মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৩
عن عبد الرحمٰن بن عوف عن النبى ﷺ قال: «ثلاثة تحت العرش يوم القيامة القراٰن يحاج العباد له ظهر وبطن والأمانة والرحم تنادى: ألا من وصلنى وصله اللٰه ومن قطعنى قطعه اللٰه». رواه فى شرح السنة
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেনঃ তিনটি জিনিস কিয়ামাতের দিন আল্লাহর ‘আরশের নীচে থাকবে। (১) কুরআন, এ কুরআন বান্দাদের (পক্ষে বিপক্ষে) আর্জি পেশ করবে। এর যাহের ও বাতেন দু’দিক রয়েছে। (২) আমানাত ও (৩) আত্মীয়তার বন্ধন। (এ তিনটি জিনিসের প্রত্যেকে ফরিয়াদ করবে, হে আল্লাহ! যে আমাকে রক্ষা করেছে তুমি [আল্লাহ] তাকে রক্ষা করো। যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আল্লাহ তাকে ছিন্ন করো।) (ইমাম বাগাবী: শারহুস্ সুন্নাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৪
وعن عبد اللٰه بن عمرو قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يقال لصاحب القراٰن: اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل فى الدنيا فإن منزلك عند اٰخر اٰية تقرؤها». رواه أحمد والترمذى أبو داود والنسائى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারীকে কিয়ামাতের দিন বলা হবে, পাঠ করতে থাকো আর উপরে উঠতে থাকো। (অক্ষরে অক্ষরে ও শব্দে শব্দে) সুস্পষ্টভাবে পাঠ করতে থাকো, যেভাবে দুনিয়াতে স্পষ্টভাবে পাঠ করতে। কারণ তোমার স্থান (মর্যাদা) হবে যা তুমি পাঠ করবে শেষ আয়াত পর্যন্ত (আয়াত পাঠের তুলনাগত দিক থেকে)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৫
وعن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن الذى ليس فى جوفه شىء من القراٰن كالبيت الخرب». رواه الترمذى والدارمى. وقال الترمذى: هٰذا حديث صحيح
বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পেটে কুরআনের কিছু নেই তা শূন্য (ধ্বংসপ্রাপ্ত) ঘরের মতো। (তিরমিযী ও দারিমী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৬
وعن أبى سعيد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يقول الرب تبارك وتعالٰى: من شغله القراٰن عن ذكرى ومسألتى أعطيته أفضل ما أعطى السائلين. وفضل كلام اللٰه علٰى سائر الكلام كفضل اللٰه علٰى خلقه». رواه الترمذى والدارمى والبيهقى فى شعب الإيمان وقال الترمذى هٰذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যাকে আমার জিকির ও আমার কাছে কিছু চাওয়া হতে কুরআন বিরত রেখেছে, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়ে বেশি দান করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কেননা আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব অন্য সব কালামের উপর; যেমন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর সৃষ্টির উপর। (তিরমিযী, দারিমী ও বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমানে। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৭
وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ حرفا من كتاب اللٰه فله به حسنة والحسنة بعشر أمثالها لا أقول: الم حرف. ألف حرف ولام حرف وميم حرف». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى هٰذا حديث حسن صحيح غريب إسنادا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের কোন একটি অক্ষরও পাঠ করবে, সে নেকী পাবে। আর নেকী হচ্ছে ‘আমালের দশ গুণ। আমি বলছি না যে, الٓمٓ)) ‘আলিফ লাম মীম’ একটি অক্ষর। বরং ‘আলিফ’ একটি অক্ষর, ‘লাম’ একটি অক্ষর ও ‘মীম’ একটি অক্ষর। (তাই আলিফ, লাম ও মীম বললেই ত্রিশটি নেকী পাবে)। (তিরমিযী, দারিমী। আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। কিন্তু সানাদের দিক দিয়ে গরীব।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৮
وعن الحارث الأعور قال: مررت فى المسجد فإذا الناس يخوضون فى الأحاديث فدخلت علٰى على فأخبرته قال: أوقد فعلوها؟ قلت نعم قال: أما إنى قد سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «ألا إنها ستكون فتنة». قلت : ما المخرج منها يا رسول اللٰه قال: «كتاب الله فيه نبأ ما كان قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم وهو الفصل ليس بالهزل من تركه من جبار قصمه اللٰه ومن ابتغى الهدٰى فى غيره أضله اللٰه وهو حبل اللٰه المتين وهو الذكر الحكيم وهو الصراط المستقيم هو الذى لا تزيغ به الأهواء ولا تلتبس به الألسنة ولا يشبع منه العلماء ولا يخلق عن كثرة الرد ولا ينقضى عجائبه هو الذى لم تنته الجن إذ سمعته حتٰى قالوا (إنا سمعنا قراٰنا عجبا يهدى إلى الرشد فاٰمنا به). من قال به صدق ومن عمل به أجر ومن حكم به عدل ومن دعا إليه هدى إلٰى صراط مستقيم». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى: هٰذا حديث إسناده مجهول وفى الحارث مقال
বলেন, আমি (একদিন কূফার) মাসজিদে বসা লোকজনের কাছে গেলাম। দেখলাম, লোকেরা আজে-বাজে কথায় ব্যস্ত। এরপর আমি ‘আলী (রাঃ) এর কাছে গিয়ে এ খবর বললাম। তিনি বললেন, তারা এমন করছে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, (তবে) শুনো, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাবধান! শীঘ্রই পৃথিবীতে কলহ-ফাসাদ আরম্ভ হবে। আমি [‘আলী] বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ থেকে বাঁচার উপায় কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কিতাব, এতে তোমাদের আগের ও পরের খবর রয়েছে। তোমাদের ভিতরে বিতর্কের মীমাংসার পদ্ধতিও রয়েছে। সত্য মিথ্যার পার্থক্যও আছে। এটা কোন অর্থহীন কিতাব নয়। যে অহংকারী ব্যক্তি এ কুরআন ত্যাগ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি এর বাইরে হিদায়াত সন্ধান করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এ কুরআন হলো আল্লাহর মজবুত রশি। জিকির ও সত্য সরল পথ। কুরআন অবলম্বন করে কোন প্রবৃত্তি বিপথগামী হয় না। এর দ্বারা যবানের কষ্ট হয় না। এর দ্বারা প্রজ্ঞাবানগণ বিতৃষ্ণ হয় না। এ কুরআন বার বার পাঠ করায় পুরাতন হয় না। এ কুরআনের বিস্ময়কর তথ্য অশেষ। কুরআন শুনে স্থির থাকতে পারেনি জিনেরা। এমনকি তারা এ কুরআন শুনে বলে উঠেছিল, ‘‘শুনেছি আমরা এমন এক বিস্ময়কর কুরআন। যা সন্ধান দেয় সত্য পথের। অতএব ঈমান এনেছি আমরা এর উপর।’’ যে ব্যক্তি কুরআনের কথা সত্য বলে, যে এর উপর ‘আমাল করে, সে পুরস্কার পাবে। যে এর দ্বারা বিচার-ফায়সালা করে, ন্যায়বিচার করে, যে (মানুষকে) এর দিকে ডাকে, সে সত্য সরল পথের দিকেই ডাকে। (তাই এরূপ কুরআন ছেড়ে তারা কেন অন্য আলোচনায় বিভোর হচ্ছে?)। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসের সানাদ মাজহূল [অপরিচিত]। আর হারিস আল আ‘ওয়ার-এর ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৯
وعن معاذ الجهنى: أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من قرأ القراٰن وعمل بما فيه ألبس والداه تاجا يوم القيامة ضوءه أحسن من ضوء الشمس فى بيوت الدنيا لو كانت فيكم فما ظنكم بالذى عمل بهٰذا؟». رواه أحمد وأبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং এর মধ্যে তাঁর হুকুম-আহকামের উপর ‘আমাল করে, তার মাতাপিতাকে কিয়ামাতের দিন একটি মুকুট পরানো হবে। এ মুকুটের কিরণ দুনিয়ার সূর্যের কিরণ হতেও উজ্জ্বল হবে, যদি এ সূর্য তোমাদের মধ্যে থাকত (তবে উপলব্ধি করতে পারতে)। যে ব্যক্তি এ কুরআনের উপর ‘আমাল করে তার ব্যাপারে এখন তোমাদের কী ধারণা? (আহমদ, আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪০
وعن عقبة بن عامر قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «لو جعل القراٰن فى اهاب ثم ألقى فى النار ما احترق». رواه الدارمى
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরআন কারীমকে যদি চামড়ায় মুড়িয়ে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তাহলে তা পুড়বে না। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪১
وعن على بن أبى طالب قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من قرأ القراٰن فاستظهره فأحل حلاله وحرم حرامه أدخله اللٰه به الجنة وشفعه فى عشرة من أهل بيته كلهم قد وجبت له النار. رواه أحمد والترمذى وابن ماجه والدارمى وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب وحفص بن سليمان الراوى ليس هو بالقوى يضعف فى الحديث
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে ও একে মুখস্থ করে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনে চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তার পরিবারের এমন দশ ব্যক্তির জন্য তার সুপারিশ কবূল করবেন, যাদের প্রত্যেকেরই নিশ্চিত ছিল জাহান্নাম। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর একজন বর্ণনাকারী হাফস ইবনু সুলায়মান হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪২
وعن أبى هريرة أن رسول اللٰه ﷺ قال لأبى بن كعب: «كيف تقرأ فى الصلاة؟» فقرأ أم القراٰن فقال رسول اللٰه ﷺ: «والذى نفسى بيده ما أنزلت فى التوراة ولا فى الإنجيل ولا فى الزبور ولا فى الفرقان مثلها وإنها سبع من المثانى والقراٰن العظيم الذى أعطيته». رواه الترمذى وروى الدارمى من قوله: «ما أنزلت» ولم يذكر أبى بن كعب. وقال الترمذى هٰذا حديث حسن صحيح
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উবাই ইবনু কা‘বকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি সলাতে কিভাবে কুরআন পড়ো? উত্তরে উবাই ইবনু কা‘ব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা আল ফাতিহাহ্ পড়ে শুনালেন। (তাঁর পড়া শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! এর মতো কোন সূরা তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবূর বা ফুরকান-এ (কুরআনের অন্য কোন সূরাতেও) নাযিল হয়নি। এ সূরা হলো সাব্‘উল মাসানী (পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত) ও মহান কুরআন। এটি আমাকেই দেয়া হয়েছে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ। দারিমী বর্ণনা করেছেন, এর মতো কোন সূরা নাযিল করা হয়নি। তাঁর বর্ণনায় হাদীসের শেষের দিক ও উপরের বর্ণিত উবাই-এর ঘটনা বর্ণিত হয়নি।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৩
وعن أبى هريرة قال قال رسول اللٰه ﷺ: «تعلموا القراٰن فاقرءوه فإن مثل القراٰن لمن تعلم وقام به كمثل جراب محشو مسكا. تفوح ريحه كل مكان ومثل من تعلمه فرقد وهو فى جوفه كمثل جراب أوكئ علٰى مسك». رواه الترمذى والنسائى وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন শিক্ষা করো ও পড়তে থাকো। যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং কুরআন নিয়ে রাতে সলাতে দাঁড়ায় তার দৃষ্টান্ত মিশক ভর্তি থলির মতো যা চারদিকে সুগন্ধি ছড়ায়। যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে তা পেটে নিয়ে রাতে ঘুমায়, তার দৃষ্টান্ত ওই মিশকপূর্ণ থলির মতো যার মুখ ঢাকনি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من قرأ ﴿حٰم﴾ المؤمن إلٰى (إليه المصير). واٰية الكرسى حين يصبح حفظ بهما حتٰى يمسى. ومن قرأ بهما حين يمسى حفظ بهما حتٰى يصبح. رواه الترمذى والدرامى وقال الترمذى هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে সূরা হা-মীম ‘‘আল মু’মিন..... ইলায়হিল মাসীর’’ পর্যন্ত ও আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাকে এর বারাকাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিফাযাতে রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি তা সন্ধ্যায় পড়বে তাকে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ রাখা হবে- (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৫
وعن النعمان بن بشير قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه كتب كتابا قبل أن يخلق السموات والأرض بألفى عام أنزل منه اٰيتين ختم بهما سورة البقرة ولا تقراٰن فى دار ثلاث ليال فيقربها الشيطان». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার দু’ হাজার বছর আগে আল্লাহ তা‘আলা একটি কিতাব লিখেছেন। এ কিতাব হতে পরবর্তীতে দু’টি আয়াত নাযিল করেছেন যা দ্বারা সূরা আল বাকারাহ্ শেষ করেছেন। কোন ঘরে তা তিন রাত পড়া হবে, অথচ এরপরও এ ঘরের কাছে শয়তান যাবে, এমনটা হতে পারে না। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৬
وعن أبى الدرداء قال : قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ ثلاث اٰيات من أول الكهف عصم من فتنة الدجال». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن صحيح
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দিকের তিনটি আয়াত পড়বে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে নিরাপদ রাখা হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৭
وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن لكل شىء قلبا وقلب القراٰن ﴿يٰس﴾ ومن قرأ ﴿يٰس﴾ كتب اللٰه له بقراءتها قراءة القراٰن عشر مرات». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক জিনিসের ‘কলব’ (হৃদয়) আছে। কুরআনের ‘কলব’ হলো, ‘সূরা ইয়াসীন’। যে ব্যক্তি এ সূরা একবার পড়বে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একবার পড়ার কারণে দশবার কুরআন পড়ার সাওয়াব লিখবেন। (তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৮
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه تبارك وتعالٰى قرأ ﴿طٰهٰ﴾ و ﴿يٰس﴾ قبل أن يخلق السموات والأرض بألف عام فلما سمعت الملائكة القراٰن قالت طوبٰى لأمة ينزل هٰذا عليها وطوبٰى لأجواف تحمل هٰذا وطوبٰى لألسنة تتكلم بهٰذا». رواه الدارمى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির এক হাজার বছর পূর্বে সূরা ত্ব-হা- ও সূরা ইয়াসীন পাঠ করলেন। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তা শুনে বললেন, ধন্য সে জাতি যাদের ওপর এ সূরা নাযিল হবে। ধন্য সে পেট যে এ সূরা ধারণ করবে। ধন্য সে মুখ (জিহবা), যে তা উচ্চারণ করবে। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ ﴿حٰم﴾ الدخان فى ليلة أصبح يستغفر له سبعون ألف ملك». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب وعمر بن أبى خثعم الراوي يضعف وقال محمد يعنى البخارى هو منكر الحديث
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা ‘হা-মীম’ আদ্ দুখা-ন পড়ে। তার সকাল এভাবে হয় যে সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) আল্লাহর নিকট তার জন্য মাগফিরাত চাইতে থাকেন। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি গরীব। একজন বর্ণনাকারী ‘আমর ইবনু আবূ খাস্‘আম য‘ঈফ। ইমাম বুখারী বলেছেন, ‘আমর একজন মুনকার রাবী।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫০
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ ﴿حٰم﴾ الدخان فى ليلة الجمعة غفر له». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب وهشام أبو المقدام الراوى يضعف
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা ‘হা-মীম আদ্ দুখা-ন’ পড়বে তাকে মাফ করে দেয়া হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর রাবী আবূল মিকদাম হিশাম কে দুর্বল বলা হয়েছে।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫১
وعن العرباض بن سارية أن النبى ﷺ كان يقرأ المسبحات قبل أن يرقد يقول: «إن فيهن اٰية خير من ألف اٰية». رواه الترمذى وأبو داود
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়নের আগে ‘মুসাব্বিহাত’ পাঠ করতেন। তিনি বলতেন, ঐ আয়াতসমূহের মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা হাজারটি আয়াতের চেয়েও উত্তম। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫২
ورواه الدارمى عن خالد بن معدان مرسلا وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب
হাদীস হিসেবে খালিদ ইবনু মা‘দান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৩
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن سورة فى القراٰن ثلاثون اٰية شفعت لرجل حتٰى غفر له وهى: ﴿تبارك الذى بيده الملك﴾ رواه أحمد والترمذى وأبو داود والنسائى وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনে ত্রিশ আয়াতের একটি সূরা আছে, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে। ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। সে সূরাটি হচ্ছে, ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক’। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৪
وعن ابن عباس قال: ضرب بعض أصحاب النبى ﷺ خباءه علٰى قبر وهو لا يحسب أنه قبر فإذا فيه إنسان يقرأ سورة ﴿تبارك الذى بيده الملك﴾ حتٰى ختمها فأتى النبى ﷺ فأخبره فقال رسول اللٰه ﷺ: «هي المانعة هي المنجية تنجيه من عذاب القبر». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবী না জেনে কোন একটি কবরের উপর তাঁবু খাটালেন। তিনি হঠাৎ দেখেন, এ কবরে এক ব্যক্তি সূরা ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক’ পড়ছে এমনকি তা শেষ করে ফেলেছে। এরপর ওই সাহাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে এ খবর জানালেন। তিনি বললেন, এটা হচ্ছে (‘আযাব হতে) বাধাদানকারী এবং মুক্তিদানকারী। যা পাঠককে আল্লাহ তা‘আলার ‘আযাব থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৫
وعن جابر أن النبى ﷺ كان لا ينام حتٰى يقرأ: ﴿الم تنزيل﴾ و ﴿تبارك الذى بيده الملك﴾ رواه أحمد والترمذى والدارمى. وقال الترمذى: هٰذا حديث صحيح. وكذا فى شرح السنة. وفى المصابيح : غريب
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোবার পর) যে পর্যন্ত সূরা ‘আলিফ লা-ল মীম্ তানযীল’ ও সূরা ‘তাবা-রকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক’ পড়ে শেষ না করতেন ঘুমাতেন না। (আহমদ, তিরমিযী ও দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। ‘শারহুস্ সুন্নাহ্’য় এরূপ রয়েছে, মাসাবীহ এ হাদীসকে গরীব বলেছেন।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৬
وعن ابن عباس وأنس بن مالك رضي اللٰه عنهم قالا: قال رسول اللٰه ﷺ: ﴿إذا زلزلت﴾ تعدل نصف القراٰن، و ﴿قل هو الله أحد﴾. تعدل ثلث القراٰن، و ﴿قل يٰا أيها الكٰفرون﴾. تعدل ربع القراٰن. رواه الترمذى
দু’জনেই বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (সাওয়াবের দিক দিয়ে) সূরা ‘ইযা- যুলযিলাত’ কুরআনের অর্ধেকের সমান, ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ (কুরআনের) এক-তৃতীয়াংশের সমান, ‘কুল ইয়া- আইয়ুহাল কা-ফিরূন’ এক-চতুর্থাংশের সমান। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৭
وعن معقل بن يسار عن النبى ﷺ قال: «من قال حين يصبح ثلاث مرات: أعوذ باللٰه السميع العليم من الشيطان الرجيم فقرأ ثلاث اٰيات من اٰخر سورة ﴿الحشر﴾. وكل اللٰه به سبعين ألف ملك يصلون عليه حتٰى يمسى وإن مات فى ذٰلك اليوم مات شهيدا. ومن قالها حين يمسى كان بتلك المنزلة». رواه الترمذى والدارمى. وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে (ঘুম থেকে) উঠে তিনবার বলবে, ‘‘আ‘ঊযু বিল্লা-হিস সামী‘ইল ‘আলীমি মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম’’ এবং এরপর সূরা হাশর-এর শেষের তিন আয়াত পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) নিযুক্ত করবেন। এরা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু‘আ করতে থাকবেন। যদি এ দিন সে মারা যায়, তার হবে শাহীদের মৃত্যু। যে ব্যক্তি এ দু‘আ সন্ধ্যার সময় পড়বে, সেও এ একই মর্যাদা পাবে। (তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৮
وعن أنس عن النبى ﷺ قال: «من قرأ كل يوم مائتى مرة (﴿قل هو الله أحد﴾ محى عنه ذنوب خمسين سنة إلا أن يكون عليه دين». رواه الترمذى والدارمى وفى روايته «خمسين مرة» ولم يذكر «إلا أن يكون عليه دين
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন দু’শ বার সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়বে তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে। যদি তার ওপর কোন ঋণের বোঝা না থাকে। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু দারিমীর বর্ণনায় [দু’শ বারের জায়গায়] পঞ্চাশ বারের কথা উল্লেখ হয়েছে। তিনি ঋণের কথা উল্লেখ করেননি।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৯
وعن أنس عن النبى ﷺ: «من أراد أن ينام علٰى فراشه فنام علٰى يمينه ثم قرأ مائة مرة ﴿قل هو الله أحد﴾ إذا كان يوم القيامة يقول له الرب: يا عبدى ادخل علٰى يمينك الجنة». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن غريب
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘুমাবার জন্য বিছানায় যাবে এবং ডান পাশের উপর শোয়ার পর একশ’ বার সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়বে, কিয়ামাতের দিন প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, হে আমার বান্দা! তুমি তোমার ডান দিকের জান্নাতে প্রবেশ করো। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান তবে গরীব।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬০
وعن أبى هريرة أن النبى ﷺ سمع رجلا يقرأ ﴿قل هو اللٰه أحد﴾ فقال: «وجبت» قلت: وما وجبت؟ قال: «الجنة». رواه مالك والترمذى والنسائى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়তে শুনে বললেন, সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। আমি শুনে বললাম, কি সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে (হে আল্লাহর রসূল) উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘জান্নাত’। (মালিক, তিরমিযী ও নাসায়ী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬১
وعن فروة بن نوفل عن أبيه: أنه قال: يا رسول اللٰه علمنى شيئا أقوله إذا أويت إلٰى فراشى. فقال: «اقرأ ﴿قل يٰا أيها الكٰفرون﴾ فإنها براءة من الشرك». رواه الترمذى وأبو داود والدارمى
তার পিতা নাওফাল হতে বর্ণনা করেছেন, একদিন নাওফাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এমন একটি বিষয় আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি ঘুমাতে গিয়ে পড়তে পারি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা ‘‘কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’’ পড়ো। কেননা এ সূরা শির্ক হতে পবিত্র। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬২
وعن عقبة بن عامر قال: بينا أنا أسير مع رسول اللٰه ﷺ بين الجحفة والأبواء إذ غشيتنا ريح وظلمة شديدة فجعل رسول اللٰه ﷺ يعوذ ب ﴿أعوذ برب الفلق﴾ و ﴿أعوذ برب الناس﴾ ويقول: «يا عقبة تعوذ بهما فما تعوذ متعوذ بمثلهما». رواه أبو داود
তিনি বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জুহফাহ্ ও আব্ওয়া (নামক স্থানের) মধ্যবর্তী জায়গায় চলছিলাম। এ সময় প্রবল ঝড় ও ঘোর অন্ধকার আমাদেরকে ঘিরে ফেলল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক’’ ও সূরা ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্না-স’’ পড়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে ‘উকবাহ্! এ দু’টি সূরা দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় চাও। কারণ এ দু’ সূরার মতো অন্য কোন সূরা দিয়ে কোন প্রার্থনাকারীই আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেনি। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৩
وعن عبد اللٰه بن خبيب قال: خرجنا فى ليلة مطر وظلمة شديدة نطلب رسول اللٰه ﷺ فأدركناه فقال: «قل». قلت ما أقول؟ قال: « ﴿قل هو الله أحد﴾ والمعوذتين حين تصبح وحين تمسى ثلاث مرات تكفيك من كل شىء». رواه الترمذى وأبو داود والنسائى
তিনি বলেন, আমরা একবার ঝড়-বৃষ্টি ও ঘনঘোর অন্ধকারময় রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খোঁজে বের হলাম এবং তাঁকে খুঁজে পেলাম। (তিনি আমাদেরকে দেখে) তখন বললেন, পড়ো! আমি বললাম, কি পড়বো (হে আল্লাহর রসূল!)? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ, ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক ও ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্না-স পড়বে। এ সূরাহগুলো সকল বিপদাপদের মুকাবিলায় তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৪
وعن عقبة بن عامر قال: قلت يا رسول اللٰه أقرأ سورة (هود) أو سورة (يوسف)؟ قال: لن تقرأ شيئا أبلغ عند اللٰه من ﴿قل أعوذ برب الفلق﴾ رواه أحمد والنسائي والدارمى
তিনি বলেন, একদা আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! (বিপদাপদে পড়লে) আমি কি ‘সূরা হূদ’ পড়ব, না ‘সূরা ইউসুফ’? তিনি উত্তরে বললেন, এ ক্ষেত্রে তুমি আল্লাহর কাছে ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক-এর চেয়ে উত্তম কোন সূরা পড়তে পারবে না। (আহমাদ, নাসায়ী ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৫
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أعربوا القراٰن واتبعوا غرائبه وغرائبه فرائضه وحدوده». رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন স্পষ্ট ও শুদ্ধ করে পড়ো। এর ‘গারায়িব’ অনুসরণ করো। আর কুরআনের ‘গারায়িব’ হলো এর ফারায়িয ও হুদূদ (সীমা ও বিধানসমূহ)। (ইমাম বায়হাক্বী তাঁর শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৬
وعن عائشة رضي اللٰه عنها: أن النبى ﷺ قال: «قراءة القراٰن فى الصلاة أفضل من قراءة القراٰن فى غير الصلاة وقراءة القراٰن فى غير الصلاة أفضل من التسبيح والتكبير والتسبيح أفضل من الصدقة والصدقة أفضل من الصوم والصوم جنة من النار». رواه البيهقي فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সলাতে কুরআন পাঠ সলাতের বাইরে কুরআন পাঠের চেয়ে উত্তম। সলাতের বাইরে কুরআন পড়া, তাসবীহ ও তাকবীর পড়ার চেয়ে উত্তম। আর তাসবীহ পড়া দান করা হতে উত্তম। দান করা (নফল) সওম হতে উত্তম। আর সওম হলো জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল। (ইমাম বায়হাক্বী তাঁর শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৭
وعن عثمان بن عبد اللٰه بن أوس الثقفى عن جده قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قراءة الرجل القراٰن فى غير المصحف ألف درجة وقراءته فى المصحف تضعف علٰى ذٰلك إلٰى ألفى درجة». رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তাঁর দাদা আওস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির মাসহাফ ছাড়া (অর্থাৎ- কুরআন দেখা ছাড়া) মুখস্থ কুরআন পড়া এক হাজার গুণ মর্যাদা সম্পন্ন। আর কুরআন মাসহাফে পড়া (অর্থাৎ- কুরআন খুলে দেখে দেখে পড়া) মুখস্থ পড়ার দু’ গুণ থেকে দু’ হাজার গুণ পর্যন্ত মর্যাদা রাখে। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৮
وعن ابن عمر رضي اللٰه عنهما قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن هٰذه القلوب تصدأ كما يصدأ الحديد إذا أصابه الماء». قيل يا رسول اللٰه وما جلاؤها؟ قال: «كثرة ذكر الموت وتلاوة القراٰن. روى البيهقى الأحاديث الأربعة فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় হৃদয়ে মরিচা ধরে, যেভাবে পানি লাগলে লোহায় মরিচা ধরে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! এ মরিচা দূর করার উপায় কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা ও কুরআন তিলাওয়াত করা। (উপরে বর্ণিত এ চারটি হাদীস ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘‘শু‘আবূল ঈমান’’-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৯
وعن أيفع بن عبد الكلاعى قال: قال رجل: يا رسول اللٰه أي سورة القراٰن أعظم؟ قال: ﴿قل هو الله أحد﴾ قال: فأى اٰية فى القراٰن أعظم؟ قال: اٰية الكرسى ﴿الله لا إلٰه إلا هو الحى القيوم﴾ قال: فأى اٰية يا نبي اللٰه تحب أن تصيبك وأمتك؟ قال: «خاتمة سورة البقرة فإنها من خزائن رحمة اللٰه تعالٰى من تحت عرشه أعطاها هٰذه الأمة لم تترك خيرا من خير الدنيا والاٰخرة إلا اشتملت عليه». رواه الدارمى
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! কুরআনের কোন্ সূরা বেশি মর্যাদাপূর্ণ? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ক্বুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ। সে আবার জিজ্ঞেস করল, কুরআনের কোন্ আয়াত বেশি মর্যাদার? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আয়াতুল কুরসী- ‘‘আল্ল-হু লা ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যূল কইয়্যূম’’। সে পুনরায় বলল, হে আল্লাহর নাবী! কুরআনের কোন্ আয়াত এমন, যার বারাকাত আপনার ও আপনার উম্মাতের কাছে পৌঁছতে আপনি ভালবাসেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা আল বাকারাহ্’র শেষাংশ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে তা এ উম্মাতকে দান করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোন কল্যাণ নেই যা এতে নেই। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭০
وعن عبد الملك بن عمير مرسلا قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «فى فاتحة الكتاب شفاء من كل داء». رواه الدارمى والبيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরা আল ফাতিহার মধ্যে সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে। (দারিমী, বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭১
وعن عثمان بن عفان قال: من قرأ اٰخر اٰل عمران فى ليلة كتب له قيام ليلة. رواه الدارمى
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা আ-লি ‘ইমরানের শেষের অংশ পড়বে, তার জন্য সমস্ত রাত সলাতে অতিবাহিত হবার সাওয়াব লিখা হবে। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭২
وعن مكحول قال: من قرأ سورة اٰل عمران يوم الجمعة صلت عليه الملائكة إلى الليل. رواه الدارمى
বলেছেন, যে লোক জুমার দিনে সূরা আ-লি ‘ইমরান পড়বে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার জন্য রাত পর্যন্ত সলাত বা দু‘আ করতে থাকবেন। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৩
وعن جبير بن نفير أن رسول اللٰه ﷺ قال: «إن اللٰه ختم سورة البقرة باٰيتين أعطيتهما من كنزه الذى تحت العرش فتعلموهن وعلموهن نساءكم فإنها صلاة وقربان ودعاء». رواه الدرامى مرسلا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরা আল বাকারাকে আল্লাহ তা‘আলা এমন দু’টি আয়াত দ্বারা শেষ করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে দান করা হয়েছে। তাই তোমরা এ আয়াতগুলোকে শিখবে। তোমাদের রমণীকুলকেও শিখাবে। কারণ এ আয়াতগুলো হচ্ছে রহমত, (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের উপায়। (দীন দুনিয়ার সকল) কল্যাণলাভের দু‘আ। (মুরসালরূপে দারিমী বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৪
وعن كعب أن رسول اللٰه ﷺ قال: «اقرؤوا سورة هود يوم الجمعة». رواه الدرامى مرسلا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমার দিনে সূরা হূদ পড়বে। (দারিমী হতে মুরসালরূপে বর্ণিত)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৫
وعن أبى سعيد أن النبى ﷺ قال: «من قرأ سورة الكهف فى يوم الجمعة أضاء له النور ما بين الجمعتين». رواه البيهقى فى الدعوات الكبير
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ্ হতে আগামী জুমাহ্ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৬
وعن خالد بن معدان قال: اقرؤوا المنجية وهى ﴿الم تنزيل﴾ فإن بلغنى أن رجلا كان يقرؤها ما يقرأ شيئا غيرها وكان كثير الخطايا فنشرت جناحها عليه قالت: رب اغفر له فإنه كان يكثر قراءتى فشفعها الرب تعالٰى فيه وقال: اكتبوا له بكل خطيئة حسنة وارفعوا له درجة. وقال أيضا: «إنها تجادل عن صاحبها فى القبر تقول: اللٰهم إن كنت من كتابك فشفعنى فيه وإن لم أكن من كتابك فامحنى عنه وإنها تكون كالطير تجعل جناحها عليه فتشفع له فتمنعه من عذاب القبر» وقال فى ﴿تبارك﴾ مثله. وكان خالد لا يبيت حتٰى يقرأهما. وقال طاووس: فضلتا علٰى كل سورة فى القراٰن بستين حسنة. رواه الدارمى
তিনি বলেন, তোমরা মুক্তিদানকারী সূরা ‘আলিফ লাম মিম তানযীল’ (সূরা আস্ সাজদাহ্) পড়ো। কেননা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ কথা আমার নিকট পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি এ সূরা পড়ত, এছাড়া আর কোন সূরা পড়ত না। সে ছিল বড় পাপী মানুষ। এ সূরা তার ওপর ডানা মেলে বলতে থাকত, হে রব! তাকে মাফ করে দাও। কারণ সে আমাকে বেশি বেশি তিলাওয়াত করত। তাই আল্লাহ তা‘আলা তার ব্যাপারে এ সূরার সুপারিশ গ্রহণ করেন ও বলে দেন যে, তার প্রত্যেক গুনাহের বদলে একটি করে নেকী লিখে নাও। তার মর্যাদা বৃদ্ধি করো। তিনি (রাবী) আরো বলেন, এ সূরা কবরে এর পাঠকের জন্য আল্লাহর নিকট নিবেদন করবে, হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার কিতাবের অংশ হয়ে থাকি, তুমি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। আর যদি আমি তোমার কিতাবের অংশ না হয়ে থাকি, আমাকে তোমার কিতাব হতে মুছে ফেলো। (অন্য বর্ণনায় আছে) তিনি বলেন, এ সূরা পাখীর রূপ ধারণ করে এর পাঠকারীর ওপর পাখা মেলে ধরবে ও তার জন্য সুপারিশ করবে। এর ফলে কবর ‘আযাব হতে হিফাযাত করা হবে। বর্ণনাকারী সূরা তাবা-রকাল্লাযী’ (মুল্ক) সম্পর্কেও এ একই বর্ণনা করেছেন। খালিদ এ সূরা দু’টি না পড়ে ঘুমাতেন না। ত্বাউস (রহঃ) বলেন, এ দু’টি সূরাকে কুরআনের অন্য সব সূরা হতে ষাটগুণ অধিক নেকী অর্জনের মর্যাদা দান করা হয়েছে। (দারিমী)[১] [২১৭৬ নং উপরোক্ত হাদীসটি মির্‘আতের মূল গ্রন্থে তিনটি আলাদা নম্বরে আনা হয়েছে]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৭
وعن عطاء بن أبى رباح قال: بلغنى أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من قرأ ﴿يٰس﴾ فى صدر النهار قضيت حوائجه» رواه الدارمى مرسلا
তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমার কাছে এ কথা পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনের প্রথম অংশে সূরা ইয়াসীন পড়বে, তার সব প্রয়োজন পূর্ণ হবে। (দারিমী মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৮
وعن معقل بن يسار المزنى أن النبى ﷺ قال: «من قرأ ﴿يٰس﴾ ابتغاء وجه اللٰه تعالٰى غفر له ما تقدم من ذنبه فاقرؤوها عند موتاكم». رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে সূরা ইয়াসীন পড়বে, তার আগের গুনাহসমূহ (সগীরাহ্) মাফ করে দেয়া হবে। তাই তোমরা তোমাদের মৃত্যু (আসন্ন) ব্যক্তিদের কাছে এ সূরা পড়বে। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭৯
وعن عبد اللٰه بن مسعود أنه قال: إن لكل شىء سناما وإن سنام القراٰن سورة البقرة وإن لكل شىء لبابا وإن لباب القراٰن المفصل. رواه الدارمى
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি বস্তুর একটি শীর্ষস্থান রয়েছে। কুরআনের শীর্ষস্থান হলো সূরা আল বাকারাহ্। প্রত্যেক বস্তুরই একটি ‘সার’ রয়েছে। কুরআনের সার হলো মুফাস্সাল সূরাহগুলো। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮০
وعن على قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: لكل شىء عروس وعروس القراٰن الرحمٰن. رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেকটি জিনিসের সৌন্দর্য আছে। কুরআনের সৌন্দর্য সূরা আর্ রহমান। (ইমাম বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮১
وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ سورة الواقعة فى كل ليلة لم تصبه فاقة أبدا». وكان ابن مسعود يأمر بناته يقرأن بها فى كل ليلة. رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে ‘‘সূরা আল ওয়াকি‘আহ্’’ তিলাওয়াত করবে, সে কখনো অভাব অনটনে পড়বে না। বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ তাঁর কন্যাদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সূরা তিলাওয়াত করতে বলতেন। (ইমাম বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮২
وعن على قال: كان رسول اللٰه ﷺ يحب هٰذه السورة ﴿سبح اسم ربك الأعلٰى﴾ رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ‘‘সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ‘লা-’’ ভালবাসতেন। (আহমদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৩
وعن عبد اللٰه بن عمرو قال: أتٰى رجل النبى ﷺ فقال أقرئنى يا رسول اللٰه فقال: اقرأ ثلاثا من ذوات ﴿ألر﴾ فقال: كبرت سنى واشتد قلبى وغلظ لسانى قال: فاقرأ ثلاثا من ذوات ﴿حٰم﴾ فقال مثل مقالته. قال الرجل: يا رسول اللٰه أقرئنى سورة جامعة فأقرأه رسول اللٰه ﷺ ﴿إذا زلزلت الأرض﴾ حتٰى فرغ منها فقال الرجل: والذى بعثك بالحق لا أزيد عليها أبدا ثم أدبر الرجل فقال رسول اللٰه ﷺ أفلح الرويجل» مرتين. رواه أحمد وأبو داود
বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, আলিফ্ লা-ম রা- সম্পন্ন সূরাগুলো হতে তিনটি সূরা পড়বে। সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি বুড়ো হয়ে গেছি। আমার ‘কলব’ কঠিন ও ‘জিহবা’ শক্ত হয়ে গেছে (অর্থাৎ- আমার মুখস্থ হয় না)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে তুমি হা-মীম যুক্ত সূরাগুলোর মধ্যকার তিনটি সূরা পড়বে। আবার সে ব্যক্তি আগের জবাবের মতো জবাব দিলো। তারপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আপনি পরিপূর্ণ অর্থবহ একটি সূরা শিখিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে ‘সূরা ইযা- যুলযিলাত’ শেষ পর্যন্ত পড়িয়ে দিলেন। তখন সে ব্যক্তি বলল, যিনি আপনাকে সত্য নাবী করে পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ, আমি (আপনার শিখানো) সূরার উপর কখনো আর কিছু বাড়াব না। এরপর লোকটি ওখান থেকে চলে গেল। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি সফলতা লাভ করল, লোকটি সফলতা লাভ করল। (আহমদ ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৪
وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ألا يستطيع أحدكم أن يقرأ ألف اٰية فى كل يوم؟» قالوا: ومن يستطيع أن يقرأ ألف اٰية فى كل يوم؟ قال: أما يستطيع أحدكم أن يقرأ: ﴿ألهاكم التكاثر﴾ رواه البيهقى فى شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, তোমাদের কেউ কি দৈনিক (কুরআনের) এক হাজার আয়াত করে পড়তে পারে? সাহাবীগণ বললেন, কে আছে দৈনিক (কুরআনের) এক হাজার আয়াত করে পড়তে পারে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, তাহলে তোমাদের কেউ কি প্রত্যহ ‘সূরা আল হা-কুমুত্ তাকা-সুর’ পড়তে পারে না? (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৫
وعن سعيد بن المسيب مرسلا عن النبى ﷺ قال: «من قرأ ﴿قل هو الله أحد﴾ عشر مرات بنى له بها قصر فى الجنة ومن قرأ عشرين مرة بنى له بها قصران فى الجنة ومن قرأها ثلاثين مرة بنى له بها ثلاثة قصور فى الجنة». فقال عمر بن الخطاب : واللٰه يا رسول اللٰه إذا لنكثرن قصورنا. فقال رسول اللٰه ﷺ: «اللٰه أوسع من ذٰلك». رواه الدارمى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি সূরা ক্বুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ দশবার পড়ে, বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। যে ব্যক্তি বিশবার পড়বে তার জন্য দু’টি। আর যে ব্যক্তি ত্রিশবার পড়বে তার জন্য জান্নাতে তিনটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। এ কথা শুনে ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রসূল! যদি তা-ই হয় তাহলে তো আমরা অনেক প্রাসাদ লাভ করব। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর রহমত এর চেয়েও অধিক প্রশস্ত (এতে বিস্ময়ের কিছু নেই হে ‘উমার!)। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮৬
وعن الحسن مرسلا: أن النبى ﷺ قال: «من قرأ فى ليلة مائة اٰية لم يحاجه القراٰن تلك الليلة ومن قرأ فى ليلة مائتي اٰية كتب له قنوت ليلة ومن قرأ فى ليلة خمسمائة إلى الألف أصبح وله قنطار من الأجر». قالوا: وما القنطار؟ قال: «اثنا عشر ألفا». رواه الدرامى
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে (কুরআনের) একশ’টি আয়াত পড়বে, ওই রাতে কুরআন তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপন করবে না। আর যে ব্যক্তি রাতে দু’শত আয়াত পড়বে, তার জন্য এক রাতের ‘ইবাদাতের সাওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে পাঁচশ’ হতে এক হাজার আয়াত পর্যন্ত পড়বে ভোরে উঠে সে এক ‘কিনত্বার’ সাওয়াব পাবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এক ‘কিনত্বার’ কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবাব দিলেন, বারো হাজার দীনার সমান ওজন। (দারিমী)[১]