তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫৩

وعن أنس قال: كان رسول اللٰه ﷺ يرفع يديه فى الدعاء حتٰى يرٰى بياض إبطيه

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুয়ার সময় নিজের হাত উঠাতেন এমনকি তখন তাঁর বগলের উজ্জ্বলতা প্রকাশ পেত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫৪

وعن سهل بن سعد عن النبى ﷺ قال: كان يجعل أصبعيه حذاء منكبيه ويدعو

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের আঙ্গুল কাঁধ সমান উঠিয়ে দু‘আ করতেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫৫

وعن السائب بن يزيد عن أبيه أن النبى ﷺ كان إذا دعا فرفع يديه مسح وجهه بيديه. روى البيهقى الأحاديث الثلاثة فى «الدعوات الكبير

তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত উঠিয়ে দু‘আ করার সময় হাত দিয়ে মুখমন্ডলে মাসাহ করতেন। উপরোল্লিখিত তিনটি হাদীস ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) তাঁর ‘‘দা‘ওয়াতুল কাবীর’’-এ বর্ণনা করেছেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫৬

وعن عكرمة عن ابن عباس رضي اللٰه عنهما قال: المسألة أن ترفع يديك حذو منكبيك أو نحوهما والاستغفار أن تشير بأصبع واحدة والابتهال أن تمد يديك جميعا. وفى رواية قال: والابتهال هكذا ورفع يديه وجعل ظهورهما مما يلى وجهه. رواه أبو داود

তিনি বলেছেন, আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার নিয়ম হলো, নিজের হাত দু’টি কাঁধ পর্যন্ত অথবা কাঁধের কাছাকাছি পর্যন্ত উঠাবে। আর আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়ার নিয়ম হলো, নিজের (শাহাদাত) আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করবে এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার নিয়ম হলো, তোমার পুরো হাত প্রসারিত করবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, প্রার্থনা করবে এভাবে- এরপর তিনি নিজের দু’হাত উপরের দিকে উঠিয়ে ধরলেন এবং হাতের তালুর দিক নিজের মুখমন্ডলে মাসাহ করলেন। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫৭

وعن ابن عمر أنه يقول: إن رفعكم أيديكم بدعة ما زاد رسول اللٰه ﷺ علٰى هٰذا يعنى إلى الصدر. رواه أحمد

তিনি বলেন, (দু‘আর সময়) তোমাদের হাত বেশি উপরে উঠিয়ে ধরা বিদআত (বিদাত)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কক্ষনো সিনা থেকে বেশি উপরে হাত উঠাতেন না। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫৮

وعن أبى بن كعب قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا ذكر أحدا فدعا له بدأ بنفسه رواه الترمذى وقال هٰذا حديث حسن غريب صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো জন্য দু‘আ করার সময় প্রথমে নিজের জন্য দু‘আ করতেন। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব ও সহীহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫৯

وعن أبى سعيد الخدرى أن النبى ﷺ قال: «ما من مسلم يدعو بدعوة ليس فيها إثم ولا قطيعة رحم إلا أعطاه اللٰه بها إحدٰى ثلاث: إما أن يعجل له دعوته وإما أن يدخرها له فى الاٰخرة وإما أن يصرف عنه من السوء مثلها» قالوا: إذن نكثر قال: «الله أكثر». رواه أحمد

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম দু‘আ করার সময় কোন গুনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দু‘আ না করলে অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তাকে এ তিনটির একটি দান করেন। (১) হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সুপারিশ দুনিয়ায় দান করেন, (২) অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন এবং (৩) অথবা তার মতো কোন অকল্যাণ বা বিপদাপদকে তার থেকে দূরে করে দেন। সাহাবীগণ বললেন, তবে তো আমরা অনেক বেশি লাভ করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ এর চেয়েও বেশি দেন। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬০

وعن ابن عباس رضي اللٰه عنهما عن النبى ﷺ قال «خمس دعوات يستجاب لهن: دعوة المظلوم حتٰى ينتصر ودعوة الحاج حتٰى يصدر ودعوة المجاهد حتٰى يقعد ودعوة المريض حتٰى يبرأ ودعوة الأخ لأخيه بظهر الغيب». ثم قال: «وأسرع هٰذه الدعوات إجابة دعوة الأخ لأخيه بظهر الغيب». رواه البيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ লোকের দু‘আ কবূল করা হয়। (১) মাযলূম বা অত্যাচারিতের দু‘আ- যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিশোধ গ্রহণ করা না হয়, (২) হজ সমাপনকারীর দু‘আ- বাড়ী ফিরে না আসা পর্যন্ত, (৩) মুজাহিদের দু‘আ- যতক্ষণ না বসে পড়ে, (৪) রোগীর দু‘আ- যতক্ষণ না সে সুস্থতা লাভ করে এবং (৫) এক মুসলিম ভাইয়ের দু‘আ অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এ সব দু‘আর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কবূল হয় এক (মুসলিম) ভাইয়ের দু‘আ তার আর এক ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬১

عن أبى هريرة وأبى سعيد رضي اللٰه عنهما قالا: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يقعد قوم يذكرون اللٰه إلا حفتهم الملائكة وغشيتهم الرحمة ونزلت عليهم السكينة وذكرهم اللٰه فيمن عنده». رواه مسلم

তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মনুষ্য দল আল্লাহর জিকির করতে বসলে, আল্লাহর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) নিশ্চয় তাদেরকে ঘিরে নেন, তাঁর রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে এবং তাদের ওপর (মনের) প্রশান্তি বর্ষিত হয়। (অধিকাংশ সময়) আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের সাথে তাদেরকে স্মরণ করেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬২

وعن أبى هريرة قال: كان رسول اللٰه ﷺ يسير فى طريق مكة فمر علٰى جبل يقال له: جمدان فقال: «سيروا هٰذا جمدان سبق المفردون». قالوا: وما المفردون؟ يا رسول اللٰه قال: «الذاكرون الله كثيرا والذاكرات». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সফর হতে মক্কার পথ ধরে এক পাহাড়ে পৌঁছলেন, জায়গাটির নাম ছিল ‘জুমদান’। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা চলো এটা হলো জুমদান। আগে আগে চলল মুফাররিদরা। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! মুফাররিদ কারা? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে পুরুষ বা নারী আল্লাহর অধিক জিকির করে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬৩

وعن أبى موسٰى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «مثل الذى يذكر ربه والذى لا يذكر مثل الحى والميت». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তার রবকে স্মরণ করে আর যে করে না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: يقول اللٰه تعالٰى: أنا عند ظن عبدى بى وأنا معه إذا ذكرنى فإن ذكرنى فى نفسه ذكرته فى نفسى وإن ذكرنى فى ملأ ذكرته فى ملأ خير منهم. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আমার বান্দার নিকট সেরূপ, যেরূপ সে আমাকে স্মরণ করে। আমি তার সাথে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে আমাকে স্মরণ করে তার মনে, আমি তাকে স্মরণ করি আমার মনে। আর সে যদি স্মরণ করে আমাকে মানুষের দলে, আমি তাকে (অনুরূপ) স্মরণ করি তাদের চেয়েও সর্বোত্তম দলে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬৫

وعن أبى ذر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يقول اللٰه تعالٰى: من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها وأزيد ومن جاء بالسيئة فجزاء سيئة مثلها أو أغفر ومن تقرب منى شبرا تقربت منه ذراعا ومن تقرب منى ذراعا تقربت منه باعا ومن أتانى يمشى أتيته هرولة ومن لقينى بقراب الأرض خطيئة لا يشرك بى شيئا لقيته بمثلها مغفرة». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার কাছে একটি কল্যাণকর (ভালো) কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, তার জন্য ঐ কাজের দশগুণ বেশি কল্যাণ (সাওয়াব) রয়েছে। আর আমি এর চেয়েও বেশি দিতে পারি। আর যে ব্যক্তি একটি অকল্যাণকর (মন্দ) কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে তার প্রতিফল স্বরূপ এক গুণই অকল্যাণ (গুনাহ) হবে অথবা আমি তাকে মাফও করে দিতে পারি। আর যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসবে; আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসব। যে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। আর যে কোন শির্ক না করে আমার কাছে পৃথিবী সমান গুনাহ করে আসে, আমি ওই পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করি। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬৬

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه تعالٰى قال: من عادٰى لى وليا فقد اٰذنته بالحرب وما تقرب إلي عبدي بشىء أحب إلي مما افترضت عليه وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتٰى احبه فإذا أحببته كنت سمعه الذى يسمع به وبصره الذى يبصر به ويده التى يبطش بها ورجله التى يمشى بها وإن سألنى لأعطينه ولئن استعاذنى لأعيذنه وما ترددت عن شىء أنا فاعله ترددى عن نفس المؤمن يكره الموت وأنا أكره مساءته ولا بد له منه». رواه البخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার কোন বন্ধুকে শত্রু ভাবে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমি আমার বান্দার ওপর যা কিছু (‘আমাল) ফরয করেছি; তা দ্বারা আমার সান্নিধ্য অর্জন করা আমার নিকট বেশী প্রিয় অন্য কিছু (‘আমাল) দিয়ে সান্নিধ্য অর্জনের চাইতে। আর আমার বান্দা সর্বদা নফল ‘ইবাদাতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য হাসিল করে। পরিশেষে আমি তাকে ভালবাসি এবং আমি যখন তাকে ভালবাসি- আমি হয়ে যাই তার কান, যা দিয়ে সে শুনে। আমি হয়ে যাই তার চোখ, যা দিয়ে সে দেখে। আমি হয়ে যাই তার হাত, যা দিয়ে সে ধরে (কাজ করে)। আমি হয়ে যাই তার পা, যা দিয়ে চলাফেরা করে। সে যদি আমার কাছে চায়, আমি তাকে দান করি। সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি তাকে আশ্রয় দেই। আর আমি যা করতে চাই, তা করতে আমি মু’মিন বান্দার রূহ কবয করার মতো ইতস্তত করি না। কেননা মু’মিন (স্বাভাবিকভাবে) মৃত্যুকে অপছন্দ করে, আর আমি অপছন্দ করি তাকে অসন্তুষ্ট করতে। কিন্তু মৃত্যু তার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬৭

وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن للٰه ملائكة يطوفون فى الطرق يلتمسون أهل الذكر فإذا وجدوا قوما يذكرون اللٰه تنادوا: هلموا إلٰى حاجتكم» قال: «فيحفونهم بأجنحتهم إلى السماء الدنيا» قال: «فيسألهم ربهم وهو أعلم بهم: ما يقول عبادى؟» قال: «يقولون: يسبحونك ويكبرونك ويحمدونك ويمجدونك» قال: «فيقول: هل رأونى؟» قال:«فيقولون: لا واللٰه ما رأوك» قال فيقول: كيف لو رأونى؟ قال: «فيقولون: لو رأوك كانوا أشد لك عبادة وأشد لك تمجيدا وأكثر لك تسبيحا» قال: «فيقول: فما يسألون؟ قالوا: يسألونك الجنة» قال: «يقول: وهل رأوها؟» قال: «فيقولون: لا واللٰه يا رب ما رأوها» قال: «فيقول: فكيف لو رأوها؟» قال: «يقولون: لو أنهم رأوها كانوا أشد حرصا وأشد لها طلبا وأعظم فيها رغبة قال: فمم يتعوذون؟» قال: «يقولون: من النار» قال: «يقول: فهل رأوها؟» قال: يقولون: «لا واللٰه يا رب ما رأوها» قال: «يقول: فكيف لو رأوها؟» قال: «يقولون لو رأوها كانوا أشد منها فرارا وأشد لها مخافة» قال: «فيقول: فأشهدكم أنى قد غفرت لهم» قال: «يقول ملك من الملائكة: فيهم فلان ليس منهم إنما جاء لحاجة قال: هم الجلساء لا يشقٰى جليسهم». رواه البخارى وفى رواية مسلم قال: «إن للٰه ملائكة سيارة فضلا يبتغون مجالس الذكر فإذا وجدوا مجلسا فيه ذكر قعدوا معهم وحف بعضهم بعضا بأجنحتهم حتٰى يملأوا ما بينهم وبين السماء الدنيا فإذا تفرقوا عرجوا وصعدوا إلى السماء قال: فيسألهم اللٰه وهو أعلم: من أين جئتم؟ فيقولون: جئنا من عند عبادك فى الأرض يسبحونك ويكبرونك ويهللونك ويمجدونك ويحمدونك ويسألونك قال: وماذا يسألونى؟ قالوا: يسألونك جنتك قال: وهل رأوا جنتى؟ قالوا: لا أى رب قال: وكيف لو رأوا جنتى؟ قالوا: ويستجيرونك قال: ومم يستجيرونى؟ قالوا: من نارك قال: وهل رأوا نارى؟ قالوا: لا. قال: فكيف لو رأوا نارى؟ قالوا: يستغفرونك» قال: «فيقول: قد غفرت لهم فأعطيتهم ما سألوا وأجرتهم مما استجاروا» قال: «يقولون: رب فيهم فلان عبد خطاء وإنما مر فجلس معهم» قال: «فيقول وله غفرت هم القوم لا يشقٰى بهم جليسهم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর একদল মালাক (ফেরেশতা) রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে আল্লাহর জিকিরকারীদেরকে সন্ধান করেন। যখন তাঁরা কোন দলকে আল্লাহর জিকির করতে দেখে, তখন একে অপরকে বলেন, এসো! তোমাদের কামনার বিষয় এখানেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এরপর তারা জিকিরকারী দলকে নিজেদের ডানা দিয়ে নিকটতম আসমান পর্যন্ত ঘিরে নেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তাদেরকে তখন তাদের প্রতিপালক জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দারা কি বলছে? অথচ ব্যাপারটা তিনিই সবচেয়ে বেশি ভাল জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) বলেন, তোমার বান্দারা তোমার পবিত্রতা বর্ণনা, মহত্ব ঘোষণা, প্রশংসা ও মর্যাদার বর্ণনা দিচ্ছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বলেন, তোমার কসম! তারা কক্ষনো তোমাকে দেখেনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন। তারা যদি আমাকে দেখতে পেত, তাহলে অবস্থাটা কেমন হত? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বলেন, হে রব! যদি তারা তোমাকে দেখতে পেত, তাহলে তারা তোমার আরও বেশি ‘ইবাদাত করত, আরও বেশি তোমার গুণগান ও পবিত্রতা বর্ণনা করত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, (প্রকৃতপক্ষে) তারা কি চায়? মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বলেন, তারা তোমার কাছে জান্নাত চায়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বলেন, হে রব! তোমার কসম! তারা কখনো জান্নাত দেখেনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ বলেন, তারা যদি জান্নাত দেখতে পেত, তাহলে কেমন হত? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) তখন বলেন, যদি তারা জান্নাত দেখতে পেত, অবশ্যই তারা তার জন্য খুবই লোভী হত, এর জন্য অনেক দু‘আ করত, তা পাওয়ার আগ্রহ বেশি দেখাত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কোন্ জিনিস হতে আশ্রয় চায়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) তখন বলেন, তারা জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) তখন বলেন, হে রব! তোমার কসম! তারা জাহান্নাম কক্ষনো দেখেনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, যদি তারা জাহান্নাম দেখতে পেত, কেমন হত? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) তখন উত্তরে বলেন, যদি তারা জাহান্নাম দেখতে পেত, তাহলে তারা জাহান্নাম থেকে অনেক দূরে পালিয়ে থাকত, একে বেশি ভয় করত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ বলেন, তোমাদেরকে আমি সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতা) একজন বলে ওঠেন, তাদের অমুক ব্যক্তি তাদের মধ্যে গণ্য নয়। সে তো শুধু তার কোন কাজেই এখানে এসেছে। তখন আল্লাহ বলেন, তাদের সাথে বসা কোন ব্যক্তিই তা থেকে বঞ্চিত হবে না। (বুখারী) সহীহ মুসলিম-এর এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তা‘আলার অতিরিক্ত একদল পর্যটক মালাক রয়েছেন। তারা আল্লাহর জিকিরকারীদের মাজলিস খুঁজে বেড়ান। কোন মাজলিস পেয়ে গেলে তাদের সাথে বসে পড়েন। একে অন্যের সাথে পাখা মিলিয়ে জিকিরকারীদের হতে নিকটতম আসমান পর্যন্ত সব জায়গাকে ঘিরে নেন। মাজলিস ছেড়ে জিকিরকারীগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) আকাশের দিকে ও আরো উপরের দিকে উঠে যান। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ ব্যাপারটি তিনি জানেন, তোমরা কোথা হতে এলে? তারা উত্তরে বলেন, আমরা তোমার এমন বান্দাদের কাছ থেকে এসেছি যারা জমিনে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, মহত্ব ও একত্বের ঘোষণা দিচ্ছে, তোমার প্রশংসা করছে, তোমার কাছে দু‘আ করছে। তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা আমার কাছে কি চায়? মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বলেন, তোমার জান্নাত চায়। তখন আল্লাহ বলেন, তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে? তারা বলেন না, দেখেনি হে রব! তখন আল্লাহ বলেন, কেমন হত, যদি তারা আমার জান্নাত দেখতে পেত। তারপর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বলেন, তারা তোমার কাছে মুক্তিও চায়। তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করছেন, তারা কোন্ জিনিস হতে মুক্তি চায়? তারা বলেন, তোমার জাহান্নাম থেকে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কি আমার জাহান্নাম দেখেছে? তারা বলেন, না, হে আল্লাহ! তখন তিনি বলেন, কেমন হত যদি তারা আমার জাহান্নাম দেখতে পেত। তারপর তারা বলেন, তারা তোমার কাছে ক্ষমাও চায়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ বলেন, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। তাদেরকে আমি দান করলাম যা তারা আমার কাছে চায়। আর যে জিনিস হতে তারা মুক্তি চায় তার থেকে আমি তাদেরকে মুক্ত করে দিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) তখন বলেন, হে রব! তাদের অমুক ব্যক্তি তো খুবই পাপী। সে তো পথ দিয়ে যাবার সময় (তাদেরকে দেখে) তাদের সাথে বসে গেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ বলেন, তাকেও আমি ক্ষমা করে দিলাম। তারা এমন একদল যাদের সঙ্গী-সাথীরাও বঞ্চিত হয় না।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬৮

وعن حنظلة بن الربيع الأسيدى قال: لقينى أبو بكر فقال: كيف أنت يا حنظلة؟ قلت: نافق حنظلة قال: سبحان اللٰه ما تقول؟ قلت: نكون عند رسول اللٰه ﷺ يذكرنا بالنار والجنة كأنا رأى عين فإذا خرجنا من عند رسول اللٰه ﷺ عافسنا الأزواج والأولاد والضيعات نسينا كثيرا قال أبو بكر: فو الله إنا لنلقٰى مثل هٰذا فانطلقت أنا وأبو بكر حتٰى دخلنا علٰى رسول اللٰه ﷺ فقلت: نافق حنظلة يا رسول اللٰه قال رسول اللٰه ﷺ: «وما ذاك؟» قلت: يا رسول اللٰه نكون عندك تذكرنا بالنار والجنة كأنا رأى عين فإذا خرجنا من عندك عافسنا الأزواج والأولاد والضيعات نسينا كثيرا فقال رسول اللٰه ﷺ: «الذى نفسى بيده لو تدومون علٰى ما تكونون عندى وفى الذكر لصافحتكم الملائكة علٰى فرشكم وفى طرقكم ولكن يا حنظلة ساعة وساعة» ثلاث مرات. رواه مسلم

বলেন, আমার সাথে আবূ বাকর -এর একবার সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, কেমন আছো হানযালাহ্? আমি বললাম, হানযালাহ্ মুনাফিক হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ, এটা কি বলছ হানযালাহ্! আমি বললাম, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে থাকি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নাম স্মরণ করিয়ে দেন, (মনে হয়) আমরা যেন তা চোখে দেখি। কিন্তু আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে বের হয়ে আসি, কিন্তু (পরকক্ষণেই) স্ত্রী-সন্তানাদি, ক্ষেত-খামার নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি। তা অনেকটাই ভুলে যাই। তখন আবূ বাকর বললেন, আমরাও এরূপই অনুভব করি। এরপর আমি ও আবূ বাকর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! হানযালাহ্ মুনাফিক হয়ে গেছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে আবার কেমন কথা? আমি বললাম, হে আল্লাহ রসূল! আমরা আপনার কাছে থাকলে আপনি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তখন মনে হয় তা যেন আমাদের চোখের দেখা। কিন্তু আপনার কাছ থেকে সরে গিয়ে স্ত্রী সন্তান-সন্ততি ও ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তখন জান্নাত-জাহান্নামের কথা অনেকটাই ভুলে যাই। এসব কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে, তাঁর কসম, যদি তোমরা সবসময় ঐরূপ থাকতে যেরূপ আমার কাছে থাকো। সবসময় জিকির-আযকার করো, তাহলে অবশ্যই মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তোমাদের বিছানায় ও তোমাদের চলাচলের পথে তোমাদের সাথে ‘মুসাফাহা’ (হাত মিলাতেন) করতেন। কিন্তু হে হানযালাহ্! কখনো ঐরূপ কখনো এরূপই (এ অবস্থা) হবেই। এ বাক্যটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার বললেন। (মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية