প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০৯

عن عثمان قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «خيركم من تعلم القراٰن وعلمه». رواه البخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা (মানুষকে) শিক্ষা দেয়। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১০

وعن عقبة بن عامر قال: خرج رسول اللٰه ﷺ ونحن فى الصفة فقال: «أيكم يحب أن يغدو كل يوم إلٰى بطحان أو العقيق فيأتى منه بناقتين كوماوين فى غير إثم ولا قطع رحم» فقلنا يا رسول الله نحب ذٰلك قال: «أفلا يغدو أحدكم إلى المسجد فيعلم أو يقرأ اٰيتين من كتاب الله خير له من ناقتين وثلاث خير له من ثلاث وأربع خير له من أربع ومن أعدادهن من الإبل». رواه مسلم

তিনি বলেন, আমরা (একদিন) মাসজিদের প্রাঙ্গণে বসেছিলাম। এ সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন ও (আমাদেরকে) বললেন, তোমাদের কেউ প্রতিদিন সকালে ‘বুত্বহান’ অথবা ‘আক্বীক’ বাজারে গিয়ে দু’টি বড় কুঁজওয়ালা উটনী কোন অপরাধ সংঘটন ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়া নিয়ে আসতে পছন্দ করবে? এ কথা শুনে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের প্রত্যেকেই এ কাজ করতে পছন্দ করবে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যদি তা-ই হয় তাহলে তোমাদের কেউ কোন মাসজিদে গিয়ে সকালে আল্লাহর কিতাবের দু’টি আয়াত (মানুষকে) শিক্ষা দেয় না বা (নিজে) শিক্ষাগ্রহণ করে না কেন? অথচ এ দু’টি আয়াত শিক্ষা দেয়া তার জন্য দু’টি উটনী অথবা তিনটি আয়াত শিক্ষা দেয়া তার জন্য তিনটি উটনী অথবা চারটি আয়াত শিক্ষা দেয়া তার জন্য চারটি উটনীর চেয়েও উত্তম। সারকথা কুরআনের যে কোন সংখ্যক আয়াত, একই সংখ্যক উটনীর চেয়ে উত্তম। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১১

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أيحب أحدكم إذا رجع إلٰى أهله أن يجد فيه ثلاث خلفات عظام سمان». قلنا: نعم. قال: «فثلاث اٰيات يقرأ بهن أحدكم فى صلاته خير له من ثلاث خلفات عظام سمان». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কি নিজ ঘরে ফিরে তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী পেতে পছন্দ করো? আমরা বললাম, (হে আল্লাহর রসূল!) নিশ্চয়ই পছন্দ করি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তারা যেন সলাতে তিনটি আয়াত পড়ে। এ তিনটি আয়াত তার জন্য তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী অপেক্ষা উত্তম। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১২

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «الماهر بالقراٰن مع السفرة الكرام البررة والذى يقرأ القراٰن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران». (متفق عليه)

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন অধ্যয়নে পারদর্শী ব্যক্তি মর্যাদাবান লিপিকার মালায়িকাহ্’র (ফেরেশ্তাগণের) সাথী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন অধ্যয়ন করে ও যে এতে আটকে যায় এবং কুরআন তার জন্য কষ্টদায়ক হয়, তাহলে তার জন্য দু’টি পুরস্কার। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১৩

وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا حسد إلا علٰى اثنين: رجل اٰتاه اللٰه القراٰن فهو يقوم به اٰناء الليل واٰناء النهار ورجل اٰتاه اللٰه مالا فهو ينفق منه اٰناء الليل واٰناء النهار». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে ঈর্ষা করা যায় না। প্রথম, সে ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআনের (‘ইলম) দান করেছেন, আর সে তা দিন-রাত অধ্যয়ন করে। দ্বিতীয়, ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা সে সকাল সন্ধ্যায় দান করে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১৪

وعن أبى موسى الأشعرى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «مثل المؤمن الذى يقرأ القراٰن مثل الأترجة ريحها طيب وطعمها طيب ومثل المؤمن الذى لا يقرأ القراٰن مثل التمرة لا ريح لها وطعمها حلو ومثل المنافق الذى لا يقرأ القراٰن كمثل الحنظلة ليس لها ريح وطعمها مر ومثل المنافق الذى يقرأ القراٰن مثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر». متفق عليه. وفى رواية: «المؤمن الذى يقرأ القراٰن ويعمل به كالأترجة والمؤمن الذى لا يقرأ القراٰن ويعمل به كالتمرة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারী মু’মিনের দৃষ্টান্ত হলো তুরঞ্জ ফল বা কমলা লেবুর ন্যায়। যার গন্ধ ভাল, স্বাদও উত্তম। যে মু’মিন কুরআন পড়ে না, তার দৃষ্টান্ত হলো খেজুরের ন্যায়। এর কোন গন্ধ নেই বটে, কিন্তু উত্তম স্বাদ আছে। কুরআন পাঠ করে না যে মুনাফিক, সে হানাযালাহ্ (তিতা) ফলের মতো, যার কোন গন্ধ নেই অথচ স্বাদ তিতা। আর ওই মুনাফিক যে কুরআন পড়ে তার দৃষ্টান্ত ঐ ফুলের মতো, যার গন্ধ আছে কিন্তু স্বাদ তিতা। (বুখারী, মুসলিম।) অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে মু’মিন, কুরআন পড়ে ও সে অনুযায়ী ‘আমাল করে সে কমলা লেবুর মতো। আর যে মু’মিন কুরআন পড়ে না, কিন্তু এর উপর ‘আমাল করে সে খেজুরের মতো।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১৫

وعن عمر بن الخطاب قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن الله يرفع بهٰذا الكتاب أقواما ويضع به اٰخرين. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা এ কিতাব কুরআনের মাধ্যমে কোন কোন জাতিকে উন্নতি দান করেন। আবার অন্যদেরকে করেন অবনত। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১৬

وعن أبى سعيد الخدرى أن أسيد بن حضير قال: بينما هو يقرأ من الليل سورة البقرة وفرسه مربوطة عنده إذ جالت الفرس فسكت فسكتت فقرأ فجالت الفرس فسكت فسكنت، ثم قرأ فجالت الفرس فانصرف وكان ابنه يحيٰى قريبا منها فأشفق أن تصيبه فلما أخره رفع رأسه إلى السماء فإذا مثل الظلة فيها أمثال المصابيح فلما أصبح حدث النبى ﷺ فقال: «اقرأ يا ابن حضير اقرأ يا ابن حضير». قال فأشفقت يا رسول اللٰه أن تطأ يحيٰى وكان منها قريبا فانصرفت إليه ورفعت رأسى إلى السماء فإذا مثل الظلة فيها أمثال المصابيح فخرجت حتٰى لا أراها قال: «وتدرى ما ذاك؟» قال لا قال: «تلك الملائكة دنت لصوتك ولو قرأت لأصبحت ينظر الناس إليها لا تتوارٰى منهم». متفق عليه. واللفظ للبخارى وفى مسلم: «عرجت فى الجو» بدل: «فخرجت علٰى صيغة المتكلم

উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) বলেন, এক রাতে তিনি সূরা আল বাকারাহ্ পড়ছিলেন। তাঁর ঘোড়া তাঁর কাছেই বাঁধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি লাফিয়ে উঠল। তিনি ঘোড়াটিকে চুপ করালেন। ঘোড়াটি চুপ হলো। তিনি আবার পড়তে লাগলেন। ঘোড়াটি আবার লাফিয়ে উঠল। তিনি ঘোড়াটিকে শান্ত করলেন। আবার পড়তে লাগলেন। আবার ঘোড়াটি লাফিয়ে উঠল। এবার তিনি থেমে গেলেন। কারণ তখন তাঁর ছেলে ইয়াহ্ইয়া ঘোড়াটির কাছাকাছি ছিল। তিনি ওর ক্ষতির আশংকা করলেন। তারপর তিনি তাকে দূরে সরিয়ে নিয়ে আকাশের দিকে মাথা উঠালেন। দেখলেন, (আকাশে) সামিয়ানার মতো (কি একটা ঝুলছে)। আর এতে যেন অনেক বাতি রয়েছে। ভোরে উঠে তিনি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন। (ঘটনা) শুনে তিনি বললেন, তুমি পড়তে থাকলে না কেন ইবনু হুযায়র? তুমি পড়তে থাকলে না কেন? ইবনু হুযায়র বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার ঘোড়া ইয়াহ্ইয়া-কে মাড়িয়ে দেবার ভয় করছিলাম। সে ছিল ঘোড়াটির কাছাকাছি। তাই পড়া বন্ধ করে তার কাছে গেলাম। আবার আকাশের দিকে মাথা উঠালাম। দেখলাম, সামিয়ানার মতো, এতে প্রদীপের মতো কিছু আছে। তারপর আমি ওখান থেকে বের হলাম। আর তা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল। (এসব) শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এসব কি ছিল জানো? উসায়দ বললেন, জি না, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, এটা ছিল মালায়িকাহর (ফেরেশতাগণের) দল। তাঁরা তোমার তিলাওয়াত শুনে তোমার নিকটবর্তী হচ্ছিলেন। তুমি যদি পড়তে থাকতে, ভোর পর্যন্ত তাঁরা ওখানে থাকতেন। লোকেরা তাঁদেরকে দেখতে পেত। মানুষ হতে তাঁরা লুকিয়ে থাকত না। (বুখারী, মুসলিম। তবে মতন বুখারীর। মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, ‘সামিয়ানা শূন্যে উঠে গেল,’ ‘আমি বের হলাম’-এর স্থলে।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১৭

وعن البراء بن عازب قال: كان رجل يقرأ سورة الكهف وإلٰى جانبه حصان مربوط بشطنين فتغشته سحابة فجعلت تدنو وتدنو وجعل فرسه ينفر فلما أصبح أتى النبى ﷺ فذكر ذٰلك له فقال: «تلك السكينة تنزلت بالقراٰن». (متفق عليه)

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সূরা ‘আল কাহাফ’ পড়ছিল। দু’টি রশি দিয়ে তার ঘোড়া পাশেই বাঁধা ছিল। এমন সময় এক খণ্ড মেঘ তাকে ঢেকে নিলো। মেঘখণ্ডটি ধীরে ধীরে তার নিকটতর হতে লাগল। আর তার ঘোড়াটি লাফাতে লাগল। সে ভোরে উঠে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ঘটনা তাঁকে জানাল। (তিনি ঘটনা শুনে) বললেন, এটা ছিল রহমত, যা কুরআনের কারণে নেমে এসেছিল। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১৮

وعن أبى سعيد بن المعلٰى قال: كنت أصلى فى المسجد فدعانى النبى ﷺ فلم أجبه حتٰى صليت ثم أتيته. فقلت يا رسول اللٰه إنى كنت أصلى فقال ألم يقل اللٰه (استجيبوا للٰه وللرسول إذا دعاكم). ثم قال : «ألا أعلمك أعظم سورة فى القراٰن قبل أن تخرج من المسجد». فأخذ بيدى فلما أردنا أن نخرج قلت يا رسول الله! إنك قلت لأعلمنك أعظم سورة من القراٰن قال: ﴿الحمد للٰه رب العالمين﴾. هى السبع المثانى والقراٰن العظيم الذى أوتيته. رواه البخارى

বলেন, মাসজিদে আমি সলাত আদায় করছিলাম। এ সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন। সলাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি উত্তর দিলাম না। এরপর আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি সলাত আদায় করছিলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ কি এ কথা বলেননি যে, যখন আল্লাহ ও আল্লাহর রসূল ডাকেন তখন তাঁদের ডাকের জবাব দাও? অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মাসজিদ হতে বের হবার আগে আমি কি তোমাকে (পড়ার জন্য) শ্রেষ্ঠতর সূরাটি শিখাব না? এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার হাত ধরলেন। তারপর আমরা মাসজিদ হতে বের হতে চাইলে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো বলেছিলেন, ‘‘আমি কি তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা শিখাব না?’’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটি হলো সূরা ‘‘আলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন’’। এ সূরাই (পুনঃ পুনঃ আবৃত্ত) সে সাতটি আয়াত (সাব্‘উল মাসানী) ও মহা কুরআন, যা আমাকে দেয়া হয়েছে। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১১৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تجعلوا بيوتكم مقابر إن الشيطان ينفر من البيت الذى يقرأ فيه سورة البقرة». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না। (এগুলোতে কুরআন তিলাওয়াত করো) কারণ যেসব ঘরে সূরা আল বাকারাহ্ তিলাওয়াত করা হয় সে ঘর হতে শয়তান ভেগে যায়। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২০

عن أبى أمامة قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «اقرءوا القراٰن فإنه يأتى يوم القيامة شفيعا لأصحابه اقرءوا الزهراوين البقرة وسورة اٰل عمران فإنهما تأتيان يوم القيامة كأنهما غمامتان أو كأنهما غيايتان أو فرقان من طير صواف تحاجان عن أصحابهما اقرءوا سورة البقرة فإن أخذها بركة وتركها حسرة ولا تستطيعها البطلة. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন পড়। কারণ কুরআন পাঠ কিয়ামাতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। তোমরা দু’ উজ্জ্বল সূরা আল বাকারাহ্ ও আ-লি ‘ইমরান পড়বে। কেননা কিয়ামাতের দিন এ সূরা দু’টি মেঘখণ্ড অথবা দু’টি সামিয়ানা অথবা দু’টি পক্ষ প্রসারিত পাখির ঝাঁকরূপে আসবে। এ দু’ সূরার পাঠকদের জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে। বিশেষ করে তোমরা সূরা আল বাকারাহ্ পড়বে। কারণ সূরা আল বাকারাহ্ পড়া বারাকাত আর তা না পড়া আক্ষেপ। এ সূরা দু’টি পড়তে পারবে না অলস বেকুবরা। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২১

وعن النواس بن سمعان قال: سمعت النبى ﷺ يقول: «يؤتٰى بالقراٰن يوم القيامة وأهله الذين كانوا يعملون به تقدمه سورة البقرة واٰل عمران كأنهما غمامتان أو ظلتان سوداوان بينهما شرق أو كأنهما فرقان من طير صواف تحاجان عن صاحبهما». رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরআন ও কুরআনপাঠকদের যারা কুরআন অনুযায়ী ‘আমাল করত (তাদের) কিয়ামাতের দিন উপস্থিত করা হবে। তাদের সামনে দু’টি মেঘখণ্ড অথবা দু’টি কালো ছায়ারূপে থাকবে সূরা আল বাকারাহ্ ও সূরা আ-লি ‘ইমরান। এদের মাঝখানে থাকবে দীপ্তি। অথবা থাকবে প্রসারিত- পালক বিশিষ্ট পাখির দু’টি ঝাঁক। তারা আল্লাহর নিকট কুরআন পাঠকের পক্ষে সুপারিশ করবে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২২

وعن أبى بن كعب قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يا أبا المنذر أتدرى أي اٰية من كتاب اللٰه معك أعظم؟». قال: قلت اللٰه ورسوله أعلم قال: «يا أبا المنذر أتدرى أى اٰية من كتاب اللٰه معك أعظم؟». قال: قلت ﴿الله لا إلٰه إلا هو الحى القيوم﴾. قال فضرب فى صدرى وقال: ليهنك العلم يا أبا المنذر. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবূল মুনযির! তুমি কি বলতে পারো তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই ভাল জানেন। (এরপর) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, হে আবূল মুনযির! তুমি বলতে পারো কি তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি শ্রেষ্ঠতর? এবার আমি বললাম, ‘‘আল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়ূম।’’ উবাই বলেন, এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার বুকে হাত মেরে বললেন, হে আবূল মুনযির! জ্ঞান ও প্রজ্ঞা তোমার জন্য মুবারক হোক। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২৩

وعن أبى هريرة قال: وكلنى رسول اللٰه ﷺ بحفظ زكاة رمضان فأتانى اٰت فجعل يحثو من الطعام فأخذته وقلت لأرفعنك إلٰى رسول اللٰه ﷺ قال إنى محتاج وعلى عيال ولى حاجة شديدة قال فخليت عنه فأصبحت فقال النبى ﷺ: «يا أبا هريرة ما فعل أسيرك البارحة». قال قلت يا رسول اللٰه شكا حاجة شديدة وعيالا فرحمته فخليت سبيله قال: «أما إنه قد كذبك وسيعود». فعرفت أنه سيعود لقول رسول اللٰه ﷺ: «أنه سيعود». فرصدته فجاء يحثو من الطعام فأخذته فقلت: لأرفعنك إلٰى رسول اللٰه ﷺ قال دعنى فإنى محتاج وعلى عيال لا أعود فرحمته فخليت سبيله فأصبحت فقال لى رسول اللٰه ﷺ: «يا أبا هريرة ما فعل أسيرك؟» قلت يا رسول اللٰه شكا حاجة شديدة وعيالا فرحمته فخليت سبيله قال: «أما إنه قد كذبك وسيعود». فرصدته فجاء يحثو من الطعام فأخذته فقلت لأرفعنك إلٰى رسول الله وهٰذا اٰخر ثلاث مرات إنك تزعم لا تعود ثم تعود قال دعنى أعلمك كلمات ينفعك الله بها : إذا أويت إلٰى فراشك فاقرأ اٰية الكرسى ﴿الله لا إلٰه إلا هو الحى القيوم﴾. حتٰى تختم الاٰية فإنك لن يزال عليك من الله حافظ ولا يقربك شيطان حتٰى تصبح فخليت سبيله فأصبحت فقال لى رسول اللٰه ﷺ: «ما فعل أسيرك؟» قلت: زعم أنه يعلمنى كلمات ينفعنى الله بها. قال اما : «أما إنه صدقك وهو كذوب تعلم من تخاطب منذ ثلاث ليال؟». قلت : لا، قال : «ذاك شيطان». رواه البخارى

তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ফিতরার মাল পাহারায় নিযুক্ত করলেন। এমন সময় আমার নিকট এক ব্যক্তি এসেই অঞ্জলি ভরে খাদ্যশস্য উঠাতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম ও বললাম, আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বলল, আমি একজন অভাবী লোক। আমার অনেক পোষ্য। আমি নিদারুণ কষ্টে আছি। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি তখন তাকে ছেড়ে দিলাম। ভোরে আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে) গেলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! তোমার হাতে গত রাতে বন্দী লোকটির কী অবস্থা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! বন্দীটি তার নিদারুণ অভাব ও বহু পোষ্যের অভিযোগ করল। তাই আমি তার ওপর দয়া করলাম। তাকে ছেড়ে দিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, শুনো! সে তোমার কাছে মিথ্যা বলেছে। সে আবার আসবে। [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন] আমি রসূলের বলার কারণে বুঝলাম, অবশ্যই সে আবার আসবে। আমি তার অপেক্ষায় রইলাম। (ঠিকই) সে আবার এলো। দু’ হাতের কোষ ভরে খাদ্যশস্য উঠাতে লাগল এবং আমি তাকে ধরে ফেললাম। বললাম, আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, তুমি আমাকে এবারও ছেড়ে দাও। আমি বড্ড অভাবী মানুষ। আমার পোষ্যও অনেক। আমি আর আসব না। এবারও আমি তার ওপর দয়া করলাম। ছেড়ে দিলাম। ভোরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আবূ হুরায়রাহ্! তোমরা বন্দীর খবর কী? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে খুবই অভাবী। বহু পোষ্যের অভিযোগ করল। তাই আমি তার প্রতি দয়াপ্রদর্শন করলাম। তাকে ছেড়ে দিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, শুনো তোমার কাছে সে মিথ্যা বলেছে। আবারও যে আসবে। (বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন,) আমি বুঝলাম, সে আবারও আসবে। তাই আমি তার অপেক্ষায় থেকে তাকে ধরে ফেললাম। বললাম, তোমাকে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে যাব। এটা তিনবারের শেষবার। তুমি ওয়া‘দা করেছিলে আর আসবে না। এরপরও তুমি এসেছ। সে বলল, এবারও যদি আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে এমন কয়টি বাক্য শিখাব, যে বাক্যের দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন। তুমি শোবার জন্য বিছানায় গেলে আয়াতুল কুরসী পড়বে, ‘‘আল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম’’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে সব সময় তোমার জন্য একজন রক্ষী থাকবে, ভোর হওয়া পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান ঘেঁষতে পারবে না। এবারও তাকে আমি ছেড়ে দিলাম। ভোরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার বন্দীর কী হলো? আমি বললাম (ইয়া রসূলাল্লাহ!), সে বলল, সে আমাকে এমন কয়টি বাক্য শিখাবে, যার দ্বারা আল্লাহ আমার উপকার করবেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শুনো! এবার সে তোমার কাছে সত্য কথা বলেছে অথচ সে খুবই মিথ্যুক। তুমি কি জানো, তুমি এ তিন রাত কার সাথে কথা বলেছ? আমি বললাম, জি-না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ছিল একটা শয়তান। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২৪

وعن ابن عباس قال: بينما جبريل قاعد عند النبى ﷺ سمع نقيضا من فوقه فرفع رأسه فقال: «هٰذا باب من السماء فتح اليوم لم يفتح قط إلا اليوم فنزل منه ملك فقال هٰذا ملك نزل إلى الأرض لم ينزل قط إلا اليوم فسلم وقال أبشر بنورين أوتيتهما لم يؤتهما نبى قبلك فاتحة الكتاب وخواتيم سورة البقرة لن تقرأ بحرف منهما إلا أعطيته». رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন জিবরীল আমীন (আঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসে ছিলেন। এ সময় উপরের দিক হতে দরজা খোলার শব্দ [জিবরীল (আঃ)] শুনলেন। তিনি উপরের দিকে মাথা উঠালেন এবং বললেন, আসমানের এ দরজাটি আজ খোলা হলো। এর আগে আর কখনো তা খোলা হয়নি। (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ) এ দরজা দিয়ে একজন মালাক (ফেরেশতা) নামলেন। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, যে মালাক (আজ) জমিনে নামলেন, আজকে ছাড়া আর কখনো তিনি জমিনে নামেননি। (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,) তিনি সালাম করলেন। তারপর আমাকে বললেন, আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। এটা আপনার আগে আর কোন নাবীকে দেয়া হয়নি। (তাহলো) সূরা আল ফাতিহাহ্ ও সূরা আল বাকারাহ্’র শেষাংশ। আপনি এ দু’টি সূরার যে কোন বাক্যই পাঠ করুন না কেন নিশ্চয়ই আপনাকে তা দেয়া হবে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২৫

وعن أبى مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «الاٰيتان من اٰخر سورة البقرة من قرأ بهما فى ليلة كفتاه». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল বাকারার শেষ দু’টি আয়াত, অর্থাৎ- ‘আ-মানার রসূলু’ হতে শেষ পর্যন্ত পড়ে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২৬

وعن أبى الدرداء قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من حفظ عشر اٰيات من أول سورة الكهف عصم من فتنة الدجال. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২৭

وعن أبى الدرداء قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أيعجز أحدكم أن يقرأ فى ليلة ثلث القراٰن؟» قالوا: وكيف يقرأ ثلث القراٰن؟ قال: ﴿قل هو الله أحد﴾ يعدل ثلث القراٰن. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কি প্রতি রাতে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন তিলাওয়াতে সক্ষম? সাহাবীগণ বললেন, প্রতি রাতে কি করে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পড়া যাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২৮

ورواه البخارى عن أبى سعيد

হাদীসটি আবূ সা‘ঈদ হতে বর্ণনা করেছেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২৯

وعن عائشة: أن النبى ﷺ بعث رجلا علٰى سرية وكان يقرأ لأصحابه فى صلاتهم فيختم بـ ﴿قل هو اللٰه أحد﴾. فلما رجعوا ذكروا ذٰلك للنبى ﷺ فقال: «سلوه لأى شىء يصنع ذٰلك» فسألوه فقال لأنها صفة الرحمٰن وأنا أحب أن أقرأ ها. فقال النبى ﷺ: «أخبروه أن الله يحبه». (متفق عليه)

একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি সেনাদলের সেনাপতি করে পাঠালেন। সে তার সঙ্গীদের সলাত আদায় করাত এবং ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ দিয়ে সলাত শেষ করত। তারা মাদীনায় ফেরার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ কথা উল্লেখ করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে জিজ্ঞেস করো কি কারণে সে তা করে। সে বলল, এর কারণ এতে আল্লাহর গুণাবলীর উল্লেখ রয়েছে। আর আমি আল্লাহর গুণাবলী পড়তে ভালবাসি। তার উত্তর শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তা‘আলাও তাকে ভালবাসেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩০

وعن أنس قال: إن رجلا قال: يا رسول اللٰه إنى أحب هٰذه السورة: ﴿قل هو الله أحد﴾. قال: إن حبك إياها أدخلك الجنة. رواه الترمذى وروى البخارى معناه

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি এ ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ সূরাকে ভালবাসি। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার এ সূরার প্রতি ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী; এই একই অর্থের একটি হাদীস ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩১

وعن عقبة بن عامر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: ألم تر اٰيات أنزلت الليلة لم ير مثلهن قط ﴿قل أعوذ برب الفلق﴾. و ﴿قل أعوذ برب الناس﴾. رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আজ রাতে এমন কিছু আশ্চর্যজনক আয়াত নাযিল হয়েছে আগে এ রকম কোন আয়াত (নাযিল) হতে দেখা যায়নি। (আর তা হলো) ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক’’ ও ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাবিবন্‌না-স’’। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩২

وعن عائشة: أن النبى ﷺ كان إذا أوٰى إلٰى فراشه كل ليلة جمع كفيه ثم نفث فيهما فقرأ فيهما ﴿قل هو الله أحد﴾. و ﴿قل أعوذ برب الفلق﴾. و ﴿قل أعوذ برب الناس﴾. ثم يمسح بهما ما استطاع من جسده يبدأ بهما علٰى رأسه ووجهه وما أقبل من جسده يفعل ذٰلك ثلاث مرات‐ (متفق عليه). وسنذكر حديث ابن مسعود: لما أسرى برسول اللٰه ﷺ فى باب المعراج إن شاء الله تعالٰى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবার সময় দু’ হাতের তালু একত্র করতেন। তারপর এতে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ, কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্না-স’ পড়ে ফুঁ দিতেন। এরপর এ দু’ হাত দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর শরীরের যতটুকু সম্ভব হত মুছে নিতেন। শুরু করতেন মাথা, চেহারা এবং শরীরের সম্মুখ ভাগ হতে। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করতেন। (বুখারী, মুসলিম।) ইবনু মাস্‘ঊদণ্ডএর হাদীস (لَمَّا أُسْرِىَ بِرَسُولِ اللّٰهِ ﷺ) ‘‘যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে [স্বশরীরে] রাতে সফর করানো হয়েছে’’ আমরা ‘মি‘রাজ’ অধ্যায়ে অচিরেই বর্ণনা করব [ইনশাআল্লাহ]।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৩

عن عبد الرحمٰن بن عوف عن النبى ﷺ قال: «ثلاثة تحت العرش يوم القيامة القراٰن يحاج العباد له ظهر وبطن والأمانة والرحم تنادى: ألا من وصلنى وصله اللٰه ومن قطعنى قطعه اللٰه». رواه فى شرح السنة

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেনঃ তিনটি জিনিস কিয়ামাতের দিন আল্লাহর ‘আরশের নীচে থাকবে। (১) কুরআন, এ কুরআন বান্দাদের (পক্ষে বিপক্ষে) আর্জি পেশ করবে। এর যাহের ও বাতেন দু’দিক রয়েছে। (২) আমানাত ও (৩) আত্মীয়তার বন্ধন। (এ তিনটি জিনিসের প্রত্যেকে ফরিয়াদ করবে, হে আল্লাহ! যে আমাকে রক্ষা করেছে তুমি [আল্লাহ] তাকে রক্ষা করো। যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আল্লাহ তাকে ছিন্ন করো।) (ইমাম বাগাবী: শারহুস্ সুন্নাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৪

وعن عبد اللٰه بن عمرو قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يقال لصاحب القراٰن: اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل فى الدنيا فإن منزلك عند اٰخر اٰية تقرؤها». رواه أحمد والترمذى أبو داود والنسائى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারীকে কিয়ামাতের দিন বলা হবে, পাঠ করতে থাকো আর উপরে উঠতে থাকো। (অক্ষরে অক্ষরে ও শব্দে শব্দে) সুস্পষ্টভাবে পাঠ করতে থাকো, যেভাবে দুনিয়াতে স্পষ্টভাবে পাঠ করতে। কারণ তোমার স্থান (মর্যাদা) হবে যা তুমি পাঠ করবে শেষ আয়াত পর্যন্ত (আয়াত পাঠের তুলনাগত দিক থেকে)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৫

وعن ابن عباس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن الذى ليس فى جوفه شىء من القراٰن كالبيت الخرب». رواه الترمذى والدارمى. وقال الترمذى: هٰذا حديث صحيح

বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পেটে কুরআনের কিছু নেই তা শূন্য (ধ্বংসপ্রাপ্ত) ঘরের মতো। (তিরমিযী ও দারিমী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৬

وعن أبى سعيد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يقول الرب تبارك وتعالٰى: من شغله القراٰن عن ذكرى ومسألتى أعطيته أفضل ما أعطى السائلين. وفضل كلام اللٰه علٰى سائر الكلام كفضل اللٰه علٰى خلقه». رواه الترمذى والدارمى والبيهقى فى شعب الإيمان وقال الترمذى هٰذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যাকে আমার জিকির ও আমার কাছে কিছু চাওয়া হতে কুরআন বিরত রেখেছে, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়ে বেশি দান করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কেননা আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব অন্য সব কালামের উপর; যেমন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর সৃষ্টির উপর। (তিরমিযী, দারিমী ও বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমানে। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৭

وعن ابن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ حرفا من كتاب اللٰه فله به حسنة والحسنة بعشر أمثالها لا أقول: الم حرف. ألف حرف ولام حرف وميم حرف». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى هٰذا حديث حسن صحيح غريب إسنادا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের কোন একটি অক্ষরও পাঠ করবে, সে নেকী পাবে। আর নেকী হচ্ছে ‘আমালের দশ গুণ। আমি বলছি না যে, الٓمٓ)) ‘আলিফ লাম মীম’ একটি অক্ষর। বরং ‘আলিফ’ একটি অক্ষর, ‘লাম’ একটি অক্ষর ও ‘মীম’ একটি অক্ষর। (তাই আলিফ, লাম ও মীম বললেই ত্রিশটি নেকী পাবে)। (তিরমিযী, দারিমী। আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। কিন্তু সানাদের দিক দিয়ে গরীব।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৮

وعن الحارث الأعور قال: مررت فى المسجد فإذا الناس يخوضون فى الأحاديث فدخلت علٰى على فأخبرته قال: أوقد فعلوها؟ قلت نعم قال: أما إنى قد سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «ألا إنها ستكون فتنة». قلت : ما المخرج منها يا رسول اللٰه قال: «كتاب الله فيه نبأ ما كان قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم وهو الفصل ليس بالهزل من تركه من جبار قصمه اللٰه ومن ابتغى الهدٰى فى غيره أضله اللٰه وهو حبل اللٰه المتين وهو الذكر الحكيم وهو الصراط المستقيم هو الذى لا تزيغ به الأهواء ولا تلتبس به الألسنة ولا يشبع منه العلماء ولا يخلق عن كثرة الرد ولا ينقضى عجائبه هو الذى لم تنته الجن إذ سمعته حتٰى قالوا (إنا سمعنا قراٰنا عجبا يهدى إلى الرشد فاٰمنا به). من قال به صدق ومن عمل به أجر ومن حكم به عدل ومن دعا إليه هدى إلٰى صراط مستقيم». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى: هٰذا حديث إسناده مجهول وفى الحارث مقال

বলেন, আমি (একদিন কূফার) মাসজিদে বসা লোকজনের কাছে গেলাম। দেখলাম, লোকেরা আজে-বাজে কথায় ব্যস্ত। এরপর আমি ‘আলী (রাঃ) এর কাছে গিয়ে এ খবর বললাম। তিনি বললেন, তারা এমন করছে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, (তবে) শুনো, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাবধান! শীঘ্রই পৃথিবীতে কলহ-ফাসাদ আরম্ভ হবে। আমি [‘আলী] বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ থেকে বাঁচার উপায় কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কিতাব, এতে তোমাদের আগের ও পরের খবর রয়েছে। তোমাদের ভিতরে বিতর্কের মীমাংসার পদ্ধতিও রয়েছে। সত্য মিথ্যার পার্থক্যও আছে। এটা কোন অর্থহীন কিতাব নয়। যে অহংকারী ব্যক্তি এ কুরআন ত্যাগ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি এর বাইরে হিদায়াত সন্ধান করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এ কুরআন হলো আল্লাহর মজবুত রশি। জিকির ও সত্য সরল পথ। কুরআন অবলম্বন করে কোন প্রবৃত্তি বিপথগামী হয় না। এর দ্বারা যবানের কষ্ট হয় না। এর দ্বারা প্রজ্ঞাবানগণ বিতৃষ্ণ হয় না। এ কুরআন বার বার পাঠ করায় পুরাতন হয় না। এ কুরআনের বিস্ময়কর তথ্য অশেষ। কুরআন শুনে স্থির থাকতে পারেনি জিনেরা। এমনকি তারা এ কুরআন শুনে বলে উঠেছিল, ‘‘শুনেছি আমরা এমন এক বিস্ময়কর কুরআন। যা সন্ধান দেয় সত্য পথের। অতএব ঈমান এনেছি আমরা এর উপর।’’ যে ব্যক্তি কুরআনের কথা সত্য বলে, যে এর উপর ‘আমাল করে, সে পুরস্কার পাবে। যে এর দ্বারা বিচার-ফায়সালা করে, ন্যায়বিচার করে, যে (মানুষকে) এর দিকে ডাকে, সে সত্য সরল পথের দিকেই ডাকে। (তাই এরূপ কুরআন ছেড়ে তারা কেন অন্য আলোচনায় বিভোর হচ্ছে?)। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসের সানাদ মাজহূল [অপরিচিত]। আর হারিস আল আ‘ওয়ার-এর ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩৯

وعن معاذ الجهنى: أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من قرأ القراٰن وعمل بما فيه ألبس والداه تاجا يوم القيامة ضوءه أحسن من ضوء الشمس فى بيوت الدنيا لو كانت فيكم فما ظنكم بالذى عمل بهٰذا؟». رواه أحمد وأبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং এর মধ্যে তাঁর হুকুম-আহকামের উপর ‘আমাল করে, তার মাতাপিতাকে কিয়ামাতের দিন একটি মুকুট পরানো হবে। এ মুকুটের কিরণ দুনিয়ার সূর্যের কিরণ হতেও উজ্জ্বল হবে, যদি এ সূর্য তোমাদের মধ্যে থাকত (তবে উপলব্ধি করতে পারতে)। যে ব্যক্তি এ কুরআনের উপর ‘আমাল করে তার ব্যাপারে এখন তোমাদের কী ধারণা? (আহমদ, আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪০

وعن عقبة بن عامر قال: سمعت رسول اللٰه ﷺ يقول: «لو جعل القراٰن فى اهاب ثم ألقى فى النار ما احترق». رواه الدارمى

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরআন কারীমকে যদি চামড়ায় মুড়িয়ে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তাহলে তা পুড়বে না। (দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪১

وعن على بن أبى طالب قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من قرأ القراٰن فاستظهره فأحل حلاله وحرم حرامه أدخله اللٰه به الجنة وشفعه فى عشرة من أهل بيته كلهم قد وجبت له النار. رواه أحمد والترمذى وابن ماجه والدارمى وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب وحفص بن سليمان الراوى ليس هو بالقوى يضعف فى الحديث

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে ও একে মুখস্থ করে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনে চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তার পরিবারের এমন দশ ব্যক্তির জন্য তার সুপারিশ কবূল করবেন, যাদের প্রত্যেকেরই নিশ্চিত ছিল জাহান্নাম। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর একজন বর্ণনাকারী হাফস ইবনু সুলায়মান হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪২

وعن أبى هريرة أن رسول اللٰه ﷺ قال لأبى بن كعب: «كيف تقرأ فى الصلاة؟» فقرأ أم القراٰن فقال رسول اللٰه ﷺ: «والذى نفسى بيده ما أنزلت فى التوراة ولا فى الإنجيل ولا فى الزبور ولا فى الفرقان مثلها وإنها سبع من المثانى والقراٰن العظيم الذى أعطيته». رواه الترمذى وروى الدارمى من قوله: «ما أنزلت» ولم يذكر أبى بن كعب. وقال الترمذى هٰذا حديث حسن صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উবাই ইবনু কা‘বকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি সলাতে কিভাবে কুরআন পড়ো? উত্তরে উবাই ইবনু কা‘ব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা আল ফাতিহাহ্ পড়ে শুনালেন। (তাঁর পড়া শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! এর মতো কোন সূরা তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবূর বা ফুরকান-এ (কুরআনের অন্য কোন সূরাতেও) নাযিল হয়নি। এ সূরা হলো সাব্‘উল মাসানী (পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত) ও মহান কুরআন। এটি আমাকেই দেয়া হয়েছে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ। দারিমী বর্ণনা করেছেন, এর মতো কোন সূরা নাযিল করা হয়নি। তাঁর বর্ণনায় হাদীসের শেষের দিক ও উপরের বর্ণিত উবাই-এর ঘটনা বর্ণিত হয়নি।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৩

وعن أبى هريرة قال قال رسول اللٰه ﷺ: «تعلموا القراٰن فاقرءوه فإن مثل القراٰن لمن تعلم وقام به كمثل جراب محشو مسكا. تفوح ريحه كل مكان ومثل من تعلمه فرقد وهو فى جوفه كمثل جراب أوكئ علٰى مسك». رواه الترمذى والنسائى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন শিক্ষা করো ও পড়তে থাকো। যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং কুরআন নিয়ে রাতে সলাতে দাঁড়ায় তার দৃষ্টান্ত মিশক ভর্তি থলির মতো যা চারদিকে সুগন্ধি ছড়ায়। যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে তা পেটে নিয়ে রাতে ঘুমায়, তার দৃষ্টান্ত ওই মিশকপূর্ণ থলির মতো যার মুখ ঢাকনি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: من قرأ ﴿حٰم﴾ المؤمن إلٰى (إليه المصير). واٰية الكرسى حين يصبح حفظ بهما حتٰى يمسى. ومن قرأ بهما حين يمسى حفظ بهما حتٰى يصبح. رواه الترمذى والدرامى وقال الترمذى هٰذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে সূরা হা-মীম ‘‘আল মু’মিন..... ইলায়হিল মাসীর’’ পর্যন্ত ও আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাকে এর বারাকাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিফাযাতে রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি তা সন্ধ্যায় পড়বে তাকে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ রাখা হবে- (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৫

وعن النعمان بن بشير قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه كتب كتابا قبل أن يخلق السموات والأرض بألفى عام أنزل منه اٰيتين ختم بهما سورة البقرة ولا تقراٰن فى دار ثلاث ليال فيقربها الشيطان». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার দু’ হাজার বছর আগে আল্লাহ তা‘আলা একটি কিতাব লিখেছেন। এ কিতাব হতে পরবর্তীতে দু’টি আয়াত নাযিল করেছেন যা দ্বারা সূরা আল বাকারাহ্ শেষ করেছেন। কোন ঘরে তা তিন রাত পড়া হবে, অথচ এরপরও এ ঘরের কাছে শয়তান যাবে, এমনটা হতে পারে না। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৬

وعن أبى الدرداء قال : قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ ثلاث اٰيات من أول الكهف عصم من فتنة الدجال». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দিকের তিনটি আয়াত পড়বে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে নিরাপদ রাখা হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৭

وعن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن لكل شىء قلبا وقلب القراٰن ﴿يٰس﴾ ومن قرأ ﴿يٰس﴾ كتب اللٰه له بقراءتها قراءة القراٰن عشر مرات». رواه الترمذى والدارمى وقال الترمذى هٰذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক জিনিসের ‘কলব’ (হৃদয়) আছে। কুরআনের ‘কলব’ হলো, ‘সূরা ইয়াসীন’। যে ব্যক্তি এ সূরা একবার পড়বে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একবার পড়ার কারণে দশবার কুরআন পড়ার সাওয়াব লিখবেন। (তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إن اللٰه تبارك وتعالٰى قرأ ﴿طٰهٰ﴾ و ﴿يٰس﴾ قبل أن يخلق السموات والأرض بألف عام فلما سمعت الملائكة القراٰن قالت طوبٰى لأمة ينزل هٰذا عليها وطوبٰى لأجواف تحمل هٰذا وطوبٰى لألسنة تتكلم بهٰذا». رواه الدارمى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির এক হাজার বছর পূর্বে সূরা ত্ব-হা- ও সূরা ইয়াসীন পাঠ করলেন। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তা শুনে বললেন, ধন্য সে জাতি যাদের ওপর এ সূরা নাযিল হবে। ধন্য সে পেট যে এ সূরা ধারণ করবে। ধন্য সে মুখ (জিহবা), যে তা উচ্চারণ করবে। (দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ ﴿حٰم﴾ الدخان فى ليلة أصبح يستغفر له سبعون ألف ملك». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب وعمر بن أبى خثعم الراوي يضعف وقال محمد يعنى البخارى هو منكر الحديث

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা ‘হা-মীম’ আদ্ দুখা-ন পড়ে। তার সকাল এভাবে হয় যে সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) আল্লাহর নিকট তার জন্য মাগফিরাত চাইতে থাকেন। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি গরীব। একজন বর্ণনাকারী ‘আমর ইবনু আবূ খাস্‘আম য‘ঈফ। ইমাম বুখারী বলেছেন, ‘আমর একজন মুনকার রাবী।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫০

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من قرأ ﴿حٰم﴾ الدخان فى ليلة الجمعة غفر له». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب وهشام أبو المقدام الراوى يضعف

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা ‘হা-মীম আদ্ দুখা-ন’ পড়বে তাকে মাফ করে দেয়া হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর রাবী আবূল মিকদাম হিশাম কে দুর্বল বলা হয়েছে।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫১

وعن العرباض بن سارية أن النبى ﷺ كان يقرأ المسبحات قبل أن يرقد يقول: «إن فيهن اٰية خير من ألف اٰية». رواه الترمذى وأبو داود

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়নের আগে ‘মুসাব্বিহাত’ পাঠ করতেন। তিনি বলতেন, ঐ আয়াতসমূহের মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা হাজারটি আয়াতের চেয়েও উত্তম। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫২

ورواه الدارمى عن خالد بن معدان مرسلا وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب

হাদীস হিসেবে খালিদ ইবনু মা‘দান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৩

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إن سورة فى القراٰن ثلاثون اٰية شفعت لرجل حتٰى غفر له وهى: ﴿تبارك الذى بيده الملك﴾ رواه أحمد والترمذى وأبو داود والنسائى وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনে ত্রিশ আয়াতের একটি সূরা আছে, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে। ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। সে সূরাটি হচ্ছে, ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক’। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৪

وعن ابن عباس قال: ضرب بعض أصحاب النبى ﷺ خباءه علٰى قبر وهو لا يحسب أنه قبر فإذا فيه إنسان يقرأ سورة ﴿تبارك الذى بيده الملك﴾ حتٰى ختمها فأتى النبى ﷺ فأخبره فقال رسول اللٰه ﷺ: «هي المانعة هي المنجية تنجيه من عذاب القبر». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غريب

তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবী না জেনে কোন একটি কবরের উপর তাঁবু খাটালেন। তিনি হঠাৎ দেখেন, এ কবরে এক ব্যক্তি সূরা ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক’ পড়ছে এমনকি তা শেষ করে ফেলেছে। এরপর ওই সাহাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে এ খবর জানালেন। তিনি বললেন, এটা হচ্ছে (‘আযাব হতে) বাধাদানকারী এবং মুক্তিদানকারী। যা পাঠককে আল্লাহ তা‘আলার ‘আযাব থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৫

وعن جابر أن النبى ﷺ كان لا ينام حتٰى يقرأ: ﴿الم تنزيل﴾ و ﴿تبارك الذى بيده الملك﴾ رواه أحمد والترمذى والدارمى. وقال الترمذى: هٰذا حديث صحيح. وكذا فى شرح السنة. وفى المصابيح : غريب

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোবার পর) যে পর্যন্ত সূরা ‘আলিফ লা-ল মীম্ তানযীল’ ও সূরা ‘তাবা-রকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক’ পড়ে শেষ না করতেন ঘুমাতেন না। (আহমদ, তিরমিযী ও দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। ‘শারহুস্ সুন্নাহ্’য় এরূপ রয়েছে, মাসাবীহ এ হাদীসকে গরীব বলেছেন।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৬

وعن ابن عباس وأنس بن مالك رضي اللٰه عنهم قالا: قال رسول اللٰه ﷺ: ﴿إذا زلزلت﴾ تعدل نصف القراٰن، و ﴿قل هو الله أحد﴾. تعدل ثلث القراٰن، و ﴿قل يٰا أيها الكٰفرون﴾. تعدل ربع القراٰن. رواه الترمذى

দু’জনেই বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (সাওয়াবের দিক দিয়ে) সূরা ‘ইযা- যুলযিলাত’ কুরআনের অর্ধেকের সমান, ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ (কুরআনের) এক-তৃতীয়াংশের সমান, ‘কুল ইয়া- আইয়ুহাল কা-ফিরূন’ এক-চতুর্থাংশের সমান। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৭

وعن معقل بن يسار عن النبى ﷺ قال: «من قال حين يصبح ثلاث مرات: أعوذ باللٰه السميع العليم من الشيطان الرجيم فقرأ ثلاث اٰيات من اٰخر سورة ﴿الحشر﴾. وكل اللٰه به سبعين ألف ملك يصلون عليه حتٰى يمسى وإن مات فى ذٰلك اليوم مات شهيدا. ومن قالها حين يمسى كان بتلك المنزلة». رواه الترمذى والدارمى. وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে (ঘুম থেকে) উঠে তিনবার বলবে, ‘‘আ‘ঊযু বিল্লা-হিস সামী‘ইল ‘আলীমি মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম’’ এবং এরপর সূরা হাশর-এর শেষের তিন আয়াত পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) নিযুক্ত করবেন। এরা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু‘আ করতে থাকবেন। যদি এ দিন সে মারা যায়, তার হবে শাহীদের মৃত্যু। যে ব্যক্তি এ দু‘আ সন্ধ্যার সময় পড়বে, সেও এ একই মর্যাদা পাবে। (তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৮

وعن أنس عن النبى ﷺ قال: «من قرأ كل يوم مائتى مرة (﴿قل هو الله أحد﴾ محى عنه ذنوب خمسين سنة إلا أن يكون عليه دين». رواه الترمذى والدارمى وفى روايته «خمسين مرة» ولم يذكر «إلا أن يكون عليه دين

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন দু’শ বার সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়বে তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে। যদি তার ওপর কোন ঋণের বোঝা না থাকে। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু দারিমীর বর্ণনায় [দু’শ বারের জায়গায়] পঞ্চাশ বারের কথা উল্লেখ হয়েছে। তিনি ঋণের কথা উল্লেখ করেননি।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫৯

وعن أنس عن النبى ﷺ: «من أراد أن ينام علٰى فراشه فنام علٰى يمينه ثم قرأ مائة مرة ﴿قل هو الله أحد﴾ إذا كان يوم القيامة يقول له الرب: يا عبدى ادخل علٰى يمينك الجنة». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث حسن غريب

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘুমাবার জন্য বিছানায় যাবে এবং ডান পাশের উপর শোয়ার পর একশ’ বার সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়বে, কিয়ামাতের দিন প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, হে আমার বান্দা! তুমি তোমার ডান দিকের জান্নাতে প্রবেশ করো। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান তবে গরীব।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬০

وعن أبى هريرة أن النبى ﷺ سمع رجلا يقرأ ﴿قل هو اللٰه أحد﴾ فقال: «وجبت» قلت: وما وجبت؟ قال: «الجنة». رواه مالك والترمذى والنسائى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়তে শুনে বললেন, সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। আমি শুনে বললাম, কি সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে (হে আল্লাহর রসূল) উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘জান্নাত’। (মালিক, তিরমিযী ও নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬১

وعن فروة بن نوفل عن أبيه: أنه قال: يا رسول اللٰه علمنى شيئا أقوله إذا أويت إلٰى فراشى. فقال: «اقرأ ﴿قل يٰا أيها الكٰفرون﴾ فإنها براءة من الشرك». رواه الترمذى وأبو داود والدارمى

তার পিতা নাওফাল হতে বর্ণনা করেছেন, একদিন নাওফাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এমন একটি বিষয় আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি ঘুমাতে গিয়ে পড়তে পারি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা ‘‘কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’’ পড়ো। কেননা এ সূরা শির্ক হতে পবিত্র। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬২

وعن عقبة بن عامر قال: بينا أنا أسير مع رسول اللٰه ﷺ بين الجحفة والأبواء إذ غشيتنا ريح وظلمة شديدة فجعل رسول اللٰه ﷺ يعوذ ب ﴿أعوذ برب الفلق﴾ و ﴿أعوذ برب الناس﴾ ويقول: «يا عقبة تعوذ بهما فما تعوذ متعوذ بمثلهما». رواه أبو داود

তিনি বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জুহফাহ্ ও আব্ওয়া (নামক স্থানের) মধ্যবর্তী জায়গায় চলছিলাম। এ সময় প্রবল ঝড় ও ঘোর অন্ধকার আমাদেরকে ঘিরে ফেলল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক’’ ও সূরা ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্‌না-স’’ পড়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে ‘উকবাহ্! এ দু’টি সূরা দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় চাও। কারণ এ দু’ সূরার মতো অন্য কোন সূরা দিয়ে কোন প্রার্থনাকারীই আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেনি। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৩

وعن عبد اللٰه بن خبيب قال: خرجنا فى ليلة مطر وظلمة شديدة نطلب رسول اللٰه ﷺ فأدركناه فقال: «قل». قلت ما أقول؟ قال: « ﴿قل هو الله أحد﴾ والمعوذتين حين تصبح وحين تمسى ثلاث مرات تكفيك من كل شىء». رواه الترمذى وأبو داود والنسائى

তিনি বলেন, আমরা একবার ঝড়-বৃষ্টি ও ঘনঘোর অন্ধকারময় রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খোঁজে বের হলাম এবং তাঁকে খুঁজে পেলাম। (তিনি আমাদেরকে দেখে) তখন বললেন, পড়ো! আমি বললাম, কি পড়বো (হে আল্লাহর রসূল!)? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ, ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক ও ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্‌না-স পড়বে। এ সূরাহগুলো সকল বিপদাপদের মুকাবিলায় তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬৪

وعن عقبة بن عامر قال: قلت يا رسول اللٰه أقرأ سورة (هود) أو سورة (يوسف)؟ قال: لن تقرأ شيئا أبلغ عند اللٰه من ﴿قل أعوذ برب الفلق﴾ رواه أحمد والنسائي والدارمى

তিনি বলেন, একদা আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! (বিপদাপদে পড়লে) আমি কি ‘সূরা হূদ’ পড়ব, না ‘সূরা ইউসুফ’? তিনি উত্তরে বললেন, এ ক্ষেত্রে তুমি আল্লাহর কাছে ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক-এর চেয়ে উত্তম কোন সূরা পড়তে পারবে না। (আহমাদ, নাসায়ী ও দারিমী)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية