল কাজ করেনি। আর এক বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি নিজের ওপর অবিচার করেছে। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে নিজের সন্তান-সন্ততিকে ওয়াসিয়্যাত করল, যখন সে মারা যাবে তাকে যেন পুড়ে ফেলা হয়। অতঃপর মৃতদেহের ছাইভস্মের অর্ধেক স্থলভাগে, আর অর্ধেক সমুদ্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহর কসম! যদি তিনি (আল্লাহ) তাকে ধরতে পারেন তাহলে এমন শাস্তি দিবেন, যা দুনিয়ার কাউকেও কক্ষনো দেননি। সে মারা গেলে তার সন্তানেরা তার নির্দেশ মতই কাজ করল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সমুদ্রকে হুকুম করলেন, সমুদ্র তার মধ্যে যা ছাইভস্ম পড়েছিল সব একত্র করে দিলো। ঠিক এভাবে স্থলভাগকে নির্দেশ করলেন, স্থলভাগ তার মধ্যে যা ছাইভস্ম ছিল সব একত্র করে দিলো। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এরূপ কাজ করলে? (উত্তরে বললো) তোমার ভয়ে ‘হে রব!’ তুমি তো তা জানো। তার এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭০
وعن عمر بن الخطاب قال: قدم على النبى ﷺ سبى فإذا امرأة من السبى قد تحلب ثديها تسعٰى إذا وجدت صبيا فى السبى أخذته فألصقته ببطنها وأرضعته فقال لنا النبى ﷺ: أترون هٰذه طارحة ولدها فى النار؟ فقلنا: لا وهى تقدر علٰى ان لا تطرحه فقال: «اللٰه أرحم بعباده من هٰذه بولدها. (متفق عليه)
তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী এলো। তখন দেখা গেল, একটি মহিলার বুকের দুধ ঝরে পড়ছে, আর সে শিশু সন্তানের সন্ধানে দৌড়াদৌড়ি করছে। হঠাৎ বন্দীদের মধ্যে একটি শিশু দেখতে পেল। তাকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে সে দুধ পান করাল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমাদের কি মনে হয় এ মহিলাটি স্বীয় সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে? উত্তরে আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রসূল! কক্ষনো না। যদি সে নিক্ষেপ না করার সামর্থ্য রাখে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্যই এ মহিলার সন্তানের প্রতি মায়া-মমতার চেয়ে বান্দার ওপর আল্লাহ তা‘আলার মায়া-মমতা অনেক বেশি। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لن ينجى أحدا منكم عمله» قالوا: ولا أنت يا رسول اللٰه؟ قال: «ولا أنا إلا أن يتغمدنى اللٰه منه برحمته فسددوا وقاربوا واغدوا وروحوا وشىء من الدلجة والقصد القصد تبلغوا». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই তার ‘আমাল (‘ইবাদাত-বন্দেগী) মুক্তি দিতে পারবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেও না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকেও নয়। অবশ্য যদি আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত দিয়ে আমাকে ঢেকে নেন। তবুও তোমরা সঠিকভাবে ‘আমাল করতে থাকবে ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতে কিছু ‘আমাল করবে। সাবধান! তোমরা (‘ইবাদাতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। তাতে তোমরা তোমাদের মঞ্জীলে মাকসূদে পৌঁছে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭২
وعن جابر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يدخل أحدا منكم عمله الجنة ولا يجيره من النار ولا أنا إلا برحمة الله». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই তার ‘আমাল (‘ইবাদাত-বন্দেগী) জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে না এবং তাকে জাহান্নাম হতেও মুক্তি দিতে পারবে না, এমনকি আল্লাহর রহমত ছাড়া আমাকেও নয়। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭৩
وعن أبى سعيد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا أسلم العبد فحسن إسلامه يكفر اللٰه عنه كل سيئة كان زلفها وكان بعد القصاص: الحسنة بعشر أمثالها إلٰى سبعمائة ضعف إلٰى أضعاف كثيرة والسيئة بمثلها إلا أن يتجاوز اللٰه عنها ». رواه البخارى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন ইসলাম কবূল করে, তার ইসলাম খাঁটি হয়। (ইসলাম গ্রহণের কারণে) তার প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ আল্লাহ তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেন। অতঃপর তার এক একটি নেক কাজের তার দশ গুণ হতে সাতশ’ গুণ, বরং অনেক গুণ পর্যন্ত লেখা হয়। আর পাপ কাজের জন্য একগুণ মাত্র। তবে আল্লাহ যাকে (ইচ্ছা) এ পাপ কাজকে ছেড়ে যান। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭৪
وعن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه كتب الحسنات والسيئات: فمن هم بحسنة فلم يعملها كتبها اللٰه له عنده حسنة كاملة فإن هم بها فعملها كتبها اللٰه له عنده عشر حسنات إلٰى سبعمائة ضعف إلٰى أضعاف كثيرة ومن هم بسيئة فلم يعملها كتبها اللٰه عنده حسنة كاملة فإن هو هم بها فعملها كتبها الله له سيئة واحدة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা সৎ-অসৎ চিহ্নিত করে রেখেছেন। যে ব্যক্তি সৎ কাজের সংকল্প করে, কিন্তু তা করেনি আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একটি পূর্ণ নেকী লিখে নেন। আর যদি সৎ কাজের সংকল্প করার পর তা বাস্তবায়ন করে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে এই একটি সৎ কাজের জন্য দশ গুণ হতে সাতশ’ গুণ, বরং বহুগুণ পর্যন্ত সৎ কাজ হিসেবে লিখে রাখেন। আর যে ব্যক্তি অসৎ কাজের সংকল্প করে, কিন্তু বাস্তবে তা না করে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একে একটি পূর্ণ নেক কাজ হিসেবে লিখে নেন। আর যদি অসৎ কাজের সংকল্প করার পর তা বাস্তবে করে, তাহলে আল্লাহ এর জন্য তার একটি মাত্র গুনাহ লিখে রাখেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]