দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৬

عن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قال اللٰه تعالٰى: يا ابن اٰدم إنك ما دعوتنى ورجوتنى غفرت لك علٰى ما كان فيك ولا أبالى يا ابن اٰدم إنك لو بلغت ذنوبك عنان السماء ثم استغفرتنى غفرت لك ولا أبالى يا ابن اٰدم إنك لو لقيتنى بقراب الأرض خطايا ثم لقيتنى لا تشرك بى شيئا لأتيتك بقرابها مغفرة». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট ক্ষমার আশা পোষণ করবে, তোমার অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আমি কারো পরোয়া করি না, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব, আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবীসম গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এবং আমার সাথে কাউকে শারীক না করে সাক্ষাৎ করো, আমি পৃথিবীসম ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৭

ورواه أحمد والدارمى عن أبى ذر، وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৮

وعن ابن عباس رضي اللٰه عنهما عن رسول اللٰه ﷺ قال: «قال اللٰه تعالٰى: من علم أنى ذو قدرة علٰى مغفرة الذنوب غفرت له ولا أبالى ما لم يشرك بى شيئا». رواه فى شرح السنة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যে জানে আমি গুনাহ মাফ করে দেয়ার মালিক। আমি তাকে মাফ করে দেবো এবং আমি কারো পরোয়া করি না যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমার সাথে কাউকে শারীক না করবে। (শারহুস্ সুন্নাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৯

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من لزم الاستغفار جعل اللٰه له من كل ضيق مخرجا ومن كل هم فرجا ورزقه من حيث لا يحتسب». رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন এবং প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করেন। আর তাকে এমন রিযক দান করেন, যা সে কক্ষনো ভাবতেও পারেনি। (আহমদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪০

وعن أبى بكر الصديق قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما أصر من استغفر وإن عاد فى اليوم سبعين مرة». رواه الترمذى وأبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে সত্তরবার করে একই গুনাহ করার পরও আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবে, (ক্ষমা চাওয়ার কারণে) সে যেন প্রকৃতপক্ষে গুনাহ বার বার করেনি। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪১

وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «كل بنى اٰدم خطاء وخير الخطائين التوابون». رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর উত্তম পাপী হলো সে ব্যক্তি যে (গুনাহ করে) তাওবাহ্ করে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن المؤمن إذا أذنب كانت نكتة سوداء فى قلبه فإن تاب واستغفر صقل قلبه وإن زاد زادت حتٰى تعلو قلبه فذلكم الران الذى ذكر اللٰه تعالٰى ﴿كلا بل ران علٰى قلوبهم ما كانوا يكسبون﴾ رواه أحمد والترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন বান্দা যখন গুনাহ করে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে ব্যক্তি তাওবাহ্ করল ও ক্ষমা চাইল, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে গেল (কালিমুক্ত হলো), আর যদি গুনাহ বেশি হয় তাহলে কালো দাগও বেশি হয়। অবশেষে তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এটা সেই মরিচা যার ব্যাপারে কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘এটা কক্ষনো নয়, বরং তাদের অন্তরের উপর (গুনাহের) মরিচা লেগে গেছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন করেছে’’- (সূরা আল মুতাফফিফীন ৮৩ : ১৪)। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৩

وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه يقبل توبة العبد ما لم يغرغر». رواه الترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার প্রাণ (রূহ) ওষ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবূল করেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৪

وعن أبى سعيد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن الشيطان قال: وعزتك يا رب لا أبرح أغوى عبادك ما دامت أرواحهم فى اجسادهم فقال الرب عز وجل: وعزتى وجلالى وارتفاع مكانى لا أزال أغفر لهم ما استغفرونى». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান (আল্লাহ তা‘আলার কাছে) বলল, হে মহান প্রতিপালক, তোমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমার বান্দাদেরকে প্রতিনিয়ত গুমরাহ করতে থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে রূহ থাকবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আমার ইজ্জত, আমার মর্যাদা ও আমার সুউচ্চ অবস্থানের কসম! আমার বান্দা আমার কাছে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি সর্বদা তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৫

وعن صفوان بن عسال قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن اللٰه تعالٰى جعل بالمغرب بابا عرضه مسيرة سبعين عاما للتوبة لا يغلق ما لم تطلع الشمس من قبله وذٰلك قول اللٰه عز وجل: ﴿يوم يأتى بعض اٰيات ربك لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن اٰمنت من قبل﴾. رواه الترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাওবাহ্ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না। আর এটাই হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ ‘‘যেদিন (কিয়ামাতের পূর্বে) তোমার ‘রবের’ কোন বিশেষ নিদর্শন এসে পৌঁছবে, সেদিন এ ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। কেননা এ নিদর্শন আসার আগে ঈমান আনেনি’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৫৮)। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৬

وعن معاوية قال قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تنقطع الهجرة حتٰى ينقطع التوبة ولا تنقطع التوبة حتٰى تطلع الشمس من مغربها». رواه أحمد وأبو داود والدارمى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিজরতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে না ততকক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তাওবার দরজা বন্ধ না হয়। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না, সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (আহমদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৭

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن رجلين كانا فى بنى إسرائيل متحابين أحدهما مجتهد للعبادة والاٰخر يقول: مذنب فجعل يقول: أقصر عما أنت فيه فيقول خلنى وربى حتٰى وجده يوما علٰى ذنب استعظمه فقال: أقصر فقال: خلنى وربى أبعثت على رقيبا؟ فقال: واللٰه لا يغفر اللٰه لك أبدا ولا يدخلك الجنة فبعث اللٰه إليهما ملكا فقبض أرواحهما فاجتمعا عنده فقال للمذنب: ادخل الجنة برحمتى وقال للاٰخر: أتستطيع أن تحظر علٰى عبدى رحمتى؟ فقال: لا يا رب قال: اذهبوا به إلى النار». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে দু’ ব্যক্তি পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের একজন ছিল বড় ‘আবিদ আর অন্যজন ছিল গুনাহগার। ‘আবিদ তাকে বলত, তুমি যেসব (গুনাহের) কাজে লিপ্ত আছো তা হতে বিরত থাক। গুনাহগার বলত, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। পরিশেষে একদিন ‘আবিদ গুনাহগার ব্যক্তিকে এমন একটি বড় গুনাহের কাজে লিপ্ত পেলো, যা তার কাছে খুবই গুরুতর বলে মনে হল এবং বলল, বিরত থাকো। সে বলল, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। তোমাকে কী আমার জন্য পাহারাদার করে পাঠানো হয়েছে? ‘আবিদ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! তোমাকে কক্ষনো আল্লাহ ক্ষমা করবেন না এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) পাঠালেন। সে তাদের উভয়ের রূহ কবয করল। তারা উভয়েই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলো। তখন গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহ বললেন, আমার রহমাতের মাধ্যমে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। আর ‘আবিদ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি আমাকে আমার বান্দার প্রতি রহম করতে বাধা দিতে পারো? সে বলল, ‘না, হে রব’। তখন আল্লাহ বললেন, একে জাহান্নামে প্রবেশ করাও। (আহমাদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৮

وعن أسماء بنت يزيد قالت: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقرأ: ﴿ياعبادى الذى أسرفوا على انفسهم لا تقنطوا من رحمة اللٰه إن اللٰه يغفر الذنوب جميعا﴾. ولا يبالى. رواه أحمد والترمذى وقال هٰذا حديث حسن غريب وفى شرح السنة يقول: بدل: يقرأ

তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন মাজীদের এ আয়াত পড়তে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযী আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম লা- তাকনাত্বূ মির্ রহমাতিল্লা-হি, ইন্নাল্ল-হা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা জামী‘আ-’’ (অর্থাৎ- ‘‘হে বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন’’- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩।) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ কারো পরোয়া করেন না। (আহমদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব; আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় রয়েছে يَقْرَأ (পড়েছেন) এর পরিবর্তে يَقُولُ (বলেছেন)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৯

وعن ابن عباس: فى قوله تعالٰى: (إلا اللمم) قال رسول اللٰه ﷺ: إن تغفر اللٰهم تغفر جما وأى عبد لك لا ألما. رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث حسن صحيح غريب

আল্লাহর কালামের এ বাণী, ‘‘ইল্লাল্লামামা’’ অর্থাৎ- ‘‘সগীরাহ্ গুনাহ ছাড়া’’। এক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি তুমি ক্ষমা করো, ক্ষমা করো বড় গুনাহ। কেননা এমন কোন বান্দা আছে কি, যে সগীরাহ্ গুনাহ করেনি। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫০

وعن أبى ذر قال قال رسول اللٰه ﷺ: يقول اللٰه تعالٰى يا عبادى كلكم ضال إلا من هديت فاسألونى الهدٰى أهدكم وكلكم فقراء إلا من أغنيت فاسألونى أرزقكم وكلكم مذنب إلا من عافيت فمن علم منكم أنى ذو قدرة على المغفرة فاستغفرنى غفرت له ولا أبالى ولو أن أولكم واٰخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا علٰى اتقٰى قلب عبد من عبادى ما زاد فى ملكى جناح بعوضةولو أن أولكم واٰخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا على اشقٰى قلب عبد من عبادى ما نقص ذٰلك من ملكى جناح بعوضة. ولو أن أولكم واٰخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا فى صعيد واحد فسأل كل إنسان منكم ما بلغت أمنيته فأعطيت كل سائل منكم ما نقص ذٰلك من ملكى إلا كما لو أن أحدكم مر بالبحر فغمس فيه إبرة ثم رفعها ذٰلك بأنى جواد ماجد أفعل ما أريد عطائى كلام وعذابى كلام إنما أمرى لشىء إذا أردت أن أقول له (كن فيكون). رواه أحمد والترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের সকলেই পথহারা, কিন্তু তারা ছাড়া যাদেরকে আমি পথ দেখিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে পথের সন্ধান চাও, আমি তোমাদেরকে পথ দেখাব। তোমাদের সকলেই অভাবগ্রস্ত, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি অভাবমুক্ত করেছি। অতএব তোমরা আমার কাছে চাও আমি তোমাদেরকে রিযক দান করব। তোমাদের সকলেই পাপী, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি নিরাপদে রেখেছি। অতঃপর তোমাদের যে বিশ্বাস স্থাপন করে, আমি ক্ষমা করে দেয়ার শক্তি রাখি, সে যেন আমার কাছে ক্ষমা চায় আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো, আর (এ ব্যাপারে) আমি কারো পরোয়া করি না। যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত, তোমাদের জীবিত ও মৃত তোমাদের কাঁচা ও শুকনো (শিশু ও বৃদ্ধ) সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর হয়ে যায়, তথাপিও তা আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও বাড়াতে পারবে না। আর যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতভাগ্য ব্যক্তির অন্তরের মতো এক অন্তর হয়ে যায়, তাও আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও কমাতে পারবে না। তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই যদি এক প্রান্তসীমায় জমা হয়, এরপর তোমাদের প্রত্যেকে তার ইচ্ছানুযায়ী আমার কাছে চায় (প্রার্থনা করে)। আর আমি তোমাদের প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে (প্রত্যাশা অনুযায়ী) দান করি, তা আমার সাম্রাজ্যে কিছুমাত্র কমাতে পারবে না। যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের কাছে গিয়ে যদি ওতে একটি সুঁই ডুবিয়ে ওঠায়। এটা এ কারণে যে, আমি বড় দাতা, প্রশস্ত দাতা; আমি যা ইচ্ছা তাই করি। আমার দান হলো, আমার কালাম মাত্র। আমার শাস্তি হলো, আমার হুকুম মাত্র। আর আমি কোন কিছু করতে চাইলে শুধু বলি, ‘হয়ে যাও’, তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। (আহমদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫১

وعن أنس عن النبى ﷺ أنه قرأ ﴿هو أهل التقوٰى وأهل المغفرة﴾ قال: قال ربكم أنا أهل أن أتقٰى فمن اتقانى فأنا أهل أن أغفر له. رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি (আল্লাহ তা‘আলার) এ আয়াত পড়লেন, ‘‘হুওয়া আহলুত্ তাকওয়া- ওয়া আহলুল মাগফিরহ্’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ হলেন ভয়ের অধিকারী ও মাগফিরাত করার মালিক)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের রব বলেন, আমি লোকের ভয় করার অধিকারী। তাই যে আমাকে ভয় করল, আমি তাকে মাফ করারও অধিকারী। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫২

وعن ابن عمر قال: إن كنا لنعد لرسول اللٰه ﷺ فى المجلس يقول: «رب اغفر لى وتب على إنك أنت التواب الغفور» مائة مرة. رواه أحمد والترمذى وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, আমরা একই মাজলিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসতিগফার একশ’বার গণনা করতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘রব্বিগফিরলী ওয়াতুব্ ‘আলাইয়্যা ইন্‌নাকা আন্‌তাত্ তাও্ওয়া-বুল গফূর’’ (অর্থাৎ- হে রব! তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমার তাওবাহ্ কবূল করো। কেননা তুমি তাওবাহ্ কবূলকারী ও ক্ষমাকারী।)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৩

وعن بلال بن يسار بن زيد مولى النبى ﷺ قال: حدثنى أبى عن جدى أنه سمع رسول اللٰه ﷺ يقول: «من قال: أستغفر اللٰه الذى لا إلٰه إلا هو الحى القيوم وأتوب إليه غفر له وإن كان قد فر من الزحف». رواه الترمذى وأبو داود لكنه عند أبى داود هلال بن يسار وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب

বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন, আমার দাদা যায়দ বলেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। যে ব্যক্তি বলল, ‘ ‘আস্‌তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।)। আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে যেয়ে থাকে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। তবে আবূ দাঊদ বলেন, বর্ণনাকারীর নাম হলো হিলাল ইবনু ইয়াসার। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৪

عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه عز وجل ليرفع الدرجة للعبد الصالح فى الجنة فيقول: يا رب أنٰى لى هٰذه؟ فيقول: باستغفار ولدك لك». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হলো? তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে। (আহমাদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৫

وعن عبد اللٰه بن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما الميت فى القبر إلا كالغريق المتغوث ينتظر دعوة تلحقه من أب أو أم أو أخ أو صديق فإذا لحقته كان أحب إليه من الدنيا وما فيها وإن اللٰه تعالٰى ليدخل علٰى اهل القبور من دعاء أهل الأرض أمثال الجبال وإن هدية الأحياء إلى الأموات الاستغفار لهم». رواه البيهقى فى شعب الإيمان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী। সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধুর দু‘আ পৌঁছার প্রতীক্ষায় থাকে। তার কাছে যখন দু‘আ পৌঁছে, তখন তার কাছে সারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে এ দু‘আ বেশি প্রিয় হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াবাসীদের দু‘আয় কবরবাসীদেরকে পাহাড় পরিমাণ রহমত পৌঁছান এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের পক্ষ থেকে হাদিয়্যাহ্ (উপহার) হলো তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়া। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৬

وعن عبد الله بن بسر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «طوبٰى لمن وجد فى صحيفته استغفارا كثيرا». رواه ابن ماجه وروى النسائى فى «عمل اليوم والليلة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৌভাগ্যবান হবে সে, যার ‘আমালনামায় ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়া বেশি পাওয়া যাবে। (ইবনু মাজাহ। আর ইমাম নাসায়ী তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ্ ‘‘একদিন ও একরাতের ‘আমাল [কাজ]’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৭

وعن عائشة أن النبى ﷺ كان يقول: «اللٰهم اجعلنى من الذين إذا أحسنوا استبشروا وإذا أساؤوا استغفروا». رواه ابن ماجه والبيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো যারা ভাল কাজ করে খুশী হয় ও মন্দ কাজ করে ক্ষমা চায়। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৮

وعن الحارث بن سويد قال: حدثنا عبد اللٰه بن مسعود حديثين: أحدهما عن رسول اللٰه ﷺ والاٰخر عن نفسه قال: إن المؤمن يرٰى ذنوبه كأنه قاعد تحت جبل يخاف أن يقع عليه وإن الفاجر يرٰى ذنوبه كذباب مر على انفه فقال به هكذا أى بيده فذبه عنه ثم قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «الله أفرح بتوبة عبده المؤمن من رجل نزل فى ارض دوية مهلكة معه راحلته عليها طعامه وشرابه فوضع رأسه فنام نومة فاستيقظ وقد ذهبت راحلته فطلبها حتى اذا اشتد عليه الحر والعطش أو ما شاء اللٰه قال: أرجع إلٰى مكانى الذى كنت فيه فأنام حتٰى اموت فوضع رأسه علٰى ساعده ليموت فاستيقظ فإذا راحلته عنده عليها زاده وشرابه فاللٰه أشد فرحا بتوبة العبد المؤمن من هٰذا براحلته وزاده». روٰى مسلم المرفوع إلٰى رسول الله ﷺ منه فحسب وروى البخارى الموقوف على ابن مسعود أيضا

বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) আমাকে দু’টো কথা বলেছেন- একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে, আর অপরটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, মু’মিন নিজের গুনাহকে মনে করে সে যেন কোন পাহাড়ের নীচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করে। অপরদিকে গুনাহগার ব্যক্তি নিজের গুনাহকে দেখে একটি মাছির মতো, যা তার নাকের উপর বসল, আর তা সে হাত দিয়ে নাড়িয়ে তাড়িয়ে দিলো। এরপর তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় সে লোকের চেয়ে বেশি আনন্দিত হন, যে লোক কোন ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছেছে, আর তার সাথে তার বাহন রয়েছে, যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় রয়েছে। সেখানে সে জমিনে মাথা রাখল ও কিছুক্ষণ ঘুমাল। অতঃপর জেগে দেখল তার বাহন পালিয়ে গেছে। সে তা খুঁজতে শুরু করল। অবশেষে গরম ও তৃষ্ণা এবং অপরাপর দুঃখ-বেদনা যা আল্লাহর মর্জি তাকে দুর্বল করে ফেলল। তখন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে (আমৃত্যু) শুয়ে থাকব। সুতরাং সে সেখানে গিয়ে নিজের বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল, যাতে সে মৃত্যুবরণ করে। হঠাৎ এক সময় জেগে দেখে তার বাহন তার কাছে, বাহনের উপর তার খাদ্য-সামগ্রীও আছে। তখন সে তার বাহন ও খাদ্য-সামগ্রী ফেরত পাওয়ার আকস্মিকতায় যেরূপ খুশী হয়, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় এর চেয়েও বেশি খুশী হয়। (ইমাম মুসলিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শুধু মারফূ‘ অংশ এবং ইমাম বুখারী ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে মাওকূফ ও মারফূ‘ উভয় অংশ বর্ণনা করেছেন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৯

وعن على قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه يحب العبد المؤمن المفتن التواب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ওই মু’মিন বান্দাকে ভালবাসেন, যে গুনাহ করে তাওবাহ্ করে।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬০

وعن ثوبان قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «ما أحب أن لى الدنيا بهٰذه الاٰية ﴿يا عبادى الذين أسرفوا علٰى أنفسهم لا تقنطوا﴾ الاٰية» فقال رجل: فمن أشرك؟ فسكت النبى ﷺ ثم قال: «ألا ومن أشرك» ثلاث مرات

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম, লা- তাকনাত্বূ ......’’ (অর্থাৎ- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমাত হতে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)। এ আয়াতের পরিবর্তে সারা দুনিয়া হাসিল হওয়াকেও আমি পছন্দ করি না। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬১

وعن أبى ذر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه تعالٰى ليغفر لعبده ما لم يقع الحجاب. قالوا: يا رسول اللٰه وما الحجاب؟ قال: أن تموت النفس وهى مشركة روى الأحاديث الثلاثة أحمد وروى البيهقى الأخير فى كتاب البعث والنشور

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত (আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যে) পর্দা না পড়ে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পর্দা কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা। উপরোক্ত তিনটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, আর শেষ হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬২

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من لقى اللٰه لا يعدل به شيئا فى الدنيا ثم كان عليه مثل جبال ذنوب غفر اللٰه له». رواه البيهقى فى كتاب البعث والنشور

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কাউকেও আল্লাহর সমতুল্য মনে না করে মৃত্যুবরণ করবে, তার পাহাড় পরিমাণ গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। (বায়হাক্বী ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৩

وعن عبد اللٰه بن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: التائب من الذنب كمن لا ذنب له. رواه ابن ماجه والبيهقى فى شعب الإيمان وقال تفرد به النهرانى وهو مجهول. وفى شرح السنة روٰى عنه موقوفا قال: الندم توبة والتائب كمن لا ذنب له

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহ হতে তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই। (ইবনু মাজাহ।) আর বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বলেন, নাহরানী এটা একাই বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি মাজহূল ব্যক্তি। আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় ইমাম বাগাবী এটাকে মাওকূফ [‘আবদুল্লাহ-এর কথা] হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি [‘আবদুল্লাহ] বলেছেন, ‘‘অনুশোচনাই হলো তাওবাহ্, আর তাওবাহকারী হলো ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই’’।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬৪

عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: لما قضى اللٰه الخلق كتب كتابا فهو عنده فوق عرشه: إن رحمتى سبقت غضبى «وفى رواية» غلبت غضبى. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা মাখলূকাত (সৃষ্টিজগত) সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলে একটি কিতাব লিখলেন, যা ‘আরশের উপর সংরক্ষিত আছে। এতে আছে, আমার রহমত আমার রাগকে প্রশমিত করেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমার রাগের উপর (রহমত) জয়ী হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية