মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩০৪
عن جابر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قال سبحان اللٰه العظيم وبحمده غرست له نخلة فى الجنة». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘‘সুবহা-নাল্ল-হিল ‘আযীম ওয়া বিহামদিহী’’ (অর্থাৎ- মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে) পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হবে। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩০৫
وعن الزبير قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من صباح يصبح العباد فيه إلا مناد ينادى سبحوا الملك القدوس». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রভাত যাতে আল্লাহর বান্দারা উঠেন, তাতে একজন মালাক (ফেরেশতা) এরূপ আহবান করেন যে, ‘‘পবিত্র বাদশাহকে পবিত্রতার সাথে স্মরণ করো’’। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩০৬
وعن جابر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أفضل الذكر: لا إلٰه إلا اللٰه وأفضل الدعاء: الحمد للٰه». رواه الترمذى وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম জিকির হলো, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ আর সর্বোত্তম দু‘আ হলো, ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩০৭
وعن عبد اللٰه بن عمرو قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «الحمد رأس الشكر ما شكر اللٰه عبد لا يحمده
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ বা প্রশংসা করা হলো সর্বোত্তম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করল না, সে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল না।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩০৮
وعن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أول من يدعٰى إلى الجنة يوم القيامة الذين يحمدون اللٰه فى السراء والضراء». رواهما البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হলেন ঐসব ব্যক্তি যারা সুখে-দুঃখে সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করেন। (এ হাদীস দু’টি বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমানে বর্ণনা করেছে)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩০৯
وعن أبى سعيد الخدرى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قال موسٰى ؑ: يا رب علمنى شيئا أذكرك به وأدعوك به فقال: يا موسٰى قل: لا إلٰه إلا اللٰه فقال: يا رب كل عبادك يقول هٰذا إنما أريد شيئا تخصنى به قال: يا موسٰى لو أن السماوات السبع وعامرهن غيرى والأرضين السبع وضعن فى كفة ولا إلٰه إلا اللٰه فى كفة لمالت بهن لا إلٰه إلا اللٰه». رواه فى شرح السنة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আমাকে এমন একটি কালাম বা বাক্য শিখিয়ে দাও, যা দিয়ে আমি তোমার জিকির করতে পারি। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমার কাছে দু‘আ করতে পারি। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ হে মূসা! তুমি বলো, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে রব! তোমার প্রত্যেক বান্দাই তো এটা (কালিমা) বলে থাকে। আমি তো তোমার কাছে আমার জন্য একটি বিশেষ ‘কালিমা’ চাচ্ছি। আল্লাহ তা‘আলা তখন বললেন, হে মূসা! সাত আকাশ ও আমি ছাড়া এর সকল অধিবাসী এবং সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ অন্য পাল্লায় রাখা হয়, তবে অবশ্যই ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’-এর পাল্লা ভারী হবে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১০
وعن أبى سعيد وأبى هريرة رضي اللٰه عنهما قالا: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قال: لا إلٰه إلا اللٰه واللٰه أكبر صدقه ربه قال: لا إلٰه إلا أنا وأنا أكبر وإذا قال: لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له يقول اللٰه: لا إلٰه إلا أنا وحدى لا شريك لى وإذا قال: لا إلٰه إلا اللٰه له الملك وله الحمد قال: لا إلٰه إلا أنا لى الملك ولي الحمد وإذا قال: لا إلٰه إلا الله ولا حول ولا قوة إلا باللٰه قال: لا إلٰه إلا أنا لا حول ولا قوة إلا بى» وكان يقول: «من قالها فى مرضه ثم مات لم تطعمه النار». رواه الترمذى وابن ماجه
তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আল্লাহ সুমহান) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার কথা সমর্থন করে বলেন, হ্যাঁ, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা-, ওয়া আনা- আকবার’’ (অর্থাৎ- আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি অতি মহান)। আর যখন বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- ওয়াহদী, লা- শারীকা লী’’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি একক, আমার কোন শারীক নেই)। আর যখন কোন বান্দা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তাঁরই রাজ্য ও তাঁরই প্রশংসা)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লিয়াল মুলকু ওয়া লিয়াল হামদু’’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, আমারই রাজ্য এবং আমারই প্রশংসা)। কোন বান্দা যখন বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বী’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আমার সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলতেন, যে ব্যক্তি এসব কালিমাগুলো নিজের অসুস্থতার সময়ে পড়ে, তারপর মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা পাবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১১
وعن سعد بن أبى وقاص أنه دخل مع النبى ﷺ على امرأة وبين يديها نوى أو حصى تسبح به فقال: «ألا أخبرك بما هو أيسر عليك من هٰذا أو أفضل؟ سبحان اللٰه عدد ما خلق فى السماء وسبحان اللٰه عدد ما خلق فى الأرض وسبحان اللٰه عدد ما بين ذٰلك وسبحان اللٰه عدد ما هو خالق واللٰه أكبر مثل ذٰلك والحمد للٰه مثل ذٰلك ولا إلٰه إلا اللٰه مثل ذٰلك ولا حول ولا قوة إلا باللٰه مثل ذٰلك». رواه الترمذى وأبو داود وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب
তিনি একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জনৈকা মহিলার কাছে গেলেন। তখন মহিলার সামনে কিছু খেজুরের বিচি; অথবা তিনি বলেছেন, কিছু কাঁকর ছিল, যা দিয়ে মহিলা গুণে গুণে তাসবীহ পড়ছিল। এটা দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, আমি কি এর চেয়ে তোমার পক্ষে সহজ তাসবীহ; অথবা বলেছেন, উত্তম তাসবীহ তোমাকে বলে দিব না? আর তা হচ্ছে, ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- খলাকা ফিস্ সামা-য়ি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- খলাকা ফিল আরযি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- বায়না যা-লিকা ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা-হুওয়া খ-লিকুন ওয়াল্ল-হু আকবার মিসলা যা-লিকা ওয়াল হামদুলিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা, যে পরিমাণ তিনি আসমানে সৃষ্টিজগত করেছেন। আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা তাঁর ওই সৃষ্টিজগতের অনুরূপ যা আসমান ও জমিনের মধ্যে আছে। আর আল্লাহর জন্য সব পাক-পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। আর অনুরূপভাবে ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ ও ‘‘আলহামদুলিল্লা-হি’’ ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ এবং ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ও পড়বে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ; তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১২
وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من سبح اللٰه مائة بالغداة ومائة بالعشى كان كمن حج مائة حجة ومن حمد اللٰه مائة بالغداة ومائة بالعشى كان كمن حمل علٰى مائة فرس فى سبيل اللٰه ومن هلل اللٰه مائة بالغداة ومائة بالعشى كان كمن أعتق مائة رقبة من ولد إسماعيل ومن كبر اللٰه مائة بالغداة ومائة بالعشى لم يأت فى ذٰلك اليوم أحد بأكثر مما أتٰى به إلا من قال مثل ذٰلك أو زاد علٰى ما قال. رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث حسن غريب
তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তাঁর দাদা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ পড়বে, সে তাঁর মতো হবে (সাওয়াবের দিক দিয়ে) যে একশ’বার হজ করবে। যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ পড়বে, সে আল্লাহর পথে একশ’ ঘোড়ায় একশ’ মুজাহিদ রওনা করে দেয়া ব্যক্তির মতো হবে। যে সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ পড়বে, সে নাবী ইসমা‘ঈল (আঃ)-এর বংশের একশ’ লোক মুক্ত করে দেয়া ব্যক্তির সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘আল্ল-হু আকবার’ পড়বে, সেদিন তার চেয়ে বেশি সাওয়াবের কাজ আর কেউ করতে পারবে না। অবশ্য যে ব্যক্তি ব্যতিক্রম, যে অনুরূপ ‘আমাল করেছে অথবা এর চেয়ে বেশি করেছে- (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১৩
وعن عبد اللٰه بن عمرو قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «التسبيح نصف الميزان والحمد للٰه يملؤه ولا إلٰه إلا اللٰه ليس لها حجاب دون اللٰه حتٰى تخلص إليه». رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث غريب وليس إسناده بالقوى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ হলো পাল্লার অর্ধেক, ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ একে পূর্ণ করে, আর ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’-এর সামনে কোন পর্দা নেই, যে পর্যন্ত না তা আল্লাহর কাছে গিয়ে না পৌঁছে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব, এর সানাদ সবল নয়)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما قال عبد لا إلٰه إلا اللٰه مخلصا قط إلا فتحت له أبواب السماء حتٰى يفضى إلى العرش ما اجتنب الكبائر». رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন বান্দা খালেস মনে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলবে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হবে, যতক্ষণ না তা আল্লাহর ‘আরশে না পৌঁছে, তবে যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহ হতে বিরত থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১৫
وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لقيت إبراهيم ليلة أسرى بى فقال: يا محمد أقرئ أمتك منى السلام وأخبرهم أن الجنة طيبة التربة عذبة الماء وأنها قيعان وأن غراسها سبحان اللٰه والحمد للٰه ولا إلٰه إلا اللٰه واللٰه أكبر». رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث حسن غريب إسنادا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মি‘রাজের রাতে ইব্রাহীম (আঃ)-এর সাথে আমার দেখা হলে তিনি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার উম্মাতকে আমার সালাম বলবেন এবং খবর দিবেন যে, জান্নাত হলো সুগন্ধ মাটি ও সুপেয় পানিবিশিষ্ট। কিন্তু এতে কোন গাছপালা নেই (অর্থাৎ- জান্নাত হলো সমতল ভূমি)। এর গাছপালা হলো ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি, ওয়ালহামদুলিল্লা-হি, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’। (তিরমিযী; তিনি বলেন, সানাদগত দিক থেকে হাদীসটি হাসান গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১৬
وعن يسيرة رضي اللٰه عنها وكانت من المهاجرات قالت: قال لنا رسول اللٰه ﷺ: «عليكن بالتسبيح والتهليل والتقديس واعقدن بالأنامل فإنهن مسؤولات مستنطقات ولا تغفلن فتنسين الرحمة». رواه الترمذى وأبو داود
তিনি মুহাজির রমণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ), তাকদীস (সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস) নিজের আঙ্গুলে গুণে গুণে পড়বে। কারণ আঙ্গুলকে কথা বলার শক্তি দিয়ে কিয়ামাতের দিন জিজ্ঞেস করা হবে এবং আল্লাহর জিকির করা হতে গাফিল হয়ো না, যাতে তোমরা আল্লাহর রহমাতকে ভুলে না যাও। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১৭
عن سعد بن أبى وقاص قال: جاء أعرابى إلٰى رسول اللٰه ﷺ فقال: علمنى كلاما أقوله قال: «قل لا إلٰه إلا اللٰه وحده لا شريك له اللٰه أكبر كبيرا والحمد للٰه كثيرا وسبحان اللٰه رب العالمين لا حول ولا قوة إلا باللٰه العزيز الحكيم». فقال فهؤلاء لربى فما لى؟ فقال: «قل اللٰهم اغفر لى وارحمنى واهدنى وارزقنى وعافنى». شك الراوى فى «عافنى». رواه مسلم
তিনি বলেন, একদিন এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন কিছু দু‘আ-কালাম শিখিয়ে দিন যা আমি পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে ‘ ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ, আল্ল-হু আকবার কাবীরা- ওয়াল হামদুলিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি রব্বিল ‘আ-লামীন, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল ‘আযীযিল হাকীম’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান)। (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেখানো দু‘আ শুনে) সে বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো আমার রবের জন্য (তাঁর প্রশংসা), আমার জন্য কী? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে ‘‘আল্ল-হুম্মাগফিরলী, ওয়ার হামনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া ‘আ-ফিনী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ কর, দয়া কর, হিদায়াত দান কর, আমাকে রিযক দাও ও আমাকে সুখে-শান্তিতে রাখ)। শেষ শব্দ عَافِنِىْ (‘আ-ফিনী) [অর্থাৎ- আমাকে সুখে-শান্তিতে রাখ] সম্বন্ধে বর্ণনাকারী সন্দেহ রয়েছে যে, এ শব্দটি রসূলের কথার মধ্যে আছে কিনা? (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১৮
وعن أنس أن رسول اللٰه ﷺ مر علٰى شجرة يابسة الورق فضربها بعصاه فتناثر الورق فقال: «إن الحمد للٰه وسبحان اللٰه ولا إلٰه إلا اللٰه واللٰه أكبر تساقط ذنوب العبد كما يتساقط ورق هٰذه الشجرة». رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শুকনা পাতাবিশিষ্ট গাছের কাছে গেলেন এবং নিজের হাতের লাঠি দিয়ে এতে আঘাত করলেন। এতে গাছের পাতা ঝরতে লাগল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হ, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’-এ বাক্যগুলো বান্দার গুনাহ এভাবে ঝরিয়ে দেয় যে, যেভাবে ঐ গাছের পাতা ঝরছে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১৯
وعن مكحول عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أكثر من قول: لا حول ولا قوة إلا باللٰه فإنها من كنز الجنة». قال مكحول: فمن قال: لا حول ولا قوة إلا باللٰه ولا منجأ من اللٰه إلا إليه كشف اللٰه عنه سبعين بابا من الضر أدناها الفقر. رواه الترمذى. وقال: هٰذا حديث ليس إسناده بمتصل ومكحول لم يسمع عن أبى هريرة
তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ বেশি বেশি করে পড়তে। কেননা এ বাক্যটি জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের বিশেষ বাক্য। মাকহূল (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি পড়বে ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি ওয়ালা- মানজাআ মিনাল্ল-হি ইল্লা- ইলায়হি’’- আল্লাহ তার সত্তরটি কষ্ট দূর করে দিবেন, যার সর্বনিমণ হলো দারিদ্র্যতা। (তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসের সানাদ মুত্তাসিল নয়। মাকহূল (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে হাদীসটি শুনেননি।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২০
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا حول ولا قوة إلا باللٰه دواء من تسعة وتسعين داء أيسرها الهم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘লা- হাওলা ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ হলো নিরানব্বইটি রোগের ঔষধ, তন্মধ্যে সহজটা হলো চিন্তা।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২১
وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ألا أدلك علٰى كلمة من تحت العرش من كنز الجنة لا حول ولا قوة إلا باللٰه يقول اللٰه تعالٰى: أسلم عبدى واستسلم». رواهما البيهقى فى الدعوات الكبير
তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কী তোমাকে ‘আরশের নীচের ও জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি ‘কালিমাহ্ বলে দেবো না? (সেটি হলো) ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’। (যখন এ কালিমাটি কেউ পড়ে) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা সর্বাত্মকভাবে আমার কাছে আত্মসমর্পণ করল। (উক্ত হাদীস দু’টি বায়হাক্বী দা‘ওয়াতুল কাবীর-এ বর্ণনা করেছেন)।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২২
وعن ابن عمر أنه قال: سبحان اللٰه هى صلاة الخلائق والحمد للٰه كلمة الشكر ولا إلٰه إلا اللٰه كلمة الإخلاص واللٰه أكبر تملأ ما بين السماء والأرض وإذا قال العبد: لا حول ولا قوة إلا باللٰه قال اللٰه تعالٰى: أسلم واستسلم. رواه رزين
তিনি বলেন, ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’ হলো আল্লাহর সৃষ্টিজগতের সলাত। ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ হলো কালিমাতুশ্ শুক্র, অর্থাৎ- কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বাক্য। ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’’ হলো তাওহীদের কালিমাহ্, আর ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ আকাশ ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে তাকে পূর্ণ করে দেয়। যখন বান্দা বলে, ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এ বান্দা সম্পূর্ণরূপে আমার কাছে আত্মসমর্পণ করল। (রযীন)