প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২৩

عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «واللٰه إنى لأستغفر اللٰه وأتوب إليه فى اليوم أكثر من سبعين مرة». رواه البخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবাহ্ করি। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২৪

وعن الأغر المزنى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إنه ليغان علٰى قلبى وإنى لأستغفر اللٰه فى اليوم مائة مرة». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার অন্তরে মরিচা পড়ে, আর (ওই মরিচা পরিষ্কার করার জন্য) আমি দিনে একশ’বার করে ইস্তিগফার করি। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২৫

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يا أيها الناس توبوا إلى اللٰه فإنى أتوب إليه فى اليوم مائة مرة». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মানবমন্ডলী! আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করো। আর আমিও প্রতিদিন একশ’বার করে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করি। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২৬

وعن أبى ذر قال: قال رسول اللٰه ﷺ فيما يروى عن اللٰه تبارك وتعالٰى أنه قال: «يا عبادى إنى حرمت الظلم علٰى نفسى وجعلته بينكم محرما فلا تظالموا يا عبادى كلكم ضال إلا من هديته فاستهدونى أهدكم يا عبادى كلكم جائع إلا من أطعمته فاستطعمونى أطعمكم يا عبادى كلكم عار إلا من كسوته فاستكسونى أكسكم يا عبادى إنكم تخطئون بالليل والنهار وأنا أغفر الذنوب جميعا فاستغفرونى أغفر لكم يا عبادى إنكم لن تبلغوا ضرى فتضرونى ولن تبلغوا نفعى فتنفعونى يا عبادى لو أن أولكم واٰخركم وإنسكم وجنكم كانوا أتقٰى قلب رجل واحد منكم ما زاد ذٰلك فى ملكى شيئا يا عبادى لو أن أولكم واٰخركم وإنسكم وجنكم كانوا علٰى افجر قلب واحد منكم ما نقص من ملكى شيئا يا عبادى لو أن أولكم واٰخركم وإنسكم وجنكم قاموا فى صعيد واحد فسألونى فأعطيت كل إنسان مسألته ما نقص ذٰلك مما عندى إلا كما ينقص المخيط إذا أدخل البحر يا عبادى إنما هى أعمالكم أحصها عليكم ثم أوفيكم إياها فمن وجد خيرا فليحمد اللٰه ومن وجد غير ذٰلك فلا يلومن إلا نفسه». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার নাম করে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন তার একটি হলো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, আল্লাহ তাবারক ওয়াতা‘আলা বলেনঃ হে আমার বান্দাগণ! আমি আমার ওপর যুলম করাকে হারাম করে দিয়েছি। (যুলম করা আমার জন্য যা, তোমাদের জন্যও তা) তাই আমি তোমাদের জন্যও যুলম করা হারাম করে দিয়েছি। অতঃপর (পরস্পরের প্রতি) যুলম করো না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট। কিন্তু আমি যাকে পথ দেখাই (সে-ই পথের সন্ধান পায়)। সুতরাং তোমরা আমার নিকট পথের সন্ধান কামনা কর, তাহলে আমি তোমাদেরকে পথের সন্ধান দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত। কিন্তু আমি যাকে খাবার দেই (সে খাবার পায়)। তাই তোমরা আমার কাছে খাবার চাও। আমি তোমাদেরকে খাবার দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই উলঙ্গ। কিন্তু আমি যাকে পোশাক পরাই (সে পোশাক পরে)। তাই তোমরা আমার নিকট পোশাক চাও। আমি তোমাদেরকে (পোশাক) পরাব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাতদিন গুনাহ (অপরাধ) করে থাকো। আর আমি তোমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দেই। সুতরাং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা ক্ষতিসাধন করার সাধ্য রাখো না যে, আমার ক্ষতি করবে। এভাবে তোমরা আমার কোন উপকার করারও শক্তি রাখো না যে, আমার কোন উপকার করবে। তাই হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে হতে সর্বাপেক্ষা পরহেযগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়ে পরহেযগার হয়ে যায়। তাও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র বৃদ্ধি করতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অত্যাচারী-অনাচারী ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়েও অত্যাচার-অনাচার করে তাদের এ কাজও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র ক্ষতি বৃদ্ধি করতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ একই মাঠে দাঁড়িয়ে একসাথে আমার কাছে প্রার্থনা করে। আর আমি তোমাদের প্রত্যেককে তাদের চাওয়া জিনিস দান করি তাহলে আমার কাছে যা আছে, তার কিছুই কমাতে পারবে না। শুধু এতখানি ছাড়া যতটি একটি সূঁই যখন সমুদ্রে ডুবিয়ে আবার উঠিয়ে নেয়া হলে যতটুকু সমুদ্রের পানি কমায়। হে আমার বান্দাগণ! এখন বাকী রইল তোমাদের (কৃতকর্মের) ‘আমাল, যা আমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করব। অতঃপর এর প্রতিদান আমি পরিপূর্ণভাবে দেবো। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন ভাল (ফল) লাভ করে, সে যেন আল্লাহর শুকর আদায় করে। আর যে মন্দ (ফল) লাভ করে, সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্যকে দোষারোপ না করে (কেননা তা তারই কৃতকর্মের ফল)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২৭

وعن أبى سعيد الخدرى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «كان فى بنى إسرائيل رجل قتل تسعة وتسعين إنسانا ثم خرج يسأل فأتٰى راهبا فسأله فقال: أله توبة قال: لا فقتله وجعل يسأل فقال له رجل ائت قرية كذا وكذا فأدركه الموت فناء بصدره نحوها فاختصمت فيه ملائكة الرحمة وملائكة العذاب فأوحى اللٰه إلٰى هٰذه أن تقربى وإلٰى هٰذه أن تباعدى فقال قيسوا ما بينهما فوجد إلٰى هٰذه أقرب بشبر فغفر له». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই জন মানুষ হত্যা করেছিল। তারপর সে শার‘ঈ বিধান জানার জন্য একজন আল্লাহভীরুর কাছে জিজ্ঞেস করল, এ ধরনের মানুষের জন্য তাওবার কোন অবকাশ আছে কিনা? তিনি বললেন, নেই। তারপর সে তাকেও (‘আলিমকেও) হত্যা করল। এভাবে সে লোকদেরকে অনবরত জিজ্ঞেস করতে থাকল। এক ব্যক্তি শুনে বলল, অমুক গ্রামে গিয়ে অমুককে জিজ্ঞেস করো। এমন সময়েই সে মৃত্যুমুখে পতিত হলো এবং মৃত্যুর সময় সে ওই গ্রামের দিকে নিজের সিনাকে বাড়িয়ে দিলো। তারপর রহমাতের মালাক (ফেরেশতা) ও ‘আযাবের মালাক পরস্পর ঝগড়া করতে লাগল, কারা তার রূহ নিয়ে যাবে। এমন সময় আল্লাহ তা‘আলা ওই গ্রামকে বললেন, তুমি মৃত ব্যক্তির কাছে আসো। আর নিজ গ্রামকে বললেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর আল্লাহ মালায়িকাহকে (ফেরেশতাদের) বললেন, তোমরা উভয় দিকের পথের দূরত্ব পরিমাপ করে দেখো। মাপের পর মৃতকে এ গ্রামের দিকে এক বিঘত নিকটে পাওয়া গেল। সুতরাং তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «والذى نفسى بيده لو لم تذنبوا لذهب اللٰه بكم ولجاء بقوم يذنبون فيستغفرون اللٰه فيغفر لهم». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে সরিয়ে এমন জাতিকে সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করত ও আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা চাইত। আর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২৯

وعن أبى موسٰى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه يبسط يده بالليل ليتوب مسىء النهار ويبسط يده بالنهار ليتوب مسىء الليل حتٰى تطلع الشمس من مغربها». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা রাতে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে দিনের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করতে পারেন। আবার দিনের বেলায় তিনি তার হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে রাতের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করতে পারেন। এভাবে তিনি হাত প্রসারিত করতে থাকবেন যতদিন না সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হবে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩০

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن العبد إذا اعترف ثم تاب تاب الله عليه». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন গুনাহ করার পর তা স্বীকার করে (অনুতপ্ত হয়) আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩১

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من تاب قبل أن تطلع الشمس من مغربها تاب الله عليه». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদয়ের (কিয়ামাতের) আগে তাওবাহ্ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার তাওবাহ্ কবূল করবেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩২

وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «للٰه أشد فرحا بتوبة عبده حين يتوب إليه من أحدكم كان راحلته بأرض فلاة فانفلتت منه وعليها طعامه وشرابه فأيس منها فأتٰى شجرة فاضطجع فى ظلها قد أيس من راحلته فبينما هو كذٰلك إذ هو بها قائمة عنده فأخذ بخطامها ثم قال من شدة الفرح: اللٰهم أنت عبدى وأنا ربك أخطأ من شدة الفرح». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার তাওবাহ্ করায় অত্যন্ত আনন্দিত হন যখন সে তাঁর কাছে তাওবাহ্ করে। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তির খুশীর চেয়ে অধিক খুশী হন, যে ব্যক্তির আরোহণের বাহন মরুভূমিতে তার কাছ থেকে ছুটে পালায়, আর এ বাহনের উপর আছে তার খাবার ও পানীয়। এ কারণে সে হতাশ-নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আরোহণের বাহন সম্পর্কে একেবারেই নিরাশ হয়ে একটি গাছের কাছে এসে সে এর ছায়ায় শুয়ে পড়ে। এমন সময় সে হঠাৎ দেখে, বাহন তার কাছে এসে দাঁড়ানো। সে বাহনের লাগাম ধরে আর আনন্দে আবেগআপ্লুত হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু। সে আনন্দের আতিশয্যে এ ভুল করে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৩

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن عبدا أذنب ذنبا فقال: رب أذنبت فاغفره فقال ربه أعلم عبدى أن له ربا يغفر الذنب ويأخذ به؟ غفرت لعبدى ثم مكث ما شاء اللٰه ثم أذنب ذنبا فقال: رب أذنبت ذنبا فاغفره فقال ربه: أعلم عبدى أن له ربا يغفر الذنب ويأخذ به؟ غفرت لعبدى ثم مكث ما شاء اللٰه ثم أذنب ذنبا قال: رب أذنبت ذنبا اٰخر فاغفر لى فقال: أعلم عبدى أن له ربا يغفر الذنب ويأخذ به؟ غفرت لعبدى فليفعل ما شاء». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা গুনাহ করে বলে, ‘হে আমার রব! আমি গুনাহ করে ফেলেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করে দাও।’ তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (হে আমার মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)!) আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ‘রব’ আছেন? যে ‘রব’ গুনাহ মাফ করেন অথবা (এর জন্য) তাকে শাস্তি দেন? (তোমরা সাক্ষী থেক) আমি তাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর যতদিন আল্লাহ চাইলেন, সে গুনাহ না করে থাকল। তারপর আবার সে গুনাহ করল ও বলল, ‘হে রব’! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমার এ গুনাহ মাফ করো। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ‘রব’ আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা এর জন্য শাস্তি দেন। আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, সে কোন গুনাহ না করে থাকল। তারপর সে আবারও গুনাহ করল এবং বলল, হে রব! আমি আবার গুনাহ করেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ‘রব’ আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা অপরাধের জন্য শাস্তি দেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করলাম। সে যা চায় করুক। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৪

وعن جندب أن رسول اللٰه ﷺ حدث: «أن رجلا قال: واللٰه لا يغفر اللٰه لفلان وأن اللٰه تعالٰى قال: من ذا الذى يتألٰى على أنى لا أغفر لفلان فإنى قد غفرت لفلان وأحبطت عملك». أو كما قال. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, এমন কে আছে যে আমাকে কসম দিতে পারে যে, (আমার নামে শপথ করতে পারে) আমি অমুককে ক্ষমা করব না। যাও, আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার ‘আমাল নষ্ট করে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এ বাক্য অথবা অনুরূপ বাক্য বলেছেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৫

وعن شداد بن أوس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «سيد الاستغفار أن تقول: اللٰهم أنت ربى لا إلٰه إلا أنت خلقتنى وأنا عبدك وأنا علٰى عهدك ووعدك ما استطعت أعوذ بك من شر ما صنعت أبوء لك بنعمتك على وأبوء بذنبى فاغفر لى فإنه لا يغفر الذنوب إلا أنت». قال: «ومن قالها من النهار موقنا بها فمات من يومه قبل أن يمسى فهو من أهل الجنة ومن قالها من الليل وهو موقن بها فمات قبل أن يصبح فهو من أهل الجنة». رواه البخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাইয়্যিদুল ইসতিগফার এভাবে পড়বে, ‘‘আল্ল-হুম্মা আনতা রব্বী, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা খলাকতানী, ওয়া আনা- ‘আবদুকা, ওয়া আনা- ‘আলা- ‘আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্‌তাত্ব‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্‌রি মা- সনা‘তু, আবূউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্‌বী ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আনতা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই; তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা, আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার চুক্তি ও অঙ্গীকারের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি আমার কৃতকর্মের মন্দ পরিণাম হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি স্বীকার করি, আমার প্রতি তোমার দানকে এবং স্বীকার করি আমার গুনাহকে। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি এ সাইয়্যিদুল ইসতিগফারের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে দিনে পড়বে আর সন্ধ্যার আগে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে এ দু‘আ রাতে পড়বে আর সকাল হবার আগে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৬

عن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قال اللٰه تعالٰى: يا ابن اٰدم إنك ما دعوتنى ورجوتنى غفرت لك علٰى ما كان فيك ولا أبالى يا ابن اٰدم إنك لو بلغت ذنوبك عنان السماء ثم استغفرتنى غفرت لك ولا أبالى يا ابن اٰدم إنك لو لقيتنى بقراب الأرض خطايا ثم لقيتنى لا تشرك بى شيئا لأتيتك بقرابها مغفرة». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট ক্ষমার আশা পোষণ করবে, তোমার অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আমি কারো পরোয়া করি না, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব, আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবীসম গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এবং আমার সাথে কাউকে শারীক না করে সাক্ষাৎ করো, আমি পৃথিবীসম ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৭

ورواه أحمد والدارمى عن أبى ذر، وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৮

وعن ابن عباس رضي اللٰه عنهما عن رسول اللٰه ﷺ قال: «قال اللٰه تعالٰى: من علم أنى ذو قدرة علٰى مغفرة الذنوب غفرت له ولا أبالى ما لم يشرك بى شيئا». رواه فى شرح السنة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যে জানে আমি গুনাহ মাফ করে দেয়ার মালিক। আমি তাকে মাফ করে দেবো এবং আমি কারো পরোয়া করি না যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমার সাথে কাউকে শারীক না করবে। (শারহুস্ সুন্নাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩৯

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من لزم الاستغفار جعل اللٰه له من كل ضيق مخرجا ومن كل هم فرجا ورزقه من حيث لا يحتسب». رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন এবং প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করেন। আর তাকে এমন রিযক দান করেন, যা সে কক্ষনো ভাবতেও পারেনি। (আহমদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪০

وعن أبى بكر الصديق قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما أصر من استغفر وإن عاد فى اليوم سبعين مرة». رواه الترمذى وأبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে সত্তরবার করে একই গুনাহ করার পরও আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবে, (ক্ষমা চাওয়ার কারণে) সে যেন প্রকৃতপক্ষে গুনাহ বার বার করেনি। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪১

وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «كل بنى اٰدم خطاء وخير الخطائين التوابون». رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর উত্তম পাপী হলো সে ব্যক্তি যে (গুনাহ করে) তাওবাহ্ করে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن المؤمن إذا أذنب كانت نكتة سوداء فى قلبه فإن تاب واستغفر صقل قلبه وإن زاد زادت حتٰى تعلو قلبه فذلكم الران الذى ذكر اللٰه تعالٰى ﴿كلا بل ران علٰى قلوبهم ما كانوا يكسبون﴾ رواه أحمد والترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন বান্দা যখন গুনাহ করে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে ব্যক্তি তাওবাহ্ করল ও ক্ষমা চাইল, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে গেল (কালিমুক্ত হলো), আর যদি গুনাহ বেশি হয় তাহলে কালো দাগও বেশি হয়। অবশেষে তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এটা সেই মরিচা যার ব্যাপারে কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘এটা কক্ষনো নয়, বরং তাদের অন্তরের উপর (গুনাহের) মরিচা লেগে গেছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন করেছে’’- (সূরা আল মুতাফফিফীন ৮৩ : ১৪)। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৩

وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه يقبل توبة العبد ما لم يغرغر». رواه الترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার প্রাণ (রূহ) ওষ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবূল করেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৪

وعن أبى سعيد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن الشيطان قال: وعزتك يا رب لا أبرح أغوى عبادك ما دامت أرواحهم فى اجسادهم فقال الرب عز وجل: وعزتى وجلالى وارتفاع مكانى لا أزال أغفر لهم ما استغفرونى». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান (আল্লাহ তা‘আলার কাছে) বলল, হে মহান প্রতিপালক, তোমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমার বান্দাদেরকে প্রতিনিয়ত গুমরাহ করতে থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে রূহ থাকবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আমার ইজ্জত, আমার মর্যাদা ও আমার সুউচ্চ অবস্থানের কসম! আমার বান্দা আমার কাছে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি সর্বদা তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৫

وعن صفوان بن عسال قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن اللٰه تعالٰى جعل بالمغرب بابا عرضه مسيرة سبعين عاما للتوبة لا يغلق ما لم تطلع الشمس من قبله وذٰلك قول اللٰه عز وجل: ﴿يوم يأتى بعض اٰيات ربك لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن اٰمنت من قبل﴾. رواه الترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাওবাহ্ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না। আর এটাই হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ ‘‘যেদিন (কিয়ামাতের পূর্বে) তোমার ‘রবের’ কোন বিশেষ নিদর্শন এসে পৌঁছবে, সেদিন এ ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। কেননা এ নিদর্শন আসার আগে ঈমান আনেনি’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৫৮)। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৬

وعن معاوية قال قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تنقطع الهجرة حتٰى ينقطع التوبة ولا تنقطع التوبة حتٰى تطلع الشمس من مغربها». رواه أحمد وأبو داود والدارمى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিজরতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে না ততকক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তাওবার দরজা বন্ধ না হয়। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না, সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (আহমদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৭

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن رجلين كانا فى بنى إسرائيل متحابين أحدهما مجتهد للعبادة والاٰخر يقول: مذنب فجعل يقول: أقصر عما أنت فيه فيقول خلنى وربى حتٰى وجده يوما علٰى ذنب استعظمه فقال: أقصر فقال: خلنى وربى أبعثت على رقيبا؟ فقال: واللٰه لا يغفر اللٰه لك أبدا ولا يدخلك الجنة فبعث اللٰه إليهما ملكا فقبض أرواحهما فاجتمعا عنده فقال للمذنب: ادخل الجنة برحمتى وقال للاٰخر: أتستطيع أن تحظر علٰى عبدى رحمتى؟ فقال: لا يا رب قال: اذهبوا به إلى النار». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে দু’ ব্যক্তি পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের একজন ছিল বড় ‘আবিদ আর অন্যজন ছিল গুনাহগার। ‘আবিদ তাকে বলত, তুমি যেসব (গুনাহের) কাজে লিপ্ত আছো তা হতে বিরত থাক। গুনাহগার বলত, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। পরিশেষে একদিন ‘আবিদ গুনাহগার ব্যক্তিকে এমন একটি বড় গুনাহের কাজে লিপ্ত পেলো, যা তার কাছে খুবই গুরুতর বলে মনে হল এবং বলল, বিরত থাকো। সে বলল, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। তোমাকে কী আমার জন্য পাহারাদার করে পাঠানো হয়েছে? ‘আবিদ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! তোমাকে কক্ষনো আল্লাহ ক্ষমা করবেন না এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) পাঠালেন। সে তাদের উভয়ের রূহ কবয করল। তারা উভয়েই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলো। তখন গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহ বললেন, আমার রহমাতের মাধ্যমে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। আর ‘আবিদ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি আমাকে আমার বান্দার প্রতি রহম করতে বাধা দিতে পারো? সে বলল, ‘না, হে রব’। তখন আল্লাহ বললেন, একে জাহান্নামে প্রবেশ করাও। (আহমাদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৮

وعن أسماء بنت يزيد قالت: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقرأ: ﴿ياعبادى الذى أسرفوا على انفسهم لا تقنطوا من رحمة اللٰه إن اللٰه يغفر الذنوب جميعا﴾. ولا يبالى. رواه أحمد والترمذى وقال هٰذا حديث حسن غريب وفى شرح السنة يقول: بدل: يقرأ

তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন মাজীদের এ আয়াত পড়তে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযী আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম লা- তাকনাত্বূ মির্ রহমাতিল্লা-হি, ইন্নাল্ল-হা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা জামী‘আ-’’ (অর্থাৎ- ‘‘হে বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন’’- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩।) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ কারো পরোয়া করেন না। (আহমদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব; আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় রয়েছে يَقْرَأ (পড়েছেন) এর পরিবর্তে يَقُولُ (বলেছেন)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪৯

وعن ابن عباس: فى قوله تعالٰى: (إلا اللمم) قال رسول اللٰه ﷺ: إن تغفر اللٰهم تغفر جما وأى عبد لك لا ألما. رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث حسن صحيح غريب

আল্লাহর কালামের এ বাণী, ‘‘ইল্লাল্লামামা’’ অর্থাৎ- ‘‘সগীরাহ্ গুনাহ ছাড়া’’। এক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি তুমি ক্ষমা করো, ক্ষমা করো বড় গুনাহ। কেননা এমন কোন বান্দা আছে কি, যে সগীরাহ্ গুনাহ করেনি। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫০

وعن أبى ذر قال قال رسول اللٰه ﷺ: يقول اللٰه تعالٰى يا عبادى كلكم ضال إلا من هديت فاسألونى الهدٰى أهدكم وكلكم فقراء إلا من أغنيت فاسألونى أرزقكم وكلكم مذنب إلا من عافيت فمن علم منكم أنى ذو قدرة على المغفرة فاستغفرنى غفرت له ولا أبالى ولو أن أولكم واٰخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا علٰى اتقٰى قلب عبد من عبادى ما زاد فى ملكى جناح بعوضةولو أن أولكم واٰخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا على اشقٰى قلب عبد من عبادى ما نقص ذٰلك من ملكى جناح بعوضة. ولو أن أولكم واٰخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا فى صعيد واحد فسأل كل إنسان منكم ما بلغت أمنيته فأعطيت كل سائل منكم ما نقص ذٰلك من ملكى إلا كما لو أن أحدكم مر بالبحر فغمس فيه إبرة ثم رفعها ذٰلك بأنى جواد ماجد أفعل ما أريد عطائى كلام وعذابى كلام إنما أمرى لشىء إذا أردت أن أقول له (كن فيكون). رواه أحمد والترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের সকলেই পথহারা, কিন্তু তারা ছাড়া যাদেরকে আমি পথ দেখিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে পথের সন্ধান চাও, আমি তোমাদেরকে পথ দেখাব। তোমাদের সকলেই অভাবগ্রস্ত, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি অভাবমুক্ত করেছি। অতএব তোমরা আমার কাছে চাও আমি তোমাদেরকে রিযক দান করব। তোমাদের সকলেই পাপী, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি নিরাপদে রেখেছি। অতঃপর তোমাদের যে বিশ্বাস স্থাপন করে, আমি ক্ষমা করে দেয়ার শক্তি রাখি, সে যেন আমার কাছে ক্ষমা চায় আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো, আর (এ ব্যাপারে) আমি কারো পরোয়া করি না। যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত, তোমাদের জীবিত ও মৃত তোমাদের কাঁচা ও শুকনো (শিশু ও বৃদ্ধ) সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর হয়ে যায়, তথাপিও তা আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও বাড়াতে পারবে না। আর যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতভাগ্য ব্যক্তির অন্তরের মতো এক অন্তর হয়ে যায়, তাও আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও কমাতে পারবে না। তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই যদি এক প্রান্তসীমায় জমা হয়, এরপর তোমাদের প্রত্যেকে তার ইচ্ছানুযায়ী আমার কাছে চায় (প্রার্থনা করে)। আর আমি তোমাদের প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে (প্রত্যাশা অনুযায়ী) দান করি, তা আমার সাম্রাজ্যে কিছুমাত্র কমাতে পারবে না। যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের কাছে গিয়ে যদি ওতে একটি সুঁই ডুবিয়ে ওঠায়। এটা এ কারণে যে, আমি বড় দাতা, প্রশস্ত দাতা; আমি যা ইচ্ছা তাই করি। আমার দান হলো, আমার কালাম মাত্র। আমার শাস্তি হলো, আমার হুকুম মাত্র। আর আমি কোন কিছু করতে চাইলে শুধু বলি, ‘হয়ে যাও’, তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। (আহমদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫১

وعن أنس عن النبى ﷺ أنه قرأ ﴿هو أهل التقوٰى وأهل المغفرة﴾ قال: قال ربكم أنا أهل أن أتقٰى فمن اتقانى فأنا أهل أن أغفر له. رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি (আল্লাহ তা‘আলার) এ আয়াত পড়লেন, ‘‘হুওয়া আহলুত্ তাকওয়া- ওয়া আহলুল মাগফিরহ্’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ হলেন ভয়ের অধিকারী ও মাগফিরাত করার মালিক)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের রব বলেন, আমি লোকের ভয় করার অধিকারী। তাই যে আমাকে ভয় করল, আমি তাকে মাফ করারও অধিকারী। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫২

وعن ابن عمر قال: إن كنا لنعد لرسول اللٰه ﷺ فى المجلس يقول: «رب اغفر لى وتب على إنك أنت التواب الغفور» مائة مرة. رواه أحمد والترمذى وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, আমরা একই মাজলিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসতিগফার একশ’বার গণনা করতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘রব্বিগফিরলী ওয়াতুব্ ‘আলাইয়্যা ইন্‌নাকা আন্‌তাত্ তাও্ওয়া-বুল গফূর’’ (অর্থাৎ- হে রব! তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমার তাওবাহ্ কবূল করো। কেননা তুমি তাওবাহ্ কবূলকারী ও ক্ষমাকারী।)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫৩

وعن بلال بن يسار بن زيد مولى النبى ﷺ قال: حدثنى أبى عن جدى أنه سمع رسول اللٰه ﷺ يقول: «من قال: أستغفر اللٰه الذى لا إلٰه إلا هو الحى القيوم وأتوب إليه غفر له وإن كان قد فر من الزحف». رواه الترمذى وأبو داود لكنه عند أبى داود هلال بن يسار وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب

বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন, আমার দাদা যায়দ বলেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। যে ব্যক্তি বলল, ‘ ‘আস্‌তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।)। আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে যেয়ে থাকে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। তবে আবূ দাঊদ বলেন, বর্ণনাকারীর নাম হলো হিলাল ইবনু ইয়াসার। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية