মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৫
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أعربوا القراٰن واتبعوا غرائبه وغرائبه فرائضه وحدوده». رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন স্পষ্ট ও শুদ্ধ করে পড়ো। এর ‘গারায়িব’ অনুসরণ করো। আর কুরআনের ‘গারায়িব’ হলো এর ফারায়িয ও হুদূদ (সীমা ও বিধানসমূহ)। (ইমাম বায়হাক্বী তাঁর শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৬
وعن عائشة رضي اللٰه عنها: أن النبى ﷺ قال: «قراءة القراٰن فى الصلاة أفضل من قراءة القراٰن فى غير الصلاة وقراءة القراٰن فى غير الصلاة أفضل من التسبيح والتكبير والتسبيح أفضل من الصدقة والصدقة أفضل من الصوم والصوم جنة من النار». رواه البيهقي فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সলাতে কুরআন পাঠ সলাতের বাইরে কুরআন পাঠের চেয়ে উত্তম। সলাতের বাইরে কুরআন পড়া, তাসবীহ ও তাকবীর পড়ার চেয়ে উত্তম। আর তাসবীহ পড়া দান করা হতে উত্তম। দান করা (নফল) সওম হতে উত্তম। আর সওম হলো জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল। (ইমাম বায়হাক্বী তাঁর শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৭
وعن عثمان بن عبد اللٰه بن أوس الثقفى عن جده قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قراءة الرجل القراٰن فى غير المصحف ألف درجة وقراءته فى المصحف تضعف علٰى ذٰلك إلٰى ألفى درجة». رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তাঁর দাদা আওস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির মাসহাফ ছাড়া (অর্থাৎ- কুরআন দেখা ছাড়া) মুখস্থ কুরআন পড়া এক হাজার গুণ মর্যাদা সম্পন্ন। আর কুরআন মাসহাফে পড়া (অর্থাৎ- কুরআন খুলে দেখে দেখে পড়া) মুখস্থ পড়ার দু’ গুণ থেকে দু’ হাজার গুণ পর্যন্ত মর্যাদা রাখে। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৮
وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن هٰذه القلوب تصدأ كما يصدأ الحديد إذا أصابه الماء». قيل يا رسول اللٰه وما جلاؤها؟ قال: «كثرة ذكر الموت وتلاوة القراٰن. روى البيهقى الأحاديث الأربعة فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় হৃদয়ে মরিচা ধরে, যেভাবে পানি লাগলে লোহায় মরিচা ধরে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! এ মরিচা দূর করার উপায় কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা ও কুরআন তিলাওয়াত করা। (উপরে বর্ণিত এ চারটি হাদীস ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘‘শু‘আবূল ঈমান’’-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৯
وعن أيفع بن عبد الكلاعى قال: قال رجل: يا رسول اللٰه أي سورة القراٰن أعظم؟ قال: ﴿قل هو الله أحد﴾ قال: فأى اٰية فى القراٰن أعظم؟ قال: اٰية الكرسى ﴿الله لا إلٰه إلا هو الحى القيوم﴾ قال: فأى اٰية يا نبي اللٰه تحب أن تصيبك وأمتك؟ قال: «خاتمة سورة البقرة فإنها من خزائن رحمة اللٰه تعالٰى من تحت عرشه أعطاها هٰذه الأمة لم تترك خيرا من خير الدنيا والاٰخرة إلا اشتملت عليه». رواه الدارمى
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! কুরআনের কোন্ সূরা বেশি মর্যাদাপূর্ণ? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ক্বুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ। সে আবার জিজ্ঞেস করল, কুরআনের কোন্ আয়াত বেশি মর্যাদার? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আয়াতুল কুরসী- ‘‘আল্ল-হু লা ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যূল কইয়্যূম’’। সে পুনরায় বলল, হে আল্লাহর নাবী! কুরআনের কোন্ আয়াত এমন, যার বারাকাত আপনার ও আপনার উম্মাতের কাছে পৌঁছতে আপনি ভালবাসেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা আল বাকারাহ্’র শেষাংশ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে তা এ উম্মাতকে দান করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোন কল্যাণ নেই যা এতে নেই। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭০
وعن عبد الملك بن عمير مرسلا قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «فى فاتحة الكتاب شفاء من كل داء». رواه الدارمى والبيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরা আল ফাতিহার মধ্যে সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে। (দারিমী, বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭১
وعن عثمان بن عفان قال: من قرأ اٰخر اٰل عمران فى ليلة كتب له قيام ليلة. رواه الدارمى
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা আ-লি ‘ইমরানের শেষের অংশ পড়বে, তার জন্য সমস্ত রাত সলাতে অতিবাহিত হবার সাওয়াব লিখা হবে। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭২
وعن مكحول قال: من قرأ سورة اٰل عمران يوم الجمعة صلت عليه الملائكة إلى الليل. رواه الدارمى
বলেছেন, যে লোক জুমার দিনে সূরা আ-লি ‘ইমরান পড়বে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার জন্য রাত পর্যন্ত সলাত বা দু‘আ করতে থাকবেন। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৩
وعن جبير بن نفير أن رسول اللٰه ﷺ قال: «إن اللٰه ختم سورة البقرة باٰيتين أعطيتهما من كنزه الذى تحت العرش فتعلموهن وعلموهن نساءكم فإنها صلاة وقربان ودعاء». رواه الدرامى مرسلا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরা আল বাকারাকে আল্লাহ তা‘আলা এমন দু’টি আয়াত দ্বারা শেষ করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে দান করা হয়েছে। তাই তোমরা এ আয়াতগুলোকে শিখবে। তোমাদের রমণীকুলকেও শিখাবে। কারণ এ আয়াতগুলো হচ্ছে রহমত, (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের উপায়। (দীন দুনিয়ার সকল) কল্যাণলাভের দু‘আ। (মুরসালরূপে দারিমী বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৪
وعن كعب أن رسول اللٰه ﷺ قال: «اقرؤوا سورة هود يوم الجمعة». رواه الدرامى مرسلا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমার দিনে সূরা হূদ পড়বে। (দারিমী হতে মুরসালরূপে বর্ণিত)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৫
وعن أبى سعيد أن النبى ﷺ قال: «من قرأ سورة الكهف فى يوم الجمعة أضاء له النور ما بين الجمعتين». رواه البيهقى فى الدعوات الكبير
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ্ হতে আগামী জুমাহ্ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৬
وعن خالد بن معدان قال: اقرؤوا المنجية وهى ﴿الم تنزيل﴾ فإن بلغنى أن رجلا كان يقرؤها ما يقرأ شيئا غيرها وكان كثير الخطايا فنشرت جناحها عليه قالت: رب اغفر له فإنه كان يكثر قراءتى فشفعها الرب تعالٰى فيه وقال: اكتبوا له بكل خطيئة حسنة وارفعوا له درجة. وقال أيضا: «إنها تجادل عن صاحبها فى القبر تقول: اللٰهم إن كنت من كتابك فشفعنى فيه وإن لم أكن من كتابك فامحنى عنه وإنها تكون كالطير تجعل جناحها عليه فتشفع له فتمنعه من عذاب القبر» وقال فى ﴿تبارك﴾ مثله. وكان خالد لا يبيت حتٰى يقرأهما. وقال طاووس: فضلتا علٰى كل سورة فى القراٰن بستين حسنة. رواه الدارمى
তিনি বলেন, তোমরা মুক্তিদানকারী সূরা ‘আলিফ লাম মিম তানযীল’ (সূরা আস্ সাজদাহ্) পড়ো। কেননা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ কথা আমার নিকট পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি এ সূরা পড়ত, এছাড়া আর কোন সূরা পড়ত না। সে ছিল বড় পাপী মানুষ। এ সূরা তার ওপর ডানা মেলে বলতে থাকত, হে রব! তাকে মাফ করে দাও। কারণ সে আমাকে বেশি বেশি তিলাওয়াত করত। তাই আল্লাহ তা‘আলা তার ব্যাপারে এ সূরার সুপারিশ গ্রহণ করেন ও বলে দেন যে, তার প্রত্যেক গুনাহের বদলে একটি করে নেকী লিখে নাও। তার মর্যাদা বৃদ্ধি করো। তিনি (রাবী) আরো বলেন, এ সূরা কবরে এর পাঠকের জন্য আল্লাহর নিকট নিবেদন করবে, হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার কিতাবের অংশ হয়ে থাকি, তুমি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। আর যদি আমি তোমার কিতাবের অংশ না হয়ে থাকি, আমাকে তোমার কিতাব হতে মুছে ফেলো। (অন্য বর্ণনায় আছে) তিনি বলেন, এ সূরা পাখীর রূপ ধারণ করে এর পাঠকারীর ওপর পাখা মেলে ধরবে ও তার জন্য সুপারিশ করবে। এর ফলে কবর ‘আযাব হতে হিফাযাত করা হবে। বর্ণনাকারী সূরা তাবা-রকাল্লাযী’ (মুল্ক) সম্পর্কেও এ একই বর্ণনা করেছেন। খালিদ এ সূরা দু’টি না পড়ে ঘুমাতেন না। ত্বাউস (রহঃ) বলেন, এ দু’টি সূরাকে কুরআনের অন্য সব সূরা হতে ষাটগুণ অধিক নেকী অর্জনের মর্যাদা দান করা হয়েছে। (দারিমী)[১] [২১৭৬ নং উপরোক্ত হাদীসটি মির্‘আতের মূল গ্রন্থে তিনটি আলাদা নম্বরে আনা হয়েছে]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৭
وعن عطاء بن أبى رباح قال: بلغنى أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من قرأ ﴿يٰس﴾ فى صدر النهار قضيت حوائجه» رواه الدارمى مرسلا
তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমার কাছে এ কথা পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনের প্রথম অংশে সূরা ইয়াসীন পড়বে, তার সব প্রয়োজন পূর্ণ হবে। (দারিমী মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৮
وعن معقل بن يسار المزنى أن النبى ﷺ قال: «من قرأ ﴿يٰس﴾ ابتغاء وجه اللٰه تعالٰى غفر له ما تقدم من ذنبه فاقرؤوها عند موتاكم». رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে সূরা ইয়াসীন পড়বে, তার আগের গুনাহসমূহ (সগীরাহ্) মাফ করে দেয়া হবে। তাই তোমরা তোমাদের মৃত্যু (আসন্ন) ব্যক্তিদের কাছে এ সূরা পড়বে। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৯
وعن عبد اللٰه بن مسعود أنه قال: إن لكل شىء سناما وإن سنام القراٰن سورة البقرة وإن لكل شىء لبابا وإن لباب القراٰن المفصل. رواه الدارمى
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি বস্তুর একটি শীর্ষস্থান রয়েছে। কুরআনের শীর্ষস্থান হলো সূরা আল বাকারাহ্। প্রত্যেক বস্তুরই একটি ‘সার’ রয়েছে। কুরআনের সার হলো মুফাস্সাল সূরাহগুলো। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮০
وعن على قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: لكل شىء عروس وعروس القراٰن الرحمٰن. رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেকটি জিনিসের সৌন্দর্য আছে। কুরআনের সৌন্দর্য সূরা আর্ রহমান। (ইমাম বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮১
وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ سورة الواقعة فى كل ليلة لم تصبه فاقة أبدا». وكان ابن مسعود يأمر بناته يقرأن بها فى كل ليلة. رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে ‘‘সূরা আল ওয়াকি‘আহ্’’ তিলাওয়াত করবে, সে কখনো অভাব অনটনে পড়বে না। বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ তাঁর কন্যাদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সূরা তিলাওয়াত করতে বলতেন। (ইমাম বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮২
وعن على قال: كان رسول اللٰه ﷺ يحب هٰذه السورة ﴿سبح اسم ربك الأعلٰى﴾ رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ‘‘সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ‘লা-’’ ভালবাসতেন। (আহমদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৩
وعن عبد اللٰه بن عمرو قال: أتٰى رجل النبى ﷺ فقال أقرئنى يا رسول اللٰه فقال: اقرأ ثلاثا من ذوات ﴿ألر﴾ فقال: كبرت سنى واشتد قلبى وغلظ لسانى قال: فاقرأ ثلاثا من ذوات ﴿حٰم﴾ فقال مثل مقالته. قال الرجل: يا رسول اللٰه أقرئنى سورة جامعة فأقرأه رسول اللٰه ﷺ ﴿إذا زلزلت الأرض﴾ حتٰى فرغ منها فقال الرجل: والذى بعثك بالحق لا أزيد عليها أبدا ثم أدبر الرجل فقال رسول اللٰه ﷺ أفلح الرويجل» مرتين. رواه أحمد وأبو داود
বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, আলিফ্ লা-ম রা- সম্পন্ন সূরাগুলো হতে তিনটি সূরা পড়বে। সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি বুড়ো হয়ে গেছি। আমার ‘কলব’ কঠিন ও ‘জিহবা’ শক্ত হয়ে গেছে (অর্থাৎ- আমার মুখস্থ হয় না)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে তুমি হা-মীম যুক্ত সূরাগুলোর মধ্যকার তিনটি সূরা পড়বে। আবার সে ব্যক্তি আগের জবাবের মতো জবাব দিলো। তারপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আপনি পরিপূর্ণ অর্থবহ একটি সূরা শিখিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে ‘সূরা ইযা- যুলযিলাত’ শেষ পর্যন্ত পড়িয়ে দিলেন। তখন সে ব্যক্তি বলল, যিনি আপনাকে সত্য নাবী করে পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ, আমি (আপনার শিখানো) সূরার উপর কখনো আর কিছু বাড়াব না। এরপর লোকটি ওখান থেকে চলে গেল। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি সফলতা লাভ করল, লোকটি সফলতা লাভ করল। (আহমদ ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৪
وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ألا يستطيع أحدكم أن يقرأ ألف اٰية فى كل يوم؟» قالوا: ومن يستطيع أن يقرأ ألف اٰية فى كل يوم؟ قال: أما يستطيع أحدكم أن يقرأ: ﴿ألهاكم التكاثر﴾ رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, তোমাদের কেউ কি দৈনিক (কুরআনের) এক হাজার আয়াত করে পড়তে পারে? সাহাবীগণ বললেন, কে আছে দৈনিক (কুরআনের) এক হাজার আয়াত করে পড়তে পারে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, তাহলে তোমাদের কেউ কি প্রত্যহ ‘সূরা আল হা-কুমুত্ তাকা-সুর’ পড়তে পারে না? (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৫
وعن سعيد بن المسيب مرسلا عن النبى ﷺ قال: «من قرأ ﴿قل هو الله أحد﴾ عشر مرات بنى له بها قصر فى الجنة ومن قرأ عشرين مرة بنى له بها قصران فى الجنة ومن قرأها ثلاثين مرة بنى له بها ثلاثة قصور فى الجنة». فقال عمر بن الخطاب : واللٰه يا رسول اللٰه إذا لنكثرن قصورنا. فقال رسول اللٰه ﷺ: «اللٰه أوسع من ذٰلك». رواه الدارمى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি সূরা ক্বুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ দশবার পড়ে, বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। যে ব্যক্তি বিশবার পড়বে তার জন্য দু’টি। আর যে ব্যক্তি ত্রিশবার পড়বে তার জন্য জান্নাতে তিনটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। এ কথা শুনে ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রসূল! যদি তা-ই হয় তাহলে তো আমরা অনেক প্রাসাদ লাভ করব। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর রহমত এর চেয়েও অধিক প্রশস্ত (এতে বিস্ময়ের কিছু নেই হে ‘উমার!)। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৬
وعن الحسن مرسلا: أن النبى ﷺ قال: «من قرأ فى ليلة مائة اٰية لم يحاجه القراٰن تلك الليلة ومن قرأ فى ليلة مائتي اٰية كتب له قنوت ليلة ومن قرأ فى ليلة خمسمائة إلى الألف أصبح وله قنطار من الأجر». قالوا: وما القنطار؟ قال: «اثنا عشر ألفا». رواه الدرامى
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে (কুরআনের) একশ’টি আয়াত পড়বে, ওই রাতে কুরআন তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপন করবে না। আর যে ব্যক্তি রাতে দু’শত আয়াত পড়বে, তার জন্য এক রাতের ‘ইবাদাতের সাওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে পাঁচশ’ হতে এক হাজার আয়াত পর্যন্ত পড়বে ভোরে উঠে সে এক ‘কিনত্বার’ সাওয়াব পাবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এক ‘কিনত্বার’ কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবাব দিলেন, বারো হাজার দীনার সমান ওজন। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৭
عن أبى موسى الأشعرى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «تعاهدوا القراٰن فوالذى نفسى بيده لهو أشد تفصيا من الإبل فى عقلها». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সবসময় কুরআনের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। যাঁর হাতে আমার জীবন নিহিত, তাঁর শপথ, নিশ্চয় কুরআন সিনা হতে এত তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায় যে, উটও তত তাড়াতাড়ি নিজের রশি ছিঁড়ে বের হয়ে যেতে পারে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৮
وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «بئس مالأحدهم أن يقول: نسيت اٰية كيت وكيت بل نسى واستذكروا القراٰن فإنه أشد تفصيا من صدور الرجال من النعم». متفق عليه. وزاد مسلم: بعقلها
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য এ কথা বলা খুবই খারাপ যে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি। বরং সে যেন বলে, তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা বার বার কুরআন পড়তে থাকবে। কারণ কুরআন মানুষের মন হতে চতুষ্পদ জন্তু হতেও দ্রুত পালিয়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম। ইমাম মুসলিম, ‘রশিতে বাঁধা চার পা জন্তু’ বাড়িয়ে বলেছেন।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৯
وعن ابن عمر أن النبى ﷺ قال: إنما مثل صاحب القراٰن كمثل صاحب الإبل المعقلة إن عاهد عليها أمسكها وإن أطلقها ذهبت. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনকে স্মৃতিতে ধারণকারীদের দৃষ্টান্ত হলো রশিতে বাঁধা উটের মতো। উটের প্রতি সব সময় লক্ষ্য রেখেই তাঁকে বেঁধে রাখা যেতে পারে। আর লক্ষ্য না রাখলে সে রশি ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯০
وعن جندب بن عبد اللٰه قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «اقرؤوا القراٰن ما ائتلفت عليه قلوبكم فإذا اختلفتم فقوموا عنه». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মনের আকর্ষণ থাকা পর্যন্ত কুরআন পড়বে। মনের ভাব পরিবর্তিত হলে অর্থাৎ- আগ্রহ কমে গেলে তা ছেড়ে উঠে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯১
وعن قتادة قال: سئل أنس: كيف كانت قراءة النبى ﷺ فقال: كانت مدا مدا ثم قرأ: بسم اللٰه الرحمٰن الرحيم يمد ببسم اللٰه ويمد بالرحمٰن ويمد بالرحيم. رواه البخارى
তিনি বলেন, একবার আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআন পাঠ কেমন ছিল? তিনি বললেন, তাঁর কুরআন পাঠ ছিল টানা টানা। তারপর তিনি [আনাস (রাঃ)] ‘বিস্মিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ পড়লেন। তিনি ‘বিস্মিল্লা-হি’ টানলেন। ‘রহমা-নির’ টানলেন এবং ‘রহীম’-এ টানলেন। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯২
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما أذن اللٰه لشىء ما أذن لنبى يتغنٰى بالقراٰن». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন নাবীর সুর করে কুরআন পড়াকে আল্লাহ তা‘আলা যতটা কান পেতে শোনেন আর কোন কথাকে এতো কান পেতে শোনেন না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯৩
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ما أذن اللٰه لشىء ما أذن لنبى حسن الصوت بالقراٰن يجهر به». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা কোন নাবীর মধুর স্বরে সুরেলা কণ্ঠে স্বরবে কুরআন পাঠ যত পছন্দ করেন, তত পছন্দ করেন না আর কোন স্বরকে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ليس منا من لم يتغن بالقراٰن». رواه البخارى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুর করে কুরআন পড়ে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯৫
وعن عبد اللٰه بن مسعود قال: قال لي رسول اللٰه ﷺ وهو على المنبر: «اقرأ على». قلت: أقرأ عليك وعليك أنزل؟ قال: «إنى أحب أن أسمعه من غيرى». فقرأت سورة النساء حتى اتيت إلٰى هٰذه الاٰية (فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد وجئنا بك علٰى هؤلاء شهيدا) قال: «حسبك الاٰن». فالتفت إليه فإذا عيناه تذرفان. (متفق عليه)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে বসে আমাকে বললেন, তুমি আমার সামনে কুরআন পড়ো (আমি তোমার কুরআন পড়া শুনব)। (তাঁর কথা শুনে) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সামনে আমি কুরআন পড়ব? অথচ এ কুরআন আপনার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কুরআন আমি অন্যের মুখে শুনতে পছন্দ করি। অতঃপর আমি সূরা আন্ নিসা পড়তে শুরু করলাম। আমি ‘‘তখন কেমন হবে আমি যখন প্রত্যেক উম্মাতের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব এদের বিরুদ্ধে’’ এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখন বন্ধ করো। এ সময় আমি তাঁর দিকে তাকালাম। দেখলাম তাঁর দু’ চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯৬
وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ لأبى بن كعب: «إن اللٰه أمرنى أن أقرأ عليك القراٰن» قال: اللٰه سمانى لك؟ قال: «نعم». قال: وقد ذكرت عند رب العالمين؟ قال: «نعم». فذرفت عيناه. وفى رواية: إن اللٰه أمرنى أن أقرأ عليك ﴿لم يكن الذين كفروا﴾ قال: وسمانى؟ قال: «نعم». فبكٰى. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে বললেন, তোমাকে কুরআন তিলাওয়াত শুনাতে আল্লাহ আমাকে হুকুম দিয়েছেন। উবাই জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ কি আমার নাম ধরে আপনাকে এ কথা বলেছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। এবার উবাই বললেন, রব্বুল ‘আলামীনের কাছে আমি কী উত্থাপিত হয়েছি? রব্বুল ‘আলামীনের কাছে আমার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে? বা আমার নাম নেয়া হয়েছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। এ কথা শুনে উবাই-এর দু’ চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘আমাকে আল্লাহ তা‘আলা হুকুম দিয়েছেন তোমাকে ‘লাম ইয়াকুনিল্লাযীনা কাফারূ’ সূরা পাঠ শুনাতে। উবাই বললেন, আল্লাহ কি আমার নাম বলেছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। শুনে উবাই কেঁদে ফেললেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯৭
وعن ابن عمر قال: نهٰى رسول اللٰه ﷺ إن يسافر بالقراٰن إلٰى أرض العدو. متفق عليه. وفى رواية لمسلم: «لا تسافروا بالقراٰن فإنى لا اٰمن أن يناله العدو
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুর দেশে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম। ইমাম মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, কুরআন নিয়ে সফরে বের হয়ো না। কারণ কুরআন শত্রুর হাতে পড়ে যাওয়া আমি নিরাপদবোধ করি না।)[১]