মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩০
عن النعمان بن بشير قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «الدعاء هو العبادة» ثم قرأ: ﴿وقال ربكم ادعونى أستجب لكم﴾ رواه أحمد والترمذى وأبو داود والنسائى وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু‘আই (মূল) ‘ইবাদাত। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ‘‘এবং তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমার নিকট দু‘আ করো, আমি তোমাদের দু‘আ কবূল করব।’’ (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩১
وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «الدعاء مخ العبادة». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু‘আ হলো ‘ইবাদাতের মগজ বা মূলবস্ত্ত। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩২
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ليس شىء أكرم على اللٰه من الدعاء». رواه الترمذى، وابن ماجه. وقال الترمذى : هٰذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট দু‘আর চেয়ে কোন জিনিসের অধিক মর্যাদা (উত্তম) নেই। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩৩
وعن سلمان الفارسى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يرد القضاء إلا الدعاء ولا يزيد فى العمر إلا البر». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু‘আ ছাড়া অন্য কিছুই তাকদীদের লিখনকে পরিবর্তন করতে পারে না এবং নেক ‘আমাল ছাড়া অন্য কিছু বয়স বাড়াতে পারে না। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩৪
وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن الدعاء ينفع مما نزل ومما لم ينزل فعليكم عباد اللٰه بالدعاء». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে দু‘আ ঐ সব কিছুর জন্যই কল্যাণকামী যা সংঘটিত হয়েছে এবং যা এখনো সংঘটিত হয়নি । সুতরাং হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দু‘আ করাকে নিজের প্রতি খুবই জরুরী মনে করবে বা যত্নবান হবে। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩৫
ورواه أحمد عن معاذ بن جبل. وقال الترمذى هٰذا حديث غريب
হতে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩৬
وعن جابر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما من أحد يدعو بدعاء إلا اٰتاه اللٰه ما سأل أو كف عنه من السوء مثله ما لم يدع بإثم أو قطيعة رحم». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোন দু‘আ করলে আল্লাহ তা‘আলা তার হয়ত সে দু‘আ কবূল করেন অথবা এরূপ কোন বিপদকে তার ওপর থেকে দূরে সরিয়ে দেন, যদি সে কোন গুনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদের জন্য দু‘আ না করে। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩৭
وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «سلوا اللٰه من فضله فإن اللٰه يحب أن يسأل وأفضل العبادة انتظار الفرج». رواه الترمذى وقال هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ কামনা করো। কেননা আল্লাহ তাঁর কাছে প্রার্থনা করাকে পছন্দ করেন। আর ‘ইবাদাতের (দু‘আর) সর্বোত্তম দিক হলো স্বচ্ছলতার অপেক্ষা করা। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩৮
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من لم يسأل اللٰه يغضب عليه». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কামনা (দু‘আ) করে না, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩৯
وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من فتح لهٗ منكم باب الدعاء فتحت لهٗ أبواب الرحمة وما سئل اللٰه شيئا يعنى أحب إليه من أن يسأل العافية». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার জন্য দু‘আর দরজা খোলা, তার জন্য রহমতের দরজাও খোলা। আর আল্লাহর নিকট কুশল ও নিরাপত্তা কামনা করা ব্যতীত আর কোন কিছু কামনা করা এত প্রিয় নয়। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪০
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من سرهٗ أن يستجيب اللٰه لهٗ عند الشدائد فليكثر الدعاء فى الرخاء». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চায় বিপদাপদে আল্লাহ তার দু‘আ কবূল করুন। সে যেন তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময়েও আল্লাহর নিকট বেশি বেশি দু‘আ করে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪১
وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ادعوا اللٰه وأنتم موقنون بالإجابة واعلموا أن اللٰه لا يستجيب دعاء من قلب غافل لاه». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দু‘আ কবূল হওয়ার দৃঢ়তা ও নিশ্চয়তা মনে রেখেই আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আ কর। জেনে রেখ, আল্লাহ তা‘আলা অবহেলাকারী আস্থাহীন মনের দু‘আ কবূল করেন না। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪২
وعن مالك بن يسار قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا سألتم اللٰه فاسألوه ببطون أكفكم ولا تسألوه بظهورها
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন আল্লাহর কাছে দু‘আ করবে, তখন হাতের ভিতরের (তালুর) দিক দিয়ে দু‘আ করবে, হাতের উপরের দিক (পিছন দিক) দিয়ে দু‘আ করবে না।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪৩
وفى رواية ابن عباس قال: سلوا اللٰه ببطون أكفكم ولا تسألوه بظهورها فإذا فرغتم فامسحوا بها وجوهكم. رواه داود
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার কাছে হাতের তালুর দিক দিয়ে দু‘আ করো, হাতের পিছনের দিক দিয়ে করো না। আর দু‘আ শেষ হবার পর হাতকে মুখম-লের সাথে মুছে নিবে। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪৪
وعن سلمان قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن ربكم حيي كريم يستحيى من عبده إذا رفع يديه إليه أن يردهما صفرا». رواه الترمذى وأبو داود والبيهقى فى الدعوات الكبير
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। বান্দা যখন তাঁর কাছে কিছু চেয়ে হাত উঠায় তখন তার হাত (দু‘আ কবূল না করে) খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪৫
وعن عمر قال: كان رسول اللٰه ﷺ إذا رفع يديه فى الدعاء لم يحطهما حتٰى يمسح بهما وجهه. رواه الترمذى
বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দু‘আর জন্য হাত উঠাতেন, (দু‘আ শেষে) হাত দিয়ে তিনি নিজের মুখমন্ডল মুছে নেয়া ছাড়া হাত নামাতেন না। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪৬
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يستحب الجوامع من الدعاء ويدع ما سوٰى ذٰلك. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপূর্ণ (ব্যাপক অর্থবোধক দুনিয়া এবং আখিরাতকে শামিল করে) দু‘আ করাকে পছন্দ করতেন এবং এছাড়া অন্য দু‘আ অধিকাংশ সময় পরিহার করতেন। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪৭
وعن عبد اللٰه بن عمرو قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن أسرع الدعاء إجابة دعوة غائب لغائب». رواه الترمذى وأبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনুপস্থিত লোকের জন্য অনুপস্থিত লোকের দু‘আ খুব তাড়াতাড়ি কবূল হয়। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪৮
وعن عمر بن الخطاب قال استأذنت النبى ﷺ فى العمرة فأذن لى وقال: «أشركنا يا أخى فى دعائك ولا تنسنا». فقال كلمة ما يسرنى أن لى بها الدنيا. رواه أبو داود والترمذى وانتهت روايته عند قوله «ولا تنسنا
তিনি বলেন, একবার আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ‘উমরাহ্ করার অনুমতি চাইলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ‘উমরার জন্য অনুমতি দিলেন এবং বললেন, হে আমার ছোট ভাই! তোমার দু‘আয় আমাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করো এবং আমাদেরকে ভুলে যেও না। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন একটি কথা বললেন, যার বিনিময়ে আমাকে সারা দুনিয়া দিয়ে দেয়া হয়, তবুও আমি এত খুশি হতাম না। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী; কিন্তু তিরমিযীতে ‘আমাকে ভুলে যেও না’ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ثلاثة لا ترد دعوتهم: الصائم حين يفطر والإمام العادل ودعوة المظلوم يرفعها اللٰه فوق الغمام وتفتح لها أبواب السماء ويقول الرب: وعزتى لأنصرنك ولو بعد حين». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন লোকের দু‘আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (১) সায়িমের (রোযাদারের) দু‘আ- যখন সে ইফতার করে, (২) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু‘আ এবং (৩) মাযলূমের বা অত্যাচারিতের দু‘আ। অত্যাচারিতের দু‘আকে আল্লাহ তা‘আলা মেঘমালার উপর উঠিয়ে নেন এবং তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আমার ইজ্জতের কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমায় সাহায্য করব কিছু সময় দেরি হলেও। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫০
وعنه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ثلاث دعوات مستجابات لا شك فيهن: دعوة الوالد ودعوة المسافر ودعوة المظلوم». رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে তিন লোকের দু‘আ কবূল হয়। (১) পিতার দু‘আ, (২) মুসাফিরের দু‘আ এবং (৩) মাযলূমের (পীড়িতের) দু‘আ। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫১
عن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ليسأل أحدكم ربه حاجته كلها حتٰى يسأله شسع نعله إذا انقطع
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই যেন স্বীয় প্রতিপালকের কাছে তার সকল প্রয়োজনের ব্যাপারে প্রার্থনা করে। এমনকি যখন তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে যায়, সে সময়ও যেন তাঁর কাছে চায়।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫২
زاد فى رواية عن ثابت البنانى مرسلا «حتٰى يسأله الملح وحتٰى يسأله شسعه إذا انقطع». رواه الترمذى
এর এক মুরসাল বর্ণনায় এ অংশটুকু বেশি রয়েছে যে, তাঁর কাছে যেন লবণও প্রার্থনা করে, এমনকি নিজের জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও যেন তাঁর নিকট প্রার্থনা করে। (তিরমিযী)[১]