দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬৯

وعن أبى الدرداء قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ألا أنبئكم بخير أعمالكم وأزكاها عند مليككم؟ وأرفعها فى درجاتكم؟ وخير لكم من إنفاق الذهب والورق؟ وخير لكم من أن تلقوا عدوكم فتضربوا أعناقهم ويضربوا أعناقكم؟» قالوا: بلٰى قال: «ذكر اللٰه». رواه مالك وأحمد والترمذى وابن ماجه إلا أن مالكا وقفه علٰى أبى الدرداء

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না, তোমাদের কাজ-কর্মের মধ্যে কোন্ কাজটি তোমাদের মালিকের কাছে অধিক পবিত্র এবং তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির ব্যাপারে অধিক কার্যকর। তাছাড়া তোমাদের জন্য সোনা-রূপা দান করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং এ কথার চেয়েও শ্রেষ্ঠ যে, তোমরা শত্রুর মুকাবিলা করবে, তাদের গলা কাটবে, আর তারা তোমাদের গলা কাটবে (যুদ্ধ করবে)। তাঁরা উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তা হলো আল্লাহর জিকির বা স্মরণ করা। (মালিক, আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ। কিন্তু ইমাম মালিক এ হাদীসটিকে মাওকূফ হাদীস অর্থাৎ- আবূ দারদা (রাঃ)-এর কথা বলে মনে করেন।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭০

وعن عبد الله بن بسر قال: جاء أعرابى إلى النبى ﷺ فقال: أي الناس خير؟ فقال: «طوبٰى لمن طال عمره وحسن عمله» قال: يا رسول اللٰه أى الأعمال أفضل؟ قال: «ان تفارق الدنيا ولسانك رطب من ذكر اللٰه». رواه أحمد والترمذى

তিনি বলেন, একবার এক বিদুঈন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি, যে দীর্ঘ হায়াত পেয়েছে এবং যার ‘আমাল নেক হয়েছে। সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! কোন ‘আমাল সর্বোত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে তখন তোমার মুখে আল্লাহর জিকিররত থাকবে। (তিরমিযী; আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭১

وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا مررتم برياض الجنة فارتعوا» قالوا: وما رياض الجنة؟ قال: «حلق الذكر». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন জান্নাতের বাগানে যাবে, তখন তোমরা বাগানের ফল খাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতের বাগান কি? তিনি বললেন, যিকিরের মাজলিস। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قعد مقعدا لم يذكر اللٰه فيه كانت عليه من اللٰه ترة ومن اضطجع مضجعا لا يذكر الله فيه كان عليه من اللٰه ترة». رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন জায়গায় বসেছে, আর সেখানে আল্লাহর জিকির করেনি, আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সে বৈঠক তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি বিছানায় শুয়েছে অথচ আল্লাহর জিকির করেনি, আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী তা তার জন্য ক্ষতির কারণ হবে। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭৩

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من قوم يقومون من مجلس لا يذكرون اللٰه فيه إلا قاموا عن مثل جيفة حمار وكان عليهم حسرة». رواه أحمد وأبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন দল কোন মাজলিস হতে আল্লাহর জিকির না করে উঠলে নিশ্চয় তারা মরা গাধা (’র গোশত) খেয়ে উঠল। এ মাজলিস তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। (আহমদ, আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭৪

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما جلس قوم مجلسا لم يذكروا اللٰه فيه ولم يصلوا علٰى نبيهم إلا كان عليهم ترة فإن شاء عذبهم وإن شاء غفر لهم». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন দল কোন মাজলিসে বসল অথচ আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করল না এবং তাদের নাবীর প্রতিও দরূদ সালাম পাঠাল না। নিশ্চয়ই তাদের জন্য এটা ক্ষতির কারণ হলো। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭৫

] وعن أم حبيبة قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «كل كلام ابن اٰدم عليه لا له إلا أمر بمعروف أو نهى عن منكر أو ذكر اللٰه». رواه الترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী আদামের প্রতিটি কথাই (কাজই) তার জন্য অকল্যাণকর (ক্ষতিকারক), তবে যদি এসব কাজ মানুষকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ এবং আল্লাহর যিকিরের উদ্দেশে হয়। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম আত্ তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭৬

وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تكثروا الكلام بغير ذكر اللٰه فإن كثرة الكلام بغير ذكر اللٰه قسوة للقلب وإن أبعد الناس من اللٰه القلب القاسى». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর জিকির ছাড়া বেশি কথা বলো না। কেননা আল্লাহর জিকির ছাড়া অন্য কথা বেশি বলা হৃদয় কঠিন হয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর শক্ত হৃদয়সম্পন্ন ব্যক্তিই হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা হতে সবচেয়ে বেশি দূরে। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭৭

وعن ثوبان قال: لما نزلت ﴿والذين يكنزون الذهب والفضة﴾كنا مع النبى ﷺ فى بعض أسفاره فقال بعض أصحابه: نزلت فى الذهب والفضة لو علمنا أي المال خير فنتخذه؟ فقال: «أفضله لسان ذاكر وقلب شاكر وزوجة مؤمنة تعينه علٰى ايمانه». رواه أحمد والترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, যখন وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ অর্থাৎ- ‘‘আর যারা (অতি লোভের বশবর্তী হয়ে) সোনা-রূপা জমা করে’’- (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩৪) এ আয়াতটি নাযিল হলো, তখন আমরা কোন এক সফরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। এমন সময় জনৈক সাহাবী বললেন, এ কথা সোনা-রূপা সম্পর্কে নাযিল হলো। যদি আমরা জানতাম কোন্ সম্পদ উত্তম, তাহলে তবে জমা করে রাখতাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের কারো শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো আল্লাহর জিকিরকারী জিহবা, কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারী অন্তর ও মু’মিনাহ্ স্ত্রী; যে তার (স্বামীর) ঈমানের (দ্বীনের) ব্যাপারে সহযোগিতা করে। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭৮

عن أبى سعيد قال: خرج معاوية علٰى حلقة فى المسجد فقال: ما أجلسكم؟ قالوا: جلسنا نذكر اللٰه قال: اللٰه ما أجلسكم إلا ذٰلك؟ قالوا: اللٰه ما أجلسنا غيره قال: أما إنى لم أستحلفكم تهمة لكم وما كان أحد بمنزلتى من رسول اللٰه ﷺ أقل عنه حديثا منى وإن رسول اللٰه ﷺ خرج علٰى حلقة من أصحابه فقال: «ما أجلسكم هاهنا» قالوا: جلسنا نذكر اللٰه ونحمده علٰى ما هدانا للإسلام ومن به علينا قال: الله ما أجلسكم إلا ذٰلك؟ قالوا: آلله ما أجلسنا إلا ذٰلك قال: «أما إنى لم أستحلفكم تهمة لكم ولكنه أتانى جبريل فأخبرنى أن اللٰه عز وجل يباهى بكم الملائكة». رواه مسلم

তিনি বলেন, একবার আমীরে মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) মাসজিদে গোল হয়ে বসা এক মাজলিসে পৌঁছলেন এবং মাজলিসের লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি কাজে এখানে বসে আছেন? জবাবে তারা বললেন, আমরা এখানে আল্লাহর জিকির করছি। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম করে বলুন, আপনারা এখানে আর অন্য কোন কাজের জন্য তো বসেননি? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা এখানে এছাড়া আর অন্য কোন কাজে বসিনি। অতঃপর মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) বললেন, জেনে রাখুন! আমি আপনাদের কথা অবিশ্বাস করে আপনাদেরকে শপথ করাইনি। আমার মতো মর্যাদাবান সাহাবীগণের মধ্যে আমার মতো এত কম হাদীস রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে বর্ণনা করেননি। (তাহলে শুনুন!) একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর হতে বের হয়ে তাঁর সাহাবীগণের এক মাজলিসে পৌঁছলেন এবং বললেন, তোমরা এখানে কি কাজে বসে আছো? উত্তরে তাঁরা বললেন, আমরা এখানে আল্লাহর জিকির করতে বসে আছি। তিনি আমাদেরকে ইসলামে হিদায়াত করেছেন এজন্য তাঁর প্রশংসা করছি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আল্লাহর কসম করে বলতে পার কি যে, তোমরা এছাড়া অন্য কোন কাজে এখানে বসনি। তাঁরা বললেন, আমরা শপথ করে বলছি, আমরা এছাড়া অন্য কোন কাজে এখানে বসিনি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, শোন, তোমাদের কথাকে অবিশ্বাস করে আমি তোমাদেরকে শপথ করাইনি। বরং প্রকৃত ব্যাপার হলো এখন জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে খবর দিলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে নিয়ে তাঁর মালায়িকাহর (ফেরেশতাগণের) কাছে গর্ববোধ করছেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭৯

وعن عبد الله بن بسر: أن رجلا قال: يا رسول اللٰه إن شرائع الإسلام قد كثرت على فأخبرنى بشىء أتشبث به قال: لا يزال لسانك رطبا بذكر اللٰه. رواه الترمذى وابن ماجه وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার ওপর ইসলামের (নাফ্‌লী) নির্ধারিত বিধি-বিধান অনেক। তাই আমাকে সংক্ষেপে কিছু বলে দিন যা আমি সব সময় করতে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি সব সময় তোমার জিহবাকে আল্লাহর জিকিররত রাখবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮০

وعن أبى سعيد: أن رسول اللٰه ﷺ سئل: أى العباد أفضل وأرفع درجة عند اللٰه يوم القيامة؟ قال: «الذاكرون اللٰه كثيرا والذاكرات» قيل: يا رسول اللٰه ومن الغازى فى سبيل اللٰه؟ قال: «لو ضرب بسيفه فى الكفار والمشركين حتٰى ينكسر ويختضب دما فإن الذاكر للٰه أفضل منه درجة». رواه أحمد والترمذى وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কিয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর জিকিরকারী পুরুষ ও নারী। আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের চেয়েও কি তারা মর্যাদাবান ও শ্রেষ্ঠ? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, সে যদি নিজের তরবারি দিয়ে কাফির ও মুশরিকদেরকে আঘাত করে, এমনকি তার তরবারি ভেঙে যায়, আর সে নিজেও হয়ে পড়ে রক্তাক্ত, তাহলেও তার থেকে আল্লাহর জিকিরকারী শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান। (আহমদ, তিরমিযী; তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮১

وعن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: الشيطان جاثم علٰى قلب ابن اٰدم فإذا ذكر اللٰه خنس وإذا غفل وسوس. رواه البخارى تعليقا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান আদম সন্তানের কলবের বা অন্তরের উপর জেঁকে বসে থাকে। যখন সে আল্লাহর জিকির করে তখন সরে যায় আর যখন গাফিল বা অমনোযোগী হয় তখন শয়তান তার দিলে ওয়াস্ওয়াসা দিতে থাকে। (বুখারী তা‘লীক হিসেবে)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮২

وعن مالك قال: بلغنى أن رسول اللٰه ﷺ كان يقول: «ذاكر اللٰه فى الغافلين كالمقاتل خلف الفارين وذاكر اللٰه فى الغافلين كغصن أخضر فى شجر يابس

তিনি বলেন, আমার কাছে বিশ্বস্ততার সাথে সংবাদ এসেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, অলস অমনোযোগীদের মধ্যে জিকিরকারী এমন, যেমন যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়নকারীদের মধ্যে যুদ্ধকারী। আর গাফিলদের মধ্যে জিকিরকারী এমন, যেমন শুকনো গাছের মধ্যে কাঁচা ডাল।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮৩

وفى رواية: مثل الشجرة الخضراء فى وسط الشجر وذاكر اللٰه فى الغافلين مثل مصباح فى بيت مظلم وذاكر اللٰه فى الغافلين يريه اللٰه مقعده من الجنة وهو حى وذاكر اللٰه فى الغافلين يغفر له بعدد كل فصيح وأعجم». والفصيح: بنو اٰدم والأعجم: البهائم. رواه رزين

শুকনো গাছ-গাছড়ার মধ্যে সতেজ সবুজ গাছ যেমন, তেমনি গাফিলদের মধ্যে জিকিরকারী এমন, যেমন অন্ধকার ঘরে আলো। গাফিলদের মধ্যে জিকিরকারীকে তার জীবদ্দশায়ই তার জান্নাতের স্থান দেখানো হবে এবং গাফিলদের মধ্যে জিকিরকারীর গুনাহ মানুষ ও পশুর সংখ্যা পরিমাণ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (রযীন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮৪

وعن معاذ بن جبل قال: ما عمل العبد عملا أنجٰى له من عذاب اللٰه من ذكر اللٰه. رواه مالك والترمذى وابن ماجه

তিনি বলেন, আল্লাহর যিকিরের চেয়ে আল্লাহর ‘আযাব হতে রক্ষা করতে পারার মতো কোন ‘আমাল আল্লাহর কোন বান্দা করতে পারে না। (মালিক, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮৫

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه تعالٰى يقول: أنا مع عبدى إذا ذكرنى وتحركت بى شفتاه». رواه البخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা যখন আমার জিকির করে আমার জন্যে তার দুই ঠোঁট নড়ে তখন আমি তার কাছে থাকি। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮৬

وعن عبد اللٰه بن عمر عن النبى ﷺ أنه كان يقول: «لكل شىء صقالة وصقالة القلوب ذكر اللٰه وما من شىء أنجٰى من عذاب اللٰه من ذكر اللٰه» قالوا: ولا الجهاد فى سبيل اللٰه؟ قال: «ولا أن يضرب بسيفه حتٰى ينقطع». رواه البيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেকটা জিনিসের (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের জন্য) একটা ব্রাশ বা মাজন আছে। আর কলব বা মন পরিষ্কার করার জন্য ব্রাশ বা মাজন হলো আল্লাহর জিকির। আল্লাহর ‘আযাব হতে মুক্তি দেয়ার জন্য আল্লাহর যিকিরের চেয়ে অধিক কার্যকর আর কোন জিনিসই নেই। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করাও কি নয়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে মুজাহিদ আল্লাহর পথে প্রচন্ড বেগে তরবারির আঘাতে তা (যদি) ভেঙেও ফেলে। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]


ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية